শামার গাড়ি ভাঙা মামলার আসামি আ.লীগ নেতা আনোয়ার, শামার হাতেই ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান
ফরিদপুরের সালথায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদের গাড়ি ভাঙচুর মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন মিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি শামা ওবায়েদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন।
রবিবার (০৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে সালথা উপজেলার ভাওয়াল গ্রামে বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক প্রয়াত আতিয়ার রহমান কবির মিয়ার কবর জিয়ারত করেন শামা ওবায়েদ। কবর জিয়ারত শেষে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা চলাকালেই আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন মিয়া ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং অনুষ্ঠানে বক্তব্যও রাখেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মিয়া বলেন,
“আমি আজ থেকে বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদের দলে মিশে গেলাম। আগামীর দিনে আমি ধানের শীষের একজন সৈনিক হয়ে কাজ করবো।”
শামা ওবায়েদ কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। তিনি নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা। কে এম ওবায়দুর রহমান একসময় বিএনপির মহাসচিব ছিলেন।
অপরদিকে, আনোয়ার হোসেন মিয়া সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সালথায় বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় আসার সময় শামা ওবায়েদের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই মামলার ১২ নম্বর আসামি আনোয়ার হোসেন মিয়া। মামলার বিবাদীপক্ষের আইনজীবী ছানোয়ার হোসেন জানান, বর্তমানে আনোয়ার হোসেন আদালতের আদেশে জামিনে রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর, বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ বলেন, “আনোয়ার হোসেন মিয়া আমাদের নেত্রী শামা ওবায়েদের হাতে ফুল দিয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।”
সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার জানান,“তিনি প্রকাশ্য সভায় বক্তব্য দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।”
তবে বিএনপিতে যোগদানের আগে আনোয়ার হোসেন মিয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেননি বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। পদত্যাগ ছাড়াই একজন পদধারী আওয়ামী লীগ নেতার এমন প্রকাশ্য যোগদান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শওকত হোসেন মুকুল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন,“উনি সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। উনার ভাই ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আরেক ভাই জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও জজ কোর্টের এপিপি। সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ করলেও ওই পদ ব্যবহার করেই কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে। সেই পদটাও সঙ্গে নিয়েই পদত্যাগ না করে বিএনপিতে যোগ দিলেন—এতো বড় অকৃতজ্ঞতা কীভাবে সম্ভব?”
স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, শামা ওবায়েদের নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তায় অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন, যা ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ মহলে এই যোগদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলীয় পদে বহাল থেকেও অন্য দলে যোগ দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী কি না—তা নিয়েই চলছে আলোচনা।
এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই ও সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মিয়া বলেন, “আনোয়ার বিএনপিতে যোগ দিয়েছে—এটা শুনেছি। সে সাবালক, নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারে। তবে এখনো সে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র দেয়নি। হয়তো দুই-একদিনের মধ্যেই জানাবে।”

আপনার মতামত লিখুন
Array