খুঁজুন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে পশু হাসপাতালে জনবল সংকট, ব্যাহত সেবা কার্যক্রম

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে পশু হাসপাতালে জনবল সংকট, ব্যাহত সেবা কার্যক্রম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অর্ধেকেরও কম জনবল দিয়ে চলছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল। গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের ১১টি পদের মধ্যে ছয়টি শূন্য। এর মধ্যে আবার তিনবছরের জন্য অন্যত্র প্রশিক্ষণে রয়েছেন একজন। বর্তমানে এই কার্যালয়ে কাগজে-কলমে পাঁচজন থাকলেও বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। ফলে অল্প সংখ্যক জনবল নিয়ে উপজেলার একমাত্র সরকারি পশু হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা চরম ব্যাহত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১২১টি গ্রামের লাখো মানুষের ৫৮ হাজার ৭৭৬টি গবাদি পশু ও দুই লাখ ৯০ হাজার ৫০১টির বেশি হাঁস মুরগীসহ বিভিন্ন প্রাণি রয়েছে। তাই প্রতিদিন অনেক গবাদি পশু পালনকারী সেবা ও পরামর্শ নিতে আসেন প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। কিন্তু ভেটোরিনারি সার্জনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল না থাকায় চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ নিতে আসা লোকদের যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তেমনি হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে। ফলে খামার মালিকরা বিভিন্ন গবাদি পশুর অপারেশনের জন্য ছুটছেন বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে। এতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি উপজেলায় একজন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, একজন ভেটেরোনারি সার্জন, একজন উপজেলা লাইফ স্টক অ্যাসিসটেন্ট (ইউএলএ), তিনজন ভেটেরেনারি ফিল্ড অ্যাসিসটেন্ট (ডিএফএ), একজন কম্পাউন্ডার, একজন ফিল্ড অ্যাসিসটেন্ট (এফএ/এআই), একজন অফিস সহকারী, একজন ড্রেসার ও একজন অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) পদ রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে বর্তমানে একজন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, একজন উপজেলা লাইফ স্টক অ্যাসিসটেন্ট, একজন ফিল্ড অ্যাসিসটেন্ট, একজন ড্রেসার ও একজন অফিস সহায়ক আছেন। অর্থাৎ ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্থলে পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারি আছেন। ছয়টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য রয়েছে। এদিকে এই পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আবার ফিল্ড অ্যাসিসটেন্ট তিন বছরের জন্য অন্যত্র প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ফলে বর্তমানে এই কার্যালয়ে মাত্র চারজন কর্মরত আছেন।

দপ্তর থেকে জানা গেছে, কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, পশুপাখিকে টিকাদান, চিকিৎসাদান, মাঠ পরিদর্শন, খামারিদের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তি বিতরণ, পশুপাখির সুস্থতার সনদ দেওয়া, উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ, খামার নিবন্ধন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি সেবাদানের কাজগুলো এই দপ্তরের অধীনে পরিচালিত হয়। কিন্তু জনবলসংকট থাকায় বাকিদেরই সব দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে পশু পালনকারীরা চাহিদামতো সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

উপজেলার জাটিগ্রামের কৃষক মাহাবুর মোল্যা জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে একজন ডাক্তার দিয়ে চলছে এ হাসপাতাল। চিকিৎসার জন্য গবাদি পশু নিয়ে আসলে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। হাসপাতালে অনেক ভিড় থাকে। এ হাসপাতালে আরেকজন ডাক্তারের খুবই প্রয়োজন।’

উপজেলা ডেইরি এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম নজরুল ইসলাম জানান, ‘হাসপাতালে জনবল সংকটের কারণে যথাসময়ে সেবা দিতে পারছে না। আমরা চাই দ্রুত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সেবার মান বৃদ্ধি করা হোক।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবেন বাইন বলেন, ‘ভেটেরিনারি সার্জনসহ ছয়টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক বিভিন্ন গবাদিপশু নিয়ে আসেন চিকিৎসাসেবা নিতে। আমাকে দৈনন্দিন অফিসিয়াল কাজকর্ম করতে হয়। মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কাজের জন্য যেতে হয়। সরকারি বিভিন্ন সভায় যেতে হয়। প্রতিদিন আমাকে একাই সব সামলাতে হচ্ছে। জনবল সংকটের মধ্যেও সেবা প্রদানে কোনো ধরনের গাফিলতি হচ্ছে না। তবে কাজ করতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জেলার মাসিক সভায় বারবার অবহিত করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সঞ্জীব কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘শূন্য পদে পদায়ন না হওয়ায় প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট অন্য যারা আছেন, তাদের সহযোগিতায় সেবা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেসব পদে লোক নেই, সেসব পদে লোকবল দেওয়া হলে আমাদের সার্বিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

এই ‘সিক্রেট’ অনুসরণে স্ত্রীর সঙ্গে কোনো ঝগড়া হবে না

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
এই ‘সিক্রেট’ অনুসরণে স্ত্রীর সঙ্গে কোনো ঝগড়া হবে না

দাম্পত্যজীবন মানেই কি কেবল ঠুনকো ঝগড়া আর মনোমালিন্য? নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো শান্তির মন্ত্র? বর্তমান সময়ে পারিবারিক অশান্তি ও কলহ যখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন সুখী দাম্পত্যজীবনের একটি অভিনব ও কার্যকরী ‘সিক্রেট’ বা গোপন সূত্রের কথা আলোচনা করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

সম্প্রতি তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে আলোচনাটি প্রকাশ হয়েছে। ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য নিচে তা তুলে ধরা হলো।

শান্তির মূল মন্ত্র স্ত্রীর অনুগত থাকা

শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, দাম্পত্য জীবনের সুখের একটি বড় গোপন রহস্য হলো, যে ঘরে স্বামী তার স্ত্রীর কথা মতো চলে, সেখানে সাধারণত অশান্তি হয় না। তিনি বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, সব জায়গায় নিজের পাণ্ডিত্য বা যুক্তি প্রদর্শন চলে না। বাইরের জগতে আপনি যতই প্রভাবশালী বা বিজ্ঞ হোন না কেন, ঘরের ভেতর এসে কিছুটা ‘বোকা’ সাজাই হলো শান্তির মূল কৌশল। যদি কোনো স্বামী সব সময় নিজের জেদ বা যুক্তি দিয়ে স্ত্রীকে হারানো চেষ্টা করেন, তবে সেখানে অশান্তি অনিবার্য।

বিড়ালের মতো শান্ত স্বভাব

সংসার জীবনে শান্তি বজায় রাখতে হলে পুরুষদের ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, সারা জগত আপনি শাসন করলেও ঘরের ভেতর এসে যথাসম্ভব শান্ত ও নমনীয় থাকতে হবে, অনেকটা ‘বিড়ালের মতো মেও মেও’ করে চলার মতো। এমনকি নববিবাহিতদের প্রতি তার নসিহত হলো, স্ত্রীর কথা শোনার মানসিকতা তৈরি করা এবং অযথা তর্কে না জড়ানো। যদি স্ত্রী কোনো কারণে ঝাড়ি দেয় বা রাগ করে, তবে সেখানে পালটা যুক্তি না দেখিয়ে ধৈর্য ধরে থাকাটাই একজন আদর্শ পুরুষের গুণ।

মা ও স্ত্রীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা

একজন পুরুষকে একই সাথে মা এবং স্ত্রীর অধিকারের ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। অনেক সময় মাকে বোঝাতে গিয়ে স্ত্রীর কাছে ঝাড়ি খেতে হয়, আবার স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে মায়ের বকুনি শুনতে হয়। এই দুই পক্ষ থেকে আসা চাপ সামলে নেওয়াই একজন সফল পুরুষের পরিচয়। শায়খ বলেন, স্ত্রীর কাছে যেমন নমনীয় থাকতে হবে, মায়ের কাছে তার চেয়েও বেশি নমনীয় থাকা আবশ্যক।

কৌশলী শাসন ও যুদ্ধবিরতি

তার মানে এই নয় যে, স্ত্রী কোনো অন্যায় করলে তা মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। তবে শাসন করার পদ্ধতি হতে হবে অত্যন্ত কৌশলী এবং গোপন। ঝগড়ার চরম মুহূর্তে তর্কে না জড়িয়ে যদি কেউ নিজেকে কিছুটা ‘বেকুব’ সাজিয়ে শান্ত রাখতে পারে, তবে দিনশেষে সেই জয়ী হয়। কারণ যুদ্ধ যখন থেমে যায় বা ‘যুদ্ধবিরতি’ চলে, তখন শান্তভাবে নিজের যুক্তিটি উপস্থাপন করলে তা স্ত্রীর কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়।

আদর্শ মা-বাবা হওয়ার গুরুত্ব শান্তিময় দাম্পত্য জীবনের পাশাপাশি আদর্শ সন্তান গড়ে তোলাও একটি সুখী পরিবারের অংশ। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের অধিকার শুরু হয় তার জন্মের আগে থেকেই। একজন দ্বীনদার জীবনসঙ্গিনী নির্বাচন করা সন্তানের প্রথম হক। এরপর অর্থবহ নাম রাখা, সুন্দর লালন-পালন এবং সন্তানদের মধ্যে ইনসাফ বা সমতা বজায় রাখা মা-বাবার অন্যতম দায়িত্ব। সন্তানদের কেবল পোশাক বা খাবার দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের মধ্যে ঈমান ও নৈতিকতা গড়ে তোলাও জরুরি।

উপসংহার

দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার জন্য খুব বড় কোনো তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রয়োজন নেই; বরং প্রয়োজন কিছুটা সহনশীলতা এবং ছাড় দেওয়ার মানসিকতা। ঝগড়ার সময় একটু ধৈর্য ধরা এবং স্ত্রীর আবেগ ও কথাকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমেই ঘরে জান্নাতি শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

 

যে ৮ কারণে মুখের চামড়া কুঁচকে যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
যে ৮ কারণে মুখের চামড়া কুঁচকে যায়?

বাংলাদেশে বয়স বাড়া মানেই অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় মুখের চামড়ায় ভাঁজ পড়া। কপালের ত্বকে ভাঁজ, চোখের চারপাশে সূক্ষ্ম রেখা কিংবা গালের মসৃণতা হারিয়ে যাওয়া; এসব লক্ষণ যেন চেহারার তারুণ্যকেই কেড়ে নেয়।

অনেক সময় বয়স না বাড়লেও অল্প বয়সেই ত্বকে কুঁচকে যাওয়া শুরু হয়, যা উদ্বেগ বাড়ায় আরও বেশি। শহরের ধুলাবালি, রোদের তাপ, ব্যস্ত জীবনের মানসিক চাপ, রাত জাগা, অস্বাস্থ্যকর খাবার; সব মিলিয়ে ত্বক তার স্বাভাবিক জেল্লা হারাতে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বয়স নয়, নানা ধরনের অভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার কারণেও মুখের চামড়ায় ভাঁজ পড়তে পারে। তবে সুখবর হচ্ছে, কিছু সচেতনতা আর নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যাকে অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।

এসব বিষয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধতে বিস্তারিত কারণ ও সমাধানের উপায় জানিয়েছেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি-এর মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. সাইফ হোসেন খান।

চলুন তাহলে জেনে নিই, কেন চামড়া কুঁচকে যায়—

১. বয়সজনিত পরিবর্তন

ডা. সাইফ হোসেন খান বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কপাল ও মুখের চামড়া কুঁচকে যাওয়া একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তন। ত্বকে কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামক প্রোটিন থাকে, যা ত্বককে টান টান ও মজবুত রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কোলাজেন ও ইলাস্টিন প্রোটিন কমে যায়, ফলে ত্বক ঢিলা হয়ে যায়।

২. সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি-রে)

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। নিয়মিত রোদে কাজ করলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয় ও ত্বকে ভাঁজ পড়ে।

৩. পানিশূন্যতা

পানি আমাদের ত্বকের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত পানি না খেলে ত্বক ম্লান হয় ও কুঁচকে যায়।

৪. ধূমপান ও অ্যালকোহল

ধূমপান ও মদ্যপান শরীরের ওপর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস নামক বিশেষ ধরনের চাপ তৈরি করে। এসব অভ্যাস রক্তসঞ্চালন কমায় এবং ত্বকের কোষের ক্ষতি করে। ফলে দ্রুত চামড়া কুঁচকে যায়।

৫. অতিরিক্ত চা-কফি পান

অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ফ্রি র‍্যাডিক্যালকে নিষ্ক্রিয় করে। শরীরে যখন পর্যাপ্ত অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে না, তখন ত্বকেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এই পর্যায় হলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। অতিরিক্ত চা-কফি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত চা-কফি শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে, যার কারণে ত্বক কুঁচকে যেতে পারে।

৬. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব

সময়মতো ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি ত্বকের সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ত্বক ক্লান্ত দেখায়, সতেজ ভাব চলে যায়।

৭. পুষ্টির অভাব

ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে দরকার বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ (যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, জিংক ইত্যাদি)। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে ত্বক সহজেই কুঁচকে যায়।

৮. অভ্যাসগত মুখভঙ্গি

অনেকেরই বারবার কপাল কুঁচকানো বা ভ্রু কুঁচকানোর অভ্যাস থাকে। বারবার এ রকম কপাল, মুখ কুঁচকালে ত্বকে একধরনের চাপের সৃষ্টি হয়, যার কারণে স্থায়ী রেখা তৈরি হয়।

প্রতিরোধে করণীয়

ত্বকের কুঁচকে যাওয়া ঠেকাতে কিছু বিষয় নিয়মিত চর্চা করার পরামর্শ দিয়েছেন মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. সাইফ।

ত্বকের যত্ন : প্রতিদিন মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। রাতে শোবার আগে ত্বক পরিষ্কার করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ত্বকের উপযোগী কিছু ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

খাদ্য ও পানীয় : প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। খাবারে প্রচুর ফল, শাকসবজি, বাদাম ও মাছ রাখুন (ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার)। ভিটামিন সি (কমলা, লেবু, পেয়ারা), ভিটামিন ই (বাদাম, সূর্যমুখী তেল), জিংকসমৃদ্ধ (ডাল, মাছ) খাবার খাওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ভাজা খাবার, তেলে ভাজা খাবার ও ফাস্টফুডের অভ্যাস কমাতে হবে।

জীবনযাপন : প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করুন। ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকুন।

চিকিৎসা ও পরামর্শ

ডা. সাইফ বলেন, ভাঁজগুলো যদি বেশি গভীর হয় বা দ্রুত বেড়ে যায়, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। চিকিৎসক প্রয়োজনে মেডিকেল গ্রেড ক্রিম, লেজার থেরাপি, মাইক্রোনিডলিং, বোটক্স/ফিলার দিতে পারেন। তবে এসব চিকিৎসা অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করা উচিত।

 

ফরিদপুরে বাগানের গাছে ঝুলছিল বৃদ্ধের লাশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাগানের গাছে ঝুলছিল বৃদ্ধের লাশ

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর, বিষ্ণুদিয়া ও ভবানীপুর তিন গ্রামের সীমানা সংলগ্ন একটি বিলের মাঝখানে বাগান থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম রঞ্জিত সরকার (৬০)। তিনি কোতোয়ালি থানার বিষ্ণুদিয়া গ্রামের মৃত রবীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

পরবর্তীতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে ভবানীপুর গ্রামের এক কৃষক জমিতে কাজ করার সময় বাগানের ভেতরে একটি মেহগনি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি রঞ্জিত সরকারের বলে শনাক্ত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তার পরিবারকে অবহিত করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ক্রাইম সিন ইউনিটকে অবহিত করেন। পরে ক্রাইম সিন টিমের উপস্থিতিতে মরদেহটি গাছ থেকে নামানো হয় এবং প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

পুলিশ জানায়, মরদেহের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য লাশটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কোতোয়ালি থানার এসআই নূর হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।