খুঁজুন
, ,

পদ্মা পেরিয়ে মানবতার ছোঁয়া: ফরিদপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে প্রথম আলো ট্রাস্টের কম্বল বিতরণ

পান্না বালা, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
পদ্মা পেরিয়ে মানবতার ছোঁয়া: ফরিদপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে প্রথম আলো ট্রাস্টের কম্বল বিতরণ

কম্বল বিতরণের এই যাত্রা ছিল ঘটনাবহুল ও বিপদসংকুল। ফরিদপুর থেকে সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল দিয়ারা নারকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে পৌঁছাতে সড়ক ও নৌপথ মিলিয়ে পাড়ি দিতে হয়েছে অন্তত ৫৭ কিলোমিটার পথ।

দুর্গম অবস্থানের কারণে এই চরাঞ্চলের মানুষের খবর মূল ভূখণ্ডের মানুষের কাছে খুব কমই পৌঁছে। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রথম আলো ট্রাস্টের শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য এই প্রত্যন্ত এলাকাকেই বেছে নেয় প্রথম আলো ফরিদপুর বন্ধুসভা।

কাকডাকা ভোরে শুরু হয় যাত্রা। দিনটি ছিল চলতি শীত মৌসুমে ফরিদপুরের সবচেয়ে শীতল দিন—তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে বন্ধুসভার সদস্যরা প্রথমে ফরিদপুর শহরের কাপুড়িপট্টি এলাকা থেকে কম্বল সংগ্রহ করেন। এরপর লেগুনাযোগে সদরপুর উপজেলার শয়তানখালী ঘাটে পৌঁছে পদ্মা নদী পাড়ি দিতে ট্রলারে ওঠেন।

দুই ঘণ্টার নৌযাত্রা শেষে তাঁরা পৌঁছান দিয়ারা নারকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নন্দলালপুর খেয়াঘাটে। সেখানে আগে থেকেই স্লিপ হাতে অপেক্ষায় ছিলেন শীতার্ত দুস্থ মানুষেরা।

কম্বল হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কথা বলেন নুরুদ্দিন সরদারেরকান্দি গ্রামের ৮৭ বছর বয়সী রাহেলা বিবি। তিনি বলেন,“নদীভাঙনের শিকার হইছি কয়েকবার। শীত নামলে জীবন থাইমা যায়। রাইতে ঘুম অয় না। পুরান কাপড় দিয়া আর কত ঢাকমু? আজ এই কম্বল পাইয়া মনে অইছে, রাইতে ঘুমটা একটু আরামে হবেনে।”

শুধু রাহেলা বিবিই নন, বুধবার (০৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে দিয়ারা নারকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মোট ২৩৫ জন হতদরিদ্র শিশু, নারী, পুরুষ ও বৃদ্ধের হাতে কম্বল তুলে দেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা।

কুদ্দুস মোল্লারকান্দি গ্রামের ৮৩ বছর বয়সী মুনছুরা খাতুন বলেন, “শীত আইলে হাঁটু ব্যথা করে, বুক ধইরা আসে। আগুন জ্বালাইয়াও ঠান্ডা যায় না। আজ কম্বলটা পাইয়া আল্লাহরে ডাক দিছি।”

শিকদারকান্দি গ্রামের হালিমা বেগম (৫৪) বলেন,
“এই চরে মানুষরে অনেকেই মানুষ মনে করে না। আপনারা আমাগো খোঁজ নিছেন—এইটা আমরা কোনোদিন ভুলমু না।”

দর্জিকান্দি গ্রামের ৮৯ বছর বয়সী আমেনা বিবি বলেন,
“কম্বল পাইয়া চোখে পানি আইছে। মনে হইছে আমরা এখনো একা না।”

খলিফাকান্দি গ্রামের মতলেব শেখ (৮১) বলেন,
“শীত আইলে বুড়া শরীর একদম নরম অইয়া যায়। এই কম্বলটা অনেক কাজে লাগবে।”

এছাড়াও সরকারকান্দি গ্রামের সোহেল ফরাজী (৪২) বলেন, “বাচ্চাগোর কষ্ট দেইখা বুক ফাইটে যায়। আজ কম্বল পাইয়া মনে হইতেছে এই শীতে একটু শান্তি পাইমু।”
উল্লেখ্য, নুরুদ্দিন সরদারেরকান্দি, কুদ্দুস মোল্লারকান্দি, শিকদারকান্দি, দর্জিকান্দি, খলিফাকান্দি, সরকারকান্দিসহ ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি, দাফাকান্দি, মাদবরকান্দি, নন্দলালপুর, আদু মোল্লারডাঙ্গীসহ মোট ১৪টি গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিয়ারা নারকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন,
“আমার ইউনিয়নটি ফরিদপুরের অন্যতম দুর্গম এলাকা। সরকারি কম্বলে এখানকার চাহিদা পূরণ হয় না। প্রথম আলো ট্রাস্ট এখানে এসে প্রকৃত অভাবীদের পাশে দাঁড়িয়েছে—এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন প্রথম আলো ফরিদপুর বন্ধুসভার সভাপতি জহির হোসেন, সহ-সভাপতি মানিক কুণ্ডু, সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, অর্থ সম্পাদক শুভ বিশ্বাস, ক্রীড়া সম্পাদক শ্যামল মণ্ডল এবং পাঠাগার ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক প্রান্ত ঘোষ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো ফরিদপুরের আলোকচিত্রী আলিমুজ্জামান।

সহযোগিতা করেন সদরপুরের স্বেচ্ছাসেবী মিজানুল রহমান এবং দিয়ারা নারকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের দফাদার আবুল হুসাইন।

এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি প্রথম আলো বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল ও ক্রীড়া সম্পাদক শ্যামল মণ্ডল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দুস্থ ও শীতার্ত মানুষদের শনাক্ত করে কম্বলের স্লিপ বিতরণ করেন।

সদরপুরে সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদাবাজি, এড়াতে গিয়ে প্রাণ গেল ১০ মাসের শিশুর

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদাবাজি, এড়াতে গিয়ে প্রাণ গেল ১০ মাসের শিশুর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহনের কাছ থেকে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক উল্টে ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা হাতির মাহুতকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার আটরশি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আরিশা জান্নাত পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের গুলবন্দি গ্রামের সজিব মোল্যার মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবার জানায়, আরিশা জান্নাতকে চিকিৎসকের কাছে দেখানোর জন্য তার মা ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইকে করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন। পথে আটরশি এলাকায় বকুল মিয়া (২৪) নামে এক মাহুত হাতি নিয়ে সড়কে বিভিন্ন যানবাহনের কাছ থেকে চাঁদা তুলছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইজিবাইকটি হাতির সামনে পৌঁছালে চালক চাঁদা এড়াতে সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হাতিটি হঠাৎ ঘুরে রাস্তার দিকে চলে এলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং ইজিবাইকটি উল্টে যায়। এতে মায়ের কোলে থাকা শিশু আরিশা গাড়ির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাহুতকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, আটক মাহুত বকুল মিয়া (২৪) জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারের চর গ্রামের আনিসউদ্দিনের ছেলে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, ঘটনার পর মাহুতকে আটক করা হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক হাতিটিকে বন বিভাগে হস্তান্তর করার প্রস্তুতি চলছে।

সালথায় হত্যা মামলার আতঙ্ক, পুরুষশূন্য গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
সালথায় হত্যা মামলার আতঙ্ক, পুরুষশূন্য গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর হামলা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা গ্রামে পাট কাটাকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনতাই এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সালথা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোসা. তানিয়া বেগম (২৬)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দায়ের করা অভিযোগে তানিয়া বেগম উল্লেখ করেন, তার স্বামী ইতালিতে প্রবাসী এবং প্রায় এক বছর আগে শ্বশুর মারা যাওয়ার পর তিনি শাশুড়ি ও সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করছেন। তাদের বাড়ির পাশেই অভিযুক্তদের বসবাস।

অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি এলাকায় একটি হত্যা মামলার পর গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেক পুরুষ এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় নিজেদের জমির পাট কাটতে অন্য এলাকা থেকে শ্রমিক নিয়ে আসেন তারা। কিন্তু অভিযুক্তরা শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পাট কাটতে বাধা দেয়। পরে একই দিন সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্তরা তাদের বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ শুরু করে। এতে প্রতিবাদ করলে তানিয়া বেগমকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত রুপা বেগম তার গলায় থাকা প্রায় ১০ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় তার ডাক-চিৎকার শুনে শাশুড়ি রেনু বেগম, মা রেবেকা বেগম ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা রাতে এসে হত্যা করার হুমকি দিয়ে চলে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে— ওবায়দুর ফকির, ইয়াছিন ফকির, ইব্রাহিম সরদার, রুপা বেগম ও মিজানুর ফকিরকে।

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতাকে হত্যার দায়ে তিনজনের মৃত্যুদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতাকে হত্যার দায়ে তিনজনের মৃত্যুদন্ড

ফরিদপুরে ফয়সাল শেখ (২২) নামে এক সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনার প্রায় ১৪ বছর পর মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান এ রায় দেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার বাসিন্দা আইয়ুব আলী সরদারের ছেলে চাঁন সরদার (৪২) ও তাবু সরদার (৩৫), এবং জিয়াউল হক আকন্দের ছেলে বাবুল আকন্দ (৩৬)।

রায় ঘোষণার সময় বাবুল আকন্দ উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে পুলিশ পাহাড়ায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি পলাতক দুই ভাই চাঁন ও তারার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালত সুত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনে ফয়সাল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত ফয়সাল ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত আকু শেখের ছেলে। এ ঘটনার পরেরদিন ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় চাঁন সরদার, তারা সরদারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের মা ফিরোজা বেগম ৷

মামলার এজহারে তিনি উল্লেখ করেন, ফয়সাল শহরের হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারের আলীমুজ্জামান বেইলী সেতু সংলগ্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা ছিলেন। এছাড়া আসামী চান সরদার আড়তে লেবারের কাজ করতেন। ঘটনার আগে তাঁর ছেলে ফয়সালের সাথে আসামী চান সরদারের মনোমালিন্যের জেরে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ঘটনার দিন দুপুরে ফয়সাল শেখ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এলাকায় পৌঁছালে তাকে কৌশলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যায় চান সরদার। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা অন্য আসামীরা এলোপাতাড়িভাবে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালের নেওয়া হলে তাৎক্ষণিক ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়।

এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফরিদপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই চাঁন সরদার, তারা সরদার, বাবুল আকান্দ ও শাহিন সরদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
এ মামলার শুনানি চলাকালে শাহিন সরদার (২২) মারা যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও স্বাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে আদালতে হত্যাকান্ডটি সন্দেহতীতভাব প্রমাণিত হয় এবং তিনজনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে৷ এ মামলার এজাহারভূক্ত একজন আসামী মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি দুজন পলাতক রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।