খুঁজুন
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২ ফাল্গুন, ১৪৩২

সরিষা ফুলের মাঝে জমে থাকা এক হারানো শৈশব

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৩ এএম
সরিষা ফুলের মাঝে জমে থাকা এক হারানো শৈশব

সরিষার হলুদ ফুলে ভরা বিস্তীর্ণ মাঠ। রোদে ঝলমল করে ওঠা গ্রামীণ প্রান্তর। সেই মাঠের মাঝখানে চার-পাঁচটি শিশু—মুখে অদম্য হাসি, শরীরে কাদা-মাখা জামা, হাতে পুরোনো একটি চাকার রিম। কেউ সেটি ঠেলে দিচ্ছে, কেউ দৌড়ে পিছু নিচ্ছে। ছবিটি এক নজরে আনন্দের হলেও, গভীরে তাকালে ধরা পড়ে হারিয়ে যেতে বসা এক শৈশবের নীরব আর্তনাদ।

এই শিশুরা কোনো দামি খেলনার দাস নয়। তাদের খেলাধুলা জন্ম নেয় মাঠে, মাটিতে, প্রকৃতির কোলে। একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি শৈশবই এমন ছিল। বিকেলের আলো ফুরোতে না ফুরোতেই মাঠে নেমে পড়ত শিশুরা—ডাংগুলি, মার্বেল, চাক্কা ঘোরানো, লুকোচুরি। এখন সেই দৃশ্য ক্রমেই বিরল। মোবাইল ফোন, ট্যাব আর শহুরে ব্যস্ততা গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

ছবির শিশুরা হয়তো জানেই না—তাদের এই দৌড়ানো, মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া, ফুলের গন্ধ মাখা মুহূর্তগুলো একদিন স্মৃতি হয়ে থাকবে। বড় হয়ে তারা হয়তো কাজের খোঁজে শহরে যাবে, ঢুকে পড়বে কংক্রিটের জঙ্গলে। তখন আর এমন সরিষার মাঠ থাকবে না, থাকবে না খোলা আকাশের নিচে অবাধ খেলাধুলা।

হারানো শৈশব বলতে শুধু খেলাধুলার অভাব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তাহীনতা, দারিদ্র্য, শিশুশ্রমের ভয়। অনেক শিশুই আজ মাঠে দৌড়ানোর বয়সে কাজে নামতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ ইটভাটায়, কেউ হোটেলে, কেউ রিকশার পেছনে ঝুলে থাকা এক ছোট সহকারী। তাদের শৈশব হারিয়ে যায় প্রয়োজনের চাপে।

এই ছবিটি তাই শুধু সুন্দর দৃশ্য নয়; এটি একটি সতর্কবার্তা। আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শিশু মানেই দায়িত্ব। তাদের জন্য চাই নিরাপদ শৈশব, খেলাধুলার সুযোগ, শিক্ষার নিশ্চয়তা। প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে আমরা যদি প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠার এই সহজ আনন্দটুকু রক্ষা করতে না পারি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানবেই না—সরিষার হলুদ মাঠে দৌড়ানোর সুখ কতটা গভীর হতে পারে।

ছবির শিশুরা আজ হাসছে। প্রশ্ন হলো—এই হাসি কি আগামী দিনের বাংলাদেশেও টিকে থাকবে?

ফাগুনের রঙে নতুন অধ্যায়: ভিন্ন আবহে বসন্তবরণ, তবুও প্রাণে উচ্ছ্বাস 🌼

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
ফাগুনের রঙে নতুন অধ্যায়: ভিন্ন আবহে বসন্তবরণ, তবুও প্রাণে উচ্ছ্বাস 🌼

প্রকৃতির অনিবার্য নিয়ম মেনে শীতের জীর্ণতা ঝরিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পহেলা ফাল্গুন—বাংলা সনের একাদশ মাসের প্রথম দিন। শীতের কুয়াশা ও নিস্তব্ধতা পেরিয়ে প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজে উঠেছে, চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণের উচ্ছ্বাস।

তবে এবারের বসন্ত কিছুটা ভিন্ন আবহে এসেছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজনেও। অন্যান্য বছরের মতো বড় পরিসরে উদযাপন না হলেও সীমিত পরিসরে চলছে বসন্তবরণ।

বিশেষ করে রাজধানীবাসীর জন্য এবারের বসন্তে রয়েছে বড় এক শূন্যতা। নেই চিরচেনা অমর একুশে বইমেলা, যেখানে প্রতিবছর ফাল্গুনের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে বইপ্রেমীদের পদচারণা। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর বসন্তের রঙিন আবহে মেলা প্রাঙ্গণ জমে ওঠার দৃশ্য এবার আর দেখা যাচ্ছে না। ফলে নগরজীবনে বসন্তের আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

তারপরও বসন্ত থেমে থাকে না। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছরের মতো এবারও ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। তবে ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের স্থান পরিবর্তন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলার পরিবর্তে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সীমিত পরিসরে সকাল সাড়ে ৭টায় বসন্তবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হলুদ, বাসন্তী আর লাল রঙের পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে সেখানে ছিল প্রাণের স্পন্দন, যদিও তা আগের বছরের মতো বিস্তৃত ছিল না।

বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে পহেলা ফাল্গুন শুধু ঋতুর সূচনা নয়, এটি একটি গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক চেতনার অংশ। ফাগুনের লাল শিমুল আর কৃষ্ণচূড়া ফুল মনে করিয়ে দেয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের কথা। তাদের আত্মত্যাগের রক্তে রঞ্জিত পথ ধরেই এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই বসন্ত কেবল সৌন্দর্যের নয়, দ্রোহ ও আত্মত্যাগেরও প্রতীক।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৫০ থেকে ১৯৬০-এর দশকে পহেলা ফাল্গুন উদযাপনের সূচনা হয়। সে সময় পাকিস্তানি শাসনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রসংগীতসহ নানা সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে এই দিনটি পালন শুরু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্তবরণ উৎসবের আয়োজন করে, যা পরবর্তীতে জাতীয় উৎসবে রূপ নেয়।

প্রকৃতির দিক থেকেও বসন্ত এক নতুন জীবনের বার্তা নিয়ে আসে। এ সময় গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুলে ফুলে ভরে ওঠে চারদিক। কোকিলের ডাক, প্রজাপতির রঙিন ডানা আর মৃদু বাতাসে ভেসে বেড়ানো ফুলের ঘ্রাণ প্রকৃতিকে করে তোলে মোহনীয়। শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার রঙিন উপস্থিতি যেন প্রকৃতির নিজস্ব উৎসব।

বসন্তকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতেও রয়েছে অসংখ্য সৃষ্টি। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন—“ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত।” বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম গেয়েছেন বসন্তের আবেগময় গান। আর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসংখ্য গানে বসন্তের রূপ ধরা দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্যে।

সব মিলিয়ে, বসন্ত আমাদের শেখায় পরিবর্তনের কথা—জীবনের প্রতিটি শুষ্কতা ও ক্লান্তির পরেই আসে নতুন প্রাণের উন্মেষ। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কিংবা সামাজিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রকৃতির এই নবজাগরণ থেমে থাকে না। তাই ভিন্ন বাস্তবতায়ও বসন্ত এসেছে তার চিরচেনা রূপে—রঙে, গন্ধে আর আশার নতুন বার্তা নিয়ে। 🌸

ফরিদপুরের চারটি আসনে ভোটের ঝড়ে উড়ে গেল ১৯ প্রার্থীর জামানত!

হারুন-অর-রশীদ ও এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৪ এএম
ফরিদপুরের চারটি আসনে ভোটের ঝড়ে উড়ে গেল ১৯ প্রার্থীর জামানত!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনই জামানত হারিয়েছেন। মোট প্রার্থীর প্রায় ৬৮ শতাংশ প্রয়োজনীয় ভোটের এক-অষ্টমাংশ অর্জন করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে চারটি আসনেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। রাতেই বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল কয়েকটি বড় দলের মধ্যে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ৪৪(৩) ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবারের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়-পরাজয়ের কারণে অধিকাংশ প্রার্থী এই শর্ত পূরণ করতে পারেননি।

🔹 ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা):

এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৫,১০,৫৪০ জন। বৈধ ভোট পড়ে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৮টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৫ ভোট।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১,৫৪,১৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পান ১,২৬,৪৭৬ ভোট।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে

মো. আবুল বাসার খান (স্বতন্ত্র) ফুটবল প্রতীকে ৩৪,৩৮৭ ভোট, মো. গোলাম কবীর মিয়া (স্বতন্ত্র) মোটরসাইকেল প্রতীকে ২,১৫৯ ভোট, মৃন্ময় কান্তি দাস (বিএমজেপি) রকেট প্রতীকে ৭৮৬ ভোট, সুলতান আহম্মেদ খান (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল প্রতীকে ৫০৬ ভোট, মো. হাসিবুর রহমান (স্বতন্ত্র) হরিণ প্রতীকে ৪৫৫ ভোট এবং শেখ আব্দুর রহমান জিকো (স্বতন্ত্র) উট প্রতীকে ৮৪ ভোট পান।

এখানে বিজয়ী ও রানারআপ ছাড়া বাকি ছয়জনই জামানত হারিয়েছেন

🔹 ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা):

এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩,৩২,০৪১ জন। বৈধ ভোট পড়ে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯১৬টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৬ হাজার ৮৬৫ ভোট।
এ আসনে বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু ধানের শীষ প্রতীকে ১,২১,৬৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. আকরাম আলী রিক্সা প্রতীকে পান ৮৯,৩০৫ ভোট।

অন্য প্রার্থীরা

শাহ মো. জামাল উদ্দীন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) হাতপাখা প্রতীকে ২,৩৬৮ ভোট,
ফারুক ফকির (গণঅধিকার পরিষদ) ট্রাক প্রতীকে ৬৭৫ ভোট, আকরামুজ্জামান (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ) আপেল প্রতীকে ৬১৭ ভোট এবং মো. নাজমুল হাসান (বাংলাদেশ কংগ্রেস) ডাব প্রতীকে ২৫৭ ভোট পান।

এখানে বিজয়ী ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া বাকি চারজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

🔹 ফরিদপুর-৩ (সদর উপজেলা):

এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৪,৩২,৬২১ জন। বৈধ ভোট পড়ে ২ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৩টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪ হাজার ৮৯৩ ভোট।

এ আসনে বিএনপির চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে ১,৪৮,৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুত তাওয়াব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১,২৪,১১৫ ভোট।

অন্যান্য প্রার্থীরা—

কে এম ছরোয়ার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) হাতপাখা প্রতীকে ৪,০২২ ভোট, মোরশেদুল ইসলাম আসিফ (স্বতন্ত্র) হরিণ প্রতীকে ১,২৫৩ ভোট, মো. রফিকুজ্জামান মিয়া (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) কাস্তে প্রতীকে ৯৫৭ ভোট এবং
আরিফা আক্তার বেবী (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) তারা প্রতীকে ২৫১ ভোট পান।

এখানে বিজয়ী ও রানারআপ ছাড়া বাকি চারজন প্রার্থীর জামানত জব্দ হয়েছে।

🔹 ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর ও চরভদ্রাসন):

এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৪,৯৬,৭০৬ জন। বৈধ ভোট পড়ে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯২টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪ হাজার ৩৭৪ ভোট।

এ আসনে বিএনপির মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল ধানের শীষ প্রতীকে ১,২৭,৪৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. সরোয়ার হোসাইন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৭৫,৮০৫ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এ.এম. মুজাহিদ বেগ ফুটবল প্রতীকে পান ৫৬,১৬০ ভোট—এই তিনজন জামানত রক্ষা করেন।

অন্য প্রার্থীরা

মো. ইসহাক চোকদার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) হাতপাখা প্রতীকে ১১,৪৯৮ ভোট, মুহাম্মদ মজিবুর হোসেইন (স্বতন্ত্র) ঘোড়া প্রতীকে ১,৭০৪ ভোট, মিজানুর রহমান (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) রিক্সা প্রতীকে ১,১১৮ ভোট,
আতাউর রহমান (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) কাস্তে প্রতীকে ৭১৪ ভোট এবং মুফতি রায়হান জামিল (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল প্রতীকে ৫৫০ ভোট পান।

এদের মধ্যে পাঁচজনের জামানত জব্দ হয়েছে।

সার্বিক চিত্র:

ফরিদপুরের চারটি আসনে মোট ভোটার ছিল প্রায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। নির্বাচনে অংশ নেন ২৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপি তিনটি আসনে (ফরিদপুর-২, ৩ ও ৪) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি আসনে (ফরিদপুর-১) জয়লাভ করে।

ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও ফলাফলে বড় ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। অধিকাংশ আসনেই ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে ব্যর্থ হন এবং তাদের বড় অংশ জামানত হারান।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, যারা নির্ধারিত ভোটের কম পেয়েছেন, তাদের জামানতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

“শরমের চেয়ে মরণ ভালো’—ক্ষতিপূরণের চাপে প্রাণ দিলেন সালথার নৈশপ্রহরীর ওয়াহিদুল”

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩২ এএম
“শরমের চেয়ে মরণ ভালো’—ক্ষতিপূরণের চাপে প্রাণ দিলেন সালথার নৈশপ্রহরীর ওয়াহিদুল”

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বাজারে চুরির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পরিশোধের চাপ ও অপমান সহ্য করতে না পেরে এক নৈশপ্রহরীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম (৩০) উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের মৃত নজরুল শেখের ছেলে। তিনি পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা এবং চার মাস বয়সী জমজ দুই পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বড়দিয়া বাজারে একটি শালিশ বৈঠক চলাকালে তিনি বিষপান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের স্ত্রী জোস্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বড়দিয়া বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত মঙ্গলবার ভোরে ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পর থেকেই তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। কিছু জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে বলতেন, “মাথা ঠিক নাই, কথা বলিস না।” পরে জানান, বাজারে চুরি হয়েছে এবং এজন্য তাকে দায়ী করে ক্ষতিপূরণ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং প্রায়ই বলতেন, “এত টাকা কোথা থেকে দেবো, শরমের চেয়ে মরণ ভালো।”

জোস্না বেগম আরও জানান, নির্বাচনের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বাজারে একটি শালিশ বসে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, ডিউটিতে থাকা পাহারাদারদের চুরি হওয়া মালামালের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শালিশ চলাকালে ওয়াহিদুল কিছু সময়ের জন্য সরে গিয়ে ফিরে এসে তার তিন সন্তানের কথা উল্লেখ করে নিজের নির্দোষিতা দাবি করেন। এরপর হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

বাজার কমিটির সভাপতি আবু মেম্বার জানান, এক দোকানদারের ঘরের পেছনের টিন কেটে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়। বিষয়টি জানার পর শালিশ ডাকা হয়। তিনি বলেন, “চোর ধরা না গেলে পাহারাদারদের দায়বদ্ধতা থাকে। তবে কাউকে অপমান করা হয়নি, সময় দেওয়া হয়েছিল।”

অন্যদিকে বাজারে টাকা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা আজাদ মোল্যা বলেন, দুইজন পাহারাদার মাসে ২৪ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন। চুরির ঘটনায় বাজারের পক্ষ থেকে তাদের কাছেই ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, বৈঠকে চাপ সৃষ্টি করা হয়নি, তবে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পাহারাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন জরুরি।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।