খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে নায়াব ইউসুফের পরিবর্তে মনোনয়ন চান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:১০ এএম
ফরিদপুরে নায়াব ইউসুফের পরিবর্তে মনোনয়ন চান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিচনার দাবি জানিয়েছে ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছার কর্মীরা।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে ফরিদপুর শহরের অম্বিকা ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে ইছার সমর্থকরা। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা।

সমাবেশের ব্যানারে লেখা ছিল, “৩১ দফা বাস্তবায়নে ধানের শীষের পক্ষে কর্মী সমাবেশ।” সভাটি আয়োজন করা হয় ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের কর্মীবৃন্দের ব্যানারে।

সমাবেশের শুরু থেকেই শ্লোগান দেওয়া হয় এবং যেসব ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয় তাতে লেখা ছিল, “যোগ্য নেতা ইছা ভাই এমপি হিসেবে তাকে চাই”, “ রাজপথের ইছা ভাই আমরা তোমাকে ভুলিনাই”, “দুর্দিনে পাশে ছিলেন ভাই এমপি হোক ইছা ভাই।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কাদের। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক শহীদ পারভেজ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল আনাম, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজীব হোসেন, আলীয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ খান,কানাইপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ সরকার,কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর মোল্লা, কৈজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হাওলাদার প্রমুখ। সমাবেশে ফরিদপুর সদরের ১২টি ইউপি ও ২৭টি পৌরসভার বিভিন্ন পর‌্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, ইছা ভাই গত ৪৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আমাদের বিপদে আপদে সব সময় তাকে কাছে পেয়েছি। আমরা ইছা ভাইকে ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চাই। এরজন্য দলীয় মনোনয়ন পুনঃ বিবেচনা করতে হবে। ইছা ভাইকে মনোনয়ন দিয়ে ধানের শীষ বাঁচান। ইছাকে দলীয় মনোনয়ন না দিলে ফরিদপুর-৩ আসনের জনগণ এই নির্বাচন মেনে নেবে না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা বলেন, “যে দাবি এখানে তোলা হয়েছে, আমাকে ফরিদপুর-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে আপনারা দেখতে চান এবং যে দাবির জন্য প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এর জন্য আপনাদের অভিনন্দন। যে উদ্যম আপনারা প্রকাশ করেছেন, আমি যে আপনাদের মনোনীত ও আকাংখিত প্রার্থী এরজন্য আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আরো বলেন, আমি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আপনাদের পাশে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আপনাদের এ প্রত্যাশার দাবি সাংবাদিকদের মাধ্যমে অবশ্যই বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে পৌঁছেবে। হাইকমান্ড দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত যে সিদ্ধান্ত নেবে তা আমি মাথা পেতে নেব।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হযেছে এ আসনের বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে মহিলা দলের কেন্দ্রিয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নায়াব ইউসুফকে। গত ৩ নভেম্বর দলীয় এ মনোনয়ন ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই মনোনয়ন ঘোষণার ১৩দিন পর দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে ইছাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশ শেষে সেখান থেকে নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে শহরের মুজিব সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।