খুঁজুন
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে জামায়াত জোট!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে জামায়াত জোট!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি জোট। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচিত এমপিদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর বিপরীতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা জানালেন জামায়াত জোটের কয়েকজন শীর্ষনেতা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ- ২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরসহ বেশ কয়েকজন এই জোটের কয়েকজন নেতা বিকল্প ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা জানিয়েছেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেসবুকের এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’সুনামগঞ্জ- ২ (দিরাই শাল্লা) আসন থেকে নির্বাচন করে হেরে যাওয়া জামায়াত ইসলামীর আলোচিত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরও ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠনের কথা জানিয়েছেন।

রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘রাজনীতিতে নতুনত্ব আনুন। সরকারিদল মন্ত্রিসভা গঠন করুক। বিরোধীদল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করুক। সংসদের ভিতরে-বাহিরে তুমুল বিতর্ক হোক। তবেই সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।’

এর আগে, শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করব ইনশাআল্লাহ।’এ ছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াত নেতা মীর আহমেদ বিন কাসেম (আরমান) তার ফেসবুক পোস্টেও ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠনের কথা জানিয়েছেন।এর আগে, বৃহস্পতিবার সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের ওপর জাতীয় গণভোট। শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ২৯৭ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির তথ্যানুযায়ী, বিএনপি জোট ২১২টি আসন পেয়েছে। যার মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে। আর শরিক দলগুলো ৩টি আসনে জয় পায়। আর ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ৭৭টি আসনে জয় পায়। যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮ আসনে জয়লাভ করেছে। আর শরিক দলগুলো ৯টি আসনে জয় পেয়েছে।

রামিসা হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে বন্ধুসভার উদ্যোগে ও সন্ধায়  হলিডে মার্কেটের উদ্যোগে ব্রাহ্ম সমাজ সড়কে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

বক্তারা শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে “পাশবিক ও নৃশংস” আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য চরম উদ্বেগজনক।

বিকেলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে “শিশু ও নারীর নিরাপত্তা চাই, ধর্ষক-নিপীড়কের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই” স্লোগানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে প্রথম আলো বন্ধুসভা। এতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি শিপ্রা রায়, নাট্য ব্যক্তিত্ব বিপ্লব বালা, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব মফিজ ইমাম মিলন,  জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হোসনে আরা খানম, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। ব্রাহ্ম সমাজ সড়কের  মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ডা. সালমা শাহনেওয়াজ পারভিন, তাহসিন জেবা ও লূবাবাতুল জান্নাত।

বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কিন্তু অধিকাংশ ঘটনায় দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে শিশু ও নারীরা ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল এমনকি জনপরিসরেও নিরাপদ নয়। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা সমাজকে গভীর সংকটে ফেলছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।

ফরিদপুরে চাকরি-বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে পতিতাপল্লীতে বিক্রির সময় আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চাকরি-বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে পতিতাপল্লীতে বিক্রির সময় আটক ৩

বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা পতিতাপল্লীতে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (২২ মে) এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোছা. জনি (১৯) বগুড়া জেলার শারিয়াকান্দি উপজেলার কাসাহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার ধামরাই এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেখানে মনির শেখ (৩০), আলম ফকির (২০) ও মুন্নি (২০) নামে তিনজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযুক্তরা ধামরাই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা প্রথমে বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে গত ১৪ মে তাকে ফরিদপুর শহরের শিবরামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে। কয়েকদিন সেখানে রাখার পর গত ২১ মে সকালে তাকে কোতোয়ালি থানাধীন রথখোলা পতিতাপল্লীতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে পতিতাপল্লীতে বিক্রি করার চেষ্টা চলছে ভুক্তভোগী বুঝতে সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ভিতরে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তিনি চিৎকার করে পালিয়ে গিয়ে পতিতাপল্লীর সামনে একটি দোকানে আশ্রয় নেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তিন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তানিয়া ও দুখু নামে আরও দুইজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১০(১), ১০(২), ১১(১) ও ১১(২) ধারায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৭৮।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

একটি হুইল চেয়ারে ফিরল বাঁচার স্বপ্ন, দুঃখীরামের পাশে দাঁড়াল রেজওয়ান আহমেদ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
একটি হুইল চেয়ারে ফিরল বাঁচার স্বপ্ন, দুঃখীরামের পাশে দাঁড়াল রেজওয়ান আহমেদ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত দপ্তরী বাবু সুকুমার বিশ্বাস। তবে এলাকায় তিনি ‘দুঃখীরাম’ নামেই বেশি পরিচিত। জীবনের দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করলেও বার্ধক্য ও অসুস্থতা যেন তাকে এনে দিয়েছে চরম অসহায়ত্বের জীবন।

দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকেই স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন দুঃখীরাম। পরিবারের সীমিত সামর্থ্য আর শারীরিক অক্ষমতায় মানবেতর জীবন কাটছিল তার।

এমন সময় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন এলাকার কৃতি সন্তান ও গ্রাম বাংলা সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রেজওয়ান আহমেদ। শুক্রবার (২২ মে) সকালে তিনি দুঃখীরামের বাড়িতে গিয়ে একটি হুইল চেয়ার তুলে দেন তার হাতে।

হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দুঃখীরাম। দীর্ঘদিন পর যেন তার মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি আর নতুন করে বাঁচার হাসি। স্থানীয়দের ভাষ্য, এতদিন অন্যের সহায়তা ছাড়া নড়াচড়া করাও ছিল তার জন্য কষ্টকর। এখন অন্তত নিজের মতো করে কিছুটা চলাফেরা করতে পারবেন তিনি।

এসময় উপস্থিত এলাকাবাসী রেজওয়ান আহমেদের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সমাজে এমন সহমর্মী মানুষই অসহায়দের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখান।
জানা যায়, গ্রাম বাংলা সমাজ কল্যাণ সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, খাদ্য সহায়তা এবং কর্মসংস্থান তৈরির মতো নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি।

রেজওয়ান আহমেদ বলেন, “মানুষের সেবা করাই সবচেয়ে বড় মানবতা। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে নিজের ভেতর এক ধরনের আত্মিক শান্তি কাজ করে। দুঃখীরামের মতো একজন পা হারানো মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। একটি হুইল চেয়ার হয়তো তার জীবনের সব কষ্ট দূর করতে পারবে না, কিন্তু তাকে নতুন করে চলার সাহস দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “গ্রাম বাংলা সমাজ কল্যাণ সংস্থা সবসময় মানুষের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসা উচিত।”