খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

সদরপুরে বিএনপির কমিটি বাতিলের তিনদিন পরই ফের বহাল

শিশির খাঁন, সদরপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
সদরপুরে বিএনপির কমিটি বাতিলের তিনদিন পরই ফের বহাল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কাজী বদরুত জামান ও সদস্য সচিব মো. তরিকুল ইসলাম এর সমন্বয়ে গঠিত ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি বহাল রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে নতুন করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। এ ঘোষণায় সদরপুর বিএনপিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তবে সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দফায় দফায় সিদ্ধান্ত বদল করে সর্বশেষ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র।

কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত আসছে বলে জেলা কিংবা সদরপুর উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের দ্বিধাহীন চিত্তে তা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই বলে জানিয়েছে জেলা ও ওই উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

জন্মলগ্ন থেকে সদরপুর উপজেলা বিএনপির কমিটির সাথে বিতর্ক ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। জেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট অনুমোদন দেয় বিএনপির মহা সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ও সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন সদরপুর উপজেলা, আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর এবং ভাঙ্গা পৌর কমিটির অনুমোদন দেয়। ৩১ সদস্য বিশিষ্ট সদরপুর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি।

জেলা বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, ওই কমিটি চারটি গঠনের প্রক্রিয়া এবং যোগ্যব্যক্তিদের মূল্যায়ন না করে ‘পকেট কমিটি’ করা হয়েছে মর্মে জেলা বিএনপির কায়েকজন যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যসহ নয়জন এ অভিযোগ কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে লিখিতভাবে জানালে গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে সদরপুরসহ নব ঘোষিত চারটি কমিটির কাযক্রম স্থগিত করে কেন্দ্র। চলতি বছর ২০২৫ সালের ২০ মার্চ কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্থগিত করা চারটি কমিটির মধ্যে শুধুমাত্র সদরপুর উপজেলা কমিটির স্থগিতাদের প্রত্যাহার করেন।

এর মধ্যে গত ২ জুন এক চিঠিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে একটি চিঠি দিয়ে জানান, জেলার আওতাধীন সকল ইউনিট কমিটি আগামী জুলাই মাসের মধ্যে গঠন করে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে জেলা বিএনপি’র সম্মেলন আয়োজন করতে না পারলে ভেঙ্গে দেওয়া হবে চলমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি।

এ প্রেক্ষাপটে গত ১৪ জুন জেলা বিএনপি আগে গঠন করা চারটি ইউনিট কমিটি বাদে জেলার বাকি ১০টি ইউনিট কমিটি বিলুপ্ত করে ১৬ জুন থেকে ২৫ জুনের মধ্যে কর্মী সভা করে সম্মেলন প্রস্তুত আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়। নতুন চারটি কমিটি ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে বিষয়ে কেন্দ্রর সিদ্ধান্ত জানতে চায়। ওই দিন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ার চলমান অবস্থায় গত ২২ জুন ফরিদপুর বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিএনপির পুনর্গঠন সংক্রান্ত সাংগঠনিক টিম প্রধান বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ ও ফরিদপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সহ সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান ও সেলিমুজ্জামান সেলিম স্বাক্ষরিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে দেওয়া চিঠিতে জানান, ‘‘ইতিপূর্বে আলফাডাঙ্গা উপজেলা, আলফাডাঙ্গা পৌর, ভাঙ্গা পৌর এবং সদস্য স্থগিত প্রত্যাহারকৃত সদরপুর উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে কর্মীসভার মাধ্যমে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনে”-এর নির্দেশ দেয়।

এ চিঠি পাওয়ার পর জেলা বিএনপি যখন ওই কমিটিগুলি বিলুপ্ত করে কর্মীসভা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ঠিক সেই সময় গত ২৫ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ফরিদপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক কমিটি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে এক চিঠি দিয়ে জানান, ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলা বিএনপির কমিটি বহাল থাকবে। এছাড়া অন্য উপজেলার নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।

ওই চিঠিতে রুহুল কবির রিজভী জানান, ২৫ জুন বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ফরিদপুর বিভাগীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

রুহুল কবিরের এ নির্দেশনামূলক চিঠিটি শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে জেলা ও সদরপুর উপজেলা বিএনপির হাতে এসে পৌঁছায়।

সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুত জামান বলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এ নির্দেশনামূলক চিঠিটি গত শুক্রবার রাতে আমরা পেয়েছি। আমাদের কমিটি ভাঙ্গা হচ্ছে না এবং আমরা যথারীতি বহাল আছি। এটি আমাদের কাছে একটি আনন্দের সংবাদ। ঘোষিত চারটি কমিটির মধ্যে সদরপুর বহাল রেখে অন্য তিনটি ভেঙ্গে দেওয়ায় ‘এক যাত্রায় দুই ফল হল কেন’-জানতে চাইলে সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুত জামান বলেন, কেন্দ্র যেটা ভালো মনে করেছে সেটা করেছে।

প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া বলেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের সাথে আমাদের দ্বিমত পোষন করার সুযোগ নেই। আমরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।