খুঁজুন
, ,

মোবাইল ফোন ফ্লাশ করার ৬টি উপকারিতা, যা আপনার জানা উচিত

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
মোবাইল ফোন ফ্লাশ করার ৬টি উপকারিতা, যা আপনার জানা উচিত

বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। এটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ড করা, গান শোনা, এবং ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের জন্যও অপরিহার্য। তবে, ফোনে সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেমের সমস্যা হলে, মোবাইল ফোন কেন ফ্লাশ করতে হয় তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

মোবাইল ফ্ল্যাশিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা যায় এবং ফোনের পারফরম্যান্স উন্নত হয়। আজকের পোস্টে, আমরা মোবাইল ফ্লাশ করার ৬টি উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যা আপনাকে ফ্ল্যাশিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করবে। তার আগে আমরা জেনে নেবো মোবাইল ফ্ল্যাশ কী।

মোবাইল ফ্ল্যাশ কী?

মোবাইল ফ্ল্যাশ হল একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ফোনের পুরোনো অপারেটিং সিস্টেম মুছে ফেলা হয় এবং তার স্থানে নতুন অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করা হয়। এটি মূলত ফোনের সফটওয়্যার সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

যখন ফোনটি স্লো হয়ে যায়, বাগ বা ত্রুটি দেখা দেয়, ভাইরাস বা মেলওয়্যার আক্রান্ত হয়, বা ফোনের সিকিউরিটি কমে যায়, তখন মোবাইল ফ্ল্যাশ করা প্রয়োজন হতে পারে।

মোবাইল ফোন ফ্লাশ করার ৬টি উপকারিতা যা আপনার জানা উচিত

১. সফটওয়্যার সমস্যা সমাধান 

মোবাইল ফোন ফ্লাশ করার সবচেয়ে সাধারণ এবং মূল কারণ হল সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেমের সমস্যা। ফোন হ্যাং হওয়া, স্লো হয়ে যাওয়া, অথবা অজানা কারণে বিভিন্ন অ্যাপস ক্র্যাশ হওয়া—এসব সাধারণ সমস্যা ফ্লাশিংয়ের মাধ্যমে সহজেই সমাধান করা যেতে পারে।

মোবাইল ফ্ল্যাশের মাধ্যমে ফোনের পুরোনো এবং সমস্যা সৃষ্টি করা সফটওয়্যার মুছে ফেলা হয় এবং নতুন, ত্রুটিমুক্ত অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করা হয়। এর ফলে ফোনের পারফরম্যান্স অনেকাংশে বৃদ্ধি পায় এবং এটি আগের তুলনায় দ্রুত কাজ করতে শুরু করে।

২. ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার দূরীকরণ

ফোনে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার ঢুকে গেলে সাধারণ স্ক্যানিং পদ্ধতির মাধ্যমে তা সঠিকভাবে মুছে ফেলা সম্ভব হয় না।

এই ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যারগুলো সাধারণত ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে মিশে থাকে, যা ফোনের কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তা দুইই হুমকির মুখে ফেলে।

ফ্ল্যাশ করার মাধ্যমে আপনার ফোন থেকে সব ধরনের ভাইরাস, ম্যালওয়্যার এবং অন্যান্য ক্ষতিকর প্রোগ্রাম সরিয়ে ফেলা যায়। ফলে ফোনটি নিরাপদ হয়ে ওঠে এবং এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৩. কাস্টম রম ইন্সটল করার সুবিধা

অনেকে তাদের ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের পুরোনো ভার্সন পরিবর্তন করে নতুন বা কাস্টম রম (Custom ROM) ইন্সটল করতে চান। মোবাইল ফ্ল্যাশ করার মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়। কাস্টম রম আপনাকে নতুন ফিচার এবং উন্নত পারফরম্যান্স প্রদান করতে সহায়ক।

এছাড়া, এটি ফোনের UI (ইউজার ইন্টারফেস) পরিবর্তন করতে সাহায্য করে, যা ফোনটিকে আরও আকর্ষণীয় এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব করে তোলে।

কাস্টম রম ইনস্টল করার মাধ্যমে আপনি আপনার ফোনকে সম্পূর্ণ নতুন এবং আরও শক্তিশালী একটি ডিভাইসে পরিণত করতে পারবেন।

৪. পাসওয়ার্ড বা প্যাটার্ন লক ভুলে গেলে

অনেক সময় আমরা আমাদের ফোনের পাসওয়ার্ড বা প্যাটার্ন ভুলে যাই, যার ফলে ফোনের ভিতরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা অ্যাপস অ্যাক্সেস করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এক্ষেত্রে, ফ্ল্যাশ করার মাধ্যমে আপনি ফোনটি আবার অ্যাক্সেস করতে পারবেন, কারণ এটি ফোনের সমস্ত সিকিউরিটি লক মুছে ফেলে।

তবে, মনে রাখবেন যে, ফ্ল্যাশ করার ফলে ফোনের সমস্ত ডেটা মুছে যায়, তাই ফোনের তথ্যের ব্যাকআপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৫. মোবাইলের গতি বৃদ্ধি করা

মোবাইল ফোনের স্লো চলা বা অ্যাপস লোড হতে সময় নেওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। ফোনে অনেক পুরোনো সফটওয়্যার বা অতিরিক্ত ফাইল জমে যাওয়ার কারণে ফোনের গতি কমে যেতে পারে।

মোবাইল ফ্ল্যাশ করার মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব। নতুন অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল হলে ফোনটি আগের তুলনায় অনেক দ্রুত কাজ করতে শুরু করবে। এটি বিশেষ করে যারা ফোনের দ্রুত পারফরম্যান্স চান তাদের জন্য একটি কার্যকরী সমাধান।

৬. ফোনের সিকিউরিটি বৃদ্ধি

যখন আপনি মোবাইল ফ্ল্যাশ করেন, তখন ফোনে নতুন সিকিউরিটি প্যাচ ইন্সটল করা হয়। এর মাধ্যমে ফোনের সিকিউরিটি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে, এবং বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিং বা স্ক্যাম থেকে ফোনকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।

মোবাইল ফ্ল্যাশ করার মাধ্যমে ফোনের নিরাপত্তা বাড়ানো যায়, বিশেষ করে যদি আপনার ফোনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন সমস্যা থেকে থাকে।

উপসংহার

মোবাইল ফোন ফ্লাশ করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যা অনেক ধরনের সফটওয়্যার সমস্যা এবং সিকিউরিটি সমস্যা সমাধান করতে পারে।

তবে, ফ্ল্যাশ করার আগে অবশ্যই ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ব্যাকআপ নিতে ভুলবেন না, কারণ ফ্ল্যাশ করার ফলে ফোনের সমস্ত ডেটা মুছে যায়।

মোবাইল ফ্ল্যাশ করার মাধ্যমে আপনি আপনার ফোনের গতি বৃদ্ধি, সিকিউরিটি বৃদ্ধি, এবং অন্যান্য সফটওয়্যার সমস্যা সমাধান করতে পারবেন।

আপনি যদি আপনার ফোনে কোনো সমস্যা দেখতে পান যা সাধারণ রিস্টার্ট বা রিসেট দ্বারা সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে মোবাইল ফ্ল্যাশ করা একটি উত্তম বিকল্প হতে পারে।

ফরিদপুরের মধুখালী প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এমপি হেলেন জেরিন খানের

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালী প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এমপি হেলেন জেরিন খানের

ফরিদপুরের মধুখালী প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৮টায় মধুখালী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনিরুজ্জামান মৃধা (মন্নু)।

সভা সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হোসেন পলাশ এবং সহ-সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান মিয়া।

সভার শুরুতে প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হোসেন পলাশ। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রেস ক্লাবে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ এবং প্রেস ক্লাবের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান বলেন, “আমি নিজে রাস্তার অবস্থা দেখেছি। রাস্তা নির্মাণে যা যা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। পাশাপাশি মধুখালী প্রেস ক্লাবের উন্নয়নেও আমি কাজ করব।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মধুখালী প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ, মো. হায়দার আলী মোল্লা, মো. আব্দুল আলিম মানিক, মো. ইয়াসিন বিশ্বাস, মো. মোক্তার হোসেন, মো. তারিকুল ইসলাম এনামুল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রাকিবুল ইসলাম রিপনসহ প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নীরব প্রহরী জাকির, ৩৭ বছর পরও টাকার অভাবে ধুকছে চিকিৎসা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নীরব প্রহরী জাকির, ৩৭ বছর পরও টাকার অভাবে ধুকছে চিকিৎসা

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নতুন ভবনের করিডোরে প্রতিদিনের মতোই ধীর পায়ে হাঁটেন মো. জাকির হোসেন। কারও হাতে এক কাপ চা তুলে দেন, কারও জন্য দরজা খুলে দেন, আবার কখনো কোনো সাংবাদিকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে দেন, চা খাওয়ান। সংবাদ শিরোনামে যাদের নাম উঠে আসে, তাদের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষটির নাম খুব কম মানুষই জানেন। অথচ এই প্রেসক্লাবের প্রতিটি ইট, প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি কক্ষ যেন তার জীবনেরই অংশ।

মো. জাকির হোসেনের জন্ম ১৯৭৯ সালের ২৯ মে, ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর মহল্লায়। বাবা শেখ আব্দুর রহমান ছিলেন একজন নাইটগার্ড। অল্প আয়ের সেই চাকরিতে সংসার চলত কষ্টে। মা ফাতেমা বেগম ছিলেন গৃহিণী। সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যেই বড় হয়েছেন জাকির। ফরিদপুরের বাখুন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু দারিদ্র্য তার বই-খাতা কেড়ে নেয়। জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে জীবিকার পথে নামতে বাধ্য করে।

মাত্র দশ বছর বয়সে, ১৯৮৯ সালে, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তমিজউদ্দীন তাজের হাত ধরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে পিয়ন হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেই যে শুরু, তারপর কেটে গেছে প্রায় সাড়ে তিন দশক। সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, প্রেসক্লাবের ভবন বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি জাকিরের দায়িত্ববোধ।

এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অসংখ্য সাংবাদিকের উত্থান-পতন দেখেছেন। অনেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব নিতে দেখেছেন, আবার তাদের চিরবিদায়ও প্রত্যক্ষ করেছেন। সভাপতি সৈয়দ ইমামুল আজম আব্দুর রব, শেখ মো. দেলোয়ার হোসেন, জগদীশ চন্দ্র ঘোষ, আব্দুল আলী শিকদার—আজ তারা আর নেই। সাধারণ সম্পাদক মন্টু দাস গোপী, ইউসুফ রেজা মন্টু, আ.জ.ম. আমীর আলী, আলী আশরাফ মো. শোয়াইব ও আরিফ ইসলামও চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আরও কত সদস্য, কত পরিচিত মুখ—এক এক করে হারিয়ে যেতে দেখেছেন তিনি।

এসব কথা বলতে বলতে জাকিরের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। চোখ ভিজে ওঠে অশ্রুতে। তিনি বলেন, “এই প্রেসক্লাবটাই আমার জীবন। এখানে আমার যৌবন কেটেছে, হাসি-কান্না কেটেছে। প্রতিটি দেয়ালে আমার স্মৃতি লেগে আছে।”

জাকিরের ব্যক্তিগত জীবনও সংগ্রামের গল্পে ভরা। স্ত্রী লিপি বেগম একজন গৃহিণী। অল্প আয়ে সংসার সামলাতে গিয়ে প্রতিটি দিনই তাদের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ। এক ছেলে ও এক মেয়েকে মানুষ করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রমে। ছেলে আজিম হোসেন ২০২৪ সালে ফরিদপুরের সরকারি ইয়াছিন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে জীবিকার তাগিদে হামিম গ্রুপের একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছেন। মেয়ে মোসা. হাফছার বিয়ে হয়েছে কাপড় তৈরির মেশিনচালক আরিফের সঙ্গে। নিজের স্বপ্নগুলো বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন জাকির।

কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর যেন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমরের হাড় ক্ষয়ের মতো জটিল রোগে ভুগছেন তিনি। প্রতিদিন ওষুধ কিনতেই খরচ হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এই সামান্য টাকাও অনেক সময় জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসার আশায় মানুষের সহায়তায় ছয়-সাতবার ভারতে গিয়েছেন। কিছুদিন সুস্থ থাকলেও আবার ফিরে এসেছে অসুস্থতা। প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা, কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা এখন অধরাই রয়ে গেছে।

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, এত কষ্টের মধ্যেও তিনি কখনো কারও দরজায় গিয়ে হাত পাতেননি। নিজের অভাবকে হাসিমুখে আড়াল করে প্রতিদিন যথাসময়ে কর্মস্থলে হাজির হন। যারা তাকে চেনেন, তারা জানেন—জাকিরের মুখে অভিযোগের চেয়ে কৃতজ্ঞতার কথাই বেশি শোনা যায়।

২০২৬ সালের মে মাসে মায়ের মৃত্যুর পর যেন আরও একা হয়ে গেছেন তিনি। সংসারের দায়িত্ব, ওষুধের খরচ, পুরোনো দেনা—সব মিলিয়ে জীবন যেন আরও ভারী হয়েছে। তবুও দায়িত্ব পালনে তার কোনো ক্লান্তি নেই। কেউ প্রেসক্লাবে এলে এখনও আগের মতোই আন্তরিক হাসিতে অভ্যর্থনা জানান তিনি।

জাকির হোসেন কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি নন। তিনি সংবাদপত্রের প্রথম পাতার মানুষও নন। কিন্তু সংবাদ তৈরির পেছনে যারা নিরলস শ্রম দিয়ে যান, তাদের একজন তিনি। সাংবাদিকদের ব্যস্ততার ভিড়ে হয়তো অনেকেই তাকে খেয়াল করেন না, কিন্তু প্রেসক্লাবের প্রতিটি দিন, প্রতিটি আয়োজন, প্রতিটি ব্যস্ত মুহূর্তে তার নীরব উপস্থিতি অপরিহার্য।

একটি প্রতিষ্ঠানে টানা প্রায় ৩৭ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা শুধু চাকরি নয়, এটি এক ধরনের ভালোবাসা, এক ধরনের আত্মনিবেদন। সেই ভালোবাসার মূল্য কি শুধু একটি সামান্য বেতন? একজন মানুষ, যিনি জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য উৎসর্গ করেছেন, অসুস্থতার সময়ে কি তার পাশে দাঁড়ানো সমাজের দায়িত্ব নয়?

আজও জাকির হোসেনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন খুব সাধারণ—আরও একবার ভালো চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়ে বাঁচতে চান। তিনি বিলাসী জীবন চান না, বড় কোনো বাড়ি বা গাড়িও চান না। শুধু চান একটু স্বস্তিতে বেঁচে থাকার সুযোগ, যাতে প্রতিদিনের ওষুধের চিন্তা আর চিকিৎসার খরচের হিসাব তাকে তাড়া না করে।

হয়তো সমাজে এমন অনেক জাকির হোসেন আছেন, যারা নীরবে দায়িত্ব পালন করে যান, অথচ নিজেদের কষ্টের কথা কাউকে জানান না। তাদের গল্প খুব কমই আলোয় আসে। কিন্তু এমন মানুষেরাই আমাদের সমাজের নীরব ভিত্তি। তাদের ত্যাগ, সততা আর আত্মসম্মান আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের প্রকৃত মর্যাদা পদবি বা সম্পদে নয়, বরং নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতায়।

জাকির হোসেন এখনও প্রতিদিন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের দরজা খুলে দেন। হয়তো একদিন সেই দরজাই তার দীর্ঘ কর্মজীবনের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকবে। কিন্তু তার আগে, একজন সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এটাই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব।

বিয়ের দুই মাস পর মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রাণ হারাল সালথার শোয়াইব

নুরুল ইসলাম নাহিদ, সালথা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
বিয়ের দুই মাস পর মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রাণ হারাল সালথার শোয়াইব

নিজের অভাবী পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য বছর তিনেক আগে মালয়েশিয়ায় গিয়ে পাড়ি জমান মো. শোয়াইব বিশ্বাস (২৩) নামে এক যুবক। সেখানে গিয়ে দীর্ঘদিন একটি কোম্পানিতে কাজ করে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে আসেন। দেশে এসে গত মাস দুয়েক আগে বিয়ে করেন।

তবে তার বিয়ের মেহেদীর রং শুকানোর আগেই জীবিকার তাগিদে ফের মালয়েশিয়ায় নিজের কর্মস্থলে গিয়ে চলে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস- কর্মস্থলে কাজ করার সময় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর।

নিহত শোয়াইব বিশ্বাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের মো. শওকত বিশ্বাসের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজো।

শনিবার (১০ জুলাই) সকালে শোয়াইবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভগ্নিপতি মো. তুহিন হাসান। এদিকে শোয়াইয়ের খবরে শোকে স্তব্দ হয়েছে পরিবার। এমন অবস্থায় দেশে লাশ আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে চেয়েছেন সরকারের সহযোগিতা।

নিহতের পরিবার জানান, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি কম্পানিতে কাজ শুরু করেন শোয়াইব। সেখানে কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। বাড়ি আসার পর গত দুই মাস আগে বিয়ে করেন তিনি। এরপর ছুটি শেষে গত ১ জুলাই মালয়েশিয়া চলে যায়। দেশটির জহুরবারু এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির অধীনে বোম্ব ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ শুরু করেন। শুক্রবার সকালে কাজ করাকালীন বোম্বক্রেন চাপায় নিহত হন তিনি।

নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, শুক্রবার দুপুরে মালয়েশিয়ার ওই কোম্পানির দায়িত্বরত এক বাংলাদেশী আমাকে ফোন করে নিহতের বিষয়টি জানান৷ তাছাড়া ওই বাংলাদেশী ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে, তাতে নির্মমভাবে মৃত্যুর বিষয় ফুটে উঠেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে তার লাশ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। তবে লাশটি দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, নিহত ব্যক্তি কোনো কোম্পানির অধীনে কাজ করে থাকলে তাঁরা দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে লাশ পাঠাতে পারবে৷ সেখান থেকে কোনো সহযোগিতার না পেলে নিহতের পরিবার আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৈধ কর্মী হয়ে থাকলে আমরা লাশ আনার ক্ষেত্রে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করব।