খুঁজুন
, ,

ফ্রিজের বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমানোর ১২ উপায়

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ফ্রিজের বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমানোর ১২ উপায়

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, বরং গৃহস্থালির এক অপরিহার্য অঙ্গে পরিণত হয়েছে। তবে মাসের শেষে যখন বিদ্যুৎ বিলের কাগজটি হাতে আসে, তখন অনেকেরই কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার ঘরের কোন যন্ত্রটি নিঃশব্দে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে কাজ করে আপনার বিদ্যুৎ বিলের অংকটা বাড়িয়ে দিচ্ছে? উত্তরটি হলো আপনার প্রিয় ফ্রিজ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একটি সাধারণ পরিবারের মোট বিদ্যুৎ খরচের প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ ব্যয় হয় কেবল ফ্রিজের পেছনে। যেহেতু এটি বছরের ৩৬৫ দিনই চালু থাকে, তাই এর সামান্যতম অদক্ষতাও আপনার পকেটের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দুশ্চিন্তার কারণ নেই; সামান্য কিছু সচেতনতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন আনলে ফ্রিজের এই বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে কেবল আপনার মাস শেষের খরচই কমবে না, বরং পরিবেশ রক্ষায় এবং ফ্রিজের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতেও আপনি অবদান রাখতে পারবেন।

আপনার ফ্রিজকে আরও সাশ্রয়ী ও কার্যকর করে তুলতে নিচের ১২টি অব্যর্থ উপায় মেনে চলতে পারেন:

১. সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ: ফ্রিজের তাপমাত্রা সঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ অংশের জন্য ৩°সে থেকে ৫°সে এবং ফ্রিজারের জন্য -১৮°সে তাপমাত্রা আদর্শ। এর চেয়ে বেশি ঠান্ডা করলে কম্প্রেশারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং বিদ্যুৎ অপচয় হয়।

২. পরিমিত খাবার রাখা: ফ্রিজ একেবারে খালি না রেখে মাঝারি অবস্থায় পূর্ণ রাখা ভালো, কারণ ভেতরে থাকা খাবার ঠান্ডা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত খাবার বোঝাই করবেন না, কারণ এতে বাতাস চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সিস্টেমকে বেশি কাজ করতে হয়।

৩. নিয়মিত ডিফ্রস্ট করা: ফ্রিজে বরফের স্তর যদি ০.৬ সেন্টিমিটার (প্রায় ১/৪ ইঞ্চি) এর বেশি হয়ে যায়, তবে তা ইনসুলেশন হিসেবে কাজ করে এবং কম্প্রেশারকে দীর্ঘক্ষণ চালাতে বাধ্য করে। তাই প্রতি ৬ মাস অন্তর বা বরফ জমলে নিয়মিত ডিফ্রস্ট করুন।

৪. দরজার সিল বা গ্যাসকেট পরীক্ষা: ফ্রিজের দরজার রাবার বা সিল নষ্ট হয়ে গেলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায়। একটি কাগজের টুকরো দরজায় আটকে পরীক্ষা করে দেখুন; যদি কাগজটি সহজে টেনে বের করা যায়, তবে বুঝতে হবে সিলটি পাল্টানো প্রয়োজন।

৫. বারবার দরজা খোলা বন্ধ না করা: যতবার ফ্রিজের দরজা খোলা হয়, ততবার ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢোকে। এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে একসাথে প্রয়োজনীয় জিনিস বের করে নিন।

৬. সঠিক স্থানে ফ্রিজ স্থাপন: ফ্রিজ কখনোই ওভেন, চুলা বা সরাসরি রোদ পড়ে এমন জানালার পাশে রাখা উচিত নয়। বাইরের তাপ ফ্রিজকে ঠান্ডা রাখতে বাধা দেয়, ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। এছাড়া ফ্রিজের চারপাশে বাতাস চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন।

৭. ভারী কভার ব্যবহার এড়িয়ে চলা: ফ্রিজের ওপর বা চারপাশে ভারী কভার ব্যবহার করলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং তাপ আটকে যায়। এর ফলে কম্প্রেশারকে দীর্ঘ সময় চলতে হয়। প্রয়োজনে বাতাস চলাচলে সহায়ক হালকা কভার ব্যবহার করতে পারেন।

৮. অপ্রয়োজনীয় ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সরানো: ফ্রিজে অতিরিক্ত বা মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার জমিয়ে রাখবেন না। নিয়মিত পরিষ্কার করলে ফ্রিজের ভেতরে বাতাস চলাচল (Airflow) উন্নত হয় এবং এটি আরও কার্যকরভাবে কাজ করে।

৯. খাবার ঢেকে রাখা: খাবার সবসময় এয়ারটাইট পাত্রে বা ভালোভাবে মুড়িয়ে রাখুন। খোলা খাবার থেকে আর্দ্রতা নির্গত হয়ে ফ্রিজের ভেতরে আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয়, যা কম্প্রেশারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

১০. গরম খাবার সরাসরি না রাখা: রান্না করা খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না। গরম খাবার ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ঠান্ডা করতে কম্প্রেশারকে অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ করতে হয়। খাবার ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার পর ফ্রিজে রাখুন।

১১. কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার রাখা: ফ্রিজের পেছনের বা নিচের কনডেন্সার কয়েলে ধুলোবালি জমলে তা তাপ নিঃসরণে বাধা দেয়। এতে কম্প্রেশারকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখতে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। তাই নিয়মিত এই কয়েলগুলো পরিষ্কার রাখা জরুরি।

১২. আধুনিক ও স্মার্ট প্রযুক্তির ফ্রিজ ব্যবহার: আপনার ফ্রিজটি যদি অনেক পুরনো হয়, তবে সেটি অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নাও হতে পারে। বর্তমানের ইনভার্টার প্রযুক্তি বা স্মার্ট সেন্সরযুক্ত ফ্রিজগুলো ব্যবহারের ধরণ বুঝে শীতলীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, যা বিদ্যুৎ বিল অনেক কমিয়ে আনে।

মনে রাখবেন, আপনার ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় এবং ফ্রিজের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র: ইলেক্ট্রোলাক্স ইন্ডিয়া

ফরিদপুরের সদরপুরে কালেমা খচিত পতাকার মিছিল

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে কালেমা খচিত পতাকার মিছিল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় কালেমা খচিত সাদা পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইসলামী চেতনা আরও উজ্জীবিত হবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে সদরপুর সর্বস্তরের মুসলিম জনতার ব্যানারে উপজেলা সদরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি সদর বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে বিভিন্ন বয়সী প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। তাদের হাতে কালেমা খচিত সাদা পতাকা ও বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়।

সভায় উপজেলা পরিষদের পেশ ইমাম মাওলানা আমির হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় কালিমার পতাকা অবমাননা হয়েছে। কোন ভাবেই এ পতাকার অবমাননা বরদাস্ত করা হবে না।

কর্মসূচির আয়োজক মুফতি মোহাম্মদ জাকির হুসাইন ফরিদী বলেন, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। মানুষের মধ্যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কালেমার গুরুত্ব তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আরও উজ্জীবিত করবে।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি, ফরিদপুরে ব্যবসায়ীর দুই হাত কুপিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
টাকা দিতে অস্বীকৃতি, ফরিদপুরে ব্যবসায়ীর দুই হাত কুপিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোড়কদী এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে নগদ ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করে মধুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

শুক্রবার (০৩ জুলাই) বিকেলে আহত ব্যবসায়ী রনি শেখের বাবা খালেক শেখ বাদী হয়ে মধুখালী থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কোড়কদী গ্রামের বাসিন্দা রনি শেখ (৩০) স্থানীয় কোড়কদী বাজারে বিকাশ, নগদ, ফ্লেক্সিলোড ও কসমেটিকসের ব্যবসা করেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কোড়কদী এলাকার ভেজাল মণ্ডল ও গোসাই চন্দ্র সরকারের বাড়ির মাঝামাঝি সরকারি পাকা সড়কে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা প্রথমে রনির কাছে থাকা টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ডান ও বাম হাতের ওপর এলোপাতাড়ি কোপ দেওয়া হয়। পরে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

একপর্যায়ে রনি শেখ মাটিতে লুটিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে তার সঙ্গে থাকা ব্যবসার নগদ ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আকাশ বিশ্বাস (২৫), পিতা- মৃত নিপেন্দ্র বিশ্বাস, সাং- কোড়কদী মাঝিপাড়া এবং জিহাদ শেখ (২৭), পিতা- আক্কাচ শেখ, সাং- কোড়কদী বাবুপাড়াকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছুক্ষণ পর ওই সড়ক দিয়ে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বাসিন্দা মিলন বিশ্বাস আহত রনি শেখকে রাস্তার পাশে ঘাসের মধ্যে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রনি শেখকে উদ্ধার করে দ্রুত মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হলে রনি শেখ তার ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনার বিস্তারিত পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে এলাকাবাসী ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শুক্রবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানান বাদী।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ফরিদপুরে চাকরির শেষ লগ্নে কলেজ অধ্যক্ষের মানবেতর জীবন, রাষ্ট্রের কাছে চাইলেন ন্যায়বিচার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চাকরির শেষ লগ্নে কলেজ অধ্যক্ষের মানবেতর জীবন, রাষ্ট্রের কাছে চাইলেন ন্যায়বিচার

চাকরি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম আর্থিক সংকট, মানসিক যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানোর অভিযোগ তুলে নিজের প্রতি সংঘটিত অন্যায়-অবিচারের প্রতিকার এবং স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর সদরের কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে বোয়ালমারী বাজারের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাব, শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাকে অন্যায়ভাবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ ফরিদ আহমেদ বলেন, জীবনের চার দশকেরও বেশি সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পর আজ চাকরির মাত্র দুই মাস বাকি থাকতে তাকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বৃদ্ধ মায়ের ওষুধ, অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা, নিজের চিকিৎসা ব্যয়, মেডিকেলে অধ্যয়নরত মেয়ের লেখাপড়ার খরচ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যাওয়া ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কলেজের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর উস্কানিতে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি ও শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি জানায়। পরবর্তীতে গত ২৮ নভেম্বর কলেজ পরিচালনা পর্ষদ কতিপয় শিক্ষক-কর্মচারী ও বহিরাগতদের চাপের মুখে প্রচলিত বিধি অনুসরণ না করেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

তার দাবি, সাময়িক বরখাস্তের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি এবং বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কেও যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ফরিদ আহমেদ বলেন, বরখাস্তের পর তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি তার ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়। ফলে নিয়মিত আয় তো বন্ধ হয়েছেই, নিজের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত অর্থও ব্যবহার করতে পারেননি। এতে পরিবার নিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

তিনি আরও জানান, নিরুপায় হয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালতের আদেশে তিনি চাকরি ও বেতন-ভাতার অধিকার ফিরে পান। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কলেজের একটি প্রভাবশালী পক্ষ এবং পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য তাকে এখনও দায়িত্ব গ্রহণ করতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে অধ্যক্ষের সরকারি বাসভবন ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার বাসায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন। এসব ঘটনার জন্য তিনি কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. হোসনেয়ারা বেগম, প্রভাষক সৈয়দা দিল আশরাফি, প্রভাষক জাহেদা বেগম, সহকারী অধ্যাপক মো. আজহার আলী, সহকারী অধ্যাপক আ. মান্নান, সেকশন অফিসার কামরুল ইসলাম এবং অফিস সহায়ক মো. মানিক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সেখানে অংশ নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অধ্যক্ষ ফরিদ আহমেদ বলেন, “আমি এখন জীবনের শেষ কর্মপর্বে। চাকরির বয়স আর মাত্র দুই মাস বাকি। এই সময়ের মধ্যে যদি দায়িত্বে ফিরতে না পারি, তাহলে আমার অবসরজনিত সব প্রাপ্য, পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং শেষ বয়সের নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যাবে। আমার বৃদ্ধ মা, অসুস্থ স্ত্রী ও সন্তানদের কথা ভেবে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার এবং স্বপদে পুনর্বহালের আবেদন জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষবিরোধী মানববন্ধনে অংশগ্রহণের জন্য কিছু শিক্ষার্থীর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রশাসনিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের দাবি, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে আইন ও বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এতে যেমন অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হবে, তেমনি প্রতিষ্ঠানটিতে স্থিতিশীল পরিবেশও ফিরে আসবে।