খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

সদরপুরে অবাধে বালুর ব্যবসা : বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চাকায় পিষ্ট গৃহবধূ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০২৫, ১২:১৩ পিএম
সদরপুরে অবাধে বালুর ব্যবসা : বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চাকায় পিষ্ট গৃহবধূ
ফরিদপুরের সদরপুরে অবাধে চলে দিনরাত অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা। স্থানীয়রা বাধা দিলেও প্রশাসনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বরং প্রশাসনকে বৃদ্ধাআঙুল দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে বালুর ব্যবসা। অনেকের অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি ও আ’লীগের লোকজন যোগসাযোগে মিলিত হয়ে অবাধে লুটে নিচ্ছে পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদ নদী থেকে বালুমাটি। তাদের বেপরোয়ারা ও খামখেয়ালীপনায় সোমবার অবৈধ বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের চাকায় পৃষ্ট হয়ে এক গৃহবধুর নির্মম মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ ওই ঘাতক ড্রামচালক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চাপা দিয়ে হত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সকালে নিহতের মরদেহ ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার রাত ১০টার দিকে ভাষানচর ইউনিয়নের আদু বেপারীর ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধু উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের আদু বেপরীর ডাঙ্গী গ্রামের বাচ্চু বেপারীর স্ত্রী রোজিনা বেগম (৩৫)। তার সংসারে দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।  তার বড় ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত ও প্রথম কন্যার বিয়ে হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত পরিবারের নিচু ভিটা বালু দিয়ে ভরাটের জন্য স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী রিংকু খানের সাথে চুক্তি করে তার স্বামী বাচ্চু বেপারী। এক সপ্তাহ ধরে ওই বাড়ির ভিটায় বালু ফেলানোর কার্যক্রম চলছে।  ওইদিন রোজিনার স্বামী বাচ্চু ও রিংকু খানের সাথে ভরাটের টাকা নিয়ে মনমানিল্য সৃষ্টি হয়।
সোমবার (১৭মার্চ) রাত ১০টার দিকে রোজিনা বাড়ির উঠানের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল রোজিনা বেগম ও বালু ব্যবসায়ী রিংকু খান। বালুর ট্রাকের ড্রাইভার সোহেল মাতুব্বর (২৭) অন্যত্র অর্ধেক ট্রাক বালু ফেলায় রোজিনার সাথে ড্রাইভারের ও কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায় ড্রাইভার ক্ষিপ্ত হয়ে রোজিনার শরীরের উপর দিয়ে ড্রাম ট্রাক চালিয়ে চাপা দেয় ড্রাইভার সোহেল চাপরাশি।  ওই সময় রোজিনার স্বামী বাচ্চু চিৎকার শুরু করলে ড্রাইভার ও রিংকু খান ট্রাক রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন বাচ্চু বেপারী। ঘটনাস্থলেই রোজিনার শরীরের বুকের নিচের অংশ পৃষ্ট হয়ে দেহের বিভিন্ন অংশ বের হয়ে নিহত হয়। এ ঘটনায় বাদী হয়ে রোজিনার স্বামী বাচ্চু বেপারী ৫ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বালুবাহী  ড্রাম ট্রাক জব্দ করে ওই গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
ঘটনার বিষয়ে সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মামুন জানান, রোজিনার স্বামী বাদী হয়ে ঘাতকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন। থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নিহতের মরদেহ ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বালু ভরাট প্রসঙ্গে জানা যায়, ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী গ্রামের আকবর আলী খানের পুত্র বালু ব্যবসায়ী রিংকু খানকে চুক্তি দেওয়া হয় ভরাটের জন্য। প্রতি গাড়ি দুই হাজার টাকা দরে। রিংকু খান দিনে বালু মাটি দিতে পারবেনা, দিতে পারবে শুধু রাতে। ওই কারণে রিংকু খান রাতে অবৈধভাবে নলেরটেক আকোটেরচর থেকে বালু এনে ভরাট করছিল। ঘাতক ড্রাইভার সোহেল চাপরাশি ঢেউখালী ইউনিয়নের বাবুরচর নতুন ডাঙ্গী গ্রামের নুরু চাপরাশির পুত্র। সোহেল একই ইউনিয়নের চরবলাশিয়া গ্রামের হায়দার বেপারীর ট্রাক চালক।
রিংকু প্রসঙ্গে এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার পিতা আলী আকবর খা স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির নেতা হওয়ার কারণে তার দাপটে অবাধে বালুর ব্যবসা করে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে রিংকু খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। বাবা বিএনপির নেতা প্রসঙ্গে জানান, আ’লীগের পোলাপান তো এখন কথা বলতে পারে না তাই এমন অভিযোগ।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।