খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে রতন শেখ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি লালবাগ থেকে গ্রেপ্তার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৫৪ পিএম
ফরিদপুরে রতন শেখ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি লালবাগ থেকে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় দায়ের করা রতন শেখ (৪৫) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শ্রাবণ (২৮)–কে রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১০।

র‌্যাব-১০ সূত্র জানায়, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে র‌্যাব-১০ এর সিপিসি-২ শ্রীনগর এবং সিপিএসসি লালবাগ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই ২০২৫ রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে রতন শেখের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। এরপর তিনি বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে তার স্ত্রী ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরবর্তীতে লোকমুখে খবর পেয়ে ভিকটিমের স্ত্রী জানতে পারেন যে, ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিগ্রীরচর নমডাঙ্গীর ডকইয়ার্ড এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি অজ্ঞাতনামা লাশ ভাসছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার স্বামী রতন শেখের লাশ শনাক্ত করেন।

তদন্তে উঠে আসে, একই দিন রাত আনুমানিক ৪টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে কয়েকজন ব্যক্তি পরস্পর যোগসাজশে রতন শেখকে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৫৮, তারিখ ২৮ জুলাই ২০২৫, দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং অভিযানে নামে।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ থানাধীন বেরীবাঁধ এলাকা থেকে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শ্রাবণ (২৮)–কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শ্রাবণের পিতার নাম ফরহাদ শেখ। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন ফরিদাবাদ এলাকায়।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন,
“রতন শেখ হত্যা মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

র‌্যাব আরও জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হত্যা ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ প্রাণ গেল দু’জনের

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৪ পিএম
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ প্রাণ গেল দু’জনের

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক ছাত্রদল নেতাসহ দুইজনের প্রাণহানি হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।

নিহত ছাত্রদল নেতার নাম আবিদ হাসান মুন্না (২০)। তিনি সরকারি আইনউদ্দিন কলেজ শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুন্না মধুখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গাড়াখোলা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী আরিফ বিশ্বাসের একমাত্র সন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ফরিদপুর চিনিকলের সামনে মোটরসাইকেলযোগে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার শিকার হন মুন্না। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন।

এর আগে একই দিন সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার ব্রাহ্মণকান্দা বাজার এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় জয়নাল মোল্লা (৬৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জয়নাল মোল্লা রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব লুৎফর মোল্লার পিতা।

করিমপুর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

“ফরিদপুর-১ এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধের আশঙ্কা, সংবাদ সম্মেলনে দোলনের অভিযোগ”

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫১ পিএম
“ফরিদপুর-১ এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধের আশঙ্কা, সংবাদ সম্মেলনে দোলনের অভিযোগ”

সংবিধান, প্রচলিত আইন ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) লঙ্ঘন করে ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাজ প্রতীকের মোহাম্মদ আরিফুর রহমান দোলনকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রাম এলাকার নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আরিফুর রহমান দোলন অভিযোগ করে বলেন, তিনি সংবিধান ও নির্বাচনী আইনের সকল শর্ত পূরণ করেও একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস না পেয়ে একটি মহল আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে তাকে নির্বাচনী ময়দান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে সুবিধা দিতেই তার বিরুদ্ধে এই বেআইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে ফরিদপুর-১ আসনে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য মাঠ ফাঁকা করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

দোলন বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (RPO) কোথাও উল্লেখ নেই যে অতীতে কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। তারপরও সেই অতীত রাজনৈতিক পরিচয়কে অজুহাত বানিয়ে তার প্রার্থিতা আটকে দেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্টতই আইনের অপব্যবহার। তিনি বলেন, যেখানে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা প্রার্থীরাও উচ্চ আদালতের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, সেখানে সব ধরনের বৈধ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বাধা দেওয়া চরম বৈষম্য।

তিনি আরও বলেন, অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আদালতের আদেশের লিখিত কপি দ্রুত সরবরাহ করা হলেও তার ক্ষেত্রে সেই কাগজ ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ফরিদপুর-১ আসনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার উৎসাহ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

দোলনের দাবি, প্রার্থিতা স্থগিত রেখে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সাজানো ও প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ তৈরি করা হচ্ছে ফরিদপুর-১ আসনে। এতে নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সব চক্রান্ত মোকাবিলা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, যেন বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুর-৪ আসনে নিক্সন চৌধুরীর কালো টাকা ছাড়ানোর অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৭ পিএম
ফরিদপুর-৪ আসনে নিক্সন চৌধুরীর কালো টাকা ছাড়ানোর অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-৪ আসনে সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর প্রভাব বিস্তার নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সদরপুর নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম বাবুল দাবি করেন, ‘নিক্সন চৌধুরী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তার ঘনিষ্ঠ সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগকে ‘ছায়া প্রার্থী’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। একই সঙ্গে কালো টাকা ছড়িয়ে নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, এভাবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রও চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এসময় নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক যারা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান শহিদুল ইসলাম বাবুল। এসব ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের মুজাহিদ বেগ বাবুলের এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএনপি প্রার্থী বাবুল নিজেই ফরিদপুরে-৪ আসনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাদের পুনর্বাসিত করছেন।