খুঁজুন
রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২২ চৈত্র, ১৪৩২

সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন—নগরকান্দা হাসপাতালে আসছেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন—নগরকান্দা হাসপাতালে আসছেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবনের কাজ স্থবির হয়ে থাকা এবং রোগীদের চরম দুর্ভোগের চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য আগামীকাল শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় হাসপাতালটিতে আসছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভয়াবহ চিত্র। প্রায় তিন বছরেও নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। পুরাতন ভবন ভেঙে ফেলার পর নতুন ভবনের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বর্তমানে জরাজীর্ণ একটি ভবনের কয়েকটি কক্ষ ও বারান্দায় চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অনেকেই বারান্দা ও মেঝেতে অবস্থান করছেন। নারী-পুরুষ রোগীদের একসাথে একই স্থানে রাখতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবার ন্যূনতম মানদণ্ডের পরিপন্থী। এতে রোগীদের মধ্যে অস্বস্তি, নিরাপত্তাহীনতা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, প্রসূতি মা এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

এছাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত টয়লেট ও ওয়াশরুম সুবিধার অভাব রয়েছে। ফলে রোগী ও তাদের স্বজনদের বাইরে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হচ্ছে, যা চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরুরি বিভাগেও সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে না পেরে রোগীদের অন্য হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় ২০২৪ সালের জুন মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে প্রকল্পটির কাজ বন্ধ রয়েছে এবং বর্তমানে এটি পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এইচ এম নূরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, অবকাঠামোগত সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসক ও জনবল ঘাটতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্যাথলজি বিভাগ প্রায় অচল হয়ে পড়ায় রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।

এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ মানুষ, রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি সমাধানের প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শনকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিমন্ত্রী তাঁর সফরে হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সমস্যা, নির্মাণাধীন ভবনের অগ্রগতি এবং রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়গুলো ঘুরে দেখবেন। এ সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে প্রতিমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র পরিদর্শন নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু এবং দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

এ বিষয়ে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালের এ ধরনের নাজুক অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না। তারা আশা করছেন, প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং দ্রুতই হাসপাতালের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই পরিদর্শন যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা করে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত স্বাভাবিক ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ভাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে যমুনা টিভির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে যমুনা টিভির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ব্যাপক উৎসব ও আনন্দঘন পরিবেশে দেশের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম যমুনা টিভি-এর ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় অতিক্রম করে ১৩ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

রবিবার (৫ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সাংবাদিকদের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও যমুনা টিভির ভাঙ্গা প্রতিনিধি আব্দুল মান্নান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদরুল আলম, ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এবং ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা।

এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, যমুনা টিভি দেশের ক্রান্তিকালে নির্ভীক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঘটনার সময় দ্রুত ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন করে এই চ্যানেলটি দর্শকদের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, যমুনা টিভির সংবাদ পরিবেশনা শুধু তথ্য সরবরাহই নয়, বরং সমাজে সচেতনতা তৈরি এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশন করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ভাঙ্গা উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে শেষ হয়।

ফরিদপুরে হেরোইনসহ যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হেরোইনসহ যুবক গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৫ পুড়িয়া হেরোইনসহ রহিম শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুর সদরের সিএন্ডবি ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই (নিঃ) শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে উক্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের এক পর্যায়ে রহিম শেখকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হলে তার দেহ তল্লাশি করে ৬৫ পুড়িয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত রহিম শেখ ফরিদপুর জেলা সদরের সিএন্ডবি ঘাট এলাকার আইজুদ্দিন মাতুব্বর ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মৃত মালেক শেখ এবং মাতা রহিমা বেগম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, “মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে ডিবি পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।”

তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর জেলায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। স্থানীয় জনগণকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের মাদক সংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

ফরিদপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অপর এক আসামি পলাতক রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে সালথার বাউসখালী এলাকায় এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ হান্নান মিয়ার নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রকিবুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার বাউশখালী মধ্যপাড়া এলাকার মৃত হারুন ফকিরের ছেলে।

গ্রেফতারকৃত রকিবুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একই এলাকার পলাতক আসামি মো. রিয়াজ শেখ (২৬)-এর বসতঘরে অভিযান চালায়। এ সময় তার শয়নকক্ষ থেকে আরও ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কেজি ১০০ গ্রাম।

পুলিশ জানায়, পলাতক রিয়াজ শেখ মো. রেজাউল শেখের ছেলে। অভিযান চালানোর সময় তিনি পালিয়ে যান। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

তিনি আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে পুলিশ। জেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।