খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

জন্ম নিবন্ধন কি চেয়ারম্যানের ইচ্ছাধীন, লস্করদিয়া ইউনিয়নে নাগরিক সেবার লজ্জাজনক চিত্র!

সাইফুল্লাহ আল নাসিম
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
জন্ম নিবন্ধন কি চেয়ারম্যানের ইচ্ছাধীন, লস্করদিয়া ইউনিয়নে নাগরিক সেবার লজ্জাজনক চিত্র!

সোমবার ফরিদপুরের নগরকান্দার লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলাম জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত একটি সাধারণ কাজের জন্য। আবেদনটি আগেই অনলাইনে সম্পন্ন করা ছিল। ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার একমাত্র কারণ ছিল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনলাইনে এক ক্লিক অনুমোদন নেওয়া—যা কয়েক মিনিটেই শেষ হওয়ার কথা।

কিন্তু সেখানে গিয়ে জানানো হয়, জন্ম নিবন্ধনের কাজ আজ সারাদিন বন্ধ। কারণ? ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েব পোর্টালে লগইনের জন্য যে OTP প্রয়োজন, সেটি চেয়ারম্যান “দিতে পারবেন না”। এমনকি OTP-এর জন্য তাঁকে ফোন দেওয়াও নিষেধ করা হয়েছে। কোনো নোটিশ নেই, নেই কোনো লিখিত ব্যাখ্যা, নেই কোনো বিকল্প ব্যবস্থা।
প্রশ্ন হচ্ছে—জন্ম নিবন্ধন কি কোনো ব্যক্তির ইচ্ছাধীন বিষয়? রাষ্ট্রীয় একটি নাগরিক সেবা কি এভাবে একক সিদ্ধান্তে বন্ধ রাখা যায়?

সমস্যা যদি সার্ভারজনিত হতো, তাহলে সেটি সহজেই মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সিস্টেম সচল ছিল। কাজ বন্ধ ছিল কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে।

সমাধানের আশায় সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে একাধিকবার ফোন করা হয়। ভেবেছিলাম, তিনি ব্যস্ত আছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো সাড়া মেলেনি। ফোন ধরেননি, কোনো ব্যাখ্যাও দেননি।

এতে স্বাভাবিকভাবেই কিছু গুরুতর প্রশ্ন সামনে আসে—
কোন আইনে বা কোন ক্ষমতায় কোনো ইউনিয়ন পরিষদ নাগরিক সেবা বন্ধ রাখে?
একজন জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে রাষ্ট্রীয় সেবা কেন থেমে যাবে?

নাগরিক হয়রানির দায় কার?
এই অব্যবস্থাপনার জবাব কে দেবে?
দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর নেই।
কেবল নীরবতা, অবহেলা এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা।

জন্ম নিবন্ধন একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার। এটি শিক্ষা, চিকিৎসা, ভোটাধিকারসহ বহু নাগরিক সেবার ভিত্তি। সেই সেবাকে ইচ্ছামতো বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদের চক্কর কাটতে বাধ্য করা—এটি কেবল অদক্ষতা নয়, এটি সরাসরি নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন।
আমরা কেউ দয়া চাইতে যাইনি।
আমরা রাষ্ট্রের কাছে আমাদের ন্যায্য অধিকার চাইতে গিয়েছিলাম।

এই লেখার মাধ্যমে লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন সেবায় চলমান অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও নাগরিক হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি করছি।
— একজন ভুক্তভোগী নাগরিক

 

ফরিদপুর প্রতিদিনের সম্পাদকীয় নোট:

লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত এই অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জন্ম নিবন্ধন একটি সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় নাগরিক সেবা—যা কোনো ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না।

একজন চেয়ারম্যান OTP “দিতে পারবেন না”—এই অজুহাতে পুরো দিন নাগরিক সেবা বন্ধ রাখা আইন, প্রশাসনিক বিধি ও সুশাসনের চরম লঙ্ঘন। জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি বা অনাগ্রহ কোনোভাবেই নাগরিক সেবা স্থগিতের বৈধ কারণ হতে পারে না।

এই ঘটনায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে জন্ম নিবন্ধনসহ ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমে কেন বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নেই—সে প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে।
নাগরিক সেবা কোনো অনুগ্রহ নয়। এটি রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা।

এই ধরনের দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক অবহেলা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে—যার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।

 

পাঠকের লেখা

ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ২৩ বছরের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন- উপজেলার বুরাইচ ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের মো. লিটন মোল্লা (৩৩), একই ইউনিয়নের কটুরাকান্দি গ্রামের সবুজ মোল্লা (২৩) ও টাবনী গ্রামের আলী শরীফ (২০)।

ভুক্তভোগী নারীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর সঙ্গে মো. লিটন মোল্লার গত দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে লিটন মোল্লা বিয়ের প্রলোভনে ওই তরুণীকে সবুজ মোল্লার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে লিটন, সবুজ ও আলী শরীফ ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালিত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে ওই তরুণী বাদী হয়ে ওই তিন ব্যক্তিকে আসামি মামলা দায়ের করেন। পরে বিকেলের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ‘

ওসি আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া তিন আসামিকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

শরিফুল ইসলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

একসময় গ্রামবাংলার সন্ধ্যা ছিলো অন্যরকম এক পরিবেশ। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার নেমে এলে মানুষ একে একে জড়ো হতো কারও বাড়ির উঠোনে। শুরু হতো গানের আসর – কখনও ভাটিয়ালি, কখনও পালাগান, আবার কখনও মুর্শিদী গানে। আপন মুর্শিদের প্রতি আবেগে ঝড়তো চোখের জল।

সেই আসর ছিল না শুধু বিনোদনের জায়গা, বরং ছিল ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সংযোগস্থল। দিনভর ক্লান্তি, দুঃখ-কষ্ট, অভিমান – সব কিছু মিলিয়ে যেত একসাথে বসার আনন্দে।

আজ প্রযুক্তির যুগে আমরা অনেক এগিয়েছি, কিন্তু সেই উঠোনভরা সম্প্রীতি যেন হারিয়ে গেছে। বিদ্যুতের আলো আমাদের ঘর আলোকিত করেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মন যান্ত্রিক ও স্বার্থের আখরা বানিয়েছে । এখন প্রত্যেকে নিজ নিজ মোবাইল বা টেলিভিশনের পর্দায় ডুবে থাকে; পাশের মানুষের সাথে কথা বলার সময়ও যেন কমে গেছে।

গ্রামের সেই সন্ধ্যার গান আমাদের শিখিয়েছে – সম্পর্ক গড়তে বড় আয়োজন লাগে না, দরকার শুধু আন্তরিকতা আর একসাথে থাকার ইচ্ছা। সমাজে ভেদাভেদ, হিংসা, দূরত্ব কমাতে আবারও দরকার এমন ছোট ছোট উদ্যোগ।

হয়তো আমরা পুরোপুরি সেই দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে পারব না, কিন্তু চেষ্টা করলে অন্তত মানুষের মাঝে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্ববোধকে জাগিয়ে তুলতে পারি।

লেখক: সাংবাদিক, ফরিদপুর

‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ দেশের সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) থেকে ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। কোর্সটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি ‘ফেলো অব দ্য ক্যাপস্টোন কোর্স’ হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন, যা দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।

রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গত ৫ এপ্রিল শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সমাপ্ত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা কোর্সটির গুরুত্ব ও মর্যাদাকে আরও স্পষ্ট করে।

এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল এমডি ফয়জুর রহমান স্বাক্ষরিত সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নায়াব ইউসুফ জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত নেতৃত্ব, নীতি প্রণয়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিরাই বেশি থাকেন, ফলে এখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাস্তব নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ক্যাপস্টোন কোর্সটি মূলত দেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

এতে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

কোর্স চলাকালে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা, গ্রুপ আলোচনা, কেস স্টাডি এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ পান। এছাড়া নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নায়াব ইউসুফ এই প্রশিক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার নেতৃত্বগুণ, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং নীতি নির্ধারণের সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ করেছেন। সহপাঠী ও প্রশিক্ষকদের মূল্যায়নেও তিনি একজন মনোযোগী ও দক্ষ অংশগ্রহণকারী হিসেবে প্রশংসিত হন।

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নায়াব ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার এই নতুন অর্জন ভবিষ্যতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।