খুঁজুন
, ,

চার বছরে একবার ছাপা হয়, তবু দুই লাখ কপি বিক্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
চার বছরে একবার ছাপা হয়, তবু দুই লাখ কপি বিক্রি

বিশ্বের একমাত্র চার বছরে একবার প্রকাশিত সংবাদপত্র ফ্রান্সের কিয়স্ক। এটি হলো ব্যঙ্গধর্মী সংবাদপত্র লা বুজি দ্যু সাপার। এই বিশ পৃষ্ঠার ট্যাবলয়েডের বিশেষত্ব হলো—এটি শুধু ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়, অর্থাৎ প্রতি লিপ ইয়ারে একবার।

এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮০ সালে এবং বর্তমানে এটি দ্বাদশ সংখ্যা।

বন্ধুদের একদল যখন মজা করতে চেয়েছিল তখন এই সংবাদপত্রের ধারণা তৈরি হয়। লা বুজি দ্যু সাপারের মুদ্রণ সংখ্যা দুই লাখ কপি। প্রতি কপির দাম চার ইউরো পঁঞ্চান্ন সেন্ট।

সম্পাদক জান দইন্ডি বলেন, প্রথম সংখ্যাটি দুই দিনের মধ্যে বিক্রি হয়ে গেলে নিউজ এজেন্টরা আরও কপি চেয়েছিল। আমরা বলেছিলাম ঠিক আছে, তবে শুধু চার বছরের মধ্যে।

সংবাদপত্রটি এখনও কয়েকজন বন্ধুর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তারা বার-এ মিলিত হয়ে পানীয়ের পাশে নতুন আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করে। দইন্ডি বলেন, আমাদের অনেক মজা হয়, আর যদি পাঠকরা উপভোগ করে, সেটাই বড় কথা।

সংবাদপত্রের ধরন

লা বুজি নিজস্বভাবে রাজনৈতিকভাবে সঠিক নয় এবং একটি নিয়মিত সংবাদপত্রের মতোই সাজানো। এখানে রয়েছে রাজনীতি, ক্রীড়া, আন্তর্জাতিক ঘটনা, শিল্প, ধাঁধা এবং সেলিব্রিটি খবর।

তবে সবই হাস্যকর ব্যঙ্গধর্মী লেখা। এ সংখ্যার প্রধান শিরোনাম সবাই বুদ্ধিমান হবে, একটি প্রতিবেদনের উপর যেখানে বলা হয়েছে কিভাবে পরীক্ষা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অর্জন এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় প্রধান গল্পের শিরোনাম পুরুষদের কী জানা দরকার নারীতে রূপান্তর হওয়ার আগে, যেখানে ব্যঙ্গধর্মীভাবে পুরুষদের চ্যালেঞ্জ বর্ণনা করা হয়েছে।

দইন্ডি বলেন, এটি ফরাসি হাস্যরস। অন্য ভাষায় অনুবাদ করা কঠিন। আমরা হাস্যকর হতে চাই, কিন্তু নষ্টুপাতি নয়। ব্যঙ্গ করতে চাই, কিন্তু নিষ্ঠুরতা নয়।

আন্তর্জাতিক ও ক্রীড়া কভারের হাইলাইট

আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠায় একটি ছোট লেখা আছে যা ফরাসিদের মনে করিয়ে দেয়—আধুনিক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে ভুলে যাওয়ার মতো কে ছিলেন লিজ ট্রাস।

ক্রীড়া বিভাগে সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, অলিম্পিক গেমসের প্রথম বাদ পড়া খেলোয়াড়কে উইনস্টন চার্চিল পুরস্কার দেওয়া হোক। সংবাদপত্র অনুযায়ী চার্চিলের আদর্শ ছিল কোনো ক্রীড়া নয়।

এছাড়া একটি ধারাবাহিক গল্পও প্রকাশিত হয়, নাম ড্রাউনিং ইন দ্য পুল, যার পরবর্তী অংশ প্রকাশিত হবে ২০২৮ সালে।

লা বুজি দ্যু সাপারের নাম এসেছে ফরাসির প্রাথমিক কার্টুন চরিত্র লে সাপার কামাম্বের থেকে। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ সৈনিক, যাকে উনিশ শতকের নব্বই-এর দশকে সামরিক জীবনের ওপর আঁকা কার্টুনে দেখা যেত।

এই সংবাদপত্র অনলাইনে পাওয়া যায় না এবং কেবল নিউজ এজেন্ট বা সংবাদ কিয়স্কে কেনা যায়।

দইন্ডি বলেন, ‘আমি আশা করি আমরা প্রতি চার বছরে কিছুটা তাজা বাতাসের মতো অনুভূত হতে পারি। আজকাল মানুষদের হাসতে পারার দরকার আছে।’

সূত্র : বিবিসি

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই শতাধিক বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে দীর্ঘ ১৬ বছর পর কুমার নদে ফিরলো হারিয়ে যাওয়া এ লোকজ উৎসব।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুমার নদের চরকান্দা পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ভাঙ্গা খাদ্যগুদাম এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ দুই কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬টি বাইচের নৌকা অংশ নেয়।

​সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।

​প্রতিযোগিতা চলাকালে কুমার নদের দুই কূলে বসে হাজার হাজার উৎসবমুখর মানুষের মিলনমেলা। আশেপাশের ভবনের ছাদ, নদের দুই ধার এবং ব্রিজের ওপর মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রলার ও নৌকা ভাড়া করে নদে নেমে বাইচ উপভোগ করেন। উৎসবকে ঘিরে নদের দুই তীরে মিষ্টি ও গৃহস্থালি পণ্যের নানা ধরনের ভাসমান দোকানও বসে।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “দীর্ঘদিন পর ভাঙ্গাবাসীর প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে। লোকসংস্কৃতির শেকড়ের টানে নৌকা বাইচসহ জারি ও সার গানের মতো সব ঐতিহ্য আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।”

​পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী বড় বাইচের নৌকাগুলোকে ফ্রিজ এবং ছোট নৌকাগুলোকে রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অতিথিরা।

​ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজালুর রহমান খান পলাশ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা এবং ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া চিরায়ত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিঙি নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট। এ উপলক্ষে স্থানীয় মধুমতি নদীর বাঁওড় পাড়ে বসেছিল প্রাণবন্ত গ্রাম্য মেলা।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোপালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মধুমতি নদীর বাঁওড়ে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

​স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাংলার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং গ্রামীণ বিনোদন পৌঁছে দিতেই এ উদ্যোগ। দুপুর থেকেই শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ নানা বয়সের হাজারো দর্শকের ঢল নামে বাঁওড় পাড়ে। নদীর দুই কূলে হাজারো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় আলো ঝলমলে চারদলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট।

​বাইচ ও টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গোপালপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. মোনায়েম খান। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়কদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোনায়েম খান বলেন, “আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার হাজার বছরের প্রাচীন খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। অপসংস্কৃতি ও মাদকের হাত থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এবং আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত এমন ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”

‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

আকাশের বুকে কালো মেঘের ঘনঘটা,
শ্রাবণের দিনে যেন আঁধারের ছটা।
রিমঝিম সুর ধরে ঝরে জলধারা,
ঝরাপাতারা যেন হাহাকারে হারা।

​বাতাস বয়ে যায় উদাস পথ ধরে,
গাছের ডালে জল টুপটুপ করে।
কদমের শাখা আজ ফুটেছে সতেজ,
সবুজে সবুজে আঁকা নতুন আবেশ।

​ভেজা কাদা-মাটিতে হাঁটে মেঠো পথ,
বয়ে চলে বর্ষার অবিরাম রথ।
পাখিরা যে নিথর, ডানা দুটি গুটিয়ে,
উষ্ণতার খোঁজে যেন নীড়ে গেছে লুকিয়ে।

​মাঠে মাঠে জমা জল দর্পণের মতো,
ঝাপসা পাহাড়ি ছবি দেখা যায় কত।
মেঘের গর্জনে বুক কাঁপে ধরে,
বিদ্যুৎ ঝলকায় দূর নীলম্বরে।

​শ্রাবণের এই মেঘ মন কেড়ে নেয়,
সোঁদা মাটির ঘ্রাণে প্রাণ ভরে দেয়।
ধুয়ে যায় ধুলোবালি ধরা হয় শুভ্র,
মেঘে ঢাকা দিনশেষে প্রকৃতি সুশান্ত।