খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে গৃহবধূকে শিকলবন্দি করে নির্যাতনের অভিযোগ

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গৃহবধূকে শিকলবন্দি করে নির্যাতনের অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় রিতু আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে শিকলবন্দি করে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে। পরে তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নে বাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জালাল কাজী তার মেয়ে রিতু আক্তারকে প্রায় দুই বছর আগে সাকরাইল গ্রামের খোরশেদ মাতুব্বরের ছেলে শামুন মাতুব্বরের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সোমবার সকালে ভুক্তভোগী নারী রিতু আক্তারের বাবা-মা মেয়ের খোঁজ নিতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাকে ঘরের ভেতর শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তারা মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে রিতু আক্তারের স্বামী শামুন মাতুব্বর (২৮), লিপি আক্তার (৪০), নিপা আক্তার (৩২), খোরশেদ মাতুব্বর (৫৮) তাদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করে আহত করে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে। সে সময় ছেলের বাবা খোরশেদ মাতুব্বরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

রিতু আক্তারের চাচা সৈয়দ আলী বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকবার শালিস-বৈঠক হয়েছে। গতকাল রবিবার ছেলের বাবা আমাদের বাড়িতে এসে জানান, আপনাদের মেয়েকে জ্বিনে ধরছে তাকে আপনারা নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে আমার ভাই-ভাবীসহ কয়েক জন তাকে আনতে গিয়ে দেখে তাকে তিন দিন ধরে খাবার না দিয়ে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আমরা এর বিচার চাই।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, মারধর করে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং রিতু আক্তার (২০), জালাল কাজি (৪৩), লাইজু আক্তারকে (৩৩) মারধর করা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রিতু আক্তারের স্বামী শামুন মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ডিউটি অফিসার ও উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ছেলের বাবা খোরশেদ মাতুব্বরকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন।

সালথার বালিয়া বাজারে সংঘর্ষ-ভাংচুরে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা, নিরাপত্তা দাবিতে মানববন্ধন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
সালথার বালিয়া বাজারে সংঘর্ষ-ভাংচুরে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা, নিরাপত্তা দাবিতে মানববন্ধন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বালিয়া বাজারে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, মারামারি ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। জানমাল ও ব্যবসার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে তারা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বালিয়া বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ী একত্রিত হয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন। সকাল থেকেই বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন, ফলে পুরো বাজারে কার্যত স্থবিরতা নেমে আসে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারবার সংঘর্ষ, হাতাহাতি ও দোকানপাট ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ক্রেতাদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী বালিয়া বাজার এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ও প্রভাবশালী মহলের কারণে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটবে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিতে পারেন।

কর্মসূচির একপর্যায়ে দুপুরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে আশ্বাস প্রদান করেন।

ওসি মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। বাজারে কোনো ধরনের সহিংসতা সহ্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও জানান, বাজার এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার করা হবে এবং যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে, ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “ব্যবসায়ীদের দাবি যৌক্তিক। বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছি।”

প্রশাসনের আশ্বাসে পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা পুনরায় দোকানপাট খুলে দেন। তবে তারা সতর্ক করে দেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে বালিয়া বাজারে একাধিকবার সংঘর্ষ, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ফরিদপুরে মাদকসম্রাজ্ঞী সাহেদা বেগম ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদকসম্রাজ্ঞী সাহেদা বেগম ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসম্রাজ্ঞী হিসেবে খ্যাত মোসা. সাহেদা বেগম ও তার এক সহযোগীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে শহরের ২ নম্বর কুঠিবাড়ী গৃহলক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। ফরিদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।

আটককৃতরা হলেন—শহরের গৃহলক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মোসা. সাহেদা বেগম এবং তার সহযোগী মো. সোনাজান খা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, সাহেদা বেগম মাদক ব্যবসার সঙ্গে পূর্ব থেকেই জড়িত। ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি লিখিত মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা না করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে তিনি পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ মার্চ তার বিরুদ্ধে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং তিনি ওই মামলার পলাতক আসামি ছিলেন।

এছাড়া পুলিশ প্রণীত পিপিআর (Police Profile Record) যাচাই করে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে পূর্বে আরও ১৯টি মামলা রয়েছে, যা তার অপরাধ জগতের দীর্ঘ সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।

এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নম্বর ৬৫ এবং তারিখ ২০ এপ্রিল ২০২৬।

ফরিদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার বলেন, “মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। যারা সমাজে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

ভাঙ্গায় নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকে নেমে শ্রমিকের মৃত্যুু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকে নেমে শ্রমিকের মৃত্যুু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের সেফটি ট্যাংকে নেমে মাসুম শেখ (৫২) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে পৌরসভার কোটপাড়া মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মাসুম শেখ বরিশালের পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল হাই শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল দিকে ভবনের সেফটি ট্যাংক পরিষ্কার করার কাজ চলছিল। এ সময় মাসুম শেখ ট্যাংকের ভেতরে নামলে সেখানে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সহকর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

ভাঙ্গা ফায়ার স্টেশনের ম্যানেজার আবু জাফর জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ভাই ও ভবন নির্মাণের সাব-কন্ট্রাক্টর মহিবুল্লাহ শেখ বলেন, “কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত সে ট্যাংকের ভেতরে নেমে পড়ে। আমরা বুঝতেই পারিনি ভেতরে এত গ্যাস জমে ছিল।” এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আব্দুল্লাহ আবু জাহের জানান, ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, “সেফটি ট্যাংকে কাজ করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”