খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন আমেরিকান দম্পতি

ভাস্কর ভাদুড়ী ও তরিকুল ইসলাম হিমেল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:৪৪ পিএম
ফরিদপুরে নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন আমেরিকান দম্পতি

উন্নত জীবনের জন্য বাংলাদেশ ছেড়ে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছে এমন হাজারো উদাহরণ আমাদের চারপাশে। তবে, জয়া বার্লিন ও জ্যাকব বার্লিনের গল্পটি একটু ভিন্ন। এই ভিনদেশি দম্পতি বিদেশের সব সম্পত্তি বিক্রি করে, গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে নীরবে-নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন।

সমাজের নির্যাতিত এবং পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী হতে শেখাচ্ছেন। ফরিদপুরে গড়ে তুলেছেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। পাঁচ সন্তান নিয়ে হতে চান বাংলাদেশেরই নাগরিক।

উদ্ভাবনী কাজে নারীদের স্বাবলম্বী করার আয়োজনে সরাসরি জড়িত থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক জয়া বার্লিন। তিনি বাংলাদেশি ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভালবেসে আধো বাংলাতেই তাদের কাজ-কর্মের দিক-নির্দেশনা দেন।

ফরিদপুরে ট্রেনিং সেন্টারে যারা কাজ শিখছেন, তাদের কেউ পাচার হওয়ার সময় রক্ষা পেয়েছেন, কেউবা নতুন জীবন পেয়েছেন পালিয়ে এসে। এমনকি এখানে রয়েছেন নির্যাতিতা কিংবা স্বামী পরিত্যক্তা নারীরাও। তাদের নিয়েই জয়া ও জ্যাকবের সংসার। সেখানেই ডিজাইনের ব্যাগ, কুশন কিংবা কাঁথা তৈরীর পর সেগুলো রফতানি করা হয়।

মানুষদের যেভাবে স্বাবলম্বী বানানো যায় তার উদহারণ দিয়ে জয়া বার্লিন বলেন, কাউকে যদি মাছ কিনে খেতে দাও, তাহলে সে একদিনের জন্য সুবিধা পাবে। কিন্তু তাকে যদি মাছ চাষ ও ধরার পদ্ধতি শিখিয়ে দাও, তাহলে সারাজীবন এটা শিখে সুবিধা পাবে। আমাদের লক্ষ্য মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা করা নয়, তাদের কাজ শেখানোই লক্ষ্য। সাময়িক পাশে দাঁড়ালে, লাভ নেই।

তিনি আরও বলেন, সারাজীবন আমরা এখানে থাকতে চাই। আমরা একদম বাঙালী হয়ে যেতে পারিনি, কারণ আমাদের ভিসা আছে। এখন পর্যন্ত নাগরিকত্ব নেই। ওখানের সবকিছু (জমি, সম্পত্তি) বিক্রি করে এখানে বিনিয়োগ করেছি।

এরইমধ্যেই পাঁচ শতাধিক নারীকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তাদেরকে আর্ট থেরাপি কিংবা প্লে থেরাপি দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন এই দম্পতি, যারা মানসিক কাউন্সেলিংয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

অন্যদিকে, চাকরীর সুবাদেই বাংলাদেশে আসেন জার্মান নাগরিক জ্যাকব বার্লিন। তার হাত ধরেই বাংলাদেশে পাড়ি জমান জয়া। বিয়ের পর একসঙ্গে সামাজিক নানা কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের জীবন দর্শনে, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাংলাদেশে বেঁচে থাকা বেশ কঠিন। শুধুমাত্র মানসিকভাবে শক্তিশালী হলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব।

জ্যাকব বার্লিন বলেন, আমরা ফরিদপুর থেকে শুরু করেছি। লক্ষ্য আছে বাংলাদেশের সব প্রান্তে এই ধরণের কাজ করে যাওয়ার।

এই পিছিয়ে পড়া মানুষদের মূল স্রোতে নিয়ে আসতে পাঁচ সন্তানসহ বাকি জীবন বাংলাদেশেই কাটাতে চান এই দম্পতি। সেই লক্ষ্যে সন্তানদের নামও রেখেছেন বাংলার ছোয়াতেই; ছেলের নাম আনন্দ, মেয়েদের নাম হাসি, খুশি, সুখি আর মিষ্টি।

সূত্র : যমুনা টিভি 

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।