খুঁজুন
, ,

ক্ষমতার পালাবদলে দল বদল : সালথায় আ.লীগ ছাড়লেন দুই নেতা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার পালাবদলে দল বদল : সালথায় আ.লীগ ছাড়লেন দুই নেতা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আ.লীগের দুই নেতা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা গ্রামে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তারা তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পদত্যাগকারী নেতারা হলেন— সালথা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলু মাতুব্বর এবং আওয়ামী লীগের সোনাপুর ইউনিয়ন কমিটির সদস্য জালাল মোল্লা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফজলু মাতুব্বর বলেন, “আওয়ামী লীগে আমার যে পদ ছিল, আজ থেকে তা থেকে পদত্যাগ করলাম। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকব না। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

অপরদিকে জালাল মোল্লা বলেন, “আমি মূলত মহল্লাভিত্তিক রাজনীতি করি। আওয়ামী লীগের কোনো পদে আমি আছি কিনা তা পরিষ্কারভাবে জানা ছিল না। তবে শুনেছি ইউনিয়ন কমিটিতে আমাকে সাধারণ সদস্য করা হয়েছে। আজ থেকে আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে আমি পদত্যাগ করলাম। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকব না। বিএনপির আদর্শ আমাকে মুগ্ধ করেছে, তাই আমি বিএনপির রাজনীতি করতে ইচ্ছুক।”

তিনি আরও জানান, এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাওলানা আজিজুল হক, বিএনপির সাবেক নেতা তারা মিয়া, যুবদল নেতা লিয়াকত হোসেন, শহিদুল ইসলাম, সাব্বির হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

পানি নেই, তবু থামেনি ২০০ বছরের ঐতিহ্য: এক নৌকায় খেজুরতলার বাইচ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
পানি নেই, তবু থামেনি ২০০ বছরের ঐতিহ্য: এক নৌকায় খেজুরতলার বাইচ

খালে পর্যাপ্ত পানি নেই, নেই প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় সারি সারি নৌকা। তবুও থেমে যায়নি প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্য। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার খেজুরতলা খালে দীর্ঘদিনের নৌকা বাইচের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবার মাত্র একটি নৌকা নিয়েই আয়োজন করা হয়েছে বাইচের।

বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা খালে অনুষ্ঠিত হয় এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুইশত বছর ধরে প্রতি বছর ১ ভাদ্র এ খালে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এ আয়োজন এখনো স্থানীয় মানুষের আবেগ ও উৎসবের অংশ।

স্থানীয়রা জানান, একসময় নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে খেজুরতলা খাল ও আশপাশের এলাকায় বসত উৎসবের আমেজ। দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন ধরনের বড় বড় নৌকা নিয়ে আসতেন মাঝি ও প্রতিযোগীরা। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের হুঙ্কার আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠত পুরো খালপাড়। দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ উপভোগ করতেন নৌকার পাল্লা।

তবে এবার খালে পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় প্রতিযোগিতামূলকভাবে একাধিক নৌকা নিয়ে বাইচ আয়োজন সম্ভব হয়নি। তারপরও দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নৌকা দিয়ে বাইচের আয়োজন করেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিযোগিতা না থাকলেও মানুষের আগ্রহে কোনো কমতি ছিল না। অনুষ্ঠানস্থলের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে নানা বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। নারী, পুরুষ ও শিশুরা খালের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকার চলাচল উপভোগ করেন। কেউ কেউ আবার ছোট নৌকায় চড়ে খালের পানিতে ভেসে ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনের সাক্ষী হন।

নৌকা বাইচকে ঘিরে খালের দুই পাড়ে বসে শত শত অস্থায়ী দোকান। খেলনা, মিষ্টি, ঝালমুড়ি, চটপটি, খাবার ও কাপড়সহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাইচ না হলেও মানুষের উপস্থিতি ও কেনাকাটায় জমজমাট হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

খেজুরতলা গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন কবির (৬৫) বলেন, “খেজুরতলার নৌকা বাইচ এ অঞ্চলের প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্য। একসময় দূর-দূরান্ত থেকে বড় বড় নৌকা আসত। বাদ্যযন্ত্রের তালে মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে খালপাড় মুখর থাকত। সময়ের সঙ্গে সেই জৌলুস কিছুটা কমেছে।”

আয়োজক কমিটির সভাপতি ও চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, খালে পানি কম থাকায় এবার প্রতিযোগিতামূলক নৌকা বাইচ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে একটি নৌকা দিয়ে হলেও আয়োজনটি করা হয়েছে। আগামীতে খালে পর্যাপ্ত পানি থাকলে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের চেষ্টা করা হবে।

আয়োজক কমিটির সদস্য মাওলানা রাশেদ হোসেন বলেন, “এবার একটি নৌকা থাকলেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মানুষের এই ভালোবাসাই আমাদের আশা জোগাচ্ছে যে, ভবিষ্যতে আবারও আগের মতো জাঁকজমকপূর্ণ নৌকা বাইচ আয়োজন করা সম্ভব হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খেজুরতলার দুইশত বছরের এই ঐতিহ্য রক্ষায় খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

ফরিদপুরে রাসেল’স ভাইপার হতে রক্ষায় গামবুট ও স্প্রে মেশিন পেলেন চরাঞ্চলের কৃষকরা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে রাসেল’স ভাইপার হতে রক্ষায় গামবুট ও স্প্রে মেশিন পেলেন চরাঞ্চলের কৃষকরা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে রাসেল’স ভাইপার সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে ৩’শ গামবুট ও ৩’শ স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলা চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে গামবুট ও স্প্রে মেশিন বিতরণ করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

জানা যায়, চরভদ্রাসনে পদ্মা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে ২০১৬ সালে দেখা মিলে বিষধর রাসেল’স ভাইপার সাপ। গত বছর এই ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ উপজেলা সদরের বিভিন্ন গ্রামে রাসেল’স ভাইপার সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে ভীতির সঞ্চার হয়। গত বছর অত্র উপজেলায় মানুষের হাতে মারা পড়েছে রাসেলস ভাইপার সহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ। এছাড়া গত কয়েক বছরে এই উপজেলায় সাপের কামড়ে বেশ কয়েকজন মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গামবুট নিতে আসা চাষি ইয়াসিন মিয়া
বলেন, এতোদিন সাপের ভয়ে ক্ষেতে যেতে পারিনি। গামবুট পেয়েছি এখন নিশ্চিন্তে ক্ষেতে যেতে পারবো, ক্ষেতের ফসল তুলে ঘরে আনতে পারবো। অনেক ফসল ইতোমধ্যে ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া শ্রমিকরাও ভয়ে ক্ষেতে নামছিল না। এখন সবাই ক্ষেতের ফসল ঘরে আনতে পারবো।

ইমারুন বেগম বলেন, নদীর পাশেই আমাদের বাড়ি। সাপের ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারি না। জেলা প্রশাসক স্যার আমাদেরকে গামবুট দিয়েছেন, এখন গামবুট পড়ে ক্ষেতে যেতে পারবো। চলাচলেও কোনও সমস্যা হবে না। নিশ্চিন্তে ফসল ঘরে তুলে আনতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, স্বামীসহ সন্তানরা মিলে আমরা সবাই ক্ষেতে কাজ করি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক সময় ক্ষেতে যেতে হয়েছে। সাপের ভয়ে তিল ক্ষেত থেকে তুলতেই পারিনি এখনও। তিল ক্ষেতের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গামবুট পেয়েছি, এখন ক্ষেতে যেতে সমস্যা হবে না।

আরেক চাষি নাজমুল হাসান বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাদাম কিছুটা তুলেছি। গামবুট পেয়েছি এখন ক্ষেতে গিয়ে ফসল তুলতে পারবো। কৃষি শ্রমিকরাও ক্ষেতে যেতে চায় না। একারণে নিজেদেরই ঝুঁকি নিয়ে ফসল তুলতে হচ্ছে। গামবুট পেয়ে আমরা অনেক খুশি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, রাসেলস ভাইপারের আতঙ্কে কৃষকেরা খেতের ফসল তুলতে পারছিলেন না। তাঁরা আতঙ্কিত ছিলেন। স্থানীয়দের থেকে বিষয়টি জানার পর কৃষকদের কথা চিন্তা করে তাঁদের সাপের কামড় থেকে বাঁচাতে গামবুট ও স্প্রে মেশিন দেওয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের ৩০০ জনের মধ্যে গামবুট ও ৩০০ জনকে স্প্রে মেশিন দেওয়া হলো। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নের চাষিদের মধ্যে গামবুট বিতরণ করা হবে। কৃষকদের সচেতনতা সৃষ্টিতে মাইকিংসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাসেলস ভাইপারের ভয়ে কৃষকরা ক্ষেতে ফসল তুলতে যেতে পারছিল না। কৃষকদের কথা চিন্তা করে সাপের কামড় থেকে বাঁচাতে গামবুট দেয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের চাষিদের মাঝে আজ গামবুট দেয়া হলো। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নের চাষিদের মাঝে গামবুট বিতরণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের সভাপতিত্বে এসময় চর ঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মৃধা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী, কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম, গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী, চর হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, দুই মাসের মাথায় প্রসূতির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, দুই মাসের মাথায় প্রসূতির মৃত্যু

ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অপারেশনের প্রায় দুই মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মন্ডল নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ এনে বিচার দাবি করেছেন নিহতের পরিবার।

​মৃত কনিকা মন্ডল রাজবাড়ীর জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। এ দম্পতির ঘরে বর্তমানে প্রায় দুই মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

​নিহতের স্বামী অশান্ত মন্ডল জানান, গত ২৯ জুন কনিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনির সমরিতা জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেডে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন কনিকা।

​অশান্ত মন্ডলের অভিযোগ, অপারেশনের পরদিনই তার স্ত্রীর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ জুলাই কনিকাকে রাজধানীর কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৭ জুলাই ডা. আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার পর তার পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

​পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিনই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনিকার পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়। এরপর দীর্ঘ দিন ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে মারা যান তিনি।

​অশান্ত মন্ডলের দাবি, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছেন। ওই বার্তায় লেখা ছিল, “ভুল মানুষেরই হয়… আমি ভুল করে ফেলেছি… আবারো ক্ষমা চাচ্ছি।”

​অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সমরিতা হাসপাতালে গিয়ে ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার বাসায় গেলে দারোয়ান জানান, চিকিৎসক বাসায় আছেন, তবে কাউকে সাক্ষাৎ না দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

​সমরিতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহশিন শরীফ এ বিষয়ে বলেন, “আমার হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন।”

​ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”