খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

গণঅভ্যুত্থান : আকাঙ্খা, প্রাপ্তি ও অপূর্ণতা

শেখ রফিক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫, ১:৩৪ পিএম
গণঅভ্যুত্থান : আকাঙ্খা, প্রাপ্তি ও অপূর্ণতা

আমার দুই ছেলে, সক্রেটিস পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে আর সব্যসাচী সদ্য এসএসসি দিয়েছে। প্রতিদিন রাতে আমি বাসায় ফিরলে ওরা নানা প্রশ্ন করে। প্রশ্নগুলোর অনেকটাই আসে ফেসবুকে দেখা কোনো দুর্ঘটনা, খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, চাঁদাবাজি বা সংঘর্ষ নিয়ে। ছোট ছেলে বেশি প্রশ্ন করে। প্রশ্নগুলো সহজ, কিন্তু উত্তরগুলো খুব কঠিন। ওরা জিজ্ঞাসা করে, ‘বাবা, মানুষ এত খারাপ হয় কেন? তুমি জান, আজ একটা মাজার ভেঙে দিয়েছে। আজ ছাত্ররা-ছাত্ররা মিছিলে মারামারি করেছে। আজ একজনের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আজ একজন শিক্ষককে মেরেছে। আজ একজনের মাথায় গুলি করে মেরে ফেলেছে। আজ একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আজ একজন মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা পরিয়েছে। আজ একজন ছাত্রকে মেরে ফেলেছে। আজ একজনকে পাথর দিয়ে মেরে ফেলেছে! আজ একজন মেয়েকে রেপ করে মেরে ফেলেছে! এমন অসংখ্য ঘটনার কথা এবং কেন হচ্ছে সেই জিজ্ঞাসার সম্মুখীন গত এক বছর আমাকে হতে হয়েছে। ওরা বলে, ‘এসব করে কেন?’ কিংবা সরাসরি জিজ্ঞাসা করে, ‘সরকার কী করে?’ আমি কখনো উত্তর দিই, আবার কখনো নীরব থাকি। ওদের প্রশ্নের উত্তর হয়তো সবসময় দিতে পারি না। কিন্তু প্রতিদিন প্রশ্ন করে।

ঢাকায় পঁচিশ বছর ধরে আমি বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে পল্টন ময়দান, মুক্তাঙ্গন, শহীদ মিনার, শাহবাগ ও প্রেসক্লাবে হাজারবার মিছিল-মিটিং-সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছি। এই মিছিল-সমাবেশগুলো বারবার বলেছে শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা দিন, কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম দিন। মতপ্রকাশে বাধা দেবেন না। বিরোধী দলের ওপর মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করুন। হত্যা, ধর্ষণ ও গুম বন্ধ করতে হবে। গরিব মেহনতি মানুষের জন্য রেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান করুন। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করুন। দুর্নীতি বন্ধ করুন, লুটপাট থামান, বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ করুন। খেলাপি ঋণ আদায় করুন, সন্ত্রাস দমন করুন, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব রোধ করুন। সিপিবি লাখ লাখবার এসব বলেছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা? কেউ কথা শুনেনি, কেউ কথা রাখেনি। ‘তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?’ বঙ্কিমচন্দ্রের অবিস্মরণীয় এই উক্তি মনুষ্যত্বের এক বাস্তব ও গভীর মূল্যবোধের উৎসারণ। গত ৫৪ বছর ধরে যারা লেখাপড়া করেছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন, প্রত্যেকেই এই ভাব-সম্প্রসারণ পড়েছেন ও লিখেছেন। কিন্তু কতটা ধারণ করেছেন এবং তা নিজের কর্মজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রয়োগ করেছেন সেটা জনগণ খুব ভালো করেই জানে। বঙ্কিমের এ উক্তি প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিম্নলিখিত বাক্যটি স্মরণীয় ‘Relationship is the fundamental truth of the world of appearance, সম্পর্কই হলো এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মূল সত্য। মানুষকে মানুষ করে তোলে তার পারস্পরিক সম্পর্ক, সংযোগ এবং সহানুভূতি। আমাদের জীবনে সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। এটাই আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। সেই সময়ের স্বপ্ন ছিল, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই কাক্সিক্ষত রাষ্ট্রব্যবস্থা আজও গড়ে ওঠেনি। ‘খেয়ে-পরেই একটু শান্তিতে বাঁচতে চাই’  শিক্ষা ও চিকিৎসায় বৈষম্য বেড়েই চলছে, সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থা ও বেসরকারি খাতের উচ্চ ব্যয় দরিদ্রদের জন্য স্বাস্থ্যসেবাকে স্বপ্ন করে তুলেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ছিল দুঃখ-দুর্দশা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। কিন্তু পাঁচ আগস্টের পর শুরু হওয়া হামলা, নির্যাতন ও দমন-পীড়ন ন্যায়বিচারের স্বপ্নকে অনেকটা ভেঙে দিয়েছে। খুনের বিচার হয়নি, দুর্নীতিবাজ গ্রেপ্তার হয়নি, পাচারকৃত টাকা ফেরত আনা যায়নি। মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্য বেড়েই চলছে, জনজীবন অনিশ্চিত। জনগণ ভেবেছিল, শেখ হাসিনা চলে গেলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে। কারণ তার সরকারের অধীনে ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সম-অধিকার হারিয়ে গিয়েছিল। বিরোধী দল দমন, গুম, খুন, ধর্ষণ ও দুর্নীতি রাজত্ব ছিল। সেই নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে ৫ আগস্ট সরকারের পতন ঘটায়। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, গত এক বছরে শান্তি-শৃঙ্খলা পুরোপুরি ফিরেছে কি? জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার পেয়েছে কি? র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর পোশাক বদলেছে, কিন্তু চরিত্র কতটুকু বদল হয়েছে? রাষ্ট্র যদি জনবান্ধব হতো, তাহলে আন্দোলনের পর চিন্তাচেতনার সংস্কার হতো; কিন্তু বাস্তবতা বিপরীত, হয়রানি ও দমন চলছে। অপরাধীরা সরকারের দুর্বল নেতৃত্বে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, খাদ্য ও পানির নিশ্চয়তা আজও অধরা। ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার শুধু কোনো ব্যক্তি বা দালান-কোঠায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি রাষ্ট্রযন্ত্র, সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে গভীরে প্রবাহিত একটি ব্যবস্থা। তাই স্বৈরাচারী শাসন কেবল শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিরোধ করলেই নির্মূল হয় না; বরং তা পুনরুৎপাদনের আশঙ্কা থেকেই যায়। এ জন্য সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক পন্থায়, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচর্চার মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তোলা প্রয়োজন। গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়া। যেখানে সবাই মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার পাবে। কিন্তু নেতৃত্বের স্বার্থপরতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ক্ষমতার ‘ডিসিপ্লিনারি মেকানিজম’ জনআকাক্সক্ষার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে ‘মব-সংস্কৃতি’ গড়ে উঠেছে, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সংখ্যালঘু ও বিরোধী মতের ওপর সহিংসতা এবং গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধকে উসকে দিচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্রমিক সংগঠন ও ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে সহিংসতা কীভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে? অপরাধীরা প্রায় ধরাছোঁয়ার বাইরে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মুখে। ধর্ষক, খুনি, দুর্নীতিবাজ ও মাদকাসক্তরা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করার চেষ্টা করছে। তারা অস্থিরতা ও ভয় সৃষ্টি করছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও শান্তিকে হুমকির মুখে ফেলে। এসব ব্যর্থতা জনগণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। এই অপরাধীরা হঠাৎ কোথাও জন্ম নেয় না; তারা গড়ে ওঠে বৈষম্যপূর্ণ, অব্যবস্থাপনা ও ন্যায়বিচারহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যেই।

দুর্বল শাসনব্যবস্থা, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রশাসনিক পক্ষপাত অপরাধীদের উৎসাহ দেয়। যখন অপরাধীরা শাস্তি পায় না, তখন তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিচারহীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার অভাব খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি ও দমন-পীড়ন বাড়িয়েছে। সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, নারীর প্রতি অবজ্ঞাসূচক মনোভাব, লিঙ্গ বৈষম্য এবং ঘৃণার রাজনীতি বিকৃত মানসিকতার অপরাধী তৈরিতে সহায়ক। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও তার প্রতি অবহেলা অপরাধ প্রবণতা বাড়ায়। অপরাধকে ‘ট্রেন্ড’ হিসেবে দেখা এবং অসৎ জীবনযাপনকে সামাজিক সহানুভূতির মাধ্যমে মেনে নেওয়া একটি বিপজ্জনক সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে, যা দেশের স্থিতিশীলতা ও মানুষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বাংলাদেশের ইতিহাস প্রমাণ করেছে, এই জাতি অন্যায় সহ্য করে না। ভাষার অধিকার, ভোটাধিকার বা ন্যায্য জীবনের দাবিতে মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে। প্রতিবারই জন্ম দিয়েছে গণঅভ্যুত্থান, যা শুধু সরকারের পতনের জন্য নয়, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নৈতিক কাঠামো চ্যালেঞ্জ করার জন্য। তবে ১৯৬৯ সালের ছাত্র-অভ্যুত্থান থেকে আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া একই প্রতিক্রিয়াশীল ও আত্মবিমুখ।

প্রশাসনে দায়বদ্ধতার অভাব প্রকট, আত্মসমালোচনা নেই। রাজনৈতিক দলগুলোও প্রতিপক্ষের দোষারোপে লিপ্ত, জনগণের রক্ত ও ক্ষোভকে ক্ষমতার খেলায় ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে গণতন্ত্র ক্ষয়ে যাচ্ছে, লোভ-হিংসা বাড়ছে, রাষ্ট্র থেকে মানুষ আবার দূরে সরে যাচ্ছে। বর্তমান অস্থিরতা ও হতাশার মধ্যে সবচেয়ে বড় সংস্কার হলো, নিজেকে প্রশ্ন করা ‘আমি কী আমাকে পরিবর্তন করেছি’? সর্বত্র সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার ছাড়া সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। সংস্কার ও নির্বাচন এই দুই পরস্পরের পরিপূরক। জনগণ চায় অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোটাধিকার ফিরে পেতে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারই হওয়া উচিত প্রথম পদক্ষেপ। ভোটাধিকার ফিরলে শাসনব্যবস্থায় শান্তি আসবে। বিচারব্যবস্থা, পুলিশ ও প্রশাসনে সংস্কার অপরিহার্য, সাংবিধানিক পরিবর্তনও সময়ের দাবি। তবে গণতান্ত্রিক সংস্কার সফল হয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। কারণ প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। তাই প্রথম প্রয়োজন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেছে। গণমাধ্যম কিছুটা স্বাধীনভাবে কথা বলছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর আলোচনা চলছে এবং তরুণদের কর্মমুখী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরুর কিছু অভিযান সাধারণ মানুষের মাঝে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘমেয়াদে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রদর্শন প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি ও ন্যায্য সম্পদের বণ্টন নিশ্চিত করবে। রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি প্রশাসন স্বচ্ছ ও জবাবদিহি করবে, সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে ভূমিকা রাখবে। নারীর মর্যাদা ও সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা ধর্ষণ কমাবে। যুবসমাজে নৈতিকতা গড়ে উঠলে দুর্নীতি কমে। উন্নত দেশগুলোতে বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তাই অপরাধ হ্রাসের মূল কারণ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ৩১ দফা রূপরেখা এবং ভিশন-২০৩০-এ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ ও নির্বানের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক রূপান্তরের বার্তা বহন করে। তবে সময় বলে দিতে এই রূপান্তরের বার্তা কতটা কার্যকর হবে। গণতন্ত্র তখনই সফল হবে, যখন ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকবে ‘সাধারণ মানুষ’ এবং রাষ্ট্র হবে সবার মৌলিক অধিকারের রক্ষক ও জনতার প্রকৃত সেবক। তখনই ‘খেয়ে-পরেই একটু শান্তিতে বাঁচতে চাই’ এই আর্তনাদ শব্দহীন হয়ে যাবে।

লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।