খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

তৃতীয় লিঙ্গের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার ও প্রতিবন্ধকতা

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
তৃতীয় লিঙ্গের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার ও প্রতিবন্ধকতা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার হলেও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের পথে বড় ধরনের প্রতিকূলতা রয়েছে। সর্বশেষ গত ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৩৪ জন। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি।

কারণ সামাজিক অবহেলার ভয়ে পরিচয় গোপন করে ভোটার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন অনেক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। কাগজে-কলমে এ জনগোষ্ঠীর ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ও মানসিক গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতিতে থমকে আছে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভোটাধিকারের বাস্তবায়ন।

নির্বাচনে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভূমিকা বর্তমানে ভোটাধিকার প্রয়োগ, প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ এবং প্রচারণায় সক্রিয় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র‍্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত করছে। তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।

মূলত ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদের সভায় নারী-পুরুষের পাশাপাশি হিজড়াদের পৃথক লিঙ্গীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ সময় উল্লেখ করা হয় যে, তারা শিক্ষাসহ অন্যান্য সব মৌলিক অধিকারে অগ্রাধিকার পাবে। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়, ‘সরকার বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করিয়া স্বীকৃতি প্রদান করিল’। ২০১৯ সালে হিজড়ারা স্বতন্ত্র লিঙ্গীয় পরিচয়ে ভোটাধিকার লাভ করে। এর আগে তারা নারী ও পুরুষ হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেন।

এ নির্বাচনে লিঙ্গ কোন বিবেচ্য বিষয় নয়। বাংলাদেশে ইতিপূর্বে নজরুল ইসলাম ঋতু প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এবারও তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী নির্বাচন করছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এই আনোয়ারা ইসলাম রানী।

ওই নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের জয়লাভ করলেও তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হন রানী। সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে এবারও ভোটের মাঠে রংপুর-৩ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃতীয় লিঙ্গের একমাত্র প্রতিনিধি আনোয়ারা ইসলাম রানী।

এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রামে এবার ১৬টি সংসদীয় আসনে ৬৯ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার শেষ নেই।

এর আগে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের তৃতীয় লিঙ্গের ৫৬ জন ভোট দিয়েছিলেন। গতবারের চেয়ে এবার ১৩ জন ভোটার বেড়েছে। চট্টগ্রামে এবার মোট ভোটার ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৬। এর মধ্যে পুরুষ ৩৩ লাখ ৯৭ হাজার ৮১২ ও মহিলা ভোটার ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯৫।

নোয়াখালীর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দুই হাজারের বেশি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বসবাস করলেও ভোটার তালিকায় তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন মাত্র ১৪ জন। ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের জানানো হয়নি, আবার পরিচয়পত্র সংক্রান্ত জটিলতাও বড় বাধা। তবে ময়মনসিংহে তৃতীয় লিঙ্গ পরিচয়ে এবার ভোট দেবেন ৪১ জন। যদিও জেলায় এ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কয়েক শ।অর্থাৎ বাস্তবে সংখ্যা বেশি কিন্তু নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা কম।

নির্বাচনের মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ সমাজের মূলধারায় যুক্ত হয়ে নিজেদের আইনগত ও সামাজিক অধিকারের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছেন। ইসির মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, ভোটকেন্দ্রে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের জন্য নেই আলাদা কোনো ব্যবস্থা, নেই নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ। ফলে নারী বা পুরুষের লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, বিদ্রƒপ ও মশকরার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই ভোট দিতে যেতে চান না।

আইনি কাঠামো থাকার পরও শুধু প্রশাসনিক উদাসীনতায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভোটাধিকার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। সংখ্যায় অল্প হলেও এই জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু এ অব‍্যবস্থাপনা তাদের ভোটাধিকারকে কার্যত নিরুৎসাহিত করছে।যার ফলে ভোটের দিন কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারান। এই মনোভাব শুধু একজনের নয়, একাধিক তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের মনোভাবও প্রায় একই।

তৃতীয় লিঙ্গের ভোট প্রদানে বাস্তবতা:

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভোটাধিকার সংবিধান স্বীকৃত হলেও এর বাস্তব প্রয়োগে প্রশাসনিক উদাসীনতা বড় সমস্যা। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে তার বাস্তব প্রয়োগ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও বৈষম্যহীন পরিবেশ না থাকলে এই অধিকার কাগজেই থেকে যাবে। নির্বাচন কমিশন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটার তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কেবল আইনগত স্বীকৃতি দিলেই হবে না, ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবে এই কাজ একা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সচেতনতা, সংবেদনশীল প্রশাসন ও বাস্তবমুখী ব্যবস্থা গ্রহণে বৈষম্যের এ চক্র ভাঙতে হবে। কেননা তৃতীয় লিঙ্গের অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

 

টিকাদানে অনীহায় ফরিদপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৪ রোগী, মৃত্যু ১০

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
টিকাদানে অনীহায় ফরিদপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৪ রোগী, মৃত্যু ১০

ফরিদপুর জেলায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন এ ভাইরাসজনিত রোগে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৫১ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার (১৩ মে) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় মোট হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৯ জনে। একই সময়ে হামজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন।

উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফরিদপুর সদর উপজেলায়। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫৯ জন। এছাড়া সালথায় ২২ জন, সদরপুরে ১৪ জন, বোয়ালমারীতে ১৪ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, চরভদ্রাসনে ৬ জন, মধুখালীতে ৩ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক অভিভাবক এখনও শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে উদাসীন থাকায় হাম সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রমে অনীহা ও সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৬৯ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৫ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতালে মোট ৫১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪ জন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা করলে কি গোনাহ হয়?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা করলে কি গোনাহ হয়?

মানুষ আল্লাহর তৈরি সবচেয়ে সম্মানিত সৃষ্টির নাম। কিন্তু এই মানুষই মাঝে মাঝে নিজের অন্তরে এমন সব চিন্তা লালন করেন, যা পাপের দিকে ধাবিত করে। আমরা অনেক সময় দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই, কারণ শয়তান মানুষের অন্তরে নানা ধরনের কু-চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়।

নামাজের মধ্যে হোক বা নিরিবিলি সময়ে, কখনো এমন ভাবনা আসে যা নিজের কাছেই লজ্জাজনক মনে হয়। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, শুধু মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা এলেই কি গোনাহ হয়ে যায়? আল্লাহ কি এর জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন?

চলুন তাহলে শরিয়তের ভাষ্য জেনে নিই—

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, মনে মনে খারাপ চিন্তা করলে গোনাহ হবে কি না— এমন প্রশ্নের ক্ষেত্রে দেখতে হবে এই চিন্তার ধরন কীরকম। কারণ মনে মনে খারাপ চিন্তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথমতো, কেউ যদি চিন্তা করে যে, আমি ওমুক খারাপ কাজটি করব, ওমুক খারাপ বন্ধুর সঙ্গে যাব, মদপান করব অথবা ওমুককে আঘাত করব, কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহর ভয়ে যদি সেই কল্পনাটি বাস্তবায়ন না করে, তবে এই ফিরে আসার জন্য আল্লাহ তার আমলনামায় সওয়াব যুক্ত করে দেবেন। কোনো গোনাহ হবে না।

দ্বিতীয়ত, কেউ যদি মনে মনে কারও সম্পর্কে খারাপ চিন্তা করে (চরিত্র হনন), কোনো নারীকে নিয়ে বাজে কল্পনা-জল্পনা করে, তাহলে তার আমলনামায় গোনাহ লেখা হবে। কারণ, সে মনের জেনা করেছে এবং অন্যের চরিত্র হনন করেছে।

হাদিসে কুদসিতে যা বলা হয়েছে

হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ ভালো ও মন্দ কাজ লিখে রাখেন। তারপর তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে ব্যক্তি ভালো কাজের জন্য দৃঢ় সংকল্প করে কিন্তু তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, আল্লাহ তার আমলনামায় একটি পূর্ণ নেকি দান করেন। আর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে আল্লাহ তার আমলনামায় দশ নেকি থেকে সাতশ বা তার চেয়েও বেশি নেকি দান করেন।

অন্যদিকে, যদি কারও মনে মন্দ কাজের বাসনা জাগে কিন্তু তা সে কাজে পরিণত না করে, আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি দান করেন। আর যদি সে তার বাসনা বাস্তবে পরিণত করে, তবে তার জন্য একটি মন্দ কাজ লিখেন। (বোখারি : ৬৪৯১, মুসলিম : ১৩১)

সূত্র : কালবেলা

শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

আজকের ব্যস্ততম জীবনে অনিয়মিত খাবার, ফাস্টফুড, তেল-চর্বি বেশি খাওয়া, ব্যায়ামের অভাব- সব মিলিয়ে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নীরব কিন্তু মারাত্মক একটি সমস্যা হলো উচ্চ কোলেস্টেরল।

এটি বাড়তে থাকলে ধমনীতে ধীরে ধীরে চর্বি জমতে থাকে। যে কারণে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়; কিন্তু আমরা টেরই পাই না। এতে করে একসময় হঠাৎ বুকে ব্যথা, স্ট্রোক কিংবা হার্ট অ্যাটাকের মতো ভয়াবহ বিপদ দেখা দেয়। তবে, এসব বিপদের আগেভাগেই আমাদের শরীর কিছু সংকেত দিয়ে সতর্ক করে দেয় যে, কোলেস্টেরল বাড়ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেসব সংকেতকে অনেক সময় সাধারণ ব্যথা বা ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ সময়মতো এসব লক্ষণ চিনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচা সম্ভব।

চলুন জেনে নিই, যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে—

পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনি

হাঁটার সময় বা বিশ্রামে থেকেও পায়ে ভারিভাব কিংবা হঠাৎ ক্র্যাম্প হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এটি ধমনির রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে, যা উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে ঘটে।

বুকে ব্যথা বা চাপ

ধমনিতে কোলেস্টেরল জমতে শুরু করলে অনেকের বুকের মাঝামাঝি অংশে চাপ, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হয়। এটি হৃদ্‌রোগ কিংবা হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাসও হতে পারে।

গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা

শরীরের উপরের অংশে অস্বাভাবিক ব্যথা বা শক্তভাবও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিতে পারে। রক্ত চলাচল কমে গেলে গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা হয়, যা অনেক সময় আমরা পেশির ব্যথা ভেবে উপেক্ষা করি।

হাত-পায়ে অসাড়তা ও ঝিনঝিনি

হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, অসাড়তা বা ঠান্ডা লাগার মতো অনুভূতি উচ্চ কোলেস্টেরলের লক্ষণ হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে পায়ে নীলচে ভাবও দেখা দেয়। সিঁড়ি উঠার সময় দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া বা ক্লান্ত হয়ে পড়াও একটি সতর্কবার্তা।

চোখের চারপাশে হলুদ দাগ

চোখের চারপাশে হলুদ বলয় বা হলদেটে স্তর তৈরি হওয়া শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের সরাসরি সংকেত। এটি বিপদসীমারও বেশি কোলেস্টেরল জমে যাওয়ার লক্ষণ।

করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র : এবিপি লাইভ