খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্য নেতাদের চরম উপলব্ধির মুহূর্ত

মালিহা লোধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:১১ পিএম
মধ্যপ্রাচ্য নেতাদের চরম উপলব্ধির মুহূর্ত

কাতারে ইসরায়েল কর্তৃক আক্রমণ ছিল আরব এবং মুসলিম সরকারগুলোর জন্য একটা চরম সত্য উপলব্ধির মুহূর্ত। কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের আক্রমণ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এবং তার বাইরের দেশগুলোকেও কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

কাতার ছিল এ অঞ্চলের ষষ্ঠ দেশ, যারা ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হয়েছিল। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ইসরায়েল লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সিরিয়া ও তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু কাতারের ওপর বিমান হামলা ছিল উপসাগরীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম। কাতারকে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ-ন্যাটো বা সামরিক মিত্র। একাধারে প্রায় দুই বছর ধরে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ এবং গণহত্যা চালিয়ে আসছে, যেখানে ৬৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে।

দোহার ওপর হামলার পর আয়োজিত জরুরি আরব/ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েল যেভাবে এই অঞ্চলে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, তা থেকে দেশটিকে বিরত রাখার জন্য জোরালো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা ছিল। আরব লিগ এবং ওআইসির অসাধারণ যৌথ অধিবেশনে বিশ্বের দুই বিলিয়ন মুসলিমের প্রতিনিধিত্বকারী প্রায় ৬০টি দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শীর্ষ সম্মেলনের সুর ছিল গম্ভীর ও কঠোর। কাতারের সঙ্গে সংহতি ঘোষণা করে, ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করে এবং গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যা, জাতিগত নির্মূল, অনাহার ও অবরোধের অপরাধ’ নিন্দা করে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয় তারা। এতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের কাছেই একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছেছে। কিন্তু শীর্ষ সম্মেলনে ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ যৌথ বিবৃতিতে ‘ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে বাধা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রগুলোকে সম্ভাব্য সব আইনি এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের’ আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় ছিল, যেখানে ‘ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক উপকরণ সরবরাহ, স্থানান্তর বা ট্রানজিট স্থগিত করা, এর সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব পৃথক দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব পৃথক দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়ে শীর্ষ সম্মেলনে কোনো সম্মিলিত পদক্ষেপে সম্মতি জানানো হয়নি, এমনকি যেসব দেশ এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তাদের সম্পর্ক স্থগিত করতে বা ইসরায়েলি বিমানের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করতে বলা হয়নি। এমনকি সবচেয়ে ন্যূনতম রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। বিশাল সম্পদ, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ এবং ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও আরব রাষ্ট্রগুলো কূটনৈতিকভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল।

কিছু নেতা বাস্তব পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিই গৃহীত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছিলেন, স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে এটি অতীতে কাজ করেছিল।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদ পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধ করার জন্য একটি আরব/ইসলামিক টাস্কফোর্স তৈরির ধারণাটি সামনে রেখেছিলেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ‘কঠোর, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ’ প্রস্তাব করেছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ অন্যরা দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কিছু আরব বিশ্লেষকের মতে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের অর্থাৎ ওআইসির ‘একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার’ পরিকল্পনাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হতো। জিসিসি সদস্যদের একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যার অধীনে একজন সদস্যের ওপর আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য অনেক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করে। এটি একটি কার্যকর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে কি না, তা এখনো দেখা যায়নি। তবে, শীর্ষ সম্মেলনের কয়েক দিন পর ঘোষিত পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তির দ্বারা এর তাৎপর্য ম্লান হয়ে গেছে।

কাতারের ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট। এটি গাজায় যুদ্ধবিরতির সূক্ষ্মতম সম্ভাবনাকেও দূর করে দিয়েছে। হামাসের আলোচক দলের সদস্য, যারা যুদ্ধবিরতির জন্য একটি নতুন মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে জড়ো হয়েছিল। ইসরায়েল তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল, যা তেল আবিবের শান্তি আলোচনায় আগ্রহের অভাব তুলে ধরে।

কাতারের শাসক শেখ তামিম আল থানি শীর্ষ সম্মেলনে যেমন বলেছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের ওপর হামলা প্রমাণ করে যে, ইসরায়েলের ‘শান্তিতে প্রকৃত আগ্রহ নেই’ এবং তারা ‘আলোচনা ব্যর্থ করতে’ চাইছে। যদিও ইসরায়েলি হামলায় হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা সম্ভব হয়নি, তবুও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেখানেই হামাস নেতাদের পাওয়া যাবে, সেখানে আরও হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তেল আবিব সফরের পর দোহা যাওয়ার পথে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন চায় কাতার মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে যাক কিন্তু যুদ্ধবিরতির জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে। বিদ্রূপাত্মক বিষয় হলো, দোহায় হামলা বা হামলার নিন্দা করা থেকে ইসরায়েলকে থামাতে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই করেনি। গাজা যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র বাধা, যারা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ঠেকাতে ভেটো ব্যবহার করেছে। গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি ছিল ষষ্ঠ ভেটো, যদিও কাউন্সিলের অন্য সব সদস্য শান্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে, দোহায় ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কারণে মার্কিন বিশ্বাসযোগ্যতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি তাদের নিকটতম মিত্র এ অঞ্চলে বৃহত্তম আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকারী এবং ট্রাম্প যার সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক দাবি করেন এমন অন্য কোনো রাষ্ট্রকে আক্রমণ করতে পারে, তবে এটি এ অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসেবে মার্কিন ভূমিকার প্রতি আস্থা জাগায় না। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে আটকাতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক প্রমাণিত হওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ছাতার ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রগুলো এরই মধ্যে নিরাপত্তা অংশীদারত্বের মূল্য বা নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

কাতারের জন্য শিক্ষাটিও স্পষ্ট। ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং তাকে একটি বোয়িং উপহার দিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না। তোষামোদ কোনো নিরাপত্তা গ্যারান্টার নয়।

পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে এমন প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করতে হবে। এ চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে একটি মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সময় এনেছে। কাতারে ইসরায়েলি হামলার কয়েক মাস আগে নিরাপত্তা চুক্তির জন্য আলোচনা হয়েছিল। পাকিস্তান-সৌদি আরব প্রতিরক্ষা চুক্তি তাই ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা এবং জোট পরিবর্তনের আরেকটি লক্ষ্য। কিন্তু চুক্তির বিষয় ঘোষণার সময় ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, উপসাগরীয় দেশটির ওপর আক্রমণ এবং এ অঞ্চলে ইসরায়েলের অনিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন চুক্তি স্বাক্ষরকে ত্বরান্বিত করেছে, রিয়াদ তার নিরাপত্তা অংশীদারত্বকে বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে এবং পাকিস্তান তার বিকল্পগুলো প্রসারিত করছে। ঐতিহাসিক চুক্তির অধীনে উভয় দেশই একটির ওপর আক্রমণকে ‘উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন’ হিসেবে বিবেচনা করবে।

যদিও চুক্তির সুদূরপ্রসারী প্রভাব মূল্যায়ন একটি পৃথক বিষয়, তথাপি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর ক্ষয়িষ্ণু আস্থার প্রতিফলন, যা অপ্রত্যাশিত ছিল। ইসরায়েলের প্রতি অন্ধ সমর্থন তাদের নিরাপত্তা হুমকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অতএব, সৌদিরা একটি কৌশল অনুসরণ করছে এবং ‘যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধের’ জন্য পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে। এটি ভূ-কৌশলগত গতিশীলতা ও পরিবর্তনশীল জোটের আরেকটি ইঙ্গিত, যা আজ আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক দৃশ্যপটকে মৌলিকভাবে পুনর্গঠিত করছে।

লেখক: পাকিস্তানি কূটনীতিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং জাতিসংঘে পাকিস্তানের সাবেক প্রতিনিধি। লেখাটি পাকিস্তানের ইংরেজি সংবাদপত্র দ্য ডন-এর মতামত বিভাগ থেকে ভাষান্তর করেছেন মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ, পিএইচডি

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।