খুঁজুন
, ,

উত্তরাধিকার পেরিয়ে নেতৃত্বে দুই নারী : বদলে যাচ্ছে ফরিদপুরের রাজনীতি

হারুন-অর-রশীদ ও মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
উত্তরাধিকার পেরিয়ে নেতৃত্বে দুই নারী : বদলে যাচ্ছে ফরিদপুরের রাজনীতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফরিদপুরের রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দলীয় প্রভাব এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়ে এবারের নির্বাচনে যে ফলাফল এসেছে, তা শুধু বিজয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; বরং রাজনীতির ভেতরের পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন তিনজন। শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি ফুটেছে দুই নারী প্রার্থীর মুখে—ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম (রিংকু) এবং ফরিদপুর-৩ আসনে চৌধুরী নায়াব আহমেদ ইউসুফ।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ফলাফল প্রমাণ করেছে—রাজনীতিতে উত্তরাধিকার একটি ভিত্তি তৈরি করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় নির্ধারণ করে জনগণের আস্থা, মাঠপর্যায়ের সংযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতা।

ফরিদপুর-২: ঐতিহ্য থেকে নেতৃত্বে উত্তরণ:

সালথা-নগরকান্দা আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে প্রায় ৩২ হাজারের বেশি ব্যবধানে বিজয়ী হন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আসনে তাঁর জয়কে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার সফল প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

প্রয়াত বিএনপি মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুর রহমানের কন্যা হিসেবে তাঁর পরিচিতি থাকলেও, নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি নিজেকে একজন স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, “উত্তরাধিকার কোনো সুবিধা নয়, এটি দায়িত্ব। মানুষের আস্থা অর্জনই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।”

নির্বাচনের আগে ও পরে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি গ্রামীণ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। বিশেষ করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার ও আধুনিক সংরক্ষণাগার স্থাপন, নারীদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি দায়িত্বপূর্ণ পথ।” তাঁর এই বার্তাই গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুর-৩: শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের অঙ্গীকার:

ফরিদপুর সদর আসনে চৌধুরী নায়াব আহমেদ ইউসুফ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তাঁর জয়কে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা “আস্থা পুনরুদ্ধারের বিজয়” হিসেবে উল্লেখ করছেন।

সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের কন্যা হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি থাকলেও, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রম ও মহিলা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ফলে এবারের নির্বাচনে তিনি শুধু পারিবারিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করেননি; বরং নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য ফরিদপুর শহরকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগরীতে রূপান্তর করা। এর মধ্যে রয়েছে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।

নায়াব ইউসুফ বলেন, “মানুষ এখন শুধু অতীতের স্মৃতির ওপর নির্ভর করে না, তারা ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখে সিদ্ধান্ত নেয়। আমি সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই।”

নারী নেতৃত্ব: প্রতীক থেকে বাস্তব শক্তিতে:

ফরিদপুরের চারটি আসনে তিনজন নারী প্রার্থী অংশ নিলেও দুইজনের বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। একসময় যেখানে নারী প্রার্থিতা ছিল ব্যতিক্রম, এখন তা নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি একটি প্রাথমিক স্বীকৃতি তৈরি করে। তবে শেষ পর্যন্ত বিজয় নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের যোগাযোগ, ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর। এবারের নির্বাচনে সেই বাস্তবতাই প্রতিফলিত হয়েছে।

দুই নারী নেত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্যে একটি সাধারণ বিষয় স্পষ্ট—তাঁরা রাজনীতিকে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা হিসেবে নয়, বরং দায়িত্ব ও সেবার ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরছেন। শামা ওবায়েদ ইসলাম যেখানে গ্রামীণ অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছেন, সেখানে নায়াব ইউসুফ শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নের কথা বলছেন।

বৃহত্তর রাজনৈতিক চিত্র:

ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি এবং একটি আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ফলে জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক দলীয় হিসাবের বাইরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে নারী নেতৃত্বের উত্থান।

এই পরিবর্তনকে অনেকেই জাতীয় রাজনীতির একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, যেখানে নারী অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং নেতৃত্বের জায়গায় তাদের উপস্থিতি দৃশ্যমান হচ্ছে।

সামনে চ্যালেঞ্জ:

নির্বাচনে বিজয় যেমন রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেয়, তেমনি বাড়িয়ে দেয় জনগণের প্রত্যাশাও। শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং চৌধুরী নায়াব ইউসুফ—দুজনের কাছেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, এই দুই নারী নেতা তাঁদের প্রতিশ্রুত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফরিদপুরের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন। এখন দেখার বিষয়, জনগণের দেওয়া এই আস্থা কত দ্রুত বাস্তব উন্নয়নে রূপ নেয়।

সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফরিদপুরে শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়; বরং নেতৃত্বের ধরণ, রাজনৈতিক ভাষ্য এবং জনগণের প্রত্যাশার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে—যেখানে নারী নেতৃত্ব ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে ওসি সোহেল সরোয়ার

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে ওসি সোহেল সরোয়ার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ।

​এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সরোয়ার। এ সময় তিনি মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

​পরিদর্শনকালে ওসি সোহেল সরোয়ার পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আয়োজকদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

​এ সময় ওসি মো. সোহেল সরোয়ার বলেন, “ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পূজা উদযাপন কমিটির সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করছি।”

​পরিদর্শনকালে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা ওসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয়দের আশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির যৌথ উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে সুসম্পন্ন হবে।

ফরিদপুরে সাপে কাটা দুই রোগী হাসপাতালে ভর্তি, সচেতনতার পরামর্শ চিকিৎসকদের

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপে কাটা দুই রোগী হাসপাতালে ভর্তি, সচেতনতার পরামর্শ চিকিৎসকদের

​ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিষধর সাপে কাটা দুই রোগীকে সফলভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও অন্যজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসায় সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

​হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত কুলসুম বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তাঁর বাড়ি পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ধানজাইল গ্রামে।

​জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. বাকির হোসেন রোগীর শারীরিক অবস্থা ও উপসর্গ নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাঁকে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাপে কাটা অপর এক রোগীকেও এই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

​উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ মুস্তাফি চৌধুরী বলেন, “সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। ওঝার কাছে গিয়ে বা ঝাড়ফুঁকের ওপর সময় নষ্ট করা মারাত্মক ভুল। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও সাপের বিষের ধরন বুঝে চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ অত্যন্ত জীবনরক্ষাকারী।”

​তিনি আরও জানান, সাপে কাটা রোগীদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। চিকিৎসাসেবা প্রদানে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবিদ হোসাইনের বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

​চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে এলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। ওঝা বা কবিরাজের কাছে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মহাত্মা লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

​শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিশু একাডেমিতে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

​অনুষ্ঠানের আগে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিশু একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।

​ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামছ আজম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ রাশিদুল আলম তুহিন, বাউল পাগলা বাবলু খান ও বাউল নিজাম সাঁই। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুজিত কুমার দাস।

​আলোচনা সভায় বক্তারা লালন সাঁইয়ের জীবনাদর্শ, মানবতাবাদী দর্শন ও সাহিত্যচিন্তা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা ফরিদপুরে একটি লালন গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা ও নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

​বক্তারা বলেন, লালন ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাধক ও বাউল সম্রাট। তাঁর জীবনদর্শন মানুষকে মানবতা, সাম্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষা দেয়। লালনের সাহিত্য ও দর্শন নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে এমন এক সমাজ গঠন করতে হবে, যেখানে মানুষকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়।

​তারা আরও বলেন, লালনের জীবন ও দর্শন নিয়ে নতুন করে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলায় লালন স্মরণানুষ্ঠান ও উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বক্তারা।

​বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা চর্চার মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।

​আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত বাউল শিল্পীরা লালন গীতি পরিবেশন করেন।