খুঁজুন
, ,

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কোথায়?

রায়হানুল ইসলাম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কোথায়?

রোহিঙ্গা সংকট আজ আর কেবল একটি মানবিক ইস্যু নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, কূটনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সাত বছরের বেশি সময় ধরে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে।

মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে-এটি আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী আশ্রয় কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বাস্তবতা হলো, নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন ছাড়া এই সংকটের টেকসই পথ নেই।

শুরু থেকেই বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে-রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক, তাদের নিজভূমিতেই ফিরতে হবে। কিন্তু প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে সবচেয়ে বড় বাধা হলো আস্থা। যারা সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছে, তারা কেবল আশ্বাসে ফিরবে না; তারা চায় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, নাগরিকত্বের স্বীকৃতি এবং পুনর্বাসনের বাস্তব পরিকল্পনা। অতীতের অভিজ্ঞতা তাদের শিখিয়েছে, নিরাপত্তাহীন পরিবেশে ফেরা মানে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার তিনটি শর্ত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত-নিরাপদ, স্বেচ্ছা এবং মর্যাদাপূর্ণ। এই তিনটি শব্দই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ মানে কেবল সহিংসতা না থাকা নয়; সেখানে থাকতে হবে আইনি সুরক্ষা, চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার সুযোগ। স্বেচ্ছা মানে কোনো ধরনের চাপ, প্রলোভন বা জবরদস্তি ছাড়া নিজ ইচ্ছায় ফিরে যাওয়া। আর মর্যাদাপূর্ণ মানে মানবিক অধিকারকে সম্মান জানিয়ে পূর্ণ নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার সুযোগ নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি সীমিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। নিন্দা প্রস্তাব ও বিবৃতির বাইরে কার্যকর চাপ কতটা প্রয়োগ করা হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বটে, কিন্তু মানবিক সহায়তা কখনো রাজনৈতিক সমাধানের বিকল্প হতে পারে না। বরং দীর্ঘস্থায়ী শিবির-নির্ভরতা নতুন সামাজিক ও নিরাপত্তা জটিলতা তৈরি করছে।

কক্সবাজার অঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ, পরিবেশগত ক্ষতি, স্থানীয় অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে বেড়ে উঠছে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ নিয়ে। এই প্রজন্মের হতাশা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়া কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

মিয়ানমারের রাজনৈতিক বাস্তবতাও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও ক্ষমতার টানাপড়েনের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। অথচ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা মিয়ানমারের দায়িত্ব। কেবল অবকাঠামো নির্মাণ বা গ্রহণকেন্দ্র প্রস্তুত করলেই চলবে না; প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করা। রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং নাগরিকত্বের সুস্পষ্ট রূপরেখা ছাড়া প্রত্যাবাসন কার্যকর হবে না।

এখানে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো যদি সমন্বিত অবস্থান নেয়, তবে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শক্তিগুলোরও দায়িত্ব আছে। মানবাধিকার প্রশ্নে নীতিগত অবস্থান কেবল বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ। নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ ও আলোচনার সমন্বয়েই একটি কার্যকর পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো-মানবিক দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় রাখা। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ভাসানচরসহ বিভিন্ন পুনর্বাসন উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও চূড়ান্ত সমাধান নয়। লক্ষ্য একটাই-নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসন।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তাড়াহুড়ো করে শুরু করলে তা উল্টো ফল দিতে পারে। অতীতে কয়েক দফা উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে মূলত আস্থার অভাবে। এবার যদি উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষিত। রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা, তাদের মতামত শোনা এবং বাস্তব চাহিদা বোঝা জরুরি। সমাধান চাপিয়ে দেওয়া যায় না; তা গড়ে তুলতে হয় আস্থার ভিত্তিতে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। রোহিঙ্গারা কোনো পরিসংখ্যান নয়; তারা বাস্তুচ্যুত মানুষ। তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রেখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন তাই কেবল একটি কূটনৈতিক লক্ষ্য নয়; এটি মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

এই সংকটের স্থায়ী সমাধান একদিনে আসবে না। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ থাকলে পথ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী শিবির-জীবন কোনো জাতির জন্য ভবিষ্যৎ নয়। রোহিঙ্গাদেরও একটি মাতৃভূমি আছে-সেই মাতৃভূমিতেই অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই একমাত্র টেকসই সমাধান। অন্য সব পথ সাময়িক, অসম্পূর্ণ এবং অনিশ্চিত।

লেখক : রায়হানুল ইসলাম, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

 

শীতকালে কলা খেলে কি আসলেই ক্ষতি হয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
শীতকালে কলা খেলে কি আসলেই ক্ষতি হয়?

শীতের আগমন ঘটলেই খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানাবিধ প্রশ্ন ও ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। এর মধ্যে অন্যতম বহুল প্রচলিত একটি ধারণা হলো, শীতের দিনে বা রাতে কলা খেলে ঠান্ডা লাগা বা সর্দি-কাশির সমস্যা বেড়ে যায়। কিন্তু আধুনিক পুষ্টি বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য কি এই ধারণাকে সমর্থন করে?

দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, শীতকালে খাদ্যতালিকা থেকে কলাকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া একদমই উচিত নয়। যদিও সর্দি-কাশি, সাইনাস বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা প্রয়োজন, তবুও শীতকালীন প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে কলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণার ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত এই ফিচারে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো শীতকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা, সতর্কতা এবং এর পিছনের বিজ্ঞান।১. পুষ্টির উপাদান ও শীতকালীন স্বাস্থ্য রক্ষা শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ায় অনেকেরই হাড়ের নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে এবং তা মজবুত করতে নিয়মিত ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় খনিজ গ্রহণ করা জরুরি।

দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলা হলো পুষ্টির একটি অন্যতম শক্তিশালী উৎস। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ফোলেট, নিয়াসিন, রিবোফ্লাভিন এবং ভিটামিন বি৬। এই সকল পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে এবং শীতকালে সুস্থ রাখতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।

২. হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য

নিয়মিত কলা খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কলায় বিদ্যমান আঁশ বা ফাইবার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিডস-এর একটি গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ বাড়ালে তা কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ এবং করোনারি হার্ট ডিজিজ—উভয় ধরণের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া কলায় থাকা পটাশিয়াম হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে এবং মস্তিষ্ককে সতেজ ও সতর্ক রাখতে সাহায্য করে।

৩. হজম প্রক্রিয়া ও দীর্ঘক্ষণ শক্তি বজায় রাখা

কলায় দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয়—দুই ধরনের ফাইবারই প্রচুর পরিমাণে থাকে। দ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়। এই কারণেই সকালের নাস্তায় কলা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে সারাদিনের শুরুতে প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যায় এবং বারবার ক্ষুধা না লাগে।

৪. শীতের রাতে কলা খাওয়া: সম্ভাবনা ও বিতর্ক

শীতের রাতে কলা খাওয়া যাবে কি না—তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় থাকে। প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাতে মিষ্টি বা অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগলে তার একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে কলা। এছাড়া সন্ধ্যায় বা জিম করার পর কলা খেলে এতে থাকা পটাশিয়াম পেশির ক্লান্তি দূর করে এবং রাতে দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে।

তবে আয়ুর্বেদিক মতামত অনুযায়ী, রাতে কলা খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো; কারণ এটি হজম হতে বেশি সময় নেয়, কাশির প্রকোপ বাড়াতে পারে এবং শরীরে কিছুটা অলসতা তৈরি করতে পারে।

৫. কারা সতর্ক থাকবেন এবং কখন কলা এড়িয়ে চলবেন?

শীতকালে কলা অত্যন্ত উপকারী হলেও কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা আবশ্যক। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যারা সাধারণ সর্দি-কাশি, সাইনাস বা অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত, তাদের শীতকালে রাতে কলা খাওয়া সীমিত করা বা এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ শ্লেষ্মা বা মিউকাসের সংস্পর্শে এলে এটি কিছুটা ইরিটেশন বা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

সালথায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের সড়ক-আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলেই ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
সালথায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের সড়ক-আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলেই ব্যবস্থা

ক্লাস চলার সময়ে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে রাস্তাঘাট বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাফেরা করলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এমন কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন।

​বুধবার (০৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সালথা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সালথা উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জানানো যাচ্ছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ক্লাস চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অভিভাবককে উপজেলা প্রশাসনে বা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে অভিভাবকের কাছ থেকে উপযুক্ত মুচলেকা গ্রহণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

​উপজেলা প্রশাসন জানায়, এই নির্দেশনা অত্যন্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থেই মূলত এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে সালথা উপজেলা প্রশাসন।

সালথায় জমিতে বেড়া দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
সালথায় জমিতে বেড়া দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের সালথায় ফসলি জমির সীমানায় বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৫টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

​বুধবার (০৪ নভেম্বর) বিকেলে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মেহেরদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​স্থানীয়রা জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও ফসলি জমি নিয়ে মেহেরদিয়া গ্রামের মো. কালাম মুন্সীর সঙ্গে নুর ইসলাম মুন্সীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার দুপুরে কালাম মুন্সী তাঁর ফসলি জমির সীমানায় বেড়া দিতে গেলে নুর ইসলামের সমর্থকরা তাঁকে মারধর করেন।

​এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর করে সংঘর্ষকারীরা।

​এ ঘটনায় কালাম মুন্সী ও শাহজাহান মাতুব্বরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

​সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘জমিতে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।’

​এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।