খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে স্কুল শিক্ষক অপহরণ কান্ডের নেপথ্যে যা পাওয়া গেল!

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৭:২৩ পিএম
ফরিদপুরে স্কুল শিক্ষক অপহরণ কান্ডের নেপথ্যে যা পাওয়া গেল!
ফরিদপুরে শংকর বৈরাগী (৪৫) নামে এক স্কুল শিক্ষক অপহরণের তুলকালাম কান্ডের তথ্যা খুঁজতে গিয়ে নেপথ্যে বেরিয়ে এসেছে তার সাথে একাধিক ছাত্রীর অশ্লীলতার ঘটনা। এ ঘটনায় এক ছাত্রীর সাথে অশ্লীল ছবি আদান-প্রদান, কথাবার্তার তথ্য বের হয়েছে। শিক্ষকের সাথে ওই ছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে অপহরণের ঘটনায় কোতয়ালী থানায় গতকাল রোববার মামলা দায়ের করেছেন ওই শিক্ষক শংকর বৈরাগী। আজ সোমবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান।
জানা যায়, শংকর বৈরাগী শহরের ঈশান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ওই স্কুলের নবম-দশম শ্রেণিতে গণিতের ক্লাস নিতেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হলের সামনে থেকে একটি রিক্সা যোগে কয়েক যুবকের সাথে চলে যায়। এরপর আধাঘন্টার মধ্যে তার স্ত্রী কোতয়ালী থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন এবং তাঁর স্বামী অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে পুলিশকে জানান।
ওই শিক্ষকের স্ত্রীর কথামত কোতয়ালী থানা পুলিশ ৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১০ টার দিকে ফরিদপুর শহরের আদমপুর মোল্যাডাঙ্গীর কালাম মোল্যার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে শিক্ষক শংকর বৈরাগীকে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষক বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অপহরণ মামলা করেছেন। মামলায় শহরের গুহলক্ষীপুরের সেকেন্দার আলী মোল্যার ছেলে আশিকুজ্জামান সানিমকে (২৮) একমাত্র আসামী করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিদ্যালয়টি দুইজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর (ক ও খ) সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই শিক্ষক তার বাসায় ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়াতেন। সেই সুবাদে ছাত্রীদের পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের আশ্বস্ত করে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। রাজি না হলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিত শিক্ষখ। এই সুযোগে এক ছাত্রীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে সে (শিক্ষক)। পরে ওই ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি তারা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শামসুন নাহারকে গত তিন মাস আগে অবগত করেন। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেন এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ওই শিক্ষক।
এ ব্যাপারে ঈশান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শামসুন নাহারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সবকিছুর উর্ধ্বে শিক্ষক অপহরণের বিচারের দাবি করেন। এ ঘটনায় কিছু অভিযোগ পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি আজ পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি এবং অশ্লীল কিছু দেখিনি। তারপরও মৌখিকভাবে আমাকে জানালে, আমি ওই শিক্ষককে নবম-দশম শ্রেণির ক্লাস নিতে নিষেধ করেছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী (ক) জানান, স্যারের (শংকর বৈরাগী) একাধিক ছাত্রীর সাথে কুকর্ম রয়েছে। কিছুদিন আগে স্কুল থেকে স্যার আমাকে ডেকে শারিরীক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয় এবং টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। আমি রাজি না হওয়ায় পরীক্ষা দিতে দিবে না বলে হুমকি দেয়। স্যারের অনেক বড় আপুদের সাথেও এরকম ঘটনা এর আগে ঘটিয়েছে। আমার এক বান্ধবীর (গ) সাথেও শারিরীক সম্পর্ক করেছে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে বললে তিনি চুপ থাকার কথা বলেন। বিষয়টি জানাজানি করলে পরীক্ষা দিতে দিবে না বলে ম্যাডামও হুমকি দেন। তখন আমার পরিবারকে জানাই। পরে এলাকার বড় ভাইদের ঘটনাটি জানানো হয়। বর্তমানে আমি স্কুলেও যেতে পারতেছি না।
‘ক’ ছাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, একই ‘গ’ ছাত্রীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয় ওই শিক্ষকের। তাকে পড়ালেখার বিভিন্ন খরচের জন্য টাকাও দিতেন এবং প্রাইভেট পড়ানোর নামে বাসায় ডেকে নিতেন। তাঁদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটিংয়ে অশ্লীল কথাবার্তা হয়। এমন কয়েকটি স্ক্রিনশর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, ওই ছাত্রী একাধিক স্পর্শকাতর ছবি তুলে দেন। শিক্ষকও অশ্লীল কথাবার্তা আদান প্রদান করেন।
বিষয়টি নিয়ে ‘গ’ ছাত্রীর সাথে যোগাযোগের পর তিনি জানান, এই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ার সুবাদে তাকে পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের এবং চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কুপ্রস্তাবে রাজি হতে বলতেন। এভাবে একদিন সকাল ৯ টায় প্রাইভেট পড়ানো হবে বলে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে জানান। পরে সেখানে গেলে অন্য কাউকে দেখতে পায়নি ওই ছাত্রী। তখন তাকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। ওই ছাত্রী হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটিংয়ে অশ্লীল ছবি দেওয়ার বিষয়ে জানান, টেষ্ট পরীক্ষায় ফেলের ভয় দেখিয়ে তার অশ্লীল ছবি নিতেন শিক্ষক শংকর বৈরাগী।
অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, এসব ঘটনার কয়েকটি স্ক্রিনশর্ট ও ছবি ওই ছাত্রীর মোবাইল থেকে গোপনে নিয়ে নেন আরেক বান্ধবী ‘খ’ (শহরের আদমপুরের বাসিন্দা)। পরে তার বান্ধবীর মাধ্যমে ওই ছবি চলে যায় শিক্ষকের (শংকর বৈরাগী) করা মামলার আসামি আশিকুজ্জামান সানিমের কাছে। এই ছবিগুলো নিয়ে শিক্ষক শংকর বৈরাগীর সাথে তারা যোগাযোগ করেন। এমনকি পূর্বে সানিম এ ঘটনায় টাকাও নিয়েছে বলে ফরিদপুর জিলা স্কুলের ইংরেজী শিক্ষক মো. রেজভী জানান।
ঘটনার দিন শংকর বৈরাগীর সাথে হাটাহাটি করছিলে শিক্ষক মো. রেজভী। রেজভী বলেন, ১০ মিনিট কোচিংয়ে পড়ানোর কথা বলে মোবাইলের মাধ্যমে আমাদের এক ব্যক্তি স্প্রিং হিল হাসপাতালের পাশে যেতে বলেন। আমরা তিনজন শিক্ষক হেঁটেই ওই এলাকায় যাচ্ছিলাম। হঠাৎ সানিমসহ কয়েকজন এসে শংকর স্যারকে রিক্সায় উঠিয়ে নিয়ে যান। স্যারও কোনো ধস্তাধস্তি না করে তাদের সাথে চলে যায়। পরে তার স্ত্রীকে ঘটনাটি আমরা জানাই।
বিষয়গুলো নিয়ে আরো জানতে যোগাযোগ করা হয় আশিকুজ্জামান সানিমের সাথে। তিনি ছাত্রীকে এলাকার ছোটবোন দাবি করে বলেন, শংকর বৈরাগী স্যার ব্ল্যাকমেইল করে আমার এলাকার ছোট বোনকে ধর্ষণ করছে বলে জানতে পারি। এমনকি আমরা প্রমাণও পাই। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য স্যার নামে এক ধর্ষনকারীকে আমরা ধরে নিয়ে আসছিলাম। এটা যদি আমাদের অপরাধ হয়ে থাকে এবং আমরা যদি অপহরণ করে থাকি তাহলে শাস্তি মাথা পেতে নেব। এ ঘটনার পেছনে তথ্যগুলো তদন্ত করে ওই শিক্ষককে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান তিনি।
তবে শিক্ষক শংকর বৈরাগী অপহরণের বিষয়টি দাবি করে বলেন, ছাত্রীদের সাথে যৌন হয়রানির বিষয়টি মিথ্যা। অপহরণের পর আমাকে মারধর করেন চক্রটি। আমাদেরকে (হাটাহাটি করা তিন শিক্ষক) মিথ্যা কথা বলে ওই চক্রের সদস্যরা অম্বিকার পাশে নিয়ে বলে এক ছাত্রীর সাথে আপনার সম্পর্ক আছে। ওই ছাত্রীর ভাই আপনাকে মারবে। আপনি এখান থেকে দ্রুত চলে যান। এ সময় রিক্সায় উঠে যেতে গেলে সানিম আমার রিক্সায় উঠে মুখ চেপে ধরে নিয়ে যায়। আমার পরিবার পুলিশকে বিষয়টি জানালে আমাকো উদ্ধার করে।
ওই ছাত্রীদের সাথে আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে দাবি করেন। এদিকে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা ওই শিক্ষকের বিচারের দাবী জানিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান জানান, এ ঘটনায় শিক্ষক শংকর বৈরাগী থানায় অপহরণের এজাহার দেওয়ায় আমরা মামলা নিয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ওই শিক্ষকের বিচারের দাবী জানিয়ে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী পুলিশ সুপার স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। ওই অভিযোগটিও আমার কাছে এসেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তার কাছে দিয়েছি।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।