খুঁজুন
, ,

জন্ম নিবন্ধন কি চেয়ারম্যানের ইচ্ছাধীন, লস্করদিয়া ইউনিয়নে নাগরিক সেবার লজ্জাজনক চিত্র!

সাইফুল্লাহ আল নাসিম
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
জন্ম নিবন্ধন কি চেয়ারম্যানের ইচ্ছাধীন, লস্করদিয়া ইউনিয়নে নাগরিক সেবার লজ্জাজনক চিত্র!

সোমবার ফরিদপুরের নগরকান্দার লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলাম জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত একটি সাধারণ কাজের জন্য। আবেদনটি আগেই অনলাইনে সম্পন্ন করা ছিল। ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার একমাত্র কারণ ছিল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনলাইনে এক ক্লিক অনুমোদন নেওয়া—যা কয়েক মিনিটেই শেষ হওয়ার কথা।

কিন্তু সেখানে গিয়ে জানানো হয়, জন্ম নিবন্ধনের কাজ আজ সারাদিন বন্ধ। কারণ? ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েব পোর্টালে লগইনের জন্য যে OTP প্রয়োজন, সেটি চেয়ারম্যান “দিতে পারবেন না”। এমনকি OTP-এর জন্য তাঁকে ফোন দেওয়াও নিষেধ করা হয়েছে। কোনো নোটিশ নেই, নেই কোনো লিখিত ব্যাখ্যা, নেই কোনো বিকল্প ব্যবস্থা।
প্রশ্ন হচ্ছে—জন্ম নিবন্ধন কি কোনো ব্যক্তির ইচ্ছাধীন বিষয়? রাষ্ট্রীয় একটি নাগরিক সেবা কি এভাবে একক সিদ্ধান্তে বন্ধ রাখা যায়?

সমস্যা যদি সার্ভারজনিত হতো, তাহলে সেটি সহজেই মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সিস্টেম সচল ছিল। কাজ বন্ধ ছিল কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে।

সমাধানের আশায় সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে একাধিকবার ফোন করা হয়। ভেবেছিলাম, তিনি ব্যস্ত আছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো সাড়া মেলেনি। ফোন ধরেননি, কোনো ব্যাখ্যাও দেননি।

এতে স্বাভাবিকভাবেই কিছু গুরুতর প্রশ্ন সামনে আসে—
কোন আইনে বা কোন ক্ষমতায় কোনো ইউনিয়ন পরিষদ নাগরিক সেবা বন্ধ রাখে?
একজন জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে রাষ্ট্রীয় সেবা কেন থেমে যাবে?

নাগরিক হয়রানির দায় কার?
এই অব্যবস্থাপনার জবাব কে দেবে?
দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর নেই।
কেবল নীরবতা, অবহেলা এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা।

জন্ম নিবন্ধন একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার। এটি শিক্ষা, চিকিৎসা, ভোটাধিকারসহ বহু নাগরিক সেবার ভিত্তি। সেই সেবাকে ইচ্ছামতো বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদের চক্কর কাটতে বাধ্য করা—এটি কেবল অদক্ষতা নয়, এটি সরাসরি নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন।
আমরা কেউ দয়া চাইতে যাইনি।
আমরা রাষ্ট্রের কাছে আমাদের ন্যায্য অধিকার চাইতে গিয়েছিলাম।

এই লেখার মাধ্যমে লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন সেবায় চলমান অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও নাগরিক হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি করছি।
— একজন ভুক্তভোগী নাগরিক

 

ফরিদপুর প্রতিদিনের সম্পাদকীয় নোট:

লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত এই অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জন্ম নিবন্ধন একটি সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় নাগরিক সেবা—যা কোনো ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না।

একজন চেয়ারম্যান OTP “দিতে পারবেন না”—এই অজুহাতে পুরো দিন নাগরিক সেবা বন্ধ রাখা আইন, প্রশাসনিক বিধি ও সুশাসনের চরম লঙ্ঘন। জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি বা অনাগ্রহ কোনোভাবেই নাগরিক সেবা স্থগিতের বৈধ কারণ হতে পারে না।

এই ঘটনায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে জন্ম নিবন্ধনসহ ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমে কেন বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নেই—সে প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে।
নাগরিক সেবা কোনো অনুগ্রহ নয়। এটি রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা।

এই ধরনের দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক অবহেলা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে—যার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।

 

পাঠকের লেখা

‘নারীরা পারে’—কথায় নয়, কাজেই প্রমাণ দিল ফরিদপুরের নন্দিতা সুরক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
‘নারীরা পারে’—কথায় নয়, কাজেই প্রমাণ দিল ফরিদপুরের নন্দিতা সুরক্ষা

নারীর অধিকার, স্বাস্থ্য, আইনি সচেতনতা ও নেতৃত্ব বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে ফরিদপুরের নারী উন্নয়নভিত্তিক সামাজিক সংগঠন নন্দিতা সুরক্ষা। তবে সংস্থাটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব শুধু এর কার্যক্রমে নয়, বরং নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামোতেও। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী থেকে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মীই নারী, যাদের অধিকাংশই তরুণ।

দেশে নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও নন্দিতা সুরক্ষা দেখিয়ে দিয়েছে, নারীরা শুধু উন্নয়ন কার্যক্রমের উপকারভোগী নন; পরিকল্পনা, নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপেও তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, অনেকেই জানতে চান—‘আপনাদের প্রতিষ্ঠানে সব কর্মী নারী কেন? এটি কি পুরুষদের প্রতি বৈষম্য নয়?’ বাস্তবে বিষয়টি মোটেও এমন নয়।

তিনি বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে সমাজে বারবার শুনে এসেছি—নারীরা নেতৃত্ব দিতে পারে না, সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কিংবা বড় দায়িত্ব সামলাতে পারে না। এসব নেতিবাচক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি সম্পূর্ণ নারী-নেতৃত্বাধীন দল গড়ে তোলা, যেখানে নারীরা নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবেন। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।”

রেমি আরও জানান, সংস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্রে কখনোই নারী বা পুরুষ—কোনো লিঙ্গকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। যোগ্যতাই একমাত্র বিবেচ্য। উদাহরণ হিসেবে তিনি ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার নিয়োগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই পদে নারী ও পুরুষ উভয়েই আবেদন করেছিলেন। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। এটি কাকতালীয় হলেও তাদের জন্য গর্বের বিষয়।

বর্তমানে নন্দিতা সুরক্ষার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন RWVL-B প্রকল্পের ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌসী, প্রজেক্ট অফিসার তানিয়া আক্তার, ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার মমতাজ আক্তারী, চরাঞ্চলের নারী নেত্রী ও ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগম (ফিল্ড অর্গানাইজার) এবং অফিস সহকারী নিপা বেগম। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংস্থার কার্যক্রম দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

বর্তমানে RWVL-B, SPACE ও Shuchona প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্থাটি নারীর অধিকার, আইনি সচেতনতা, স্বাস্থ্যসেবা, নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

এছাড়া নারীদের মধ্যে সার্ভিক্যাল ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, লিগ্যাল লিটারেসি (আইনি সচেতনতা) এবং নেতৃত্ব বিকাশমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামের প্রায় ৬০০ নারীকে নিয়ে দুই মাস অন্তর (বাই-মান্থলি) সার্কেল মিটিং আয়োজনের মাধ্যমে তাদের অধিকার, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অংশগ্রহণ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

সংস্থার সভাপতি ফাইজা ফারজানা নিত্য বলেন, “যে সমাজে এখনও নারীর সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়, সেখানে নন্দিতা সুরক্ষা একটি বাস্তব উদাহরণ। নারীরা সুযোগ, আস্থা ও নেতৃত্বের পরিবেশ পেলে শুধু নিজেদের জীবনই বদলে দিতে পারেন না, বরং সমাজ পরিবর্তনেরও শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “নন্দিতা সুরক্ষার গল্প কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের গল্প নয়; এটি নারীর সম্ভাবনা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব এবং সামাজিক পরিবর্তনের এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।”

ফরিদপুরে নারী নেতৃত্বের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীদের জন্য সমান সুযোগ ও নেতৃত্বের ক্ষেত্র তৈরি হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

ফরিদপুরে গরুর ডাকে ঘুম ভাঙলো মালিকের, ধাওয়ায় গরু ফেলে পালাল চোর

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গরুর ডাকে ঘুম ভাঙলো মালিকের, ধাওয়ায় গরু ফেলে পালাল চোর

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার একটি গ্রামে গভীর রাতে গরু চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে গরুর ডাকেই। গোহালে ঢুকে শিকল কেটে গরু নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও গরুর অস্বাভাবিক ডাক ও শব্দে মালিকের ঘুম ভেঙে যায়।

পরে পরিবারের সদস্যদের ধাওয়ায় চোর গরু রেখেই পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়ায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের লাভলু শেখের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সিসিটিভির ৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বড় আকারের লোহার কাটার দিয়ে গোহালের শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর গোহালের দরজার ছিটকিনি খুলতে গিয়ে বিকট শব্দ হয়। এতে গরুগুলো আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে এবং জোরে ডাকতে থাকে। একপর্যায়ে গরুর ডাক শুনে ঘুম ভেঙে যায় বাড়ির মালিকের। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে চোর গরু ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গরুর মালিক লাভলু হোসেন জানান, বাড়ি ও গোহালজুড়ে নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। রাতের অন্ধকারে চোর তিনটি গরু চুরির উদ্দেশ্যে আসে। প্রথমে একটি সাদা রঙের ছোট বাছুরকে টেনে-হিঁচড়ে গোহাল থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাছুরটির চিৎকার ও অন্য গরুগুলোর ডাকাডাকিতে পরিবারের সদস্যরা জেগে ওঠেন। পরে সবাই ‘চোর-চোর’ বলে চিৎকার করলে চোরের দল বাছুরটি রেখেই পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে। ফলে খামারি ও গৃহস্থদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, রাতের টহল জোরদার এবং গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই গৃহপালিত পশুর নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরছেন। স্থানীয়দের আশা, ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সদরপুরে মাদক সেবন ও সাপ্লাইয়ের অপরাধে যুবকের ১৫ দিনের জেল-জরিমানা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে মাদক সেবন ও সাপ্লাইয়ের অপরাধে যুবকের ১৫ দিনের জেল-জরিমানা

ফরিদপুরের সদরপুরে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (১৮) নামে এক ইয়াবাসেবী ও সাপ্লায়ারকে ৪ পিস ইয়াবা সহ আটক করে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত অনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া এই দণ্ডাদেশ ও জরিমানা প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ও জরিমানা কৃত নুর ইসলাম নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শ্রীরামদিয়া গ্রামের
আলামীন মাতুব্বরের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (১৮) নামে এক ইয়াবাসেবী ও ইয়াবা সাপ্লায়ারকে আটক করা হয়।

তল্লাশীকালে তার কাছ থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ এর ৫ ধারা মোতাবেক তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা বড়ি জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন সদরপুর থানার একদল পুলিশ সদস্য ।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।