খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা কেন সমাজের জন্য সত্যিকারের মঙ্গল?

মোহাম্মদ আনোয়ার
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ এএম
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা কেন সমাজের জন্য সত্যিকারের মঙ্গল?

জাতীয় বিনির্মাণের নামে যদি শুধু উন্নয়নের পরিসংখ্যান দেখানো হয়; অথচ ক্ষমতার ভুল, অপচয় ও ব্যর্থতাকে প্রশ্ন করা বন্ধ থাকে, তাহলে তা প্রকৃত উন্নয়ন নয়, একটি সাজানো ভাস্কর্য মাত্র। এই বাস্তবতায় স্বাধীন সাংবাদিকতা কোনো বিলাসী আদর্শ নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য একটি জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

যখন রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকের সম্পর্ক ধীরে ধীরে শাসক অধীনতার নিঃশব্দ বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে, তখন সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা আর শুধু খবর পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এ সময়েই সাংবাদিকতাকে ক্ষমতার দরবারে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলতে হয়, তাকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হয়। আজ সেই দায়িত্ব সততা ও সাহসের সঙ্গে বহন করাই সাংবাদিকতার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।

গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশের সংবাদ পরিবেশ ছিল গভীর সংকটে। ভয়, স্বার্থ বা অনিচ্ছার কারণে বহু সংবাদমাধ্যম ক্ষমতার সঙ্গে সমন্বয় করে চলেছে। এর ফল ছিল একপাক্ষিক সংবাদচর্চা, যা গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিজ বাসভবন থেকে উচ্ছেদ, কারাবাস, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না দেওয়া, কিংবা তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার না করার মতো মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট গুরুতর বিষয়গুলো জাতীয় গণমাধ্যমে তখন নিরপেক্ষ ও বিচারসাপেক্ষ আলোচনার সুযোগ পায়নি। বাস্তবতা হলো, অনেক সংবাদকক্ষ সত্য অনুসন্ধানের বদলে নিরাপদ নীরবতাকেই বেছে নিয়েছিল। অথচ স্বাধীন সাংবাদিকতার ভিত্তি হলো সত্য বলা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশ। এ দায় এড়ালে সাংবাদিকতা তার নৈতিক বৈধতা হারায়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কিছুটা মতপ্রকাশের সুযোগ তৈরি হলেও আরেকটি সমস্যার উত্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ এখন পছন্দের রাজনৈতিক দলের নিয়মিত প্রশংসামূলক লেখা প্রকাশ করছে। এটি ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হতে পারে, কিন্তু একে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা বলা যায় না। নিরপেক্ষতার অর্থ কোনো পক্ষের প্রশংসা বা বিরোধিতা নয়; বরং তথ্য যাচাই, প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ এবং যে কোনো ক্ষমতার সামনে প্রশ্ন রাখা।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা সবসময়ই ক্ষমতার মুখোমুখি প্রশ্ন তোলে, সে ক্ষমতা রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকুক, বিরোধী রাজনীতিতে থাকুক কিংবা কোনো দল, সংগঠন বা গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হোক। ক্ষমতার উৎস যেখানেই হোক, তাকে যাচাই ও জবাবদিহির আওতায় আনাই সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব। শক্তিশালী ও কার্যকর গণতন্ত্র গড়ে তুলতে এ দৃষ্টিভঙ্গির কোনো বিকল্প নেই।

অনেকেই মনে করেন, সরকারের সমালোচনা করলেই সাংবাদিকতা স্বাধীন হয়। এটি ভুল ধারণা। স্বাধীন সাংবাদিকতা মানে হলো যে কোনো ক্ষমতার মুখোমুখি সত্য বলার সাহস। সরকার বা বিরোধী দল যখন বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত দাবি জনগণের সামনে তোলে, তখন সাংবাদিকতার দায়িত্ব সেটিকে যাচাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া। কারণ, জাতীয় বিনির্মাণের ভিত্তি হলো তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, ন্যায্যতা ও জবাবদিহি। এ ভিত্তি দুর্বল হলে গণমাধ্যমই হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি।

বর্তমান সংবাদপরিবেশ একটি স্পষ্ট চাপের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, মব জাস্টিস, নির্বাচনকেন্দ্রিক মেরূকরণ সংবাদপ্রবাহকে ক্রমশ সংকুচিত করে তুলছে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা, সাংবাদিক গ্রেপ্তার, সংবাদ প্রত্যাহার কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক চাপের মুখে নীতিমালার পরিবর্তন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না; এগুলো একটি ধারাবাহিক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। এ পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসেবে সংবাদকক্ষে সতর্কতা ও আত্মসংযম বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশের সক্ষমতাকে সীমিত করে দেয়।

এর ক্ষতি শুধু গণমাধ্যমের নয়, পুরো সমাজের। তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকলে দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও মানবিক অবহেলা আড়ালেই থেকে যায়। তখন উন্নয়ন হয় কাগজে, বাস্তবে নয়। আর জাতির আস্থার ভিত্তি ভেঙে পড়ে। এখানেই স্বাধীন সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দায়বদ্ধতা ছাড়া স্বাধীনতা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত হলো তথ্য যাচাই। গুজব ও অপপ্রচারের এ সময়ে যাচাইহীন সংবাদ শুধু বিভ্রান্তি বাড়ায় এবং সামাজিক বিভাজনকে তীব্র করে।

এ প্রেক্ষাপটে হলুদ সাংবাদিকতার ঝুঁকি আরও প্রকট। ক্লিক ও দর্শক বাড়ানোর প্রতিযোগিতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অতিরঞ্জনের প্রবণতা অনেক সংবাদমাধ্যমকে নাটকীয় শিরোনাম ও অর্ধসত্যে ঠেলে দিচ্ছে। এটি শুধু পেশাগত অবক্ষয় নয়; এটি একটি সামাজিক বিপর্যয়। কারণ হলুদ সাংবাদিকতা ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার শক্তিকে দুর্বল করে এবং সমাজে ভয়, ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ায়।

তবে এ সংকটের দায় এককভাবে সাংবাদিকদের ওপর চাপানো যায় না। মালিকানার রাজনৈতিক সংযোগ, আর্থিক চাপ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা একটি কাঠামোগত সমস্যা তৈরি করেছে। চাকরি হারানো বা মামলার ভয়ে অনেকেই সত্য বলার ঝুঁকি নিতে পারেন না। ফলে সংবাদকক্ষগুলো সত্যের বদলে সুবিধাজনক ব্যাখ্যাকে অগ্রাধিকার দেয়।

জাতীয় বিনির্মাণের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো এমন সমাজ গড়া, যেখানে সত্যের মূল্য আছে। যেখানে ক্ষমতার সামনে প্রশ্ন তোলা যায়, ভুল হলে সংশোধন সম্ভব এবং প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠ গুরুত্ব পায়। এ দায়িত্ববোধ ছাড়া উন্নয়ন শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে।

বিশ্বের অভিজ্ঞতা দেখায়, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সাংবাদিকতা কখনোই শুধু বিরোধীপক্ষের হাতিয়ার নয়। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করেছিল। ব্রিটেনে বিবিসি সরকার ও বিরোধী উভয়ের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, এটাই তার নিরপেক্ষতার প্রমাণ। এসব উদাহরণ দেখায়, স্বাধীন সাংবাদিকতা কোনোপক্ষের শত্রু নয়; এটি পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলিত করে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ সত্য অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সরকার ও বিরোধী উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। কারণ, সত্য কোনো পক্ষের সম্পত্তি নয়। সত্যই গণতন্ত্রের আসল শক্তি। সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতা—এ তিনের সমন্বয়েই স্বাধীন সাংবাদিকতা জাতীয় বিনির্মাণের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করে। এ ভিত্তি না থাকলে রাষ্ট্র শুধু শাসনের কাঠামো হয়ে ওঠে, গণতন্ত্র নয়।

লেখক: দুবাই প্রতিনিধি, কালবেলা

 

পবিত্র শবে বরাতের রাতেও আল্লাহ যাদের ক্ষমা করেন নি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৪ এএম
পবিত্র শবে বরাতের রাতেও আল্লাহ যাদের ক্ষমা করেন নি?

পবিত্র শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত মুসলমানদের জন্য এক মহিমান্বিত রজনী। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী এই রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন। শবেবরাত উপলক্ষে সারা বিশ্বের মুসলমানগণ নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকেন। তবে শুধু একটি রাত ইবাদত করলেই সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে এমন ধারণা সঠিক নয়।

শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতের শুরু থেকেই আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি মনোযোগী হন এবং ঘোষণা করতে থাকেন; কে আছে ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করব; কে আছে রিযিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিজিক দেব; কে আছে বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে মুক্ত করব ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই আমাদের উচিত এই রাতে নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য দোয়া করা।

তবে এই মহিমান্বিত রাতেও দুই শ্রেণির মানুষ আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকবে। এক. মুশরিক (যার জীবনে শিরক রয়েছে)। দুই. মুশাহিন (হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণকারী)।

বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ অর্ধ-শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তার সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৫৬৬৫)

ইসলামে শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য মনে করা বা আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে অংশীদার করা মারাত্মক অপরাধ। একইভাবে হিংসা-বিদ্বেষ মানুষের নেক আমল ধ্বংস করে দেয়।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হিংসা থেকে দূরে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন লাকড়িকে ভস্ম করে দেয়। (সুনানে আবু দাউদ)

শবে বরাত কোনো ভাগ্যরজনী নয়। ভাগ্য নির্ধারণের রাত হলো লাইলাতুল কদর। শবে বরাত হলো আল্লাহর বিশেষ রহমতের রাত; যা ধারাবাহিক ইবাদতকারীদের জন্য এক ধরনের বোনাস। তবে যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে নতুনভাবে আল্লাহর পথে ফিরে আসে, তারাও এ রাতে সৌভাগ্যবান হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ—বিজ্ঞান কী বলে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১১ এএম
আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ—বিজ্ঞান কী বলে?

অতিরিক্ত টেনশন বা কাজের চাপের কারণে অনেকেই নিজের অজান্তে আঙুল ফুটিয়ে থাকেন। আঙুল ফোটানো অনেকের কাছে স্বস্তিদ্বায়ক, আবার অনেকের কাছে অভ্যাস। অনেকের ধারণা, আঙুল ফোটানো, আঙুলের হাড়ের জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেকের ধারণা, নিয়মিত আঙুল ফোটালে নাকি আঙুলের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে এ বিষয়ে? সম্প্রতি হেলথলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।

চলুন জেনে নেওয়া যাক-

আঙুল ফোটানোর পেছনের কারণ

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ নিয়মিত বা মাঝেমধ্যে আঙুল ফুটিয়ে থাকেন। কেউ এই শব্দ শুনে আনন্দ পান, কেউ আবার মনে করেন এতে মানসিক চাপ কমে। অনেকেই আবার একে স্ট্রেস থেকে মুক্তির একটি উপায় হিসেবে দেখেন। কেউ কেউ চিন্তা বা উদ্বেগের সময় চুল পাকান, কেউ আবার নখ কামড়ান। তারাও অনিচ্ছাকৃতভাবে আঙুল ফোটাতে শুরু করেন। একবার এই অভ্যাস তৈরি হলে, তা ছেড়ে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

আঙুল ফোটালে যে শব্দ হয়, তার উৎস

অনেকেই ভাবেন, হাড় ঘষা লেগেই বুঝি শব্দটি হয়। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। ২০১৫ সালের এক গবেষণায় এমআরআইতে দেখা গেছে, আঙুল ফোটানোর সময় জোড়া টান দিলে অস্থিসন্ধির তরলের মধ্যে একটি ছোট ‘ক্যাভিটি’ বা ফাঁপা জায়গা তৈরি হয়, যেটির সৃষ্টিই শব্দের কারণ। আর ২০১৮ সালের আরেক গবেষণায় বলা হয়, শব্দটি আসলে ওই ফাঁপা অংশটি আংশিক ভেঙে পড়ার সময় তৈরি হয়। আর একই আঙুল কিছুক্ষণ পর আবার ফোটানো যায়। কারণ ওই ফাঁপা জায়গাটি আবার পূর্ণ হতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে।

আঙুল ফোটানো কি ক্ষতিকর

অনেক অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে কেউ যদি এটি নিয়মিত বা দিনে বারবার করতে থাকেন, তাহলে সমস্যা হতে পারে। এতে অস্থিসন্ধির ভেতরের তরল (সাইনুভিয়াল ফ্লুইড) কমে যেতে পারে। ফলে হাড়ে হাড়ে ঘষা লাগে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

তবে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আঙুল ফোটানো সরাসরি বাত বা হাড় ক্ষয়ের কারণ নয়। এক চিকিৎসক টানা ৫০ বছর ধরে শুধু এক হাতের আঙুল ফোটান। পরে তিনি দেখেন, ফোটানো হাত ও না ফোটানো হাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এতে প্রমাণিত হয়, আঙুল ফোটানো সব সময় ক্ষতিকর নয়।

যখন সাবধান হওয়া জরুরি

যদি আঙুল ফোটানোর সময় বা পরে ব্যথা হয়, আঙুল ফুলে যায় বা নড়াতে সমস্যা হয়, তাহলে এটি শুধু অভ্যাস নয়। এটি শরীরের কোনো সমস্যা বা রোগের লক্ষণ হতে পারে, যা গাউট, আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্ট ইনজুরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উপসর্গগুলো হলো—

১. আঙুলে ব্যথা

২. ফুলে যাওয়া

৩. জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া

৪. নড়াচড়া করতে কষ্ট হওয়া

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে যদি কেউ নিয়মিতভাবে এটি করেন, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই সতর্ক থাকা ভালো। আর যদি আঙুলে ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বস্তি হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র : হেলথ লাইন

কে এই আলোচিত নীলা ইসরাফিল? জানুন তার পরিচয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৩ এএম
কে এই আলোচিত নীলা ইসরাফিল? জানুন তার পরিচয়

গোপালগঞ্জ জেলার মেয়ে নীলা ইসরাফিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে এক আলোচিত ও বিতর্কিত নাম। ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিকমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি নিয়মিতই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে মুয়াজ আরিফের সাবেক স্ত্রী হিসেবে পরিচিতি পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীলা নিজ পরিচয়েই আলোচনায় উঠে এসেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে নীলার দৃশ্যমান উপস্থিতি শুরু হয়। বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলনে তাকে সরব ভূমিকায় দেখা যায়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের গড়া নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন তিনি। দলটির বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নীলার উপস্থিতি সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে রাজনৈতিক যাত্রা খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দলের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে নীলা একপর্যায়ে নিজের সাবেক শ্বশুর প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফ এবং এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন নীলা ইসরাফিল। পদত্যাগের পরও তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করে যাচ্ছেন, যা তাকে আলোচনায় রাখছে।

রাজনীতির বাইরে নীলা ইসরাফিল একজন পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। শোবিজ অঙ্গনে তার পথচলা শুরু হয় বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে। রায়হানের নির্দেশনায় একটি প্রতিষ্ঠানের মশার কয়েলের বিজ্ঞাপনে প্রথম মডেল হিসেবে কাজ করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে দেশীয় বিজ্ঞাপন জগতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন নীলা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টির বেশি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে মেজবাউর রহমান সুমনের নির্দেশনায় ‘বিকাশ’ এবং পলকের নির্দেশনায় ‘জিপি’র বিজ্ঞাপন উল্লেখযোগ্য।

অভিনয় জগতে নীলার অভিষেক হয় অনিমেষ আইচ পরিচালিত নাটক ‘কুয়া’র মাধ্যমে। এরপর তিনি ‘ঘর সংষার’, ‘টিরিগিরি টক্কা’, ‘ফুল এইচডি’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। গেল ঈদে সকাল আহমেদ পরিচালিত ‘কে খুনী’ ও ‘ব্রেক আপ ইন’ নাটক দুটি প্রচারিত হয়, যা ইউটিউবে দর্শকদের ভালো সাড়া পায়।

চলচ্চিত্রেও নীলা কাজ করেছেন। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত একমাত্র সিনেমা আবীর খান পরিচালিত ‘পোস্টমাস্টার ৭১’। এ ছাড়া ধ্রুব’র পরিচালনায় আরও একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন তিনি, যা এখনো মুক্তির অপেক্ষায়।

রাজনীতি ও বিনোদন—দুই অঙ্গনেই সক্রিয় নীলা ইসরাফিলকে ঘিরে আলোচনা থামছে না। সমর্থক ও সমালোচক—দুই পক্ষের নজরেই থাকা এই তরুণী ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবেন, তা নিয়েই কৌতূহল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।