খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য সেরা ২০ আন্তর্জাতিক গন্তব্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৫ পিএম
২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য সেরা ২০ আন্তর্জাতিক গন্তব্য

যেখানে নীল লেগুন ঘেরা পলিনেশিয়ার দ্বীপ থেকে শুরু করে চিলির ওয়াইন ক্ষেত্রের হার্ট অবভেন্যু—এই বছর জাগানো অভিজ্ঞতার জন্য বিশ্বের নানা প্রান্তের গন্তব্য।

ভ্রমণপ্রেমীরা সাধারণত দব্রোভনিকে পছন্দ করেন; কিন্তু দুনিয়ার অনেকে তাই করে। তবে ক্রোয়েশিয়ার কাছাকাছি মন্টেনেগ্রোও রয়েছে অসাধারণ সাগরতীর শহর, নতুন হাইকিং ট্রেইল এবং পাহাড়ি কমিউনিটিগুলোর সঙ্গে সংযোগ।

অন্যদিকে, বুয়েনাস আইরেসের থেকে জলপথ পেরিয়ে মন্টেভিডিওর সবুজ শহর, যেখানে বিশ্বের মানের টাঙ্গো, স্টেক এবং স্থাপত্য উপভোগ করা যায়। আর রোম হয়তো চিরন্তন, তবে আলজেরিয়ার প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ জনসমুদ্র ছাড়াই ঘুরে দেখার সুযোগ দেয়।

এই বছরের ভ্রমণ গাইডে আমরা এমন জায়গাগুলো তুলে ধরেছি, যেখানে অসাধারণ অভিজ্ঞতার সঙ্গে ট্যুরিজম স্থানীয় কমিউনিটি, পরিবেশ এবং সংস্কৃতির রক্ষায় সাহায্য করছে। তালিকা তৈরিতে আমরা বিশ্বস্ত সাংবাদিক, ট্যুরিজম বিশেষজ্ঞ এবং সাস্টেনেবল ট্র্যাভেলের নেতৃত্বদানকারী অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছি।

আবুধাবি
কেন যাবেন: নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও থিম পার্ক অভিজ্ঞতার জন্য

মরুভূমির বাতাসে এক উত্তেজনার ঢেউ। লুভর আবু ধাবি খোলার পর, শহরের সাদিয়াত কালচারাল জেলা ধাপে ধাপে নতুন রূপ নিচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল আর্ট মিউজিয়াম, টিমল্যাব ফেনোমেনা, এবং জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম দর্শকদের জন্য খুলেছে। এখানে আবু ধাবির ইতিহাস, ইসলামিক প্রভাব এবং দেশের প্রতিষ্ঠাতার ভিশন দেখতে পারবেন।

মিউজিয়ামের বাইরে, আবুধাবি থিম পার্কেও এগিয়ে যাচ্ছে। ইয়াস আইল্যান্ডে ওয়ানার ব্রোস ওয়ার্ল্ড এবং ইয়াস ওয়াটারওয়ার্ল্ডে নতুন রাইড ও বিনোদন যোগ হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম ডিজনিল্যান্ডও এখানে আসছে।

আলজেরিয়া
কেন যাবেন: রোমান ধ্বংসাবশেষ, মরুভূমি এবং সাংস্কৃতিক রক্ষণাবেক্ষণ

রোমান ধ্বংসাবশেষ, বিস্ময়কর মরুভূমি এবং ঐতিহাসিক শহরগুলোতে আলজেরিয়ার অনন্য সৌন্দর্য। দেশটি পর্যটন বৃদ্ধি করতে নতুন ভিসা নীতি এবং ফ্লাইট সংযোগ চালু করেছে। আলজিয়ার্সের সৈকত শহর, কনস্টান্টিনের ইউনেস্কো সাইট এবং টিমগাদ ও জেমিলা রোমান ধ্বংসাবশেষ সহজে ঘুরে দেখার সুযোগ। সাহারা মরুভূমির দ্যুতি আর জ্যানেট শহর থেকে মরুভূমি অভিযান শুরু করা যায়।

চিলি, কলচাগুয়া ভ্যালি
কেন যাবেন: ওয়াইন, কওয়বয় এবং তারামণ্ডল

সান্তিয়াগোর দুই ঘণ্টা দক্ষিণে, চিলির কলচাগুয়া ভ্যালি ওয়াইন, ঐতিহ্যবাহী হ্যাসিয়েন্ডা এবং পাহাড়ি হাইকিং-এর জন্য বিখ্যাত। এখানে অতিথিরা ওয়াইন চেখে দেখতে পারবেন, রাত কাটাতে পারবেন আঙ্গুর ক্ষেত্রের মাঝের আধুনিক ভিলায়। ছাড়াও, রোডিও, তারামণ্ডল পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় বাজার ও উপকণ্ঠের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করার সুযোগ রয়েছে।

কুক দ্বীপপুঞ্জ
কেন যাবেন: শান্ত ও স্বচ্ছ নীল লেগুনের প্যারাডাইস

রারোটোঙ্গা, বৃহত্তম দ্বীপ, দক্ষিণ প্রশান্তির স্বপ্নের মতো। এছাড়াও, ১৩টি ছোট দ্বীপে প্রায় স্বতন্ত্রভাবে ঘুরে দেখা যায়। নতুন পরিবেশগত উদ্যোগ এবং সংস্কৃতিক সংরক্ষণ কার্যক্রম ২০২৬ সালে আরও শক্তিশালী হবে।

কোস্টারিকা
কেন যাবেন: পৃথিবীর সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় বায়োস্ফিয়ার হটস্পট

রেইনফরেস্ট, সৈকত, প্যাসিফিক এবং বিপুল জীববৈচিত্র্য—সবই এক জায়গায়। ২০২৬ সালে স্থানীয় সংস্থা ও ন্যাশনাল পার্টনাররা সুরক্ষিত এলাকা বৃদ্ধি করবে এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

স্কটল্যান্ড, হেব্রাইডিস
কেন যাবেন: প্রাচীন স্মারক, হোয়াইট-স্যান্ড সৈকত এবং স্কটিশ আতিথেয়তা

লুইস, বারারা এবং আইলেই-এর দ্বীপগুলো প্রাচীন স্থাপত্য, নতুন হুইস্কি ডিস্টিলারি এবং শান্ত সৈকতের জন্য বিখ্যাত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন এই দ্বীপগুলোকে অনন্য করে তোলে।

জাপান, ইশিকাও
কেন যাবেন: ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও সাকের জন্য

নোটো উপদ্বীপে ২০২৪ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্নির্মাণের পথে। স্থানীয় হস্তশিল্প ও পরিবার-নির্বাহিত ইন্সে থাকার মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা কমিউনিটি ও সংস্কৃতি রক্ষায় সাহায্য করতে পারেন।

ইন্দোনেশিয়া, কমোডো দ্বীপপুঞ্জ
কেন যাবেন: প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী, প্রবাল রিফ এবং সংরক্ষণ

কমোডো ড্রাগন, মন্টা রে এবং প্রবাল উদ্যানের সঙ্গে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও ইকো-লজ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় কমিউনিটি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সাহায্য করা যায়।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গন্তব্য
লোরেতো, মেক্সিকো: বায়ু ও সমুদ্র সংরক্ষণ এবং পর্যটক অভিযানের জন্য।

মন্টেনেগ্রো: কোতার উপসাগর ও অপ্রদূষিত পাহাড়ি অঞ্চলে হাইকিং।

ওরেগন কোস্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: অসাধারণ সমুদ্র তীর এবং সাইক্লিং।

ওউলু, ফিনল্যান্ড: আর্কটিক সংস্কৃতি ও সৃজনশীল উদযাপন।

ফিলাডেলফিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ২৫০ বছর উদযাপন এবং খেলা।

ফ্নোম পেন, কম্বোডিয়া: নতুন বিমানবন্দর, টেকসই পর্যটন।

গুইমারায়েস, পর্তুগাল: ইউরোপীয় সবুজ রাজধানী ও ঐতিহাসিক শহর।

সামবুরু, কেনিয়া: বিরল বন্যপ্রাণী ও তারা পর্যবেক্ষণ।

সান্টো ডমিংগো, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র: উৎসব ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।

স্লোকান ভ্যালি, কানাডা: ইতিহাস-উদ্দেশ্যমূলক হাইকিং ট্রেইল।

উলুরু, অস্ট্রেলিয়া: প্রাচীন পবিত্র ভূমি এবং ন্যাচার ওয়ার্কশপ।

উরুগুয়ে: ফ্লামিংগো লেগুন, স্টেক এবং টেকসই পর্যটন।

২০২৬ সালে ভ্রমণ মানে শুধুই দেখার নয়—অভিজ্ঞতা, শিক্ষা এবং প্রভাব। এই গন্তব্যগুলো কেবল দর্শনের জন্য নয়, বরং স্থানীয় কমিউনিটি ও পরিবেশকে সমর্থন করার সুযোগ দেয়। চাই সেটা পাহাড়ে হাইকিং হোক বা সমুদ্রের নীল জলে শোভা, এই ভ্রমণগুলো মনে রাখার মতো এবং দায়িত্বশীল। পর্যটক হিসেবে আমাদের পদক্ষেপই এই বিশ্বের ভবিষ্যতকে সুন্দর করে তোলে।

সূত্র : BBC Travels

১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। এ বিষয়ে সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার (পশ্চিম) কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি তিনি বিধি অনুযায়ী সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। এ কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ডও দেওয়া হয়। পরে তিনি ফৌজদারী মামলা দুটির অভিযোগ থেকে আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে খালাস পান।

এছাড়া তার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করায় আরোপিত চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশটি বাতিল করা হয়। তাই কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলায় ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হলো এবং তিনি বিধি মোতাবেক সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

 

বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও লাবলু মিয়া, সালথা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম
বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি। নেই কোনো ঘর, নেই আধুনিক সেলুনের ঝাঁ চকচকে সাজসজ্জা। তবু এই পুকুরপাড়েই প্রতিদিনের মতো বসে মানুষের চুল-দাড়ি কাটেন ৮৭ বছর বয়সী অকিল শীল। হাতে পুরোনো কাঁচি আর ক্ষুর—এই সামান্য সরঞ্জাম নিয়েই তিনি টানা ৬৬ বছর ধরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামেও এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য সেলুন। উন্নত চেয়ার, আয়না, বৈদ্যুতিক ট্রিমার আর সাজানো দোকান—সবই আছে সেখানে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারের এই পুকুরপাড়ে বসা বৃদ্ধ নাপিতের কাছে এখনও ভিড় করেন অনেকেই। কারণ তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের স্মৃতি, বিশ্বাস আর গ্রামীণ জীবনের এক সরল অধ্যায়।

শৈশবেই পেশায় যুক্ত:

অকিল শীলের বাড়ি পাশের নগরকান্দা উপজেলার সদর গ্রামের চৌমুখা এলাকায়। তাঁর পিতা হরিবদন শীল ছিলেন পেশায় নাপিত। ছোটবেলা থেকেই বাবার পাশে বসে তিনি এই কাজ শেখেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই কৈশোরেই জীবিকার তাগিদে পেশাটিকে বেছে নিতে হয় তাকে।

প্রথমদিকে বাবার সঙ্গে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে নিজেই কাজ শুরু করেন। প্রায় ৬৬ বছর আগে মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে বসেই তিনি নিজের কর্মজীবনের যাত্রা শুরু করেন। সেই শুরু থেকে আজও একই জায়গায় বসেই কাজ করে যাচ্ছেন অকিল শীল।

হাটের দিনেই জমে ওঠে সেলুন:

মাঝারদিয়া বাজারে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। সাধারণত হাটের দিন সকাল থেকেই পুকুরপাড়ে চলে আসেন অকিল শীল। সঙ্গে থাকে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি, পুরোনো কাঁচি, ক্ষুর আর কয়েকটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

পুকুরপাড়ে পিঁড়ি পেতে বসেই শুরু হয় তাঁর দিনের কাজ। গ্রামের মানুষজন একে একে এসে বসেন তাঁর সামনে। কেউ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন, কেউ আবার সিরিয়াল ধরে বসে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে শরীর কিছুটা নুয়ে পড়লেও কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই। মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে কাঁচি চালিয়ে চুল কাটছেন তিনি। মাঝে মাঝে ক্ষুর দিয়ে দাড়িও ছেঁটে দেন।

এই পুকুরপাড়ের ছোট্ট জায়গাটিই যেন তাঁর সেলুন, আবার কর্মজীবনের স্মৃতিবহ স্থান।

গ্রাহকদের কাছে প্রিয় ‘অকিল দা’:

স্থানীয় অনেকেই এখনও আধুনিক সেলুন ছেড়ে অকিল শীলের কাছেই চুল কাটতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারণ তাঁদের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বৃদ্ধ নাপিতের সঙ্গে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী মাতুব্বর বলেন, “আমি সেলুনে চুল কাটাই না। ছোটবেলা থেকে অকিল দার কাছেই চুল কাটাই। এখন বয়স হয়েছে, তবু তাঁর হাতের কাঁচির ওপর ভরসা আছে।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, “ওনার কাছে ধনী-গরিব সবাই চুল কাটান। কেউ তাকে অবহেলা করে না। বরং অনেকেই গল্প করতে করতে চুল কাটান। ওনার কাছে চুল কাটাতে অন্যরকম একটা আনন্দ আছে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, অকিল শীল শুধু একজন নাপিত নন, তিনি যেন বাজারের একটি জীবন্ত ইতিহাস।

সামান্য আয়েই চলে সংসার:

অকিল শীল জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি জনের চুল কাটার জন্য ৫০ টাকা নেন। হাটের দিনে তাঁর কাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন গ্রাহক আসেন। সেই হিসেবে প্রতিদিন খুব বেশি আয় হয় না।

তবুও এই সামান্য আয়ের ওপরই ভর করে তিনি নিজের সংসার চালানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করছি। তখন বাজারে কোনো সেলুন ছিল না। পুকুরপাড়ে বসেই মানুষের চুল কেটে সংসার চালিয়েছি। এখন অনেক সেলুন হয়েছে, তবুও পুরোনো গ্রাহকেরা আসে।”

বয়সের কারণে কাজ করা কঠিন হলেও তিনি এখনো থামতে চান না।

অকিল শীল বলেন, “বয়স তো অনেক হয়েছে। শরীরও আগের মতো শক্তি পায় না। কিন্তু কাজ না করলে মন ভালো লাগে না। তাই যতদিন পারি কাজ করেই যেতে চাই।”

পরিবারের কেউ নেননি পেশা:

অকিল শীলের পাঁচ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তবে তাঁদের কেউই বাবার পেশাকে অনুসরণ করেননি। সবাই ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি কখনো জোর করিনি। তারা যার যার মতো কাজ করছে। আমি আমার কাজ নিয়েই খুশি।”

তবে তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ কর্মযাত্রা এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক প্রতীক:

স্থানীয়দের মতে, মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড় মানেই অকিল শীল। বহু বছর ধরে তিনি এই জায়গাটিকে নিজের কর্মস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

একসময় গ্রামে এভাবেই খোলা আকাশের নিচে বসে নাপিতেরা মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন। আধুনিকতার ঢেউয়ে সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারে এখনও সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ধরে রেখেছেন অকিল শীল।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখছি উনি এখানে বসে চুল কাটছেন। বাজারের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, দোকানপাট বেড়েছে, কিন্তু উনার জায়গা বদলায়নি।”

কাঁচির টুংটাং শব্দে লেখা জীবনের গল্প:

পুকুরপাড়ে বসে কাঁচির টুংটাং শব্দ তুলতে তুলতে যেন নিজের জীবনের গল্পই লিখে চলেছেন অকিল শীল।

গ্রামীণ জীবনের সরলতা, পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার এক অনন্য উদাহরণ তিনি। বয়সের ভার, আধুনিকতার চাপ—কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।

হাটের দিনগুলোতে এখনো মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে দেখা যায় সেই পরিচিত দৃশ্য—একটি ছোট পিঁড়ি, হাতে কাঁচি ও ক্ষুর, আর সামনে বসা গ্রাহক।

সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, অকিল শীল যেন এখনো ধরে রেখেছেন সেই পুরোনো দিনের গল্প। তাঁর কাঁচির টুংটাং শব্দেই যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামীণ বাংলার এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।