খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

যুদ্ধের কালো ছায়া : মানবতার অশ্রু

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
যুদ্ধের কালো ছায়া : মানবতার অশ্রু

পৃথিবীর ইতিহাসে যত যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, সেখানে কেউই আসলে পরাজিত কিংবা বিজয়ী হয়নি! বরং প্রতিটি যুদ্ধেই মানবতা চরমভাবে পরাজিত হয়েছে।

ইতিহাসের পাতায় আমরা বহু যোদ্ধার বীরত্বগাথা ভূমিকা দেখতে পাই। যুগ যুগ ধরে সাহিত্য, লোকগীতি, মঞ্চনাটক ও কবিতায় যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অবদানকে গৌরবান্বিত করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, যুদ্ধের এ গৌরবান্বিত ধারণাটি যুদ্ধের এক ভয়াল ও অন্ধকার সত্যকে আড়াল করেছে।

এ সত্যটি হলো, যুদ্ধ সর্বদাই মানবতার জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। বীরত্বের স্তুতিনামা বরাবরই নিরীহ মানুষের মৃত্যু, ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী, বিবর্ণ জনপদ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়।

যুদ্ধের পক্ষে যে কোনো যুক্তির ঊর্ধ্বে এটি ধ্বংস, যন্ত্রণা ও বর্বরতার প্রতীক।একেকটি যুদ্ধ মানবজাতিকে কোটি কোটি মানুষের লাশ ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। এসব যুদ্ধে যোদ্ধাদের যত বড় বীরত্বের গল্পই থাকুক না কেন, যুদ্ধগুলো মানবজাতিকে ইতিবাচক কিছু দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের ধারণা প্রায়ই সহিংসতাকে স্বাভাবিক হিসাবে তুলে ধরে। কিন্তু সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণই মানবজাতির জন্য ভয়াবহ ও দুর্বিষহ ভবিষ্যৎকে ত্বরান্বিত করে।

যখন বীরত্বের খোলসে সহিংস আচরণ, বর্বর হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলার তারিফ করা হয়, তখন তা পরবর্তী প্রজন্মকে অমানবিক বীরত্বের জন্য উৎসাহিত করে। যখন হত্যাকা- সাহসিকতার সমার্থক হয়ে ওঠে, তখন এটি মানবজীবনের পবিত্রতাকে কলুষিত করে। যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতাকে আড়াল করে সৈনিক কৃর্তক হত্যাকা-ের তারিফ করার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল স্বরূপ পৃথিবীতে সংঘটিত হচ্ছে এত যুদ্ধবিগ্রহ ও প্রাণহানি।

যদিও বাহ্যিকভাবে আমরা দেখি, যুদ্ধে একদল বিজয়ী ও অন্যপক্ষ পরাজিত হয়েছে। যদি প্রশ্ন করা হয়, এ বিজয় কিসের বিনিময়ে? উত্তর হচ্ছে-অসংখ্য মানুষের মৃত্যু, বহু মানুষের অসহায় পঙ্গুত্ব, অর্থনীতির পতন, জাতীয় জীবনে অস্থিরতা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলের জন্য নিরুপায় সাধারণ মানুষের দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করার বিনিময়ে। যা যুদ্ধের যে কোনো ইতিবাচক অর্জনের ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।

এমনকি বিজয়ী যোদ্ধারাও বাকি জীবনটা যুদ্ধের মানসিক ক্ষত বহন করে চলেন। প্রতিটি যুদ্ধেই কে হারবে আর কে জিতবে, তা অনির্ধারিত হলেও এটা নির্ধারিত যে, যুদ্ধে মানবতা পরাজিত হবে। অর্থাৎ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে বিজয়ীরাও যুদ্ধে পরাজয়ই বরণ করে।মোট কথা, বিজয়ী ও পরাজিত শক্তি উভয়ের জন্যই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি হলো পরাজয়, ক্ষতি ও নৈতিকতার অবক্ষয়।

যুদ্ধের পর বীরত্বকে উদযাপন করা কখনো কখনো প্রতিশোধ পরায়ণতা ও ঘৃণার চক্রকে উসকে দিয়ে নতুন সংঘাত সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যখন অক্ষশক্তি পরাজিত হয়, তখন তাদের ওপর কিছু লজ্জাজনক শর্ত আরোপ করা হয়। অন্যদিকে মিত্রশক্তি তখন যুদ্ধ জয়ের উল্লাসে ব্যস্ত। তাদের এ বিজয়োল্লাসই অক্ষশক্তিকে প্রতিশোধ পরায়ণ করে তোলে, যার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা পৃথিবীকে প্রায় ৭ কোটি মানুষের মরদেহ উপহার দেয়।

এভাবেই প্রতিশোধের চক্র চলতে থাকে বিধায় পুরো মানবজাতিই ভোগান্তির শিকার হয়। অথচ, যুদ্ধের রসদ ক্রয় না করে এ অর্থ যদি একটি দেশ তার দারিদ্র‍্য দূরীকরণ, শিক্ষার প্রসারসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যয় করতে পারে, তাহলে তা দেশকে সমৃদ্ধির শিখরে আরোহণে সহায়তা করবে।
এ পর্যায়ে মনে প্রশ্ন আসতেই পারে…তবে কি বীরত্ব প্রদর্শন অপরাধ? মোটেও না; তবে সত্য, ন্যায়, মজলুমকে রক্ষা, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম, শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য বীরত্ব লালন করা প্রয়োজন।

মনে রাখতে হবে, শান্তিপূর্ণ সমাধানই মহান বীরত্বের প্রতীক। অপরদিকে, পৈশাচিক বীরত্ব প্রদর্শন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধ অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধ। আমরা বরং প্রকৃত বীরত্বের ধারণাকে বিশ্লেষণ ও উৎসাহিত করতে পারি। প্রকৃত বীরত্ব যুদ্ধক্ষেত্রে নয়; বরং এটি শান্তি, বোঝাপড়া, সহমর্মিতা ও সহাবস্থানের পথে বিদ্যমান। যারা সমস্যার সমাধান রক্তপাতহীনভাবে করতে পারে, বিভক্ত জাতিকে শান্তিপূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেন, তারাই প্রকৃত বীর।

যুদ্ধ ও মানবতার বিপর্যয় একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। যুদ্ধ কেবল ভৌগোলিক সংঘাত নয় বরং এটি লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু,বাস্তুচ্যুতি, চরম দারিদ্র‍্য এবং মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়ের কারণ যা সভ্যতাকে পিছিয়ে দেয়। পূর্ব কাল থেকে শুরু করে বর্তমানের যুদ্ধ গুলো প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ মানেই মানবতা ও উন্নয়নমূলক অবকাঠামোর চরম ধ্বংসলীলা।

যুদ্ধে সামরিক মৃত্যুর চেয়ে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি হয়। সরাসরি মৃত্যু ছাড়াও দুর্ভিক্ষ এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট রোগব্যাধিতে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। মানুষ নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়যা বিশ্বজুড়ে বিশাল শরণার্থী সংকটের সৃষ্টি করে। যুদ্ধ একটি দেশের রাস্তা, সেতু, বিদ‍্যালয় এবং হাসপাতাল ধ্বংস করে দেয় যা স্থানীয় অর্থনীতিকে পুরোপুরি স্থবির করে ফেলে এবং কর্মসংস্থান নষ্ট করে। যুদ্ধের ফলে বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হয় প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হয় এবং পরিবেশ দূষিত হওয়ার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তীব্র উদ্বেগ দীর্ঘ মেয়াদে মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত তৈরি করে। যুদ্ধের সময় স্কুলপড়–য়া শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা সামগ্রিক সভ্যতার জন্য চরম লজ্জা এবং মানবতার পরাজয়।

পরিশেষে এতটুকু বলাই যায়…কোনো যুদ্ধেই আসলে কেউ জয়ী হয় না প্রতিবারই মানবতার পরাজয় ঘটে। অপেক্ষা…সময়ের, যখন মানবজাতি ভয়ংকর যুদ্ধবিধ্বস্ত অতীত থেকে মুক্তি পাবে। কোনো শক্তিই মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারে না। ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা ভৌগোলিক সীমারেখা সকল কিছুর ঊর্ধ্বে বিবেক জাগ্রত হোক, জয় হোক মানবতার

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী নিহত, স্বজনদের আহাজারি

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী নিহত, স্বজনদের আহাজারি

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এক প্রবাসী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত মো. বেলায়েত কাজী (৩৫) ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিঘাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত ইউসুফ কাজীর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর প্রায় ৬টার দিকে মালয়েশিয়ার পেরাক প্রদেশের ইপোহ শহরে সড়কের কাজ করার সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই গাড়িটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে বলে জানা গেছে।

স্বজনরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান বেলায়েত। শুরুতেই নানা প্রতারণার শিকার হন তিনি। নির্ধারিত কাজ না পেয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন নির্মাণ ও সড়ক মেরামতের কাজে যুক্ত হন। সম্প্রতি ইপোহ এলাকায় সড়ক সংস্কার কাজ করছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর আহমদ মুন্সী জানান, সকালে তিনি দুর্ঘটনার খবর পান। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতের মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ্-আবু-জাহেরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহতের পরিবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা কামনা করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, অবৈধভাবে বিদেশে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে এমন দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। তারা দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

গ্রামে বেলায়েতের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছাতেই এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চৌকিঘাটা গ্রাম।

ডায়াবেটিস সচেতনতায় ফরিদপুরে আলোচনা সভা: ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের আহ্বান

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৪:২১ পিএম
ডায়াবেটিস সচেতনতায় ফরিদপুরে আলোচনা সভা: ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের আহ্বান

ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতি-এর উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ ভবনের হলরুম-১ এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুস সামাদ। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রায়হান গফুর, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি প্রফেসর ডা. মুস্তাফিজুর রহমান শামীমসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভায় ডায়াবেটিস রোগের কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, স্ট্রোক ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, চিকিৎসা সেবায় ফরিদপুর জেলা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসায় ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।

সভায় দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ডায়াবেটিক সমিতির কমিটি গঠন এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। ফরিদপুরবাসীর মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ফরিদপুরে মাদকের টাকা নিয়ে বিরোধ: যুবককে কুপিয়ে হত্যা, তিনজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১:৪২ পিএম
ফরিদপুরে মাদকের টাকা নিয়ে বিরোধ: যুবককে কুপিয়ে হত্যা, তিনজন আটক

ফরিদপুর শহরে মাদকের পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাজু ওরফে বাটুল রাজু (৩৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।

সোমবার (০২ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর শহরের রেলস্টেশন বাজার সংলগ্ন বস্তি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে মাদকের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল বলে দাবি এলাকাবাসীর। ওই বিরোধের জের ধরেই শিল্পীর মেয়ে ও তার জামাই হৃদয়সহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাজুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা রাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত রাজু কোতয়ালী থানার কুটিবাড়ী স্টেশন বাজার মুসলিম কলোনি ২ নম্বর কুটিবাড়ীর বাসিন্দা। তার পিতা বাবলু কসাই। পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে মাদক সংক্রান্ত আর্থিক বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন।

পুলিশ সুপার বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন মুঠোফোনে জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এদিকে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিবার থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।