খুঁজুন
সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ

জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের দাম এক দফায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিজনিত পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন খরচ বাড়া এবং শিল্প খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর নতুন দরে ডিজেলের লিটার ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অকটেন ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।

কেরোসিনের দামও লিটারে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একইদিনে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজির দামও বাড়ানো হয়েছে।

১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর রোববার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়।
জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন খাতে ভাড়া বৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে। সকালে দাম বাড়ার ঘোষণার পর বিকেলের মধ্যেই দূরপাল্লার বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, তেলের দাম বাড়লেও ভাড়া সমন্বয়ের কোনো নির্দেশনা না থাকায় মালিকরা লোকসানে পড়ছেন। তিনি কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার দাবি জানান।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে প্রতিদিন সারা দেশ থেকে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আসে। এসব পরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যয় বাড়বে, যা খুচরা বাজারে দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হয়েছে গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ। হরমুজ প্রনালী হয়ে আসার তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্থ হয়। এর ফলে দেশে জ্বালানির সংকট দেখা দেয়। সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টাও দেখা গেছে।

এসব কিছু কারণে ইতোমধ্যে কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার ওপরে উঠে গেছে, যা রোজার সময় ৬০ টাকার মধ্যে ছিল। ডিমের ডজনও মাসখানেকের ব্যবধানে ১১০ টাকা থেকে বেড়ে ১২৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল পরিবহনেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষি খাতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। দেশে সেঁচকাজে ব্যাপকভাবে ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহৃত হয়। ফলে ডিজেলের দাম বাড়ায় ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানা, শপিং মল ও হাসপাতালগুলোতে জেনারেটর ব্যবহার করতে হয়, যা মূলত ডিজেলনির্ভর। জ্বালানির দাম বাড়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়বে এবং এর প্রভাব পণ্য ও সেবার খরচ বেশি পড়বে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা এতে বেশি চাপে পড়বেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, রাইড শেয়ারিং খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। পাঠাও ও উবারসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত চালকদের পাশাপাশি অফলাইনে কাজ করা চালকরাও জ্বালানির জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের আয় কমে যাচ্ছে। অনেক চালক প্রতি রাইডে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৭০ টাকা ভাড়া দাবি করছেন।

এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরাও চাপে পড়েছেন। সন্ধ্যার পর শপিং মল ও মার্কেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি কমে গেছে।

ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের পক্ষে এই অস্থিরতার ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি কেবল জ্বালানির দামের ওপর নির্ভর করে না; বরং বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বসন্তকালীন বৈঠক শেষে দেশে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকার যদি জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারে, তাহলে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।
তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনও বেশি।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, দেশে প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি চাপে রয়েছে। জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম বাড়ায় এই চাপ আরও বাড়বে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ানো মানেই মূল্যস্ফীতি ২৪ ঘন্টার মধ্যে হুহু করে বেড়ে যাওয়া। ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি থিংক অ্যান্ড ইকোনোমিক রিসার্চ সেন্টারের (পিটিইআরসি) চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বলেন, ডিজেলের দাম আরেকটু কম বাড়ানোর দরকার ছিল। ৫-৭ টাকা বাড়ানো যেত। এক ধাক্কায় ১৫ টাকা বাড়ানো অর্থনীতির ওপর অনেক বড় চাপ তৈরি করবে। কারণ ডিজেল ব্যবহৃত হয় সবচেয়ে বেশি। গরিবদের কাজে বেশি ব্যবহার হয় ডিজেল। যেমন কৃষি কাজ ও পিকআপ বা ট্রাকে ডিজেলের ব্যবহার হয়। অকটেনকে বলা হয় ধনীতের জ্বালানি।

তিনি মনে করেন, দেশের জনগণের ওপর জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে অনেক কষ্ট পেতে হবে।
মাজেদুল হক বলেন, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে ‘কস্ট-পুশ ইনফ্লেশন’ বা ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিবহন, উৎপাদন ও বিপণনের প্রতিটি ধাপে ব্যয় বাড়ায় শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তার ওপরই পড়বে। এ পরিস্থিতিতে বাজার তদারকি জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহায়ক নীতি গ্রহণ জরুরি।

বাংলানিউজ 

ফরিদপুরে মাদকসম্রাজ্ঞী সাহেদা বেগম ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদকসম্রাজ্ঞী সাহেদা বেগম ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসম্রাজ্ঞী হিসেবে খ্যাত মোসা. সাহেদা বেগম ও তার এক সহযোগীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে শহরের ২ নম্বর কুঠিবাড়ী গৃহলক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। ফরিদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।

আটককৃতরা হলেন—শহরের গৃহলক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মোসা. সাহেদা বেগম এবং তার সহযোগী মো. সোনাজান খা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, সাহেদা বেগম মাদক ব্যবসার সঙ্গে পূর্ব থেকেই জড়িত। ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি লিখিত মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা না করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে তিনি পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ মার্চ তার বিরুদ্ধে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং তিনি ওই মামলার পলাতক আসামি ছিলেন।

এছাড়া পুলিশ প্রণীত পিপিআর (Police Profile Record) যাচাই করে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে পূর্বে আরও ১৯টি মামলা রয়েছে, যা তার অপরাধ জগতের দীর্ঘ সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।

এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নম্বর ৬৫ এবং তারিখ ২০ এপ্রিল ২০২৬।

ফরিদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার বলেন, “মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। যারা সমাজে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

ভাঙ্গায় নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকে নেমে শ্রমিকের মৃত্যুু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকে নেমে শ্রমিকের মৃত্যুু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের সেফটি ট্যাংকে নেমে মাসুম শেখ (৫২) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে পৌরসভার কোটপাড়া মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মাসুম শেখ বরিশালের পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল হাই শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল দিকে ভবনের সেফটি ট্যাংক পরিষ্কার করার কাজ চলছিল। এ সময় মাসুম শেখ ট্যাংকের ভেতরে নামলে সেখানে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সহকর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

ভাঙ্গা ফায়ার স্টেশনের ম্যানেজার আবু জাফর জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ভাই ও ভবন নির্মাণের সাব-কন্ট্রাক্টর মহিবুল্লাহ শেখ বলেন, “কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত সে ট্যাংকের ভেতরে নেমে পড়ে। আমরা বুঝতেই পারিনি ভেতরে এত গ্যাস জমে ছিল।” এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আব্দুল্লাহ আবু জাহের জানান, ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, “সেফটি ট্যাংকে কাজ করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে ‘ভুল চিকিৎসা’ বিতর্কের জেরে প্রভাতী হাসপাতালে অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘ভুল চিকিৎসা’ বিতর্কের জেরে প্রভাতী হাসপাতালে অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

ফরিদপুরে গলায় টিউমার অপারেশনের পর কিশোরী মিম (১৫)-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে পরিচালিত এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হাসপাতালটির বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমান ও ম্যাজিস্ট্রেট নুঝাত তাবাসসুম। অভিযানে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জ্যোতির্ময় চৌধুরী এবং জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. বজলুর রশীদ খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালটির প্যাথলজি বিভাগে নানা অনিয়ম, অপারেশন থিয়েটারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং রক্তের দাগ পাওয়া যায়। এছাড়া হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২৩-২৪ সালে শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি। এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আরোপ এবং আংশিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুঝাত তাবাসসুম বলেন, “হাসপাতালটিতে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। জনস্বার্থে প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।”

এর আগে, গত ১৯ এপ্রিল প্রকাশিত একটি সংবাদে অভিযোগ ওঠে, গলায় টিউমারের অপারেশন করতে গিয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় মিম নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, অপারেশনের সময় গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, নাক-কান-গলা (ইএনটি) সংক্রান্ত রোগে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকের অপারেশন করাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “একজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পরই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগেও অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালে প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছিল। সর্বশেষ এ অভিযানের ফলে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।