খুঁজুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

সালথায় শাপলা মহিলা সংস্থার অবহিকরণ সভা

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
সালথায় শাপলা মহিলা সংস্থার অবহিকরণ সভা

ফরিদপুরের সালথায় Eicha Puron (Fullfil the dream) Initiviatives in Bangladesh (EPI) কার্যক্রম সম্পর্কিত অবহিকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর শাপলা মহিলা সংস্থার আয়োজনে সালথা উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুর শাপলা মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক চঞ্চলা মন্ডলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর শাপলা মহিলা সংস্থার ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শ্যামল প্রকাশ অধিকারী, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়া, আমার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম, সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

সভায় ফরিদপুর শাপলা মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক চঞ্চলা মন্ডল জানান, শাপলা মহিলা সংস্থা একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৭ সাল থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সমাজে পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী, দেশী-বিদেশী দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তায় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর অত্র সংস্থা ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় ২টি মাদরাসাসহ কমিউনিটি পর্যায়ে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ, যৌনস্বাস্থ্য ও বিষন্নতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু পাঁচার প্রতিরোধ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বয়ঃসন্ধিকাল ও প্রজনন স্বাস্থ্য/প্রজননতন্ত্র, জীবন দক্ষতা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাসন এবং জেন্ডার সমতা ও ন্যায্যতা, জন্মনিবন্ধন সনদ ও ভোটার আইডি তৈরীর সহযোগিতা ও স্বাস্থ্য সেবা ইত্যাদি ইস্যুতে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে Eicha Puron (Fullfil the dream) Initiviatives in Bangladesh (EPI) প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছে। উপরোক্ত বিষয়াদি বিবেচনা করিয়া অ্যাডভোকেসি সভায় উপস্থিতিগণ প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হয়ে উপকারভোগীদের উদ্দেশ্যে প্রকল্পের ইতিবাচক দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য শাপলা মহিলা সংস্থার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

নগরকান্দায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে ইউনুস শেখ (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের বাঁশাগাড়ী গ্রামসংলগ্ন রেললাইনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাঙ্গী ইউনিয়নের খৈয়া গ্রামের মৃত আদেলউদ্দীন শেখের ছেলে ইউনুস শেখ দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ঘটনার সময় তিনি অসাবধানতাবশত রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে দ্রুতগামী ‘মধুমতি এক্সপ্রেস’ ট্রেনের নিচে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের গতি বেশি থাকায় চালকের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

নিহত ইউনুস শেখের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে জীবিকার তাগিদে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন এবং মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বৃদ্ধের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর শোকাহত হয়ে পড়েছে।

খবর পেয়ে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছি। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

ফরিদপুরের রাজনীতিতে উত্তাপ: ফেসবুক পোস্ট ঘিরে মুখোমুখি স্বপন-আসিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের রাজনীতিতে উত্তাপ: ফেসবুক পোস্ট ঘিরে মুখোমুখি স্বপন-আসিফ

ফরিদপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ.কে.এম কিবরিয়া স্বপন ও ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ-এর মধ্যে এই বিতর্ক এখন স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচিত।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ.কে.এম কিবরিয়া স্বপন দাবি করেন, তিনি কখনোই এমন কোনো পোস্ট করেননি যা কারও কষ্ট বা অসম্মানের কারণ হতে পারে। তার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব পোস্ট দিয়ে তাকে নিয়ে সমালোচনা করা ব্যক্তির উদ্দেশ্য কী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ থাকে, তাহলে ফরিদপুরের প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো—তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

অন্যদিকে, মোরশেদুল ইসলাম আসিফ তার ফেসবুক পোস্টে কিবরিয়া স্বপনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিউ মার্কেট এলাকার অসহায় দোকানদারদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গরিব মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতির অবসান হওয়া প্রয়োজন।

আসিফ তার পোস্টে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। সময় খুব কাছেই—এই অত্যাচারের বিচার হবেই।” তার এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে, তাই বিষয়টি দ্রুত যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

ফরিদপুরে কাঁচাবাজারে আগুন—সবজির দামে নাভিশ্বাস, চাপে স্বল্প আয়ের মানুষ

হারুন-অর-রশীদ ও এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কাঁচাবাজারে আগুন—সবজির দামে নাভিশ্বাস, চাপে স্বল্প আয়ের মানুষ

ফরিদপুরের কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই সবজির দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাজারে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় তরকারি কিনতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষজন। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সংকট ও পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাবেই খুচরা বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে বাজারে আলু ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দামই চড়া। আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়, তবে পটল ১০০ টাকা, উস্তে (করলা) ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৮০ টাকা এবং ঝিঙে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন, শসা, কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য সবজির দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনছেন। কেউ কেউ আবার একেবারেই না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। নিম্ন আয়ের একাধিক ক্রেতা জানান, প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, তার ওপর সবজির এমন দাম বাড়ায় রান্নার তালিকায় কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

কাঁচাবাজারের বিক্রেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, তেল সংকট, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। অনেকেই দাবি করছেন, বাজারে তদারকির অভাব থাকায় দামের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, শুধু সবজিই নয়—মাছ, মাংস, ডাল ও ভোজ্যতেলের দামও বেশ চড়া। ফলে সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং কৃষকদের উৎপাদন সহায়তা বাড়ানো হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

স্থানীয় ভোক্তারা দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের পক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য কেনা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠবে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এমন অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। আমরা মনে করি, বাজারে কার্যকর তদারকি, সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। দ্রুত প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।”

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, শীতকালীন সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক পন্য পুরনো কিংবা নতুন বাজারে আসছে, সেজন্য দাম কিছুটা বেশি রয়েছে। তবে, ১৫ দিনের মধ্যে এই দামটা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, “বাজারে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করছি। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিন্টু বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, আমরা কাঁচা বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।