খুঁজুন
, ,

সবুজ বাইপাস সড়কটিতে এখন ময়লার ভাগাড়, বিপাকে সালথার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
সবুজ বাইপাস সড়কটিতে এখন ময়লার ভাগাড়, বিপাকে সালথার মানুষ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়কটি একসময় ছিল প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় ঘেরা একটি মনোরম পথ। সবুজ গাছপালা, খোলা বাতাস আর শান্ত পরিবেশের কারণে বিকেলবেলা হাঁটাহাঁটি কিংবা অবসর সময় কাটানোর জন্য এটি ছিল স্থানীয়দের প্রিয় স্থান।

কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই সৌন্দর্য হারিয়ে এখন সড়কটি পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। এতে একদিকে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে জমে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আবর্জনার স্তূপ। বাজারের পচা ফলমূল, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বর্জ্য, প্লাস্টিক ও নিষিদ্ধ পলিথিনসহ নানা ধরনের ময়লা ফেলা হচ্ছে এখানে। এসব বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা পথচারীদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই নাক-মুখ চেপে কিংবা মাস্ক ব্যবহার করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতের আঁধারে ভ্যানযোগে বাজারের ময়লা এনে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন ময়লার স্তূপ আরও বড় হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয় পথচারী শামিম হোসেন বলেন, “এই সড়কটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই পথ ব্যবহার করে। আগে এটি ছিল খুবই সুন্দর, কিন্তু এখন দুর্গন্ধে চলাচল করাই কঠিন হয়ে গেছে।”

আরেক পথচারী সোহেল মোল্যা বলেন, “একসময় এই রাস্তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে আকর্ষণ করত। এখন সেখানে শুধু ময়লার স্তূপ। দাঁড়িয়ে থাকাও যায় না। বাধ্য হয়ে মাস্ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।”

বাজারের ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, “এভাবে ময়লা ফেলার কারণে আমাদের ব্যবসা ও চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সরোয়ার হোসেন বাচ্চু জানান, পূর্বে প্রশাসনের নির্দেশনায় এখানে ময়লা ফেলা হলেও পরে তা বন্ধ করে নদীর পাশে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার কথা বলা হয়। বর্তমানে যদি কেউ নিয়ম ভেঙে এখানে ময়লা ফেলে, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “সালথা সদর বাজারের ময়লা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই একটি নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কটি পরিষ্কার করে নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরে জোড়া খুন: তথ্যপ্রযুক্তির জালে ধরা পড়ল আসামি মারুফ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জোড়া খুন: তথ্যপ্রযুক্তির জালে ধরা পড়ল আসামি মারুফ

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বহুল আলোচিত চা-দোকানি রবিউল শেখ ওরফে পাইচো হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১৫ নম্বর আসামি মারুফ শেখকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

​রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে ফরিদপুরের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে শনিবার গভীর রাতে যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​গ্রেপ্তার মারুফ শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের মৃত জান্নাত শেখের ছেলে।

​মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে রবিউল শেখের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

​নিহত রবিউল শেখ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে চা বিক্রি করতেন। ঘটনার রাতে দোকান বন্ধ করে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে হোসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রবিউল। হামলায় তার সঙ্গে থাকা আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।

​হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর নিহতের ভাতিজা নাজমুল শেখ বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন।

​স্থানীয়রা জানান, বড়ভাগ গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের জের ধরে গত ২৬ জুন সুমন শেখ (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত রবিউল শেখ ছিলেন সুমন শেখের চাচা। সুমন হত্যা মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে সাত সপ্তাহের জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার কিছুদিনের মধ্যেই রবিউলকে হত্যা করা হয়।

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিউল হত্যা মামলার ১৫ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফরিদপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও বলাৎকার বন্ধের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় ফরিদপুর পৌরসভার বেলতলায় জেলা খেলাঘর ও নবীন সাথী খেলাঘর আসরের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

​জেলা খেলাঘরের সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তারা দেশে ক্রমাগত নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

​বক্তারা বলেন, শিশু ও নারীদের ওপর একের পর এক বর্বর হামলা ও নির্যাতন সমাজের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে এসব অপরাধ বন্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

​মানববন্ধনে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে কালীবাড়ি মন্দিরের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কালীবাড়ি মন্দিরের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দির থেকে চুরি হওয়া বহুমূল্য কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার ও বিভিন্ন পিতলের প্রতিমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ছয় দিনের মাথায় মূল মূর্তিসহ অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

​রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

​গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার বুরাইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তার মা সাজেদা বেগম (৬৫), বোয়ালমারীর কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং বোয়ালমারী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান।

​মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে পূজা শেষে মন্দির তালাবদ্ধ করে চলে যান সেবায়েত ও মন্দির কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে মন্দিরে গিয়ে তিনি দেখতে পান তালা কেটে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ৩০ ভরি রৌপ্যালংকার ও পিতলের একাধিক প্রতিমা চুরি হয়ে গেছে। এজাহার অনুযায়ী চুরি হওয়া ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের মূর্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

​মামলার পর পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীর নির্দেশনায় কোতোয়ালি থানা, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের সমন্বয়ে গঠিত দল অনুসন্ধানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে।

​গ্রেফতার সাজেদা বেগমের দেওয়া তথ্যে তার বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা স্বর্ণ-রৌপ্যের গহনা ও ৬টি পিতলের মূর্তি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সাদ্দাম ও আল আমিনের দেওয়া তথ্যে বোয়ালমারী রুপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পিছনের মাটির তলদেশ থেকে উদ্ধার করা হয় কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি। এছাড়া স্থানীয় এক জুয়েলারি দোকান থেকে মূর্তি থেকে চুরিকৃত গলানো স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া সাদ্দামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টিরও বেশি এবং আল আমিনের বিরুদ্ধে ৮টির বেশি চুরি ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। মামলাটি প্রাথমিক অবস্থায় সূত্রহীন থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে স্বল্পতম সময়ে এই সফলতা পাওয়া গেছে বলে জানান পুলিশ সুপার।