খুঁজুন
, ,

আসছে নতুন দৈনিক অগ্নিপ্রহর

হারুন আনসারী, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
আসছে নতুন দৈনিক অগ্নিপ্রহর

ইতিহাসের পাতায় চব্বিশের জুলাই হয়ে থাকবে একটি জাতির পুনর্জন্মের মহাকাব্য। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, বৈষম্য ও রুদ্ধশ্বাস বাস্তবতার অবসান ঘটিয়ে আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের যে সংগ্রাম, তার মধ্য দিয়েই অভ্যুদয় ঘটেছে এক নতুন বাংলাদেশের। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের অগ্রভাগে ছিল দেশের অদম্য ও সাহসী তরুণ সমাজ।

রাষ্ট্র যখন সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তখন গণবিস্ফোরণ অনিবার্য হয়ে ওঠে—জুলাই আন্দোলন তারই বাস্তব উদাহরণ। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, সংকুচিত বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসে এক প্রজন্ম। ‘বৈষম্যবিরোধী’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় নগর ও জনপদ। এই আন্দোলন কেবল প্রতিবাদ নয়, বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকারে রূপ নেয়।

জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমে প্রমাণ করেছেন—আদর্শের লড়াইয়ে ভয় তুচ্ছ। আবু সাঈদ থেকে শুরু করে মুগ্ধ—প্রতিটি নাম আজ সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক। আন্দোলনের পাশাপাশি তরুণরা দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকেছে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকা রেখেছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করেছে।

এই নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার স্পষ্ট—এখানে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে, দুর্নীতির কোনো ঠাঁই থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর সমান গুরুত্ব পাবে। গণমাধ্যম হবে সত্য ও ন্যায়ের অতন্দ্র প্রহরী। সেই স্বপ্নেরই প্রতিফলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে সাহসী তারুণ্যের কণ্ঠস্বর ‘দৈনিক অগ্নিপ্রহর’

‘দৈনিক অগ্নিপ্রহর’ কেবল একটি সংবাদমাধ্যম নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করছে। জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান গ্রহণই হবে এই গণমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। সত্য প্রকাশে নির্ভীক থাকা এবং নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই এর অঙ্গীকার।

রক্ত দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করা এবং একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা আজ আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। তারুণ্যের শক্তিকে সঠিক দিশা দিতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে হয়ে উঠবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সেই আলোকিত যাত্রায় জনগণের নিত্যদিনের সঙ্গী হতে চায় ‘দৈনিক অগ্নিপ্রহর’—অন্ধকার দূর করে আলোর মশাল জ্বালিয়ে রাখাই যাদের একমাত্র ব্রত।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই শতাধিক বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে দীর্ঘ ১৬ বছর পর কুমার নদে ফিরলো হারিয়ে যাওয়া এ লোকজ উৎসব।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুমার নদের চরকান্দা পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ভাঙ্গা খাদ্যগুদাম এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ দুই কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬টি বাইচের নৌকা অংশ নেয়।

​সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।

​প্রতিযোগিতা চলাকালে কুমার নদের দুই কূলে বসে হাজার হাজার উৎসবমুখর মানুষের মিলনমেলা। আশেপাশের ভবনের ছাদ, নদের দুই ধার এবং ব্রিজের ওপর মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রলার ও নৌকা ভাড়া করে নদে নেমে বাইচ উপভোগ করেন। উৎসবকে ঘিরে নদের দুই তীরে মিষ্টি ও গৃহস্থালি পণ্যের নানা ধরনের ভাসমান দোকানও বসে।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “দীর্ঘদিন পর ভাঙ্গাবাসীর প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে। লোকসংস্কৃতির শেকড়ের টানে নৌকা বাইচসহ জারি ও সার গানের মতো সব ঐতিহ্য আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।”

​পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী বড় বাইচের নৌকাগুলোকে ফ্রিজ এবং ছোট নৌকাগুলোকে রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অতিথিরা।

​ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজালুর রহমান খান পলাশ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা এবং ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া চিরায়ত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিঙি নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট। এ উপলক্ষে স্থানীয় মধুমতি নদীর বাঁওড় পাড়ে বসেছিল প্রাণবন্ত গ্রাম্য মেলা।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোপালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মধুমতি নদীর বাঁওড়ে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

​স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাংলার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং গ্রামীণ বিনোদন পৌঁছে দিতেই এ উদ্যোগ। দুপুর থেকেই শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ নানা বয়সের হাজারো দর্শকের ঢল নামে বাঁওড় পাড়ে। নদীর দুই কূলে হাজারো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় আলো ঝলমলে চারদলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট।

​বাইচ ও টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গোপালপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. মোনায়েম খান। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়কদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোনায়েম খান বলেন, “আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার হাজার বছরের প্রাচীন খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। অপসংস্কৃতি ও মাদকের হাত থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এবং আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত এমন ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”

‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

আকাশের বুকে কালো মেঘের ঘনঘটা,
শ্রাবণের দিনে যেন আঁধারের ছটা।
রিমঝিম সুর ধরে ঝরে জলধারা,
ঝরাপাতারা যেন হাহাকারে হারা।

​বাতাস বয়ে যায় উদাস পথ ধরে,
গাছের ডালে জল টুপটুপ করে।
কদমের শাখা আজ ফুটেছে সতেজ,
সবুজে সবুজে আঁকা নতুন আবেশ।

​ভেজা কাদা-মাটিতে হাঁটে মেঠো পথ,
বয়ে চলে বর্ষার অবিরাম রথ।
পাখিরা যে নিথর, ডানা দুটি গুটিয়ে,
উষ্ণতার খোঁজে যেন নীড়ে গেছে লুকিয়ে।

​মাঠে মাঠে জমা জল দর্পণের মতো,
ঝাপসা পাহাড়ি ছবি দেখা যায় কত।
মেঘের গর্জনে বুক কাঁপে ধরে,
বিদ্যুৎ ঝলকায় দূর নীলম্বরে।

​শ্রাবণের এই মেঘ মন কেড়ে নেয়,
সোঁদা মাটির ঘ্রাণে প্রাণ ভরে দেয়।
ধুয়ে যায় ধুলোবালি ধরা হয় শুভ্র,
মেঘে ঢাকা দিনশেষে প্রকৃতি সুশান্ত।