খুঁজুন
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুর নিখোঁজের তিনদিন পর আখক্ষেতে মিলল নির্মাণশ্রমিকের মরদেহ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ মে, ২০২৫, ৩:৫৩ পিএম
ফরিদপুর নিখোঁজের তিনদিন পর আখক্ষেতে মিলল নির্মাণশ্রমিকের মরদেহ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নিখোঁজের তিনদিন পর তুহিন আলী (১৫) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (০৪ মে) সকালে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার (০৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের একটি আখক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তুহিন আলী ওই গ্রামের কৃষক আরব আলীর ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩০ এপ্রিল) বাড়ি থেকে বেড়িয়ে নিখোঁজ হন তুহিন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই এলাকায় মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় একটি আখক্ষেতে ছেলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তার বাবা আরব আলী। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে ওই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সালথায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঠেকাল সেনা-পুলিশ, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪৫ পিএম
সালথায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঠেকাল সেনা-পুলিশ, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঠেকাতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এসময় সংঘর্ষের জন্য মজুত রাখা ৭টি ঢাল ও ১৬টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে উপজেলার খারদিয়া গ্রামে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। আটককৃতরা হলেন— মো. ইমামুল (২১) ও মো. তুহিন (১৯)।

সেনা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) খারদিয়া ও ময়েনদিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে দুই পক্ষের লোকজন পরদিন সকালে প্রতিশোধমূলক সংঘর্ষে জড়ানোর পরিকল্পনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ঢাল-সরকি নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের একটি দল স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় খারদিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত করে রাখা বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ছিল ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ঢাল, যা সংঘর্ষে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

অভিযানের সময় সংঘর্ষের প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ সালথা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানান, পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সময়মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ না হলে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে খারদিয়া ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

 

রাজনীতিতে সমঝোতার ইঙ্গিত, তারেক রহমানকে নিয়ে জামায়াতের আমীরের ফেসবুক পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম
রাজনীতিতে সমঝোতার ইঙ্গিত, তারেক রহমানকে নিয়ে জামায়াতের আমীরের ফেসবুক পোস্ট

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের একটি ফেসবুক পোস্ট।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, একইদিন তার নিজ আবাসিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের আগমন ঘটে। এই সাক্ষাৎকে তিনি দেশের জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই সফর পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

তিনি আরও লিখেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। যেখানে সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তারেক রহমান এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের সহিংসতা বা প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি এই আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের কোনো নাগরিক যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে না থাকে, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তারা আপসহীন থাকবেন। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে সমর্থন দেওয়া হলেও, যেখানে জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে সেখানে তারা সোচ্চার ভূমিকা রাখবেন।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সংঘাত নয়, বরং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করা। একটি কার্যকর সংসদই পারে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের সংলাপ ও পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময় দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে। এটি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি সহনশীল, অংশগ্রহণমূলক ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে।

পদ ছাড়লেন আইজিপি, স্বরাষ্ট্রে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৪ পিএম
পদ ছাড়লেন আইজিপি, স্বরাষ্ট্রে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার সকালে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও নিয়মিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আইজিপি বাহারুল আলম। সেখানেই তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় কর্মকর্তারা তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন।

বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা না দিলেও দুপুরের দিকে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পাঠান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আইজিপির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের খবর তারা পাননি। তবে পদত্যাগপত্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইজিপি বাহারুল আলম তার সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে রদবদল হয়। সেই ধারাবাহিকতায় একই বছরের ২১ নভেম্বর বাহারুল আলমকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এর আগে ২০২০ সালে পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে যান।

অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে আইজিপি পদে নিয়োগ দিয়েছিল। সে অনুযায়ী চলতি বছরের ২০ নভেম্বর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলেন।

একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরপরই দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে তিনি ঘনিষ্ঠজনদের কাছে ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। অবশেষে রোববার দুপুরে পদত্যাগপত্র পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে চাচ্ছে না সরকার। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হলেও সেটি গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি আইজিপি হিসেবেই দায়িত্বে থাকবেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর আইজিপিকে তার পদত্যাগপত্র নতুন সরকারের কাছে পুনরায় উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে আইজিপির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি আপাতত সময়ের ওপরই নির্ভর করছে।