খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে আ.লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ব্যানারসহ গ্রেফতার ৮

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে আ.লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ব্যানারসহ গ্রেফতার ৮
ফরিদপুরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আওয়ামী লীগের একটি দলীয় ব্যানার সহ ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদউজ্জামান।
তিনি জানান, সোমবার ভোরে ফরিদপুরের সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের চন্ডীপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত জেলা আওয়ামী লীগ লেখা একটি ব্যানার জব্দ করা হয়।  এ ঘটনায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খলিশাডুবি গ্রামের ফাহিম মাতুব্বর (১৯), হাসিবুল (১৯), আকাশ (১৯), বিল্লাল হোসেন (১৯), রবিউল ইসলাম (২০), চন্ডীপুর গ্রামের বিমল কুমার সরকার (৪৬), মধুখালী উপজেলার বাবু মোল্যা (১৯) এবং গন্দাখালী গ্রামের সোয়াদ (১৯)।
জব্দকৃত ওই ব্যানারে লেখা ছিল অবৈধ দখলদার স্বৈরাচার ইউনুস সরকারের আইসিটি আদালতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী  শেখ হাসিনা ও অন্যান্যদের চার্জশিট প্রদান কার্যক্রম প্রত্যাখ্যান করে, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ। তবে এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের কোন দলীয় পদপদবী বা পরিচয় জানা যায়নি।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান জানান, সরকারবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের ব্যানারে সমবেত হয়ে তারা রেললাইন সহ মহাসড়কে মিছিলের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে দম্পতিকে পিটিয়ে জখম

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে দম্পতিকে পিটিয়ে জখম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে এক দম্পতিকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

​এ ঘটনায় শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী দম্পতির মেয়ে বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার গোপালপুর পূর্বপাড়া কাজীবাড়ি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

​হামলায় আহতরা হলেন— গোপালপুর পূর্বপাড়া এলাকার এনামুল হক (৪৫) ও তার স্ত্রী সালমা বেগম (৪০)। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে এনামুল হকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্ত্রী সালমা বেগম আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

​অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনামুল হকের সঙ্গে তার ভাতিজা ওবায়দুল খান ওরফে হিরা (৪০)-সহ একই বংশের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এনামুল হক মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কথা বলে তাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। ​সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওবায়দুল খান হিরাসহ অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি দিয়ে এনামুলকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এনামুলের ডাক-চিৎকার শুনে তার স্ত্রী সালমা বেগম উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাকেও কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ওবায়দুল খান ওরফে হিরার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আগুনের পর কুঠারের আঘাত, ফরিদপুরে সরকারি গাছ উজাড়ে ‘গাছখেকো’ চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
আগুনের পর কুঠারের আঘাত, ফরিদপুরে সরকারি গাছ উজাড়ে ‘গাছখেকো’ চক্র

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রাস্তার দুপাশে রোপণকৃত সরকারি গাছ উজাড়ের তাণ্ডব কোনোভাবেই থামছে না। অপরাধীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিকভাবে দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে স্থানীয় একটি সক্রিয় ‘গাছখেকো’ চক্র। সামাজিক বনায়নের সুরক্ষায় স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবকেই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন সচেতন মহল।

​সম্প্রতি গাছের গোড়ায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাতের আঁধারে কেটে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক মূল্যবান গাছ। ফলে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের পরিবেশবান্ধব সামাজিক বনায়ন উদ্যোগ এবং হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশের ভারসাম্য।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার লাঙ্গুলিয়া থেকে বড়ভাগ উত্তরপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মেহগনি গাছের গোড়ায় কিছুদিন আগে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত ২০টি গাছের গোড়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৪টি গাছ সম্পূর্ণ কয়লা হয়ে যায়। এ ঘটনার তোলপাড়ের মধ্যেই লাঙ্গুলিয়ার মৃত রুস্তম মোল্যার বাড়ি থেকে বিদ্যাধর আলীম মোল্যার বাড়ি পর্যন্ত রোপণকৃত গাছের ওপর পুনরায় নজর পড়ে সেই চক্রের। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে রাতের আঁধারে বিদ্যাধর কালভার্ট সংলগ্ন একটি বড় আকৃতির আকাশমণি গাছ কেটে সাবাড় করে নিয়ে গেছে তারা।

​ক্রমাগত সরকারি সম্পদ ধ্বংসের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। লাঙ্গুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা খিজির মোল্যা আক্ষেপ করে বলেন, “দুর্বৃত্তরা এখন কোনো ভীতি ছাড়াই নিয়মিত সরকারি গাছের ওপর তাণ্ডব চালাচ্ছে। কখনও গাছের গোড়া পুড়িয়ে মারছে, আবার কখনও গোড়াসুদ্ধ কেটে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে। সব দেখেও আমরা অসহায়, গাছের সঙ্গে মানুষের এমন বর্বর শত্রুতা মেনে নেওয়া যায় না।”

​আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সৈয়দ শরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গাছখেকোদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠিন ও দৃশ্যমান আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া গেলে এ অঞ্চলের সরকারি বনায়ন ও বৃক্ষসম্পদের অস্তিত্ব রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি—অনতিবিলম্বে এ চক্রকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”

​বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক বনায়নের গাছ ধ্বংসকারী চক্রকে চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যেই তারা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তদন্তে লাঙ্গুলিয়া-বিদ্যাধর এলাকায় গাছ কাটার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুজনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে বন বিভাগ।

​অভিযুক্তরা হলেন—বিদ্যাধর গ্রামের হাসান গাজীর ছেলে মো. রিয়াজ গাজী (২৬) এবং একই এলাকার মৃত সৈয়দ ওমর আলীর ছেলে সৈয়দ বাবু আলী (৩২)।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন বলেন, “সরকারি সম্পদ বিনষ্টকারী ও সামাজিক বনায়ন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুজনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঊর্ধ্বতন রেঞ্জ অফিসে পাঠানো হবে এবং পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে।”

সালথায় সেলাই মেশিনে বদলাবে ১৫ অসহায় নারীর জীবন

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
সালথায় সেলাই মেশিনে বদলাবে ১৫ অসহায় নারীর জীবন

ফরিদপুরের সালথায় কর্মঠ ও অভিজ্ঞ ১৫ জন অসহায় নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

​শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টায় সালথা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীদের হাতে এই সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। আমেনা রশিদ ফাউন্ডেশন ও রোটারি ক্লাব অব ঢাকা ইস্টের সৌজন্যে এবং সালথা উপজেলা পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

​আমেনা রশিদ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. ইদ্রিস আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আহাদ মিয়া।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু নগদ অর্থ সহায়তার চেয়ে কর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দিলে মানুষ নিজের পরিশ্রমে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। একটি সেলাই মেশিন একটি পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। সমাজের বিত্তবানদের এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তাঁরা।

​সভাপতির বক্তব্যে ইদ্রিস আলী মোল্লা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া সক্ষম মানুষকে স্বাবলম্বী করাই তাঁদের ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য। সেলাই মেশিন পেয়ে উপকারভোগীরা জানান, কাজ জানা সত্ত্বেও আর্থিক সংকটে তাঁরা মেশিন কিনতে পারছিলেন না। এখন থেকে ঘরে বসেই আয় করে পরিবারে ভূমিকা রাখতে পারবেন তাঁরা।

​সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নভেরা ডেন্টাল ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ, স্থানীয় শিক্ষক নেতা রেজাউল ইসলাম ও শাহেবুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।