খুঁজুন
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বোয়ালমারীতে ভেজাল শিশু খাদ্যের কারখানায় অভিযান, ১৫ লাখ টাকার পণ্য ধ্বংস ও জরিমানা

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে ভেজাল শিশু খাদ্যের কারখানায় অভিযান, ১৫ লাখ টাকার পণ্য ধ্বংস ও জরিমানা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ভেজাল শিশু খাদ্য ও নকল আচার-চিপস তৈরির একটি কারখানা ও গোডাউনে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল খাদ্য জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ভেজাল খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বোয়ালমারী পৌরসভার আঁধারকোঠা গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার আঁধারকোঠা গ্রামের হাসিবুর বিশ্বাসের দুই ছেলে বাহারুল বিশ্বাস ও রুহুল বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে একটি স্টোর ও কারখানার আড়ালে ভেজাল শিশু খাদ্য, নকল আচার, চিপসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের কারখানা ও গোডাউন থেকে পৌরসভার ট্রাকে চার ট্রাক ভর্তি ভেজাল খাদ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত খাদ্যপণ্যের মধ্যে ছিল চটকদার মোড়কে মোড়ানো নকল জুস, আচার, চকলেট, চিপস, ভাজা, বিস্কুট, পঁচা নারকেল দিয়ে তৈরি নাড়ু এবং শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিভিন্ন ধরনের ভেজাল খাদ্য। অভিযান শেষে এসব খাদ্যসামগ্রী রোলার দিয়ে পিষে ধ্বংস করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এসব ভেজাল খাদ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

ভালো থাকতে চাইলে যাদের সঙ্গ এড়িয়ে চলবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ভালো থাকতে চাইলে যাদের সঙ্গ এড়িয়ে চলবেন?

আমাদের চারপাশে নানা রকমের মানুষ থাকেন। সবার মন মানসিকতা এক রকম হয় না। কারও কারও সঙ্গ জীবনে অনুপ্রেরণা জোগায়। এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। আবার কিছু মানুষের নেতিবাচক আচরণের কারণে মানসিক টানাপোড়ন দেখা দেয়। এসব মানুষের সঙ্গ নিজের অজান্তেই আমাদের ভেতরের শক্তি নষ্ট করে দেয়।

মানসিকভাবে নিজেকে ভালো রাখতে কিছু মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলা খুবই জরুরি। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়ে’র এক প্রতিওবদনে এমনই কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। যেমন-

যারা সব সাফল্যের মধ্যে খুঁত খোঁজেন

কিছু কিছু মানুষ আছে যারা কখনওই কোনও কিছুতে সন্তুষ্ট হন না। তাদের জীবনে সব সময়ই কোনও না কোনও সমস্যা লেগেই থাকে। সাফল্য পেলেও তার খুঁত খোঁজেন। সব কিছু নিয়েই তারা অভিযোগ করেন। কেউ ভালো পরামর্শ দিলেও তারা সেটাকে ভালোভাবে নেন না। এই ধরনের মানুষদের সঙ্গে বেশি সময় কাটালে আপনার নিজের ভিতরের থাকা ইতিবাচক মনোভাবে কমতে থাকবে। জীবনে শান্তি পেতে চাইলে এদের থেকে দূরে থাকাই ভালো।

যারা কখনও ভুল স্বীকার করেন না

মানুষ মাত্রই ভুল করে। কিন্তু অনেকেই আছেন ভুল করলেও স্বীকার করেন না। এমনকী কেউ কেউ কখনও ক্ষমা চায় না। নিজের ভুলের দায় তারা অন্যের উপর চাপাতে পছন্দ করেন। কেউ কষ্ট পেলে কিনা সেটা বোঝার চেষ্টা করে না। এমন মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকলে আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্পর্ক তখন মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বারবার একই আচরণ করলে সম্পর্কের সীমা নির্ধারন করা জরুরি।

যারা সব সময় অন্যকে ছোট করে বা সন্দেহ প্রকাশ করে

কেউ কেউ আছেন যারা অন্যের  কোনও স্বপ্ন বা ইচ্ছাকে কখনওই সমর্থন করেন না। বরং কেউ নতুন কিছু করতে গেলেই তার যোগ্যতার উপর সন্দেহ প্রকাশ করেন। ‘তোমার দ্বারা এটা হবে না’ বা ‘তুমি এই কাজের যোগ্য নও’— এমন নেতিবাচক কথাবার্তা বলে তারা আরেকজনের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করে। এই সমস্ত ব্যক্তিরা পরোক্ষ ভাবে অন্যের ক্ষতি চায়। তাই এই ধরনের মানুষের থেকে দূরে থাকাই ভালো।

পরনিন্দা ও পরচর্চা করা ব্যক্তি

আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছেন যারা অন্য মানুষের বদনাম বা গসিপ করতে পছন্দ করেন। অন্যের জীবনের ভুলত্রুটি নিয়ে আলোচনা করে তারা আনন্দ পান। , মনে রাখবেন—যারা আপনার সামনে অন্যের নামে খারাপ কথা বলছেন, সে অন্যের সামনে আপনার নামেও একই কাজ করতে পারেন। তাই এদের থেকে দূরে থাকাই ভালো।

বিশেষজ্ঞের মতে, সব সম্পর্ক ভেঙে ফেলতে হবে, বিষয়টা এমন নয়। তবে নিজের মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মান রক্ষার জন্য কিছু মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা জরুরি।  প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত পরিসরে সম্পর্কের সীমানা নির্ধারন করুন।

সূত্র : এই সময়

৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ফরিদপুর মেডিকেলের ইন্টার্ন ডাক্তারদের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ফরিদপুর মেডিকেলের ইন্টার্ন ডাক্তারদের

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অযৌক্তিক ও চিকিৎসা বিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং চিকিৎসক সমাজ ঘোষিত ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্ম বিরতি শুরু করেছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের, ইন্টার্ন  ও ট্রেইনি ডাক্তার সহ মেডিক্যাল শিক্ষার্থীবৃন্দ।

 রবিবার (০৭ জুন) সকালে ছয় দফা দাবি নিয়ে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ  মিছিল করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল  ক্যাম্পাসে। দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের এই কর্মবিরতি চলবে বলে জানান ইন্টার্নাল ডাক্তার নেতৃবৃন্দ।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস কাউন্সিলের সভাপতি ডা. সাকিব হাসান লস্কর জানান, হাসপাতালের সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সাথে সংহতি প্রকাশ করে ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা করেছেন।

আজ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে বেলা সাড়ে ১১ টায় সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ এক যোগে দাবি আদায়ের লক্ষে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন।  মানববন্ধনে সকল মিডলেভেল চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করেন।

তাদের ৬ দফা দাবি সমূহ হলো ১. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে। ২. বিএমইউ ও বিসিপিএস-এর ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০-১০০০ টাকার মধ্যে আনতে হবে। ৩. নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন নুনতম ৩০,০০০ টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আনুষঙ্গিক ভাতাসহ ৯ম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ করে প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই পরিশোধ করতে হবে। ৪. স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। ৫. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পূর্বের ন্যায় সাধারণ প্রার্থীদের তুলনায় ২ বছর বেশি অর্থাৎ ৩৪ বছর করতে হবে। ৬. বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে (শ্রম আইন ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ এবং পে-স্কেলের আদর্শ অনুসরণ করে)।

ফরিদপুরে সাংবাদিকতার আড়ালে মাদক ব্যবসা, ফের ইয়াবাসহ র‍্যাবের জালে সামাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাংবাদিকতার আড়ালে মাদক ব্যবসা, ফের ইয়াবাসহ র‍্যাবের জালে সামাদ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া মো. সামাদ খান (৪১) কেবল একজন মাদক ব্যবসায়ীই নন, তার বিরুদ্ধে রয়েছে দীর্ঘদিনের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, সাংবাদিকতার পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তারের পর আবারও আলোচনায় এসেছে তার অতীত কর্মকাণ্ড।

রবিবার (৭ জুন) র‍্যাব-১০ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শনিবার (৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মধুখালী উপজেলার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ১৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. সামাদ খানকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা।

র‍্যাব জানিয়েছে, সামাদ খান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে মধুখালী থানায় আগে থেকেই দুটি মাদক মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।

র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার তপন কর্মকার বলেন, সামাদের কাছে সাংবাদিকতার আইডি কার্ড পাওয়া গেছে। সে বলেছে (সামাদ) তিনি একটি পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা করেন। তবে তার কথাবার্তায় বুঝেছি তিনি পেশাদার সাংবাদিক নন। তিনি মাদকসহ ৬টি মামলার আসামি।

তিনি আরও বলেন, একজন মাদক কারবারি কোন পেশার সেটা বিবেচ্য নয়, আমরা অপরাধীকে অপরাধের ধরণ হিসেবে বিবেচনা করি।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “র‍্যাব আটককৃত ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

তবে স্থানীয়দের কাছে সামাদের পরিচয় শুধু একজন মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে নয়। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ফরিদপুর জেলা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে তার অপরাধ জগতের নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। তখন জানানো হয়, ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট র‍্যাব-৮ ফরিদপুর অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে ৩ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা, এক বোতল ফেন্সিডিল, দুই বোতল বিদেশি মদ এবং ৬৯০টি যৌন উত্তেজক বড়ি উদ্ধার করে।

ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি ছিল প্রতারণার মামলা। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত ব্যারেট ক্যাপ ও কালো বুট জুতা উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রতারণা করতেন।

শুধু মাদক নয়, নারী নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে নিজের শ্যালিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। পরে পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, এক সময় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিজের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন সামাদ। তিনি ঢাকাভিত্তিক একটি পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়।

মধুখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুজ্জামান মুন্নু বলেন, “সাংবাদিকতা পেশাকে ব্যবহার করে কেউ যদি অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে, সেটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। সামাদ কোনো প্রেসক্লাবের সদস্য নন। পরে তিনি নিজেই একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করেন। এ ধরনের লোকদের কারণে সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধীর আশ্রয়স্থল হতে পারে না। কেউ যদি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকদেরও যাচাই-বাছাই করে পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

ফরিদপুরে কর্মরত একাধিক সাংবাদিক জানান, সামাদের মতো ব্যক্তিরা সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সমাজে প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনের নজর এড়ানো এবং নিজেদের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করেন। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে র‍্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার জানিয়েছেন, মাদক, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।