খুঁজুন
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৪ চৈত্র, ১৪৩২

ভাঙ্গায় ট্রাক–অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, গুরুতর আহত ২

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:২৯ এএম
ভাঙ্গায় ট্রাক–অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, গুরুতর আহত ২

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ভাঙ্গা–খুলনা মহাসড়কের মুনসরাবাদ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ও ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা থেকে খুলনাগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ, স্থানীয় থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম–পরিচয় জানা যায়নি।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর কিছু সময় ভাঙ্গা–খুলনা মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে অস্বচ্ছল জাকেরদের মাঝে চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পুঁজি সহায়তা বিতরণ

মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ২:২২ পিএম
ফরিদপুরে অস্বচ্ছল জাকেরদের মাঝে চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পুঁজি সহায়তা বিতরণ

অস্বচ্ছলদের স্বাবলম্বী করতে জাকেরদের মাঝে কর্মসংস্থান সহায়তা হিসেবে পুঁজি ও মূলধন বিতরণ করেছে হযরত শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন।

শনিবার (২৮ মার্চ) বাদ ফজর ফরিদপুরের সদরপুরে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে এ সহায়তা দেয়া হয়।

চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর জামানার মোজাদ্দেদ হযরত শাহ্ সূফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহ.) পীর কেবলাজানের বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে এই অনুদান বিতরণ করা হয়।

অনুদান প্রদান করেন চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের গদীনশীন পীর ও জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ সূফী সৈয়দ কামরুজ্জামান।

অস্বচ্ছলদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করতে এককালীন আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী উপকরণ প্রদান করে ফাউন্ডেশনটি।

এদিকে, বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মুরিদ, আশেক-জাকের ও ভক্তরা দরবার শরীফে সমবেত হন। এদিন বাদ জুম ’আ থেকে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, মিলাদ-কিয়াম, জিকির-আজকার ও শরীয়ত-তরিকত সম্পর্কিত ওয়াজ মাহফিল হয়।

শনিবার বাদ ফজর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত ও আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টির সুখ-শান্তি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য কামনা করা হয়।

 

নগরকান্দায় যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৩ পিএম
নগরকান্দায় যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে লস্করদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলু মোল্যা (৬০)-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার বিনোকদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় বাবলু মোল্যাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাবলু মোল্যা বিনোকদিয়া গ্রামের জাফর মোল্যার ছেলে।

এ ঘটনায় রাত প্রায় ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে একই গ্রামের নজরুল মোল্লা এবং তার ছেলে রুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাবলু মোল্যার সঙ্গে নজরুল মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে এ বিরোধের জেরে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নজরুল মোল্লার ছেলে রুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লা বাবলু মোল্যার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

২০১৩ সালের সাভারের রানা প্লাজা ধসে তিনদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই নাসিমা দীর্ঘ ১০ বছর জীবনের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়।

গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকা ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নাসিমাসহ একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাসিমা বেগম তার ভাগনি, ভাগনি জামাই ও তাদের কোলের শিশুকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদী থেকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ।

নাসিমা বেগমের জীবনের পুরো অধ্যায়টিই ছিল শোক আর সংগ্রামের। ২০১৩ সালে যখন রানা প্লাজা ধসে পড়ে, তখন তিনি ওই ভবনের একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। যমের দুয়ার থেকে ফিরে আসার পর দীর্ঘদিন গ্রামে কাটান তিনি। কিন্তু স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর অভাবের তাড়নায় আবারও গার্মেন্টসের কাজে যোগ দিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। আর সেই যাত্রাই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে জরুরি সহায়তা হিসেবে নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।