খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

উপকূলে স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসে উদ্যোগী হন

সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:০৬ পিএম
উপকূলে স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসে উদ্যোগী হন

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে, দেশের সমতল অঞ্চলে গর্ভপাতের হারের তুলনায় উপকূলীয় এলাকায় এটি তিন গুণেরও বেশি। এটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়।

গবেষণাটি বলছে, সমতলের ৯ শতাংশের জায়গায় উপকূলীয় অঞ্চলে এ হার ৩৩ দশমিক ১ শতাংশ। গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলে লবণাক্ততা এবং তাপমাত্রা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। ফল হচ্ছে অস্বাভাবিক গর্ভপাত। দেখা যাচ্ছে, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও গর্ভধারণের কোনো একসময় গর্ভপাতের মতো দুর্ভাগ্যকে মেনে নিতে হচ্ছে অনেক নারীকে। অথচ গর্ভধারণের সময়ে পরীক্ষায় মেলেনি বিশেষ কোনো সমস্যা বা জটিলতা। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ত পানি আর তীব্র গরমই দায়ী বলছেন গবেষকরা। এভাবে তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার প্রভাবে উপকূলের মানুষ পড়ছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য। শুধু গর্ভপাত নয়, বাড়ছে কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়ার হার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হিট স্ট্রোক, হিট ওয়েভ, কলেরা, উচ্চ রক্তচাপ ও শিশুমৃত্যুর মতো সমস্যা। জানা যাচ্ছে, অঞ্চলটিতে ঘরবাড়ির চার-দেয়াল টিনের হওয়ায় বাড়ির ভেতরে তাপমাত্রা থাকে অনেক বেশি। আবার সামাজিক রীতিনীতির কারণেও নারীরা প্রায় সারা দিন থাকেন ঘরের ভেতরেই। এ অতিরিক্ত গরম শরীরের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বাদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি। গবেষকরা বলছেন, পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকট ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মানুষ বাধ্য হয়ে সেই পানি পান করছে, যা কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে; বাড়াচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ। জলবায়ু পরিবর্তনে জীবনযাত্রা ও খাদ্য নিরাপত্তা পড়ছে হুমকির মুখে। এদিকে জার্মানওয়াচ গ্লোবালের জলবায়ু ঝুঁকি সূচক (সিআরআই-২০২০) অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শীর্ষ ১০ দেশের একটি। বিশেষ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় এলাকার নারী ও শিশুরা পড়ছে সংকটে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্যে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে। অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি গ্রহণের কারণে জরায়ুর জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপ, খিঁচুনি, গর্ভপাত, এমনকি অপরিণত শিশুর জন্মও বাড়ছে।

আমরা জানি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় আমাদের দেশের নাম ওপরের দিকে। অবশ্য আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের ভূমিকা কম। পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনে শিল্পনির্ভর দেশগুলোর অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণই এ কুপ্রভাবের জন্য প্রধানত দায়ী। এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা দরকার ওইসব দেশের। তবে যেহেতু আমরা এর সরাসরি শিকার, তাই এটা আগে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। এর কুপ্রভাব থেকে নিজের রক্ষার উপায় বের করতে হবে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যা এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নিরাপদ বাসস্থান, খাদ্যাভ্যাস-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও সহনশীল আবাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। স্মরণে রাখতে হবে যে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় চারভাগের একভাগ মানুষ উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দা। দেশের বিরাটসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে ভয়াবহ এক স্বাস্থ্যসংকটের ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তারা অবশ্যই রাষ্ট্রের তরফ থেকে যথাযথ পদক্ষেপের অধিকার রাখে। আমাদের প্রত্যাশা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন