খুঁজুন
, ,

জিপিএ-৫ কি সফলতার মানদণ্ড?

এহসানুল হক মিয়া
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
জিপিএ-৫ কি সফলতার মানদণ্ড?

এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই আমাদের সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে একটি সংখ্যা—জিপিএ-৫। কে জিপিএ-৫ পেয়েছে, কে পায়নি—এসব নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে ওঠে অভিনন্দন ও সাফল্যের গল্পে। বিপরীতে, কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে না পারা অনেক শিক্ষার্থী মুহূর্তেই নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে করতে শুরু করে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—জিপিএ-৫ কি সত্যিই একজন শিক্ষার্থীর মেধা, যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ সফলতার নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড? নিঃসন্দেহে নয়। জিপিএ-৫ একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি। এর পেছনে থাকে পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও প্রস্তুতি। তাই এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় অর্জন। তবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে একজন মানুষের সামগ্রিক মেধা, সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি, নেতৃত্বগুণ, দক্ষতা কিংবা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে পুরোপুরি মূল্যায়ন করা যায় না।

শিক্ষা কি শুধু পরীক্ষার ফল?

আমাদের বড় একটি ভুল হলো—শিক্ষা ও পরীক্ষার ফলাফলকে প্রায় একই অর্থে দেখা। অথচ শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু ভালো নম্বর পাওয়া নয়; বরং মানুষকে চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে, যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে শেখানো। একই সঙ্গে শিক্ষা একজন মানুষকে দায়িত্বশীল, মানবিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কথা।

কিন্তু বাস্তবে অনেক শিক্ষার্থী শেখার চেয়ে নম্বর অর্জনের প্রতিযোগিতায় বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ছে। কোন প্রশ্ন পরীক্ষায় আসতে পারে, কোন অধ্যায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিংবা কীভাবে বেশি নম্বর পাওয়া যাবে—এসবই হয়ে উঠছে পড়াশোনার প্রধান লক্ষ্য। ফলে মৌলিক ধারণা বোঝা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা অর্জন এবং শেখা বিষয় বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার সুযোগ অনেক সময় উপেক্ষিত হয়। অথচ একটি বিষয় গভীরভাবে বোঝার অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় শক্তি। পরীক্ষায় কোনো কারণে প্রত্যাশার চেয়ে কম নম্বর পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু শক্তিশালী জ্ঞানভিত্তি থাকলে ভবিষ্যতে নতুন বিষয় শেখা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা তৈরি হয়।

জিপিএ-৫ না পাওয়া কি ব্যর্থতা?

কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ না পেলেই তাকে ব্যর্থ ভাবা আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি বড় দুর্বলতা। ‘ও জিপিএ-৫ পেয়েছে, তুমি পারলে না কেন?’—এ ধরনের তুলনা অনেক সময় উৎসাহের পরিবর্তে শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। অথচ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখার গতি, আগ্রহ, দক্ষতা ও সম্ভাবনা আলাদা।
অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে—একটি সন্তান কোনো মার্কশিট নয়; সে একটি সম্ভাবনা। একটি পরীক্ষার ফল তার পুরো ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না।

আবার জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদেরও মনে রাখা প্রয়োজন, এটি জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়; বরং ভবিষ্যৎ পথচলার একটি ধাপ। বাস্তব জীবনে সফল হতে প্রয়োজন জ্ঞানকে কাজে লাগানোর সক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সৃজনশীলতা, যোগাযোগের ক্ষমতা, সততা, অধ্যবসায় ও দায়িত্বশীলতা।

জীবনের পরীক্ষার সিলেবাস ভিন্ন

জীবনের বড় পরীক্ষাগুলোতে নির্দিষ্ট কোনো সিলেবাস থাকে না। সেখানে প্রতিনিয়ত নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। প্রয়োজন হয় ধৈর্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, প্রতিকূলতা মোকাবিলার দক্ষতা এবং অন্যের জন্য কাজ করার মানসিকতা।
তাই একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অসাধারণ ফল করলেই যে বাস্তব জীবনে সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল করতে না পারা শিক্ষার্থীও তার চিন্তাশক্তি, কর্মদক্ষতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।

সফলতার সংজ্ঞা নতুন করে ভাবতে হবে

সাফল্যের কোনো একক সংজ্ঞা নেই। কেউ গবেষক হবে, কেউ শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ শিল্পী বা সমাজকর্মী। প্রত্যেকের সক্ষমতা ও সাফল্যের পথ আলাদা।
তাই একজন শিক্ষার্থীকে শুধু একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে মূল্যায়ন করা যেমন যুক্তিসংগত নয়, তেমনি জিপিএ-৫-কে সফলতার চূড়ান্ত সনদ হিসেবেও দেখা উচিত নয়। জিপিএ-৫ একাডেমিক সাফল্যের একটি সূচক হতে পারে, কিন্তু সামগ্রিক সফলতার মানদণ্ড নয়।

আমাদের করণীয়

শিক্ষার্থীদের শুধু নম্বরের পেছনে না ছুটে পাঠ্যবিষয়ের মৌলিক ধারণা ও ভিত্তি শক্ত করতে হবে। কোনো বিষয় কেন ঘটছে, কীভাবে কাজ করছে এবং বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ কোথায়—এসব জানার আগ্রহ তৈরি করতে হবে।

অভিভাবকদের সন্তানের ফলাফলের পাশাপাশি তার আগ্রহ, দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের সন্তানের শক্তির জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

শিক্ষকদেরও পরীক্ষায় ভালো ফলের প্রস্তুতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন করার সাহস, যুক্তিবোধ, অনুসন্ধিৎসা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে হবে।

উপসংহার

জিপিএ-৫ একজন শিক্ষার্থীর পরিশ্রম ও একাডেমিক অর্জনের স্বীকৃতি। এটি অর্জন অবশ্যই আনন্দ ও গর্বের বিষয়। কিন্তু এটিকে জীবনের সফলতার চূড়ান্ত মানদণ্ডে পরিণত করা উচিত নয়।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়; বরং জ্ঞানী, দক্ষ, সৃজনশীল, যুক্তিবাদী, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ তৈরি করা।

কারণ পরীক্ষার একটি নম্বর হয়তো একটি দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রয়োজন জ্ঞান, দক্ষতা, চরিত্র, অধ্যবসায় ও সুদূরপ্রসারী চিন্তাশক্তি।

জিপিএ-৫ একটি সংখ্যা; কিন্তু একজন মানুষের সম্ভাবনা কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত শুধু—‘সে জিপিএ-৫ পেয়েছে কি না?’ বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—‘সে কতটা শিখেছে, কতটা দক্ষ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের জন্য কী করতে সক্ষম হবে?’ সফল শিক্ষাব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্য জিপিএ-৫ নয়; সফল মানুষ তৈরি করা।

লেখক
এহসানুল হক মিয়া
সহকারী শিক্ষক (গণিত)
পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফরিদপুর

ফরিদপুরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত ও মসজিদে প্রার্থনায় নিষেধাজ্ঞা!

মিয়া রাকিবুল
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত ও মসজিদে প্রার্থনায় নিষেধাজ্ঞা!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের শালিস বৈঠকে গ্রামের বাইরের লোক নিয়ে আসার অজুহাতে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতুব্বরদের বিরুদ্ধে। কেবল একঘরে করাই নয়, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার যুগে এমন সিদ্ধান্তকে মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​ঘটনাটি ঘটেছে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নওয়াপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী পরিবারটি ওই গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রফিক শেখের। তার তিন ছেলে—তারেক শেখ, ওবায়দুর শেখ ও খালিদ শেখ বর্তমানে চরম নিরাপত্তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত ২৪ জুলাই গ্রামে প্রথম দফা শালিস বসে। সেদিন কোনো সুরাহা না হওয়ায় ৩০ জুলাই দ্বিতীয় দফায় শালিসের মাধ্যমে বিরোধটি নিষ্পত্তি করা হয়। তবে দুই দিনের শালিসেই নিজেদের পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরতে রফিক শেখের ছেলেরা গ্রামের বাইরের কিছু আত্মীয়-স্বজনকে উপস্থিত করেন।

​গ্রামের শালিসে বহিরাগত লোক আনার বিষয়টি সহজভাবে নেননি স্থানীয় মাতুব্বররা। এর জের ধরে মাতুব্বর আবুল সরকার ও তাজ মোহাম্মদের নেতৃত্বে ৩১ জুলাই প্রথম একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চর নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পুনরায় সভা ডেকে রফিক শেখের পুরো পরিবারকে সমাজচ্যুত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তারা। ওই দিন রাতেই আব্দুর রফিক শেখের ছোট ছেলে খালিদ শেখকে সামাজিক সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন সভার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

​ভুক্তভোগী খালিদ শেখ বলেন, “শালিসে আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের এনেছিলাম। শুধু এই অপরাধে আমাদের পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। মাতুব্বররা সমাজের কাউকে আমাদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। গ্রামে কোনো অনুষ্ঠানে তো দূরের কথা, মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা অন্য গ্রামে গিয়ে নামাজ পড়ছি।”

​অশ্রুসজল চোখে প্রয়াত আব্দুর রফিক শেখের স্ত্রী শিমুল বেগম বলেন, “আমাদের একঘরে করে রাখা হয়েছে। কারও সাথে কথা বলতে পারছি না। আমার ছেলেরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।”

​অভিযোগ স্বীকার করে সমাজপতি আবুল সরকার বলেন, “গ্রামের বিষয় নিয়ে শালিস, অথচ তারা কাউকে না জানিয়ে ৩০-৪০ জন বহিরাগত লোক নিয়ে আসে। তাই মহল্লার সবাই মিলে তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা পরে আমার কাছে এসেছিল, আমি গ্রামে সবার কাছে ভুল স্বীকার করতে বলেছিলাম, কিন্তু তারা তা করেনি।”

​এ বিষয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুল তালুকদার জানান, জমি পরিমাপের সময় তিনি শালিসে থাকলেও পরবর্তী সময়ে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাকে কিছু জানানো হয়নি।

​ঘটনাটিকে সম্পূন্ন বেআইনি আখ্যা দিয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, “বর্তমান যুগে এভাবে কাউকে একঘরে করা বেআইনি ও মানবাধিকার বিরোধী। বিষয়টির সত্যতা জেনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, “বিষয়টি এখনো বিস্তারিত জানা নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে বিচার করার অধিকার কারও নেই।”

সদরপুরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল কিশোরীর মরদেহ

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল কিশোরীর মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় জান্নাতুল আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

​রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

​নিহত জান্নাতুল আক্তার ওই গ্রামের মো. জাফার খানের মেয়ে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে ছোট বোন সাইফাকে (৬) নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যায় জান্নাতুল। রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে সাইফা দেখতে পায়, টিনের ঘরের আড়ার সঙ্গে বড় বোন ঝুলছে। এ সময় তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে জান্নাতুলকে নিচে নামান। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

​নিহতের স্বজনদের দাবি, জান্নাতুল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিল।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুর সদর উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর এক আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।

​রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ প্রহরায় তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চর দুর্গাপুর গ্রামের সুমন মোল্যা (১৯) ও একই গ্রামের ওসমান বেপারী (২৯)।

​মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। এক যুবকের সঙ্গে মুঠোফোনে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে সে গোয়ালন্দ ঘাটে যায়। তাকে না পেয়ে মেয়েটি তার চাচাতো ভাইকে ফোন করে।

​চাচাতো ভাই তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে অভিযুক্ত আসামিরা কৌশলে তাদের ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষ্মীপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে রাতে অবস্থান করতে বলেন। পরদিন ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসামিরা মেয়েটিকে জিম্মি করে মোবাইল ফোনে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর সুমন মোল্যা ও ওসমান বেপারী পর্যায়ক্রমে মেয়েটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

​ঘটনার পর কাউকে কিছু না বলতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানালে, তার মা বাদী হয়ে ২১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

​পুলিশ মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন।

​রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আদালতের এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।”