খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে নায়াব ইউসুফের পরিবর্তে মনোনয়ন চান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:১০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে নায়াব ইউসুফের পরিবর্তে মনোনয়ন চান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিচনার দাবি জানিয়েছে ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছার কর্মীরা।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে ফরিদপুর শহরের অম্বিকা ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে ইছার সমর্থকরা। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা।

সমাবেশের ব্যানারে লেখা ছিল, “৩১ দফা বাস্তবায়নে ধানের শীষের পক্ষে কর্মী সমাবেশ।” সভাটি আয়োজন করা হয় ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের কর্মীবৃন্দের ব্যানারে।

সমাবেশের শুরু থেকেই শ্লোগান দেওয়া হয় এবং যেসব ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয় তাতে লেখা ছিল, “যোগ্য নেতা ইছা ভাই এমপি হিসেবে তাকে চাই”, “ রাজপথের ইছা ভাই আমরা তোমাকে ভুলিনাই”, “দুর্দিনে পাশে ছিলেন ভাই এমপি হোক ইছা ভাই।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কাদের। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক শহীদ পারভেজ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল আনাম, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজীব হোসেন, আলীয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ খান,কানাইপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ সরকার,কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর মোল্লা, কৈজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হাওলাদার প্রমুখ। সমাবেশে ফরিদপুর সদরের ১২টি ইউপি ও ২৭টি পৌরসভার বিভিন্ন পর‌্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, ইছা ভাই গত ৪৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আমাদের বিপদে আপদে সব সময় তাকে কাছে পেয়েছি। আমরা ইছা ভাইকে ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চাই। এরজন্য দলীয় মনোনয়ন পুনঃ বিবেচনা করতে হবে। ইছা ভাইকে মনোনয়ন দিয়ে ধানের শীষ বাঁচান। ইছাকে দলীয় মনোনয়ন না দিলে ফরিদপুর-৩ আসনের জনগণ এই নির্বাচন মেনে নেবে না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা বলেন, “যে দাবি এখানে তোলা হয়েছে, আমাকে ফরিদপুর-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে আপনারা দেখতে চান এবং যে দাবির জন্য প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এর জন্য আপনাদের অভিনন্দন। যে উদ্যম আপনারা প্রকাশ করেছেন, আমি যে আপনাদের মনোনীত ও আকাংখিত প্রার্থী এরজন্য আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আরো বলেন, আমি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আপনাদের পাশে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আপনাদের এ প্রত্যাশার দাবি সাংবাদিকদের মাধ্যমে অবশ্যই বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে পৌঁছেবে। হাইকমান্ড দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত যে সিদ্ধান্ত নেবে তা আমি মাথা পেতে নেব।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হযেছে এ আসনের বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে মহিলা দলের কেন্দ্রিয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নায়াব ইউসুফকে। গত ৩ নভেম্বর দলীয় এ মনোনয়ন ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই মনোনয়ন ঘোষণার ১৩দিন পর দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে ইছাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশ শেষে সেখান থেকে নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে শহরের মুজিব সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”