খুঁজুন
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কোথায়?

রায়হানুল ইসলাম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কোথায়?

রোহিঙ্গা সংকট আজ আর কেবল একটি মানবিক ইস্যু নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, কূটনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সাত বছরের বেশি সময় ধরে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে।

মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে-এটি আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী আশ্রয় কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বাস্তবতা হলো, নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন ছাড়া এই সংকটের টেকসই পথ নেই।

শুরু থেকেই বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে-রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক, তাদের নিজভূমিতেই ফিরতে হবে। কিন্তু প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে সবচেয়ে বড় বাধা হলো আস্থা। যারা সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছে, তারা কেবল আশ্বাসে ফিরবে না; তারা চায় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, নাগরিকত্বের স্বীকৃতি এবং পুনর্বাসনের বাস্তব পরিকল্পনা। অতীতের অভিজ্ঞতা তাদের শিখিয়েছে, নিরাপত্তাহীন পরিবেশে ফেরা মানে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার তিনটি শর্ত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত-নিরাপদ, স্বেচ্ছা এবং মর্যাদাপূর্ণ। এই তিনটি শব্দই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ মানে কেবল সহিংসতা না থাকা নয়; সেখানে থাকতে হবে আইনি সুরক্ষা, চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার সুযোগ। স্বেচ্ছা মানে কোনো ধরনের চাপ, প্রলোভন বা জবরদস্তি ছাড়া নিজ ইচ্ছায় ফিরে যাওয়া। আর মর্যাদাপূর্ণ মানে মানবিক অধিকারকে সম্মান জানিয়ে পূর্ণ নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার সুযোগ নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি সীমিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। নিন্দা প্রস্তাব ও বিবৃতির বাইরে কার্যকর চাপ কতটা প্রয়োগ করা হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বটে, কিন্তু মানবিক সহায়তা কখনো রাজনৈতিক সমাধানের বিকল্প হতে পারে না। বরং দীর্ঘস্থায়ী শিবির-নির্ভরতা নতুন সামাজিক ও নিরাপত্তা জটিলতা তৈরি করছে।

কক্সবাজার অঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ, পরিবেশগত ক্ষতি, স্থানীয় অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে বেড়ে উঠছে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ নিয়ে। এই প্রজন্মের হতাশা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়া কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

মিয়ানমারের রাজনৈতিক বাস্তবতাও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও ক্ষমতার টানাপড়েনের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। অথচ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা মিয়ানমারের দায়িত্ব। কেবল অবকাঠামো নির্মাণ বা গ্রহণকেন্দ্র প্রস্তুত করলেই চলবে না; প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করা। রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং নাগরিকত্বের সুস্পষ্ট রূপরেখা ছাড়া প্রত্যাবাসন কার্যকর হবে না।

এখানে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো যদি সমন্বিত অবস্থান নেয়, তবে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শক্তিগুলোরও দায়িত্ব আছে। মানবাধিকার প্রশ্নে নীতিগত অবস্থান কেবল বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ। নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ ও আলোচনার সমন্বয়েই একটি কার্যকর পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো-মানবিক দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় রাখা। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ভাসানচরসহ বিভিন্ন পুনর্বাসন উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও চূড়ান্ত সমাধান নয়। লক্ষ্য একটাই-নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসন।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তাড়াহুড়ো করে শুরু করলে তা উল্টো ফল দিতে পারে। অতীতে কয়েক দফা উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে মূলত আস্থার অভাবে। এবার যদি উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষিত। রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা, তাদের মতামত শোনা এবং বাস্তব চাহিদা বোঝা জরুরি। সমাধান চাপিয়ে দেওয়া যায় না; তা গড়ে তুলতে হয় আস্থার ভিত্তিতে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। রোহিঙ্গারা কোনো পরিসংখ্যান নয়; তারা বাস্তুচ্যুত মানুষ। তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রেখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন তাই কেবল একটি কূটনৈতিক লক্ষ্য নয়; এটি মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

এই সংকটের স্থায়ী সমাধান একদিনে আসবে না। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ থাকলে পথ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী শিবির-জীবন কোনো জাতির জন্য ভবিষ্যৎ নয়। রোহিঙ্গাদেরও একটি মাতৃভূমি আছে-সেই মাতৃভূমিতেই অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই একমাত্র টেকসই সমাধান। অন্য সব পথ সাময়িক, অসম্পূর্ণ এবং অনিশ্চিত।

লেখক : রায়হানুল ইসলাম, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

 

মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন ঋণে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সুখবর?

অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন ঋণে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সুখবর?

মধ্যবিত্তদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিজের একটি ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সহজ করতে বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

একই সঙ্গে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে (১০ শতাংশের নিচে) দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু এবং বিশেষ হাউজিং তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছেন আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা।

রোববার (৭ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর একটি প্রতিনিধি দল।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিদ্যমান সংকট, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে রিহ্যাব নেতারা বলেন, প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে গৃহঋণের ব্যবস্থা করা গেলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসনের স্বপ্ন পূরণ হবে। একইসঙ্গে দেশের অন্যতম বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এই খাত নতুন গতি পাবে।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু করা গেলে আবাসন খাত যেমন উপকৃত হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্য নিজস্ব বাসস্থান অর্জনও সহজ হবে।

অন্যদিকে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাজধানী ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য স্বল্পসুদের হাউজিং ঋণের সুযোগ সারা দেশে সম্প্রসারণ করতে হবে।

জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নে আবাসন খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, হাউজিং খাতের ঋণ ব্যাংকিং খাতের অন্যতম নিরাপদ ঋণ হওয়ায় অন্যান্য অনেক খাতের তুলনায় এর সুদের হার তুলনামূলক কম থাকে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আবাসন ঋণের সুদের হার অন্যান্য ঋণের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে বলেও তিনি জানান।

গভর্নর জানান, দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের জোগান বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য গৃহঋণ গ্রহণ আরও সহজ হবে।

বৈঠকে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ.এফ.এম. ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং পরিচালক তাসনোভা মাহবুব সালাম উপস্থিত ছিলেন।

 

হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ও রিস্টোর সমস্যার সমাধানে কী করবেন?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ও রিস্টোর সমস্যার সমাধানে কী করবেন?

ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগে বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। প্রতিদিন এ প্ল্যাটফর্মে বিপুল পরিমাণ বার্তা, ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ নথি আদান-প্রদান করা হয়। তবে ফোন হারিয়ে যাওয়া, চুরি হওয়া বা নতুন ডিভাইসে পরিবর্তনের সময় এসব তথ্য হারানোর আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ করে তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করেন।

তবে কখনও কখনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ বা রিস্টোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

প্রথমেই ফোনটি রিস্টার্ট করে দেখতে পারেন, কারণ অনেক সাময়িক ত্রুটি এভাবে দূর হয়ে যায়। পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্বল ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক বা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এছাড়া ফোনে পর্যাপ্ত স্টোরেজ ও পর্যাপ্ত চার্জ থাকা জরুরি। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে জায়গা খালি করতে হবে এবং ফোন চার্জে রাখতে হবে। সমস্যা অব্যাহত থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটি ‘ফোর্স স্টপ’ করে পুনরায় চালু করা যেতে পারে। ডুয়াল সিম ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহৃত নম্বরের সিমটি সক্রিয় আছে কি না সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল প্লে সার্ভিসেস আপডেট রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ব্যবস্থা গুগল ড্রাইভের সঙ্গে সংযুক্ত। পুরোনো সংস্করণের কারণে ব্যাকআপে সমস্যা দেখা দিলে সেটিংস থেকে গুগল প্লে সার্ভিসেস সর্বশেষ সংস্করণে হালনাগাদ করতে হবে। প্রয়োজন হলে হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে পুনরায় ইনস্টল করার পরামর্শও দেওয়া হয়।

ব্যাকআপের সময় কোনো ত্রুটি বার্তা দেখা দিলে অ্যাপের প্রয়োজনীয় পারমিশনগুলো সক্রিয় আছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে স্টোরেজ বা ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের অনুমতি চালু থাকা জরুরি। পাশাপাশি গুগল অ্যাকাউন্ট সিঙ্ক করে নেওয়া যেতে পারে। তাতেও কাজ না হলে গুগল অ্যাকাউন্টটি ফোন থেকে সরিয়ে আবার যুক্ত করে হোয়াটসঅ্যাপে পুনরায় সেটআপ করতে হবে।

সবশেষে, কোনো কারণে ব্যাকআপ ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত বা ‘করাপ্টেড’ হয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে। সাধারণত ব্যাকআপ চলাকালে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়া, অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ক্ষতিকর ফাইলের কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়। তাই ব্যাকআপ নেওয়ার সময় সবসময় স্থিতিশীল ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সূত্র : যুগান্তর

 

আম কাটার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আম কাটার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

বাজারে হিমসাগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম পাওয়া যাচ্ছে। আমের এই মৌসুমে সবার বাসায়ই আম থাকে। অনেকে তিন বেলায় প্রিয় ফলটি খেতে ভালোবাসেন। পাকা আম কাটার আগে অনেকেই পানিতে ভিজিয়ে রাখেন না। এটি ভুল। আম কাটার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখার উপকারিতার কথা বলা হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর এক প্রতিবেদনে। 

পাকা আম কাটার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন কেন?

আম পরিষ্কারের জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি। শুধু ধুয়ে নিলে খোসায় থাকা জীবাণু পরিষ্কার হয় না। গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য এবং পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। সেগুলো আমের খোসাতে থেকে যায়। আম পানিতে  ভিজিয়ে রাখলে সেই সব কীটনাশক, রাসায়নিক বেরিয়ে যায়।

কীটনাশক সাফ হলেও আমে থাকা অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টও বিপজ্জনক হতে পারে। আমের খোসায় ফাইটিক অ্যাসিড নামের অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। এই ধরনের উপাদান আমের পুষ্টি শোষণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আম খেয়েও এর কোনও পুষ্টিগুণ পাবেন না। আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ফাইটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যায়। এতে আমের ভিটামিন এবং খনিজ শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।

ফাইটিক অ্যাসিডের পাশাপাশি আমের খোসায় এমন অনেক উপাদান থাকে যেগুলি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া আম খেলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং পেটের গণ্ডগোল দেখা দেয়। আম খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এই সমস্যা এড়ানো যায়।

আমের বোঁটা থেকে আঠালো কষ বের হয়। সেগুলো শুধু পানি দিয়ে ধুলে পরিষ্কার হয় না। আবার ওই কষ ত্বকের সংস্পর্শে এলে, ঠোঁটে লাগলে চুলকানি, র‍্যাশ হয়ে থাকে। আবার কষ খেয়ে ফেললে গলা চুলকায়। আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ওই কষ সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হয়ে যায়।

কতক্ষণ আম পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন?

খাওয়ার আগে ১-২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। হাতে কম সময় থাকলে অন্তত ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পানিতে নয়, ঘরের তাপমাত্রায় থাকা পানিতে ভেজানো উচিত।

সূত্র: এই সময়