খুঁজুন
, ,

সদরপুরে বিএনপির কমিটি বাতিলের তিনদিন পরই ফের বহাল

শিশির খাঁন, সদরপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
সদরপুরে বিএনপির কমিটি বাতিলের তিনদিন পরই ফের বহাল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কাজী বদরুত জামান ও সদস্য সচিব মো. তরিকুল ইসলাম এর সমন্বয়ে গঠিত ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি বহাল রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে নতুন করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। এ ঘোষণায় সদরপুর বিএনপিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তবে সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দফায় দফায় সিদ্ধান্ত বদল করে সর্বশেষ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র।

কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত আসছে বলে জেলা কিংবা সদরপুর উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের দ্বিধাহীন চিত্তে তা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই বলে জানিয়েছে জেলা ও ওই উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

জন্মলগ্ন থেকে সদরপুর উপজেলা বিএনপির কমিটির সাথে বিতর্ক ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। জেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট অনুমোদন দেয় বিএনপির মহা সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ও সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন সদরপুর উপজেলা, আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর এবং ভাঙ্গা পৌর কমিটির অনুমোদন দেয়। ৩১ সদস্য বিশিষ্ট সদরপুর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি।

জেলা বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, ওই কমিটি চারটি গঠনের প্রক্রিয়া এবং যোগ্যব্যক্তিদের মূল্যায়ন না করে ‘পকেট কমিটি’ করা হয়েছে মর্মে জেলা বিএনপির কায়েকজন যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যসহ নয়জন এ অভিযোগ কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে লিখিতভাবে জানালে গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে সদরপুরসহ নব ঘোষিত চারটি কমিটির কাযক্রম স্থগিত করে কেন্দ্র। চলতি বছর ২০২৫ সালের ২০ মার্চ কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্থগিত করা চারটি কমিটির মধ্যে শুধুমাত্র সদরপুর উপজেলা কমিটির স্থগিতাদের প্রত্যাহার করেন।

এর মধ্যে গত ২ জুন এক চিঠিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে একটি চিঠি দিয়ে জানান, জেলার আওতাধীন সকল ইউনিট কমিটি আগামী জুলাই মাসের মধ্যে গঠন করে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে জেলা বিএনপি’র সম্মেলন আয়োজন করতে না পারলে ভেঙ্গে দেওয়া হবে চলমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি।

এ প্রেক্ষাপটে গত ১৪ জুন জেলা বিএনপি আগে গঠন করা চারটি ইউনিট কমিটি বাদে জেলার বাকি ১০টি ইউনিট কমিটি বিলুপ্ত করে ১৬ জুন থেকে ২৫ জুনের মধ্যে কর্মী সভা করে সম্মেলন প্রস্তুত আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়। নতুন চারটি কমিটি ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে বিষয়ে কেন্দ্রর সিদ্ধান্ত জানতে চায়। ওই দিন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ার চলমান অবস্থায় গত ২২ জুন ফরিদপুর বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিএনপির পুনর্গঠন সংক্রান্ত সাংগঠনিক টিম প্রধান বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ ও ফরিদপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সহ সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান ও সেলিমুজ্জামান সেলিম স্বাক্ষরিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে দেওয়া চিঠিতে জানান, ‘‘ইতিপূর্বে আলফাডাঙ্গা উপজেলা, আলফাডাঙ্গা পৌর, ভাঙ্গা পৌর এবং সদস্য স্থগিত প্রত্যাহারকৃত সদরপুর উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে কর্মীসভার মাধ্যমে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনে”-এর নির্দেশ দেয়।

এ চিঠি পাওয়ার পর জেলা বিএনপি যখন ওই কমিটিগুলি বিলুপ্ত করে কর্মীসভা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ঠিক সেই সময় গত ২৫ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ফরিদপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক কমিটি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে এক চিঠি দিয়ে জানান, ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলা বিএনপির কমিটি বহাল থাকবে। এছাড়া অন্য উপজেলার নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।

ওই চিঠিতে রুহুল কবির রিজভী জানান, ২৫ জুন বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ফরিদপুর বিভাগীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

রুহুল কবিরের এ নির্দেশনামূলক চিঠিটি শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে জেলা ও সদরপুর উপজেলা বিএনপির হাতে এসে পৌঁছায়।

সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুত জামান বলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এ নির্দেশনামূলক চিঠিটি গত শুক্রবার রাতে আমরা পেয়েছি। আমাদের কমিটি ভাঙ্গা হচ্ছে না এবং আমরা যথারীতি বহাল আছি। এটি আমাদের কাছে একটি আনন্দের সংবাদ। ঘোষিত চারটি কমিটির মধ্যে সদরপুর বহাল রেখে অন্য তিনটি ভেঙ্গে দেওয়ায় ‘এক যাত্রায় দুই ফল হল কেন’-জানতে চাইলে সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুত জামান বলেন, কেন্দ্র যেটা ভালো মনে করেছে সেটা করেছে।

প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া বলেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের সাথে আমাদের দ্বিমত পোষন করার সুযোগ নেই। আমরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

সালথায় বরাদ্দকৃত সার অন্যত্র বিক্রি, ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
সালথায় বরাদ্দকৃত সার অন্যত্র বিক্রি, ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

ফরিদপুরের সালথায় কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার গুদামে মজুত না রেখে অন্যত্র বিক্রির দায়ে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত ডিলার হলেন মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোমরেজ খান।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে সার সরবরাহের আগমনী বার্তা (অ্যারাইভাল রিপোর্ট) পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ডিলারের গুদাম পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। এ সময় দেখা যায়, অক্টোবর মাসে ডিলারের অনুকূলে বরাদ্দ করা ৪০০ বস্তা ইউরিয়া সার গুদামে মজুত রাখার কথা থাকলেও সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ২০০ বস্তা। বাকি ২০০ বস্তা সার অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে বলে যাচাইয়ে উঠে আসে।

পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিজভী আহমেদ সবুজের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডিলার মোমরেজ খান বরাদ্দের ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার অন্যত্র বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী তাঁকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে সার বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার যথাযথভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা এবং সারের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের নজরদারি ও তদারকিমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার নির্ধারিত নিয়মে গুদামে মজুত রাখা ও কৃষকদের কাছে সরবরাহ করা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বরাদ্দের সার অন্যত্র বিক্রি করে অনিয়মের আশ্রয় নিলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে ফরিদপুরের মাঠে নন্দিতা সুরক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে ফরিদপুরের মাঠে নন্দিতা সুরক্ষা

সাম্প্রতিক সময়ে ১৩ বছর বয়সী কন্যা শিশু তাজনিমের হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা কন্যা শিশুর নিরাপত্তা, অধিকার এবং সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও কন্যা শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে নারী উন্নয়ন সংস্থা- নন্দিতা সুরক্ষা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের মোতলেব হোসেন হাই স্কুলে  আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে ১০০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। গ্লোবাল এফেয়ার্স কানাডা ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর সহায়তায় নন্দিতা সুরক্ষার RWVL-B প্রকল্পের আওতায় করা হয় ওই আয়োজন।

আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীরা হাতে সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড নিয়ে র‍্যালিতে অংশ নেয়। “বাল্যবিবাহ বন্ধ করো! শিশুর অধিকার রক্ষা করো!”—এমন স্লোগান দিতে দিতে তারা ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ভাঙ্গী ডাঙ্গী ও কাজেম মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

নন্দিতা সুরক্ষা বিশ্বাস করে, কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবার নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং তাদের মতামত ও স্বাধীনতাকে সম্মান করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

আলোচনা সভায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, কন্যাশিশুর শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বাল্যবিবাহ কীভাবে কন্যাশিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শিক্ষাজীবন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করা হয়। পাশাপাশি কিশোরীদের নিরাপদ চলাচল, তাদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কন্যা শিশুর সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আয়োজক প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌসী জানান, বাল্যবিবাহ ও সহিংসতা মুক্ত সমাজ গড়ে উঠুক – এই প্রত্যয়ে নন্দিতা সুরক্ষা সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, “প্রতিটি কন্যাশিশুর নিরাপদে বেঁচে থাকা, শিক্ষা গ্রহণ এবং মর্যাদার সঙ্গে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি । তাজমিনের মতো শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও কমেন্ট দেখলেই বোঝা যায়, কীভাবে ভুক্তভোগী শিশুর প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিক করার এবং অপরাধের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। একটি শিশুর পোশাক, চলাফেরা, আচরণ কিংবা বয়স- কোনোটিই তার প্রতি যৌন সহিংসতা বা হত্যাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। তাই আমরাও এই মানসিকতার পরিবর্তন ও কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি আদায়ে কাজ করে যাচ্ছি।”

ফরিদপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাতিলের দাবি

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাতিলের দাবি

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতারা।

​রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বাশারুল বারী ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাহিন মোল্লা।

​লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, বিসিআইসি ও খুচরা সার ডিলারশিপ বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের নতুন করে ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

​তারা বলেন, ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা না থাকলে সাধারণ কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে অনিয়মে জড়িতদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

​সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—

১. অভিযোগ তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করা।

২. সরকারি বিধি অনুযায়ী স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ডিলার নিয়োগ দেওয়া।

৩. অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।

৪. কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা।

​সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। প্রতিকার না পেলে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

​এ সময় পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি কাইয়ুম সিকদার ও সাবেক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​এদিকে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রতি ইউনিয়নে তিনজন যোগ্য আবেদনকারীর তালিকা জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে চূড়ান্ত নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।

​অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি বিধি-বিধান মেনেই সারের ডিলারদের তালিকা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।”