খুঁজুন
শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

নগরকান্দায় বেপরোয়া ট্রাকের তাণ্ডব: গণপিটুনিতে চালকের মৃত্যু, আহত ১৫ পথচারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
নগরকান্দায় বেপরোয়া ট্রাকের তাণ্ডব: গণপিটুনিতে চালকের মৃত্যু, আহত ১৫ পথচারী

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া নতুন হাটখোলা এলাকায় বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালিয়ে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে হান্নান (৪৫) নামে এক ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দু’জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (০১ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হান্নানের বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলায়। আহতরা হলেন—হেলপার নাঈম (২২), বাড়ি সালথা উপজেলার সোনাখোলা গ্রামে এবং আল-আমিন (২৫), বাড়ি একই উপজেলার কাগদী এলাকায়। তারা বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার রসুলপুর এলাকা থেকে আসা একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট-১২৭৩৩২) অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে চলাচল করছিল। ট্রাকটির বেপরোয়া গতির কারণে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকটি এর আগে রসুলপুরসহ আশপাশের এলাকায় একাধিক পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটির ধাক্কায় অন্তত ১৫ জন পথচারী আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ট্রাকটি বিলনালিয়া নতুনহাটখোলা এলাকার মুন্সী স্টোরে সজোরে ধাক্কা দিলে ক্ষুব্ধ জনতা সেটির গতিরোধ করে।

এ সময় উত্তেজিত জনতা ট্রাকচালক, হেলপারসহ তিনজনকে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে ট্রাকটিতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ এবং তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। এর আগেই স্থানীয়রা ট্রাকচালকসহ তিনজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এর মধ্যে ড্রাইভার হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।”

নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ট্রাকটি বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে আসছিল। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। আহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, নিহত চালকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙ্গা হতে পারে শিল্পহাব—গ্যাস সংযোগের দাবিতে এমপিদের প্রতি খোলা চিঠি

ড. হাসান খান
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গা হতে পারে শিল্পহাব—গ্যাস সংযোগের দাবিতে এমপিদের প্রতি খোলা চিঠি

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় গ্যাস সংযোগ স্থাপন এবং শিল্পায়নের উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে জেলার চারজন সংসদ সদস্যের প্রতি একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন অর্থনীতি বিষয়ক গবেষক ড. হাসান খান। জনস্বার্থে লেখা এই চিঠিতে তিনি ভাঙ্গার বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু চালুর পর ভাঙ্গা এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ঢাকা-মংলা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সহজ ও সময়সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও ভাঙ্গা একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

এছাড়া ভাঙ্গায় ইতোমধ্যে রেল সংযোগ স্থাপিত হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ খাস জমি থাকায় সেখানে ইপিজেড, শিল্পাঞ্চল ও ভারী শিল্প স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। ভৌগোলিক অবস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত শ্রমশক্তির কারণে ভাঙ্গাকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে এই সম্ভাবনার পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগের অভাব। চিঠিতে বলা হয়, গ্যাস ছাড়া ভারী শিল্প, গার্মেন্টস, সিরামিক, কেমিক্যাল কিংবা খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ফলে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখালেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

এ প্রেক্ষাপটে ফরিদপুর-১ আসনের প্রফেসর ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর-২ আসনের জনাবা শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনের জনাবা চৌধুরী নায়াব আহমেদ ইউসুফ এবং ফরিদপুর-৪ আসনের শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের প্রতি বিষয়টি জাতীয় সংসদে জোরালোভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা হয়ে ফরিদপুর জেলা ও বিভাগীয় শহর পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় জনসাধারণকে আন্দোলনে নামার কথাও ইঙ্গিত করা হয়েছে।

গ্যাস সংযোগ স্থাপিত হলে হাজার হাজার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, ঢাকামুখী জনস্রোত কমবে এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ভাঙ্গা-বেনাপোল-পদ্মা সেতু করিডোরকে কেন্দ্র করে নতুন রপ্তানি সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

চিঠিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে—পেট্রোবাংলার মাধ্যমে গ্যাস সাপ্লাই লাইনের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও দ্রুত বাস্তবায়ন, ভাঙ্গাকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য গ্যাস সংযোগে অগ্রাধিকার ও ভর্তুকি প্রদান।

শেষে ড. হাসান খান বলেন, “ফরিদপুরের উন্নয়ন মানে শুধু একটি জেলার উন্নয়ন নয়, এটি সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তথা দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের সুযোগ। এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়।”

লেখক: অর্থনীতি বিষয়ক গবেষক, ফরিদপুর

ঢাকামুখী শিক্ষক, ফাঁকা ক্লাসরুম—ফরিদপুরের নগরকান্দা কলেজে অচলাবস্থা

এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
ঢাকামুখী শিক্ষক, ফাঁকা ক্লাসরুম—ফরিদপুরের নগরকান্দা কলেজে অচলাবস্থা

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি নগরকান্দা কলেজে শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক দুর্বলতা, শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হলেও প্রত্যাশিত মানোন্নয়ন হয়নি। বরং নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া, শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতার অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, নিয়মিত ও মানসম্মত ক্লাস না হওয়ায় তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। অনেক সময় উপস্থিতি কম থাকার অজুহাতে ক্লাসই নেওয়া হয় না। ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ছে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও ব্যাঘাত ঘটছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষক নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। কেউ ঢাকায়, আবার কেউ ফরিদপুর শহরে বসবাস করেন। দূরবর্তী অবস্থান থেকে সমন্বয় করে তারা মাঝে মধ্যে কলেজে আসেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। এতে করে নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই বলেও জানা গেছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু থাকলেও এখানে তা নেই। এমনকি প্রচলিত হাজিরা খাতাও সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন, আর কে নিচ্ছেন না—তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহানা শামীম, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা আক্তার পারভিনসহ কয়েকজন শিক্ষক।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। সহকারী অধ্যাপক শাহানা শামীম বলেন, “ঢাকায় বসবাস করলেও আমি নিয়মিত কলেজে গিয়ে দায়িত্ব পালন করি।” একইভাবে তাসলিমা আক্তার পারভিন জানান, “আমার পরিবার ঢাকায় থাকলেও আমি সবসময় সেখানে থাকি না; ফরিদপুর থেকে নিয়মিত কলেজে যাতায়াত করি।”
অন্যদিকে, একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, “উপজেলার একমাত্র সরকারি কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে শহরমুখী হবে, যা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি।”

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহিদুল ইসলাম বলেন, “কলেজে শিক্ষক সংকট নেই। তবে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকায় সব বিষয়ের নিয়মিত ক্লাস চালানো যাচ্ছে না। কিছু বিষয়ে একাধিক শিক্ষক থাকায় দূরে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিগগিরই লিখিত নোটিশ দেওয়া হবে এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি কলেজ সরাসরি উপজেলা প্রশাসনের অধীনে না থাকলেও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হাদিস শরিফে এ ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। রাসুল ওয়াসাল্লাম হজরত ফাতেমা (রা.)-কে তাঁর কোরবানির নিকট উপস্থিত থাকতে বলেন এবং ইরশাদ করেন, এই কোরবানির প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা তোমার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুল (সা.)! এটা কি শুধু আহলে বায়তের জন্য, নাকি সকল মুসলিমের জন্য? উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, এই ফজিলত সকল মুসলিমের জন্য।’ (মুসনাদে বাজযার-আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৪)

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,‘অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।’ (সুরা কাওসার: ২)

এদিকে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কোরবানি দেয় না, তাদের ব্যাপারে হাদিস শরিফে কঠোর বার্তা এসেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য আছে তবুও সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৩৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৫)

কোরবানি কখন, কার ওপর ওয়াজিব?

জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন-অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বর্তমানে বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কোরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

কোরবানির জন্য নেসাব পরিমাণ সম্পদ কতটুকু?

ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসারে বলা হয়েছে, নেসাব হলো স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নিসাব হলো, এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাহলেও তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। (আলমুহীতুল বুরহানী: ৮/৪৫৫, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১৭/৪০৫)

নেসাবের মেয়াদ

কোরবানির নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়; বরং কোরবানির দিনগুলোতে থাকলেই কোরবানি ওয়াজিব হবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার: ৬/৩১২)

উল্লেখ্য, কেউ যদি কোরবানির দিনগুলোতে ওয়াজিব কোরবানি দিতে না পারে তাহলে কোরবানির পশু ক্রয় না করে থাকলে তার ওপর কোরবানির উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করে থাকে কিন্তু কোনো কারণে কোরবানি দেওয়া হয়নি, তাহলে ওই পশু জীবিত সদকা করে দেবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৪, ফাতাওয়া কাযীখান: ৩/৩৪৫)

সূত্র : কালবেলা