খুঁজুন
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে শত বছরের প্রাচীন মেলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ 

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শত বছরের প্রাচীন মেলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ 

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে প্রধান অতিথি করা হয়েছে বিগত আমলে টাকার কুমির বনে যাওয়া শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে। আর বিশেষ অতিথি করা হয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরেক নেতাকে৷ এমনকি অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ পাননি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও। এ নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়িতে ২৬ সেপ্টেম্বর আয়োজন করা হয়েছে এই নৌকা বাইচ ও মেলার। আর ওই অনুষ্ঠান সফল করতে চলছে ব্যাপক আয়োজন। ইতোমধ্যে এ উপলক্ষে উপজেলাজুড়ে সাঁটানো হয়েছে রঙিন পোস্টার। ওই পোস্টার প্রধান অতিথি হিসেবে নাম লেখা রয়েছে ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সাবেক সভাপতি আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদারের। আর বিশেষ অতিথি করা হয়েছে খন্দকার ওমর হাফিজ মুক্তি। অবশ্য পোস্টারে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ না করে তাদের ব্যবসায়িক পরিচিতি উল্লেখ করা হয়েছে। আর ওই নৌকা বাইচ ও মেলার উদ্বোধক হিসেবে রয়েছে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরীর নাম।

জানা গেছে, আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদার ছাত্রাবস্থায় বুয়েটে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারের চাচাতো ভাই। বিয়ে করেছেন বরিশাল-১ থেকে পাঁচবার নির্বাচিত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ফুফাতো বোনকে। মূলতঃ সেই সুবাদেই তিনি শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হয়ে উঠেন এবং সালমান এফ রহমান ও ওয়াসার সাবেক এমডি তাকসিম আহমেদ খানের আশীর্বাদ পেয়ে গত ১৭ বছর বড় বড় ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেন। সম্প্রতি ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডেভিড শিকদারের টাকার কুমির হয়ে বনে যাওয়ার কাহিনী নিয়ে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুপস্থিতিতে তিনি এই টাকার জোড়েই নিজের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে এলাকায় তৎপরতা শুরু করতে যাচ্ছেন। আর সেখানে কিছু বিএনপি ঘরোনার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেও তিনি হাত করে ফেলেছেন।

বোয়ালমারী সরকারি ডিগ্রী কলেজের ছাত্রদলের সাবেক এজিএস ও জিএস এবং উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো: রোকনুজ্জামান মিয়া বকুল বলেন, তেলজুড়ির নৌকাবাইচ ও মেলার যেই মাইকিং শুনছি, সেখানে দেখতে পাচ্ছি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ডেভিড শিকদারকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত শিকদারের চাচাতো ভাই ডেভিড শিকদার গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আয়োজক কমিটির সভাপতি রইসুল ইসলাম পলাশ এর আগে উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন মুসা মিয়ার নির্বাচন করেছেন। এখন তাদের টাকা দিয়ে ডেভিড শিকদার ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে কার্যত আওয়ামী লীগকেই পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, তারা যেনো এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।

শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেন, আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও ওই মেলা কারা মেলাচ্ছে, কিভাবে মেলাচ্ছে তার কিছুই জানিনা। শুধু এটুকু জেনেছি যে, সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের দিয়ে ওই অনুষ্ঠানের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পোস্টারে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের নাম আছে। ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমার নাম পোস্টারে থাকাতো দুরের কথা, দাওয়াতও পাই নাই। এটা খুবই দুঃখজনক। তারা শেখর ইউনিয়নে একটা রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে। আমিতো কোন বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের চেয়ারম্যান না। অথচ একজন চেয়ারম্যান হিসেবে আমি এবিষয়ে অবগত না।

তিনি বলেন, গত বছরেও মেলায় অনেক অনিয়ম হয়েছে। সকলেই জানেন কিভাবে বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। তবে এসব নিয়ে বলার কোন জায়গা নেই।

এ বিষয়ে তেলজুড়ী নৌকা বাইচ ও মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি রইসুল ইসলাম পলাশ ১৯ বছর বোয়ালমারী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, এটা আমাদের দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা। এর আগে যখন আওয়ামী লীগের আমলেও মেলা হয়েছে তখনো আমি সভাপতিত্ব করছি। আমরাই নেতৃত্ব দিয়েছি। এখন আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না, তার আগেই যদি এলাকার লোকজনকে বাদ দিয়ে মেলা করি সেটা কেমন দেখায়। এজন্যই আমরা এলাকার সকলকে সাথে নিয়ে তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এমনকি কোন রাজনীতিবিদকেও রাখিনি। তাছাড়া পোস্টারে আমাদের কারো রাজনৈতিক পরিচয় বা পদপদবিও উল্লেখ করা হয় নাই।

রইসুল ইসলাম পলাশ বলেন, আগামী শুক্রবার ২৬ সেপ্টেম্বর এ নৌকা বাইচের পাশাপাশি গ্রামীণ মেলায় ইলিশ মাছ, গ্যান্ডারি কুশর, আমিত্তি জাতীয় মিষ্টি সহ সাধারণ গ্রাম্য মেলার মতো নানান পণ্য ও শিশুদের মনোরঞ্জনের বিভিন্ন সমাহার হবে মেলায়। আমরা আশা করছি সবাইকে সাথে নিয়ে এলাকার ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই মেলা শেষ করতে পারবো।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে নাম্বারটা বন্ধ পাওয়া যায়।

বোয়ালমারীতে নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলার একমাত্র নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নির্যাতন, দখলবাজি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতা।

শনিবার (৯ মে) বিকেল ৩টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার মাদ্রাসা মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুকুল। এসময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান বাবু, বিএনপি নেতা মফিজুল কাদের খান মিল্টন, পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মনির হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বর্তমানে প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সম্প্রতি মোড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও সাকিবুর রহমানকে জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং একটি নির্যাতনকেন্দ্রে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

এছাড়া শেখর গ্রামের একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ মামলা দায়েরেরও অভিযোগ তোলা হয়। ওই মামলায় উপজেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রইসুল ইসলাম পলাশসহ কয়েকজন নেতাকে আসামি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কাটাগড় মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঁদাবাজি হয়েছে। মেলায় দোকান বরাদ্দ ও অবৈধ নিলামের মাধ্যমে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয় চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। মেলার আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাগডাঙ্গা গ্রামের ফাহমিদা ইসলাম নামে এক নারীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি এবং তার বসতভিটার গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় চেয়ারম্যানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই নারীর জমি দখলের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বক্তারা দাবি করেন, শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নে একটি ‘নব্য বিএনপি চক্র’ প্রভাব বিস্তার করে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে এবং দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বিএনপি নেতারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান কামাল আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফরিদপুরে ১০ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী জুহি ও তার মা, উৎকণ্ঠায় পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ১০ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী জুহি ও তার মা, উৎকণ্ঠায় পরিবার

ফরিদপুর শহরে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ও তার মা গত ১০ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর নাম ফাতেমাতুজ জহুরা ওরফে জুহি। সে ফরিদপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার মা এলিজা শারমিন (৪৮)। তারা ফরিদপুর শহরের লাক্সারী হাসান টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় পরিবারসহ বসবাস করতেন।

নিখোঁজ শিশুর বাবা জামাল উদ্দিন ওরফে কানু শুক্রবার (৮ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে মেয়ে ও স্ত্রীর সন্ধান চেয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে জুহি তার মায়ের সঙ্গে ঘুরতে বের হওয়ার পর থেকে আর বাসায় ফেরেনি। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

শনিবার (৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কানু জানান, সম্ভাব্য আত্মীয়স্বজনের বাসা, পরিচিত স্থানসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও তাদের সন্ধান মেলেনি। তিনি বলেন, “জুহির মা মানসিকভাবে অসুস্থ। এর আগেও প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বার তিনি এভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে পরে ফিরে এসেছেন। তাই প্রথমদিকে বিষয়টিকে স্বাভাবিক ভেবেছিলাম। কিন্তু ১০ দিন পার হলেও তারা ফিরে না আসায় আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। আজ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, কেউ জুহি ও তার মায়ের সন্ধান দিতে পারলে তাকে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “মা ও মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তাদের খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সালথায় সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ১০

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
সালথায় সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ১০

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নে চলমান দাঙ্গা, সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। 

শনিবার (০৯ মে) বিকেলে আটক ব্যক্তিদের ফরিদপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী, বালিয়া গট্টি, মেম্বার গট্টি, কসবা গট্টি, দোহার গট্টি ও মীরের গট্টি এলাকায় কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার (০৮ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় সালথা থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের নুরু খানের ছেলে আজিজুল খান (২২), মৃত শেখ সাহিদের ছেলে আব্দুল হক (৫৫), মৃত জলিল মাতুব্বরের ছেলে রহমান মাতুব্বর ওরফে রব্বান মাতুব্বর (৩০), বালিয়া গট্টি এলাকার পাচু শেখের ছেলে রিয়াজ শেখ (২৫), লাবলু মোল্যার ছেলে জাহিদ মোল্যা (৪০), দোহার গট্টি এলাকার আরশেদ মাতুব্বরের ছেলে লাবলু মাতুব্বর (৩৫), লুৎফর মিয়ার ছেলে টুকু মিয়া (৪০), কাঠিয়ার গট্টি এলাকার সোহরাব শরীফের ছেলে ইশারত শরীফ (৩৩), বাদশা মাতুব্বরের ছেলে সুমন মাতুব্বর (২২) এবং মীরের গট্টি এলাকার সামচু শেখের ছেলে সোহেল শেখ (২৪)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ইউপি সদস্য নুরু মাতুব্বর ও বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তারা দুজনই এলাকায় প্রভাবশালী গ্রাম্য মোড়ল হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তাদের সমর্থকদের মধ্যে অন্তত ১০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সহিংসতায় দুই শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙচুর এবং কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শনিবার (০৯ মে) বিকেলে আটক ১০ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।