খুঁজুন
, ,

নতুন সরকারের অপেক্ষায় দেশ—কবে হচ্ছে শপথ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১১ পূর্বাহ্ণ
নতুন সরকারের অপেক্ষায় দেশ—কবে হচ্ছে শপথ?

ভোট গ্রহণ শেষ হবার পরদিনই নির্বাচিত সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ নেয়ার মাধ্যমে শুরু হবে নতুন সংসদের যাত্রা।

এরপরেই দায়িত্ব গ্রহণ করবে নতুন সরকার। কিন্তু কবে নির্বাচিতরা শপথ নেবেন তা এখনো পরিষ্কার নয়।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে আগামী মঙ্গলবার সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথ নেয়ার কথা রয়েছে।

এই বিলম্বের কারণ হিসেবে সামনে আসছে আইনি বিভিন্ন জটিলতার বিষয়টি।

নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সংবিধানে বেশ কিছু নিয়মের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। রীতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।

তবে বিভিন্ন আসনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের শপথ পাঠের পর মন্ত্রিসভার শপথ হবে। কিন্তু সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিতদেরকে শপথ পাঠ করাবেন, তা পরিষ্কার নয়।

সংবিধানের বাইরে কোনো প্রক্রিয়ায় শপথ পাঠ বা সরকার গঠন হলে তা নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এ কারণেই আইনি জটিলতা এড়াতে গেজেট প্রকাশের তিনদিন পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ পাঠ করার কথা ভাবা হচ্ছে।

সেই হিসাবে আগামী ১৭ই ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন সিইসি। আর সেদিন বিকালে নতুন সরকারের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি।

বিএনপির দুইজন শীর্ষ নেতা বিবিসি বাংলাকে এই আভাস দিয়েছেন।

এদিকে সরকার ও বিএনপির বিভিন্ন সূত্র থেকে ১৭ তারিখের কথা বলে হলেও, নির্বাচিত কয়েকজন সংসদ সদস্যরা জানিয়েছেন, রোববারের মধ্যে তাদের ঢাকায় থাকার জন্য দল থেকে বলা হয়েছে। নিজ এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনাও দিয়েছেন তাদের কেউ কেউ।

খুলনা পাঁচ আসনের নির্বাচিত বিএনপির মোহাম্মদ আলি আসগার শনিবার ১১টা ৫১ মিনিটে তার ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “আগামীকাল শপথ গ্রহণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় যেতে হচ্ছে”।

দুপুর দুইটার দিকে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “আগামী তিন দিন, সর্বোচ্চ চারদিনের মধ্যে শপথ হয়ে যাবে।

তবে আগামীকালও যদি শপথ হয়ে যায়, তাদের সেই প্রস্তুতি আছে বলেও জানান তিনি।

শপথ পাঠ নিয়ে আইনে কী আছে?

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আসে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ পড়ানোর বিষয়টি। আর বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের এই শপথ পাঠ করান।

সংবিধানে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের পর স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার অথবা রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন। তবে তারা শপথ পাঠ করাতে অসমর্থ হলে গেজেট প্রকাশের তিনদিন পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কোথায় আছেন, সেটি পরিষ্কার নয়। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে রয়েছেন।

এক্ষেত্রে দুটি বিকল্প আছে। একটি হলো রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধিকে দিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো অথবা গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ পাঠ।

এক্ষেত্রে প্রথম পদ্ধতি অবলম্বন করে শপথ নিলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে বিএনপি নেতাদের মধ্যে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের দফা দুই অনুযায়ী, যেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তি নিজে কর্তৃপক্ষ কেবল সেসব ক্ষেত্রেই তিনি প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবেন।

কিন্তু সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি না, বরং স্পিকার। আর স্পিকারের প্রতিনিধি হতে হলে তার স্বাক্ষর থাকা জরুরি। ফলে এই মুহূর্তে সেই সুযোগ না থাকায় উপায় আছে দুইটি।

একটিতো আগেই বলা হয়েছে, সংবিধানের ৭৪ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি একজনকে নিয়োগ দিতে পারেন এবং “সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য তাহা পালন করিবেন”।

অথবা কোনো কারণে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার না থাকলে তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের শপথ পড়ানো, যা ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক)-এ উল্লেখ আছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরবর্তী সময়ের জটিলতা বা বিতর্ক এড়ানোর জন্য দ্বিতীয়টিকেই ‘নিরাপদ’ মনে করছে নতুন সরকার গঠন করতে যাওয়া দল বিএনপি।

দলটির দুইজন শীর্ষ নেতা আভাস দিয়েছেন, ১৭ই ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথ হতে পারে, সেদিন বিকালে হবে মন্ত্রিসভার শপথ।

তবে এখনো এ নিয়ে আইনি বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন দলটির নেতারা।

এর আগেই সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে দেওয়া হবে।

জানা গেছে, রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় সব পক্ষ।

অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের শপথ পাঠ করানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা চলছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, শপথ পড়ানোর দায়িত্ব সরকারের।

নির্বাচন কমিশনের কাজ গেজেট প্রকাশ করা, তা তারা করে দিয়েছেন। ফলে আগামী তিন দিনের মধ্যে যদি সরকারের তরফ থেকে শপথ পড়ানো না হয়, সেক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার “এটা করতে পারে বা করবে আর কি”।

তবে সরকারের দিক থেকে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়টিই বেশি সামনে এসছে।

গত বৃহস্পতিবার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ালে অপেক্ষা করতে হবে। “আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই”।

অনেকটা একই দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আলী ইমাম মজুমদার।

তিনি জানান, শপথ পাঠের জন্য রাষ্ট্রপতি একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন বলে আলোচনা চলছে।

“আমি যতটুকু জানি সম্ভবত মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ হবে”, বলেন এই উপদেষ্টা।

তবে শনিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ জানিয়েছেন, ১৭ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সব প্রস্তুতি রাখছে।

শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “আগামীকালও যদি শপথ হয়ে যায়, আমাদের প্রস্তুতি আছে।”

সচিব বলেন, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে কম-বেশি এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। শপথ অনুষ্ঠানের অন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকার থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে, প্রধান বিচারপতি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ পাঠ করাতে পারেন বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাসহ মন্ত্রিপরিষদকে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিই শপথ পড়াবেন, বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সাংবিধানিক উপায়ে শপথ নেয়াকেই সবচেয়ে ভালো উপায় বলে মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

তার মতে, সংবিধান অনুযায়ী আগের স্পিকারের ‘সম্মতি’কে গুরুত্ব সহকারে নেয়া প্রয়োজন।

আর তা করতে প্রয়োজনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সাথে ফোনে না হলেও মেইলে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কিংবা ডেপুটি স্পিকারকে প্যারোলে মুক্তি দিয়েও তা করা সম্ভব, কারণ আইন অনুযায়ী এই বিষয়ে কোনো বাধা নেই।

কিন্তু শুরু থেকেই এই সরকারের ‘এটিচিউট’ বা মনোভাব আলাদা ছিল আর তাদের মধ্যে ‘ইগো’ থাকার কারণে, সংবিধানের বাইরে তারা অনেক কিছু করেছে। সে কারণেই এসমস্ত জটিলতাগুলো হচ্ছে বলে মনে করেন মনজিল মোরসেদ। আবার সংবিধানের বাইরে গেলে ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অবশ্য মি. মোরসেদ বলছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে শপথ নেয়া সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয় বিকল্প। সেক্ষেত্রে প্রথম বিষয়গুলো এড়িয়ে গেলে বিতর্ক থেকেই যাবে বলে মনে করেন তিনি।

যেভাবে হয় সরকার গঠন

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠের মাধ্যমে সংসদ গঠিত হয়। সেই সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি।

অতীতে সংসদ সদস্যদের শপথের দিন বিকালে অথবা পরদিন মন্ত্রিসভার শপথ হয়ে থাকে।

এবার রমজান এগিয়ে আসার কারণে ধারণা করা হচ্ছে, সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠের পর একইদিন বিকেলের দিকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিতে পারেন।

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি ও তাদের নির্বাচনী মিত্ররা।

এর আগে বাংলাদেশে সবশেষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছিল ২০০৮ সালে। সে সময় দুই বছর ক্ষমতায় ছিল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

তবে ২৯শে ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তেসরা জানুয়ারি বিএনপি আমলের স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের কাছেই শপথ নেয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।

এর তিন দিন পর ছয়ই জানুয়ারি শপথ নেয় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদর কাছে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের সাতই জানুয়ারির নির্বাচনের পর ৮ই জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ হয়। ১০ই জানুয়ারি স্পিকারের শপথ নেন সংসদ সদস্যরা আর ১১ই জানুয়ারি শপথ নেয় মন্ত্রিসভা।

এর আগে ২০০১ সালে পহেলা অক্টোবর নির্বাচন হলেও গেজেট হয়েছিল পাঁচই অক্টোবর।

তবে তিনদিন ধরে চলা সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রথমদিনে খালেদা জিয়াসহ চারদলীয় ঐক্যজোটের ১৯৭ জন নির্বাচিত তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদের কাছে শপথ নিয়েছিলেন নয়ই অক্টোবর।

পরদিন ১০ই অক্টোবর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।

স্পিকার কীভাবে নির্বাচিত হবে?

সংবিধানের ৭৪(১) অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদ পরিচালনা করেন আগের সংসদের স্পিকার। “নতুন সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠকেই সংসদ সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করেন”।

২০০১ সালের ২৮শে অক্টোবর যেমন আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ের স্পিকার আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়ে নতুন স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকারকে নির্বাচিত করা হয়।

এরপরে আবদুল হামিদ আধাঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিদায় নিয়ে চলে যান। বিরতির পর নতুন স্পিকার দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

কিন্তু এবার কী করা হবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সংবিধানের ৭৪ ধারার অনুযায়ী “সংসদের কোনো বৈঠকে স্পিকারের স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারও অনুপস্থিত থাকিলে সংসদের কার্যপ্রনালী বিধি অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য স্পিকারের দায়িত্ব পালন করিবেন।”

আবার একই ধারার ছয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার পদত্যাগ করলেও ‘ক্ষেত্রমত’ পরবর্তী কেউ সেই পদে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনিই “স্বীয় পদে বহাল রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে”।

কিন্তু পাঁচ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ সংসদ সদস্য পলাতক বা কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের শপথ পাঠ করা নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে।

ফলে কী প্রক্রিয়ায় নতুন স্পিকার নির্বাচিত হবেন এখনই সেটা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখছে সরকার ও বিএনপির আইনজীবীরা।

আইন বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সিইসি নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করালে তাদের মধ্য থেকে কোনো একজন সংসদ সদস্য প্রাথমিকভাবে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর অধিবেশনে নতুন স্পিকার নির্বাচন করার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শপথ নেয়ার সাথে সাথে আগের সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের অবসান হয়ে যায়।

২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ ক্ষেত্রেও এমন দেখা গিয়েছিল।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৮ ধারার চার অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা নিজ পদে বহাল না থাকলে মন্ত্রীদের প্রত্যেকে পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরের মধুখালী প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এমপি হেলেন জেরিন খানের

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালী প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এমপি হেলেন জেরিন খানের

ফরিদপুরের মধুখালী প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৮টায় মধুখালী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনিরুজ্জামান মৃধা (মন্নু)।

সভা সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হোসেন পলাশ এবং সহ-সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান মিয়া।

সভার শুরুতে প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হোসেন পলাশ। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রেস ক্লাবে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ এবং প্রেস ক্লাবের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান বলেন, “আমি নিজে রাস্তার অবস্থা দেখেছি। রাস্তা নির্মাণে যা যা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। পাশাপাশি মধুখালী প্রেস ক্লাবের উন্নয়নেও আমি কাজ করব।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মধুখালী প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ, মো. হায়দার আলী মোল্লা, মো. আব্দুল আলিম মানিক, মো. ইয়াসিন বিশ্বাস, মো. মোক্তার হোসেন, মো. তারিকুল ইসলাম এনামুল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রাকিবুল ইসলাম রিপনসহ প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নীরব প্রহরী জাকির, ৩৭ বছর পরও টাকার অভাবে ধুকছে চিকিৎসা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নীরব প্রহরী জাকির, ৩৭ বছর পরও টাকার অভাবে ধুকছে চিকিৎসা

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নতুন ভবনের করিডোরে প্রতিদিনের মতোই ধীর পায়ে হাঁটেন মো. জাকির হোসেন। কারও হাতে এক কাপ চা তুলে দেন, কারও জন্য দরজা খুলে দেন, আবার কখনো কোনো সাংবাদিকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে দেন, চা খাওয়ান। সংবাদ শিরোনামে যাদের নাম উঠে আসে, তাদের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষটির নাম খুব কম মানুষই জানেন। অথচ এই প্রেসক্লাবের প্রতিটি ইট, প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি কক্ষ যেন তার জীবনেরই অংশ।

মো. জাকির হোসেনের জন্ম ১৯৭৯ সালের ২৯ মে, ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর মহল্লায়। বাবা শেখ আব্দুর রহমান ছিলেন একজন নাইটগার্ড। অল্প আয়ের সেই চাকরিতে সংসার চলত কষ্টে। মা ফাতেমা বেগম ছিলেন গৃহিণী। সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যেই বড় হয়েছেন জাকির। ফরিদপুরের বাখুন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু দারিদ্র্য তার বই-খাতা কেড়ে নেয়। জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে জীবিকার পথে নামতে বাধ্য করে।

মাত্র দশ বছর বয়সে, ১৯৮৯ সালে, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তমিজউদ্দীন তাজের হাত ধরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে পিয়ন হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেই যে শুরু, তারপর কেটে গেছে প্রায় সাড়ে তিন দশক। সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, প্রেসক্লাবের ভবন বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি জাকিরের দায়িত্ববোধ।

এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অসংখ্য সাংবাদিকের উত্থান-পতন দেখেছেন। অনেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব নিতে দেখেছেন, আবার তাদের চিরবিদায়ও প্রত্যক্ষ করেছেন। সভাপতি সৈয়দ ইমামুল আজম আব্দুর রব, শেখ মো. দেলোয়ার হোসেন, জগদীশ চন্দ্র ঘোষ, আব্দুল আলী শিকদার—আজ তারা আর নেই। সাধারণ সম্পাদক মন্টু দাস গোপী, ইউসুফ রেজা মন্টু, আ.জ.ম. আমীর আলী, আলী আশরাফ মো. শোয়াইব ও আরিফ ইসলামও চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আরও কত সদস্য, কত পরিচিত মুখ—এক এক করে হারিয়ে যেতে দেখেছেন তিনি।

এসব কথা বলতে বলতে জাকিরের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। চোখ ভিজে ওঠে অশ্রুতে। তিনি বলেন, “এই প্রেসক্লাবটাই আমার জীবন। এখানে আমার যৌবন কেটেছে, হাসি-কান্না কেটেছে। প্রতিটি দেয়ালে আমার স্মৃতি লেগে আছে।”

জাকিরের ব্যক্তিগত জীবনও সংগ্রামের গল্পে ভরা। স্ত্রী লিপি বেগম একজন গৃহিণী। অল্প আয়ে সংসার সামলাতে গিয়ে প্রতিটি দিনই তাদের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ। এক ছেলে ও এক মেয়েকে মানুষ করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রমে। ছেলে আজিম হোসেন ২০২৪ সালে ফরিদপুরের সরকারি ইয়াছিন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে জীবিকার তাগিদে হামিম গ্রুপের একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছেন। মেয়ে মোসা. হাফছার বিয়ে হয়েছে কাপড় তৈরির মেশিনচালক আরিফের সঙ্গে। নিজের স্বপ্নগুলো বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন জাকির।

কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর যেন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমরের হাড় ক্ষয়ের মতো জটিল রোগে ভুগছেন তিনি। প্রতিদিন ওষুধ কিনতেই খরচ হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এই সামান্য টাকাও অনেক সময় জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসার আশায় মানুষের সহায়তায় ছয়-সাতবার ভারতে গিয়েছেন। কিছুদিন সুস্থ থাকলেও আবার ফিরে এসেছে অসুস্থতা। প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা, কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা এখন অধরাই রয়ে গেছে।

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, এত কষ্টের মধ্যেও তিনি কখনো কারও দরজায় গিয়ে হাত পাতেননি। নিজের অভাবকে হাসিমুখে আড়াল করে প্রতিদিন যথাসময়ে কর্মস্থলে হাজির হন। যারা তাকে চেনেন, তারা জানেন—জাকিরের মুখে অভিযোগের চেয়ে কৃতজ্ঞতার কথাই বেশি শোনা যায়।

২০২৬ সালের মে মাসে মায়ের মৃত্যুর পর যেন আরও একা হয়ে গেছেন তিনি। সংসারের দায়িত্ব, ওষুধের খরচ, পুরোনো দেনা—সব মিলিয়ে জীবন যেন আরও ভারী হয়েছে। তবুও দায়িত্ব পালনে তার কোনো ক্লান্তি নেই। কেউ প্রেসক্লাবে এলে এখনও আগের মতোই আন্তরিক হাসিতে অভ্যর্থনা জানান তিনি।

জাকির হোসেন কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি নন। তিনি সংবাদপত্রের প্রথম পাতার মানুষও নন। কিন্তু সংবাদ তৈরির পেছনে যারা নিরলস শ্রম দিয়ে যান, তাদের একজন তিনি। সাংবাদিকদের ব্যস্ততার ভিড়ে হয়তো অনেকেই তাকে খেয়াল করেন না, কিন্তু প্রেসক্লাবের প্রতিটি দিন, প্রতিটি আয়োজন, প্রতিটি ব্যস্ত মুহূর্তে তার নীরব উপস্থিতি অপরিহার্য।

একটি প্রতিষ্ঠানে টানা প্রায় ৩৭ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা শুধু চাকরি নয়, এটি এক ধরনের ভালোবাসা, এক ধরনের আত্মনিবেদন। সেই ভালোবাসার মূল্য কি শুধু একটি সামান্য বেতন? একজন মানুষ, যিনি জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য উৎসর্গ করেছেন, অসুস্থতার সময়ে কি তার পাশে দাঁড়ানো সমাজের দায়িত্ব নয়?

আজও জাকির হোসেনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন খুব সাধারণ—আরও একবার ভালো চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়ে বাঁচতে চান। তিনি বিলাসী জীবন চান না, বড় কোনো বাড়ি বা গাড়িও চান না। শুধু চান একটু স্বস্তিতে বেঁচে থাকার সুযোগ, যাতে প্রতিদিনের ওষুধের চিন্তা আর চিকিৎসার খরচের হিসাব তাকে তাড়া না করে।

হয়তো সমাজে এমন অনেক জাকির হোসেন আছেন, যারা নীরবে দায়িত্ব পালন করে যান, অথচ নিজেদের কষ্টের কথা কাউকে জানান না। তাদের গল্প খুব কমই আলোয় আসে। কিন্তু এমন মানুষেরাই আমাদের সমাজের নীরব ভিত্তি। তাদের ত্যাগ, সততা আর আত্মসম্মান আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের প্রকৃত মর্যাদা পদবি বা সম্পদে নয়, বরং নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতায়।

জাকির হোসেন এখনও প্রতিদিন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের দরজা খুলে দেন। হয়তো একদিন সেই দরজাই তার দীর্ঘ কর্মজীবনের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকবে। কিন্তু তার আগে, একজন সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এটাই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব।

বিয়ের দুই মাস পর মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রাণ হারাল সালথার শোয়াইব

নুরুল ইসলাম নাহিদ, সালথা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
বিয়ের দুই মাস পর মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রাণ হারাল সালথার শোয়াইব

নিজের অভাবী পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য বছর তিনেক আগে মালয়েশিয়ায় গিয়ে পাড়ি জমান মো. শোয়াইব বিশ্বাস (২৩) নামে এক যুবক। সেখানে গিয়ে দীর্ঘদিন একটি কোম্পানিতে কাজ করে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে আসেন। দেশে এসে গত মাস দুয়েক আগে বিয়ে করেন।

তবে তার বিয়ের মেহেদীর রং শুকানোর আগেই জীবিকার তাগিদে ফের মালয়েশিয়ায় নিজের কর্মস্থলে গিয়ে চলে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস- কর্মস্থলে কাজ করার সময় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর।

নিহত শোয়াইব বিশ্বাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের মো. শওকত বিশ্বাসের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজো।

শনিবার (১০ জুলাই) সকালে শোয়াইবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভগ্নিপতি মো. তুহিন হাসান। এদিকে শোয়াইয়ের খবরে শোকে স্তব্দ হয়েছে পরিবার। এমন অবস্থায় দেশে লাশ আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে চেয়েছেন সরকারের সহযোগিতা।

নিহতের পরিবার জানান, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি কম্পানিতে কাজ শুরু করেন শোয়াইব। সেখানে কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। বাড়ি আসার পর গত দুই মাস আগে বিয়ে করেন তিনি। এরপর ছুটি শেষে গত ১ জুলাই মালয়েশিয়া চলে যায়। দেশটির জহুরবারু এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির অধীনে বোম্ব ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ শুরু করেন। শুক্রবার সকালে কাজ করাকালীন বোম্বক্রেন চাপায় নিহত হন তিনি।

নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, শুক্রবার দুপুরে মালয়েশিয়ার ওই কোম্পানির দায়িত্বরত এক বাংলাদেশী আমাকে ফোন করে নিহতের বিষয়টি জানান৷ তাছাড়া ওই বাংলাদেশী ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে, তাতে নির্মমভাবে মৃত্যুর বিষয় ফুটে উঠেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে তার লাশ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। তবে লাশটি দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, নিহত ব্যক্তি কোনো কোম্পানির অধীনে কাজ করে থাকলে তাঁরা দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে লাশ পাঠাতে পারবে৷ সেখান থেকে কোনো সহযোগিতার না পেলে নিহতের পরিবার আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৈধ কর্মী হয়ে থাকলে আমরা লাশ আনার ক্ষেত্রে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করব।