খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর-২ : শামা ওবায়েদের আয় ২১ লক্ষ টাকা, নগদ অর্থ আড়াই কোটি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর-২ : শামা ওবায়েদের আয় ২১ লক্ষ টাকা, নগদ অর্থ আড়াই কোটি

ফরিদপুর–২ সংসদীয় আসন (সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা) থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে হলফনামা দাখিল করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ ইসলাম।

দাখিলকৃত হলফনামায় তার আয়–ব্যয়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক ঋণ, মামলা সংক্রান্ত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পারিবারিক ও ঠিকানাগত পরিচয়ের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই তথ্যগুলো ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং বর্তমানে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ফরিদপুর–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এবার তিনি নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রার্থীদের হলফনামা ঘিরে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পেশা ও বার্ষিক আয়:

হলফনামায় শামা ওবায়েদ ইসলাম তার পেশা হিসেবে ব্যবসা ও চাকরি উল্লেখ করেছেন। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তথ্যানুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ২১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বার্ষিক আয়কর দিয়েছেন ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ৭২১ টাকা।

অন্যদিকে, হলফনামায় স্বামীর পেশা হিসেবেও দেখানো হয়েছে ব্যবসা ও চাকরি। তাঁর বার্ষিক আয় ৮৯ লক্ষ ২২ হাজার ৪’শ ১৮ টাকা উল্লেখ করেছেন।

নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীদের আয়ের উৎস ও পরিমাণ নির্ভুলভাবে প্রকাশ করতে হয়। সেই বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবেই এই তথ্য হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্থাবর সম্পদের চিত্র:

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, শামা ওবায়েদ ইসলামের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থাবর সম্পদের এই তথ্য তার ব্যক্তিগত সম্পদ বিবরণের অংশ। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ সব ধরনের স্থাবর সম্পদের তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব তথ্য যাচাইয়ের সুযোগও রয়েছে।

অস্থাবর সম্পদ ও আর্থিক সঞ্চয়:

হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—

-নগদ অর্থ: ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা

-ব্যাংকে জমা: ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা

-শেয়ার ও বন্ড: ৫০ লাখ টাকা

-স্বর্ণালংকার: ৫০ ভরি

-যানবাহন: আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা মূল্যমানের একটি জিপ গাড়ি

এই অস্থাবর সম্পদের বিবরণ থেকে বোঝা যায়, তাঁর আর্থিক লেনদেন ও বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদের এই স্বচ্ছ উপস্থাপন ভোটারদের আস্থার বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হয়।

ব্যাংক ঋণ ও দায়:

হলফনামায় ব্যাংক ঋণের তথ্যও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তাঁর নামে ফ্ল্যাট ক্রয় বাবদ ব্যাংকে মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৪ টাকা ঋণ রয়েছে বলে হলফনামায় জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, প্রার্থীদের সব ধরনের ঋণ ও দায়দেনা প্রকাশ করতে হয়, যাতে তাদের আর্থিক অবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়।

মামলা সংক্রান্ত তথ্য:

হলফনামার সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশগুলোর একটি হলো মামলা সংক্রান্ত তথ্য। শামা ওবায়েদ ইসলাম তার হলফনামায় মোট ১৮টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ১৭টি মামলা প্রত্যাহার, অব্যাহতি অথবা খালাসপ্রাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

হলফনামা অনুযায়ী, বিচারাধীন মামলাটি নগরকান্দা থানা সংশ্লিষ্ট এবং মামলার নম্বর ৮(৮)২৪। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বিষয়টি হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলার তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে ভোটাররা প্রার্থীর আইনি অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেছেন, তিনি ব্যাচেলর অব সায়েন্স (বিএসসি) ডিগ্রিধারী। শিক্ষাগত যোগ্যতা একজন প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতার পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়।

পারিবারিক পরিচয়:

হলফনামায় তার পারিবারিক পরিচয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।

-পিতা: কে এম ওবায়দুর রহমান

-মাতা: শাহেদা ওবায়েদ

-স্বামী: শোভন ইসলাম ওরফে মুস্তাজিরুল শোভন ইসলাম

এই তথ্যগুলো নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম অনুযায়ী সংযুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা:

বর্তমান ঠিকানা হিসেবে শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেছেন—
৩৮/বি, রোড নং-১৮, ব্লক-বি, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

এছাড়া স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে দেওয়া হয়েছে—
গ্রাম: লস্করদিয়া, উপজেলা: নগরকান্দা, জেলা: ফরিদপুর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্থায়ী ঠিকানার সূত্র ধরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর অঞ্চলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

হলফনামার গুরুত্ব ও ভোটারদের প্রত্যাশা:

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রার্থীদের হলফনামা ভোটারদের সামনে তাদের আর্থিক, সামাজিক ও আইনি অবস্থান স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়–সম্পদ ও মামলার তথ্য প্রকাশ ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ফরিদপুর–২ আসনের সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার ভোটারদের কাছে শামা ওবায়েদ ইসলামের দাখিলকৃত হলফনামা তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অবস্থান সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নীরবতা ভাঙার আহ্বান, ফরিদপুরে দিনব্যাপী কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
নারীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নীরবতা ভাঙার আহ্বান, ফরিদপুরে দিনব্যাপী কর্মশালা

নারীর মানসিক স্বাস্থ্যকে সুস্থ পরিবার ও মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন, মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত না হলে ব্যক্তি, পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজ—সবক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই নারীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, কুসংস্কার দূর করা এবং সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বুধবার (২২ জুলাই) ফরিদপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে ফাউন্ডেশন ফর উইমেন পসিবিলিটিজ-এর সহযোগিতায় নারী উন্নয়ন সংস্থা ‘নন্দিতা সুরক্ষা’ আয়োজিত “Women’s Mental Health: Awareness, Empathy and Practical Actions” শীর্ষক দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক সুস্থতা রক্ষায় সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক মানসিক সহায়তা (Psychological First Aid) বিষয়ে ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী নারী, তরুণ-তরুণী, যুব অ্যাক্টিভিস্ট, স্বেচ্ছাসেবক, নারী অধিকারকর্মী এবং সামাজিক উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ মোট ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন।

রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সুস্থতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাহাপারা আলম। তিনি নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বর্তমান বাস্তবতা, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বার্নআউট, বিষণ্নতার কারণ, প্রাথমিক লক্ষণ এবং এসব পরিস্থিতিতে সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ ও প্রাথমিক মানসিক সহায়তার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক ট্যাবু, ভুল ধারণা এবং সচেতনতার অভাবের কারণে অনেক নারী সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারেন না। ফলে অনেক সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি আকার ধারণ করে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, আত্মযত্ন (Self-care), সহমর্মিতাপূর্ণ যোগাযোগ এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে অনেক মানসিক সংকট প্রাথমিক পর্যায়েই মোকাবিলা করা সম্ভব।

অংশগ্রহণমূলক এ কর্মশালায় বিশেষজ্ঞের উপস্থাপনার পাশাপাশি দলীয় আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান। একই সঙ্গে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও কমিউনিটিতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, ইতিবাচক বার্তা প্রচার এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বেনিফিসিয়ারিজ ফ্রেন্ডশিপ ফোরাম (বিএফএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক এ. এন. এম. ফজলুল হাদী সাব্বির বলেন, “নারীর শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানসিকভাবে সুস্থ নারীই একটি সুস্থ পরিবার এবং উন্নত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও সমাজের সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

আয়োজক প্রতিষ্ঠান নন্দিতা সুরক্ষা-র নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, “নারীর মানসিক স্বাস্থ্য একটি মৌলিক অধিকার। পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন। নন্দিতা সুরক্ষা নারী ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।”

কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, নারীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে এখনও নানা ভুল ধারণা ও সংকোচ রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সচেতনতা বাড়ায় না, বরং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণের মানসিকতাও তৈরি করে। তাদের মতে, এমন কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হলে সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সালথায় বেকারিতে অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়ল ময়দা-চিনি ও তিন মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
সালথায় বেকারিতে অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়ল ময়দা-চিনি ও তিন মোটরসাইকেল

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রসুলপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বেকারি, তিনটি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পুড়ে গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) ভোর ৫ টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুর বাজারে সেলিম মাতুব্বরের মালিকানাধীন আল্লাহরদান বেকারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বেকারিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের নীরবতায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন এবং একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে আশপাশের দোকান ও স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

অগ্নিকাণ্ডে বেকারির ভেতরে থাকা দুটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল, একটি রানার মোটরসাইকেল, প্রায় ২০ বস্তা ময়দা, ২৫ বস্তা চিনি, বেকারি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং পুরো টিনশেড ঘর পুড়ে যায়। এতে মালিকের প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সালথা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল জলিল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বেকারির চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বেকারি মালিকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভোরে আগুন লাগার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ক্ষতিগ্রস্ত বেকারিটি এলাকার অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর আর্থিক ক্ষতি বেশ বড়। দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে বেকারির কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিকভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

অল্প বয়সী নারীরা কেন বয়স্ক পুরুষের প্রেমে পড়ে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
অল্প বয়সী নারীরা কেন বয়স্ক পুরুষের প্রেমে পড়ে?

প্রেম বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে বয়স সবসময় নির্ধারক নয়। মানুষের অনুভূতি, পছন্দ কিংবা মানসিক সংযোগ অনেক সময় বয়সের সীমা অতিক্রম করে যায়। যদিও অধিকাংশ সম্পর্কেই দুই সঙ্গীর বয়স কাছাকাছি থাকে, তবুও বাস্তবে এমন অনেক সম্পর্ক দেখা যায় যেখানে নারীর বয়স তুলনামূলক কম এবং পুরুষের বয়স বেশি। কেন এমনটা ঘটে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে বয়সে বড় পুরুষদের প্রতি অনেক নারীর আকর্ষণের মূল কারণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নয়; বরং মানসিক পরিপক্বতা, দায়িত্বশীলতা, স্থিরতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ। আধুনিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মানসিক পরিপক্বতা তৈরি করে আস্থা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, যা তার চিন্তাভাবনা ও আচরণে পরিপক্বতা আনে। বয়সে বড় পুরুষরা সাধারণত আবেগ নিয়ন্ত্রণে বেশি দক্ষ হন এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা উত্তেজিত হওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বা অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

বাস্তবভিত্তিক সম্পর্কের প্রতি ঝোঁক

পরিণত বয়সের অনেক পুরুষ সম্পর্ককে কেবল আবেগের জায়গা থেকে নয়, বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করেন। তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন। সম্পর্কে কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা এড়িয়ে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার প্রবণতাও তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে থাকে আত্মবিশ্বাস

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বয়সে বড় অনেক পুরুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ব্যক্তিগত বিষয়ে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমাতে সাহায্য করে। এই স্থিরতা অনেক নারীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে স্পষ্ট

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্ব অনেক। বয়সে বড় অনেক পুরুষের ক্যারিয়ার, পরিবার এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকে। ফলে সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কম দেখা যায় এবং সঙ্গীর মধ্যেও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা

জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন মতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায়। অনেক পরিণত বয়সের পুরুষ এই অভিযোজন ক্ষমতার কারণে বিভিন্ন সামাজিক বা পারিবারিক পরিস্থিতিতে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। অনেক নারী এই গুণটিকেও ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করেন।

পারস্পরিক সম্মান ও সহানুভূতির গুরুত্ব

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বয়সে বড় অনেক পুরুষ সম্পর্কে সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব দেন, ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করেন এবং প্রয়োজন হলে সমঝোতার পথও বেছে নেন। এই ধরনের আচরণ সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বদলে গেছে সম্পর্কের ধারণা

একসময় ধারণা ছিল, বয়সে বড় পুরুষের প্রতি নারীদের আকর্ষণের প্রধান কারণ আর্থিক নিরাপত্তা। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। এখন অনেক নারী এমন একজন সঙ্গীকে গুরুত্ব দেন, যিনি দায়িত্বশীল, আবেগ বোঝেন, খোলামেলা যোগাযোগে বিশ্বাসী এবং সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, পরিণত বয়সের অনেক পুরুষ দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়তে বেশি আগ্রহী হন। তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধকে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন।

বয়স নয়, সম্পর্কের ভিত্তি বোঝাপড়া

তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও স্পষ্ট করে বলছেন, শুধু বয়স বেশি হলেই কেউ আদর্শ জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠেন না। একইভাবে কম বয়স মানেই অপরিপক্ব এমন ধারণাও সঠিক নয়। একটি সম্পর্কের সফলতা নির্ভর করে ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, যোগাযোগের দক্ষতা এবং বোঝাপড়ার ওপর।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখনই, যখন দুইজন মানুষ একে অপরকে সম্মান করেন, বিশ্বাস করেন এবং মানসিকভাবে একসঙ্গে পথ চলতে প্রস্তুত থাকেন।