খুঁজুন
, ,

ফ্রিজের বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমানোর ১২ উপায়

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ফ্রিজের বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমানোর ১২ উপায়

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, বরং গৃহস্থালির এক অপরিহার্য অঙ্গে পরিণত হয়েছে। তবে মাসের শেষে যখন বিদ্যুৎ বিলের কাগজটি হাতে আসে, তখন অনেকেরই কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার ঘরের কোন যন্ত্রটি নিঃশব্দে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে কাজ করে আপনার বিদ্যুৎ বিলের অংকটা বাড়িয়ে দিচ্ছে? উত্তরটি হলো আপনার প্রিয় ফ্রিজ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একটি সাধারণ পরিবারের মোট বিদ্যুৎ খরচের প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ ব্যয় হয় কেবল ফ্রিজের পেছনে। যেহেতু এটি বছরের ৩৬৫ দিনই চালু থাকে, তাই এর সামান্যতম অদক্ষতাও আপনার পকেটের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দুশ্চিন্তার কারণ নেই; সামান্য কিছু সচেতনতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন আনলে ফ্রিজের এই বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে কেবল আপনার মাস শেষের খরচই কমবে না, বরং পরিবেশ রক্ষায় এবং ফ্রিজের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতেও আপনি অবদান রাখতে পারবেন।

আপনার ফ্রিজকে আরও সাশ্রয়ী ও কার্যকর করে তুলতে নিচের ১২টি অব্যর্থ উপায় মেনে চলতে পারেন:

১. সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ: ফ্রিজের তাপমাত্রা সঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ অংশের জন্য ৩°সে থেকে ৫°সে এবং ফ্রিজারের জন্য -১৮°সে তাপমাত্রা আদর্শ। এর চেয়ে বেশি ঠান্ডা করলে কম্প্রেশারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং বিদ্যুৎ অপচয় হয়।

২. পরিমিত খাবার রাখা: ফ্রিজ একেবারে খালি না রেখে মাঝারি অবস্থায় পূর্ণ রাখা ভালো, কারণ ভেতরে থাকা খাবার ঠান্ডা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত খাবার বোঝাই করবেন না, কারণ এতে বাতাস চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সিস্টেমকে বেশি কাজ করতে হয়।

৩. নিয়মিত ডিফ্রস্ট করা: ফ্রিজে বরফের স্তর যদি ০.৬ সেন্টিমিটার (প্রায় ১/৪ ইঞ্চি) এর বেশি হয়ে যায়, তবে তা ইনসুলেশন হিসেবে কাজ করে এবং কম্প্রেশারকে দীর্ঘক্ষণ চালাতে বাধ্য করে। তাই প্রতি ৬ মাস অন্তর বা বরফ জমলে নিয়মিত ডিফ্রস্ট করুন।

৪. দরজার সিল বা গ্যাসকেট পরীক্ষা: ফ্রিজের দরজার রাবার বা সিল নষ্ট হয়ে গেলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায়। একটি কাগজের টুকরো দরজায় আটকে পরীক্ষা করে দেখুন; যদি কাগজটি সহজে টেনে বের করা যায়, তবে বুঝতে হবে সিলটি পাল্টানো প্রয়োজন।

৫. বারবার দরজা খোলা বন্ধ না করা: যতবার ফ্রিজের দরজা খোলা হয়, ততবার ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢোকে। এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে একসাথে প্রয়োজনীয় জিনিস বের করে নিন।

৬. সঠিক স্থানে ফ্রিজ স্থাপন: ফ্রিজ কখনোই ওভেন, চুলা বা সরাসরি রোদ পড়ে এমন জানালার পাশে রাখা উচিত নয়। বাইরের তাপ ফ্রিজকে ঠান্ডা রাখতে বাধা দেয়, ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। এছাড়া ফ্রিজের চারপাশে বাতাস চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন।

৭. ভারী কভার ব্যবহার এড়িয়ে চলা: ফ্রিজের ওপর বা চারপাশে ভারী কভার ব্যবহার করলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং তাপ আটকে যায়। এর ফলে কম্প্রেশারকে দীর্ঘ সময় চলতে হয়। প্রয়োজনে বাতাস চলাচলে সহায়ক হালকা কভার ব্যবহার করতে পারেন।

৮. অপ্রয়োজনীয় ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সরানো: ফ্রিজে অতিরিক্ত বা মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার জমিয়ে রাখবেন না। নিয়মিত পরিষ্কার করলে ফ্রিজের ভেতরে বাতাস চলাচল (Airflow) উন্নত হয় এবং এটি আরও কার্যকরভাবে কাজ করে।

৯. খাবার ঢেকে রাখা: খাবার সবসময় এয়ারটাইট পাত্রে বা ভালোভাবে মুড়িয়ে রাখুন। খোলা খাবার থেকে আর্দ্রতা নির্গত হয়ে ফ্রিজের ভেতরে আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয়, যা কম্প্রেশারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

১০. গরম খাবার সরাসরি না রাখা: রান্না করা খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না। গরম খাবার ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ঠান্ডা করতে কম্প্রেশারকে অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ করতে হয়। খাবার ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার পর ফ্রিজে রাখুন।

১১. কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার রাখা: ফ্রিজের পেছনের বা নিচের কনডেন্সার কয়েলে ধুলোবালি জমলে তা তাপ নিঃসরণে বাধা দেয়। এতে কম্প্রেশারকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখতে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। তাই নিয়মিত এই কয়েলগুলো পরিষ্কার রাখা জরুরি।

১২. আধুনিক ও স্মার্ট প্রযুক্তির ফ্রিজ ব্যবহার: আপনার ফ্রিজটি যদি অনেক পুরনো হয়, তবে সেটি অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নাও হতে পারে। বর্তমানের ইনভার্টার প্রযুক্তি বা স্মার্ট সেন্সরযুক্ত ফ্রিজগুলো ব্যবহারের ধরণ বুঝে শীতলীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, যা বিদ্যুৎ বিল অনেক কমিয়ে আনে।

মনে রাখবেন, আপনার ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় এবং ফ্রিজের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র: ইলেক্ট্রোলাক্স ইন্ডিয়া

বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২০

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে যাত্রীবাহী বাস ও ইটবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর বাসটি খাদে উল্টে যায় এবং ট্রাকের ধাক্কায় পল্লী বিদ্যুতের তিনটি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

​সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাঝকান্দি-বোয়ালমারী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয়রা জানান, ফরিদপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের (ফরিদপুর-ব-১১০৫২) সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ইটবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি উল্টে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। অন্যদিকে, বেপরোয়া গতির ট্রাকটি বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের গেটসংলগ্ন খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনটি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

​ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালক-হেলপারসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। দুর্ঘটনায় সাময়িকভাবে ওই সড়কে যান চলাচল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

​বোয়ালমারী পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম উৎপল মণ্ডল জানান, দুর্ঘটনায় তিনটি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

​বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কোবায়েদ হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি থানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে শিশু ধর্ষণচেষ্টায় বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশু ধর্ষণচেষ্টায় বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের মধুখালীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় জামাল মোল্লা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (১৭ আগস্ট) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কড়া পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত জামাল মোল্লা মধুখালী উপজেলার মাবকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি রাজবাড়ী সদর থানার বানিয়াবহু হুগলাডাঙ্গী গ্রামে।

​মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ৩ মে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শিশুটি দর্জির বাড়ি থেকে জামা আনতে গিয়ে তা না পেয়ে আসামির বাড়ির উঠানে তার নাতনিসহ অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় জামাল মোল্লা শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

​একপর্যায়ে শিশুটি কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সিঁড়ির ওপর পড়ে চিৎকার করতে থাকে। আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর আসামি জামাল মোল্লা এলাকা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

​আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানির পর আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই দণ্ডাদেশ দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সঠিক রায় দিয়েছেন। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমবে বলে আমরা আশা করি।”

সদরপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ফরিদপুরের সদরপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় ফারদিন (৭) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

​সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের কারীরহাট মধু মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকার পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত ফারদিন একই এলাকার বাচ্চু মাতুব্বরের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কারীরহাট মধু মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি চলন্ত ইজিবাইক ফারদিনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিনঃ সুমাইয়া পারভেজ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।