খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

বিজ্ঞানীদের বিস্ময়: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা যাচ্ছে চাঁদের দিকে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞানীদের বিস্ময়: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা যাচ্ছে চাঁদের দিকে

নতুন এক গবেষণায় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে ছিটকে যাওয়া কণা কোটি কোটি বছর ধরে মহাশূন্য পেরিয়ে চাঁদের ওপর গিয়ে জমা হচ্ছে। সূর্যের শক্তিশালী কণাপ্রবাহ বা সোলার উইন্ড এই কণাগুলোকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে এবং চাঁদের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে।

এই গবেষণা চাঁদ নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি রহস্যের নতুন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। অ্যাপোলো মিশনের সময় চাঁদ থেকে আনা মাটির নমুনায় পানি, কার্বন ডাইঅক্সাইড, হিলিয়াম ও নাইট্রোজেনের মতো নানা উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। এতদিন বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, এসব উপাদানের বড় একটি অংশ সূর্য থেকেই এসেছে।

তবে ২০০৫ সালে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ধারণা দেন, চাঁদের এসব উপাদানের কিছু অংশ প্রাচীন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকেও আসতে পারে। তখন পৃথিবীর নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়নি, ফলে বায়ুমণ্ডলের কণা সহজেই মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ত। ধারণা ছিল, প্রায় ৩৭০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার পর এই প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র কণার এই যাত্রা থামানোর বদলে বরং তা সহজ করেছে এবং এই প্রক্রিয়া আজও চলছে।

নিউইয়র্কের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এরিক ব্ল্যাকম্যান বলেন, পৃথিবী দীর্ঘ সময় ধরে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের মতো গ্যাস চাঁদের মাটিতে সরবরাহ করে আসছে। তার ভাষায়, পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে কেবল শুরুতে নয়, কোটি কোটি বছর ধরেই উপাদান আদান-প্রদান চলছে।

চাঁদের পৃষ্ঠে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের মতো উপাদানের উপস্থিতি ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে যদি চাঁদে স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে, তবে সেখানকার মানুষকে পৃথিবী থেকে সবকিছু নিয়ে যেতে হবে না। চাঁদের মাটি থেকেই পানি বিশ্লেষণ করে জ্বালানি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। নাইট্রোজেন ব্যবহার করে বিকল্প জ্বালানির ধারণাও গবেষণায় আলোচিত হয়েছে।

এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে দুটি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন। একটি ছিল প্রাচীন পৃথিবী, যেখানে সোলার উইন্ড ছিল শক্তিশালী এবং চৌম্বক ক্ষেত্র ছিল দুর্বল। অন্যটি বর্তমান পৃথিবীর মতো, যেখানে সোলার উইন্ড তুলনামূলক দুর্বল কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র শক্তিশালী। গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক পৃথিবীর পরিস্থিতিতেই সবচেয়ে বেশি বায়ুমণ্ডলীয় কণা চাঁদের দিকে যায়।

গবেষকরা অ্যাপোলো ১৪ ও ১৭ মিশনে আনা চাঁদের মাটির নমুনার তথ্যের সঙ্গে তাদের ফলাফল মিলিয়ে দেখেছেন। এতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, চাঁদের মাটিতে থাকা কিছু কণা সূর্য থেকে নয়, সরাসরি পৃথিবী থেকেই এসেছে।

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয় গ্রহটির তরল বাহ্যিক কেন্দ্রে গলিত লোহা ও নিকেলের চলাচলের ফলে। এই ক্ষেত্র মহাশূন্যে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে সূর্যের ক্ষতিকর কণাপ্রবাহ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে। একই সঙ্গে এটি এক ধরনের লেজের মতো গঠন তৈরি করে, যাকে ম্যাগনেটোটেইল বলা হয়।

পূর্ণিমার সময় চাঁদ কয়েকদিনের জন্য এই ম্যাগনেটোটেইলের ভেতর দিয়ে যায়। তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে ছিটকে যাওয়া কণা সরাসরি চাঁদের দিকে যাওয়ার সুযোগ পায়। চাঁদের নিজস্ব বায়ুমণ্ডল না থাকায় এসব কণা সেখানে গিয়ে সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

গবেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়া শুধু চাঁদ সম্পর্কে নয়, পৃথিবীর অতীত সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। চাঁদের মাটিতে জমে থাকা কণাগুলো পৃথিবীর প্রাচীন বায়ুমণ্ডলের এক ধরনের রাসায়নিক নথি হিসেবে কাজ করতে পারে। পৃথিবীতে জীবনের বিকাশের ইতিহাস বুঝতে এই তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান।

জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেনতারো তেরাদা বলেন, পৃথিবী ও চাঁদ শুধু ভৌতভাবে নয়, রাসায়নিকভাবেও একে অপরকে প্রভাবিত করেছে। তার মতে, এই গবেষণা পৃথিবীর ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে।

নতুন এই গবেষণা দেখাচ্ছে, পৃথিবী ও চাঁদের সম্পর্ক কেবল মহাজাগতিক দূরত্বের নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের এক গভীর উপাদান বিনিময়ের ইতিহাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা আজও চাঁদের মাটিতে গিয়ে জমা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে চাঁদে গবেষণা ও মানব বসতির সম্ভাবনাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে চাঁদের মাটি হয়ে উঠতে পারে পৃথিবীর প্রাচীন পরিবেশ ও জীবনের বিকাশ বোঝার এক অনন্য দলিল।

সূত্র : CNN

ফরিদপুরে আগুন নেভাতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আগুন নেভাতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার একটি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবুল মোল্লা (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আগুনে বাজারের অন্তত পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের যোগিবরাট ভেন্নাতলা বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভোররাতে বাজারের নুর মিয়ার মুদি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বাবুল মোল্লাও।

আগুন নেভানোর একপর্যায়ে একটি দোকানের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে বাবুল মোল্লা, আলামিন বিশ্বাস, নুর মিয়া শেখসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুল মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাজারের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নুর মিয়ার মুদি দোকান, সাহেব আলীর চায়ের দোকান, কেসমত আলীর সার ও কীটনাশকের দোকান, বাবর আলীর সাইকেল মেরামতের দোকান এবং জাকির মোল্লার কাপড়ের দোকান।

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে একজনের মৃত্যু এবং তিনজন আহত হন।”

তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সালথায় ৭ নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সালথায় ৭ নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন করে ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব বিদ্যালয়ের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংকটপূর্ণ এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক গ্রামের শিক্ষার্থীদের দূরবর্তী বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে হয়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। নতুন বিদ্যালয়গুলো স্থাপিত হলে এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার কাছেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন  বলেন, “সালথায় ৭টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, অতিশীঘ্রই বিদ্যালয়গুলো অনুমোদন পাবে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা সহজ হবে। একই সঙ্গে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবে এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার আরও বৃদ্ধি পাবে।

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই নতুন এসব বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, নতুন বিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হলে সালথার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং সরকারের ‘সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা’ নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।

এদিকে বিদ্যালয়গুলোর অনুমোদনের খবরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ ও আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

সাবেক মন্ত্রী ও সংবিধান রচয়িতা গৌর চন্দ্র বালার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সাবেক মন্ত্রী ও সংবিধান রচয়িতা গৌর চন্দ্র বালার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, যুক্তফ্রন্ট সরকারের সাবেক বন ও খাদ্যমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম রচয়িতা গৌর চন্দ্র বালার ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন)।

মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের উল্লাবাড়ী গ্রামে জন্ম নেওয়া এই বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলিস্থ তাঁর বাসভবন ‘বালা বাড়ি’-তে পারিবারিকভাবে গীতা পাঠ, পূজা-অর্চনা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

গৌর চন্দ্র বালা ২০০৫ সালের ১৮ জুন ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলিস্থ নিজ বাসভবনে ৭৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে যান। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী গৌর চন্দ্র বালা ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন সাহসী নেতা। ১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর জামানত বাজেয়াপ্ত করে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভায় বনমন্ত্রী এবং পরে খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন অগ্রণী ভূমিকার অধিকারী। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত আইয়ুব খানবিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তৎকালীন ফরিদপুর-৩ (বলিয়াকান্দি-কামারখালী) আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো বিনির্মাণেও তিনি অবদান রাখেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যতম ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।

রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও গণমানুষের নেতা হিসেবে গৌর চন্দ্র বালার অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ফরিদপুর-মাদারীপুর অঞ্চলের মানুষ। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবার, শুভানুধ্যায়ী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করেন।