খুঁজুন
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩০ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা প্রার্থীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ, ১৫-২০ কেন্দ্রে কারচুপির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৭ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা প্রার্থীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ, ১৫-২০ কেন্দ্রে কারচুপির দাবি

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে ভোটকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা শাহ মো. আকরাম আলীর পক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তার নির্বাচনী মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেছেন, প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা, এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং একাধিক কেন্দ্রে ভোট কারচুপি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫ টার দিকে সালথা বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের প্রার্থীর গাড়িবহরকে খারদিয়া দক্ষিণ পাড়া ভোট কেন্দ্রে ৬০-৭০ জন লোক ঘিরে ধরে হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করছিলেন এমন এক সাংবাদিকের ক্যামেরাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, সিংহপ্রতাপ, ইউসুফদিয়া, মাঝারদিয়াসহ অন্তত ১৫-২০টি কেন্দ্রে ভোট কারচুপি হয়েছে। “আমাদের এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কাউকে কাউকে হুমকি দেওয়া হয়েছে—ভোট গণনা শেষে দেখে নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

এর আগে ভোটের আগের রাতে একই আসনে কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী। তিনি অভিযোগ করেন, রিকশা মার্কার এজেন্টদের পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে যাতে তারা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন।

মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, “আমরা অভিযোগ করলে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে ১৫-২০ মিনিট পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে। পরে আবার কারচুপির ঘটনা ঘটে।”

তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ আসেনি।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদসহ একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে উত্তেজনা বাড়লেও প্রশাসন দাবি করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, এখন চলছে ফল গণনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩১ পিএম
শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, এখন চলছে ফল গণনা

বড় কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই শেষ হলো গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এখন চলছে ভোট গণনা। 

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেলে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে উপস্থিত ভোটারদের ভোটও গ্রহণ করবে ইসি।

নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, কোনো আশঙ্কার পরিস্থিতি নেই। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঘটেছিল, তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ভোটে অংশ নিয়েছে ৫০টি দল। ২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করেছে।

দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন।

বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ১,৯৪৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় আসনটিতে পরবর্তীতে নতুন তফসিলের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে।

নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। ২৯০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে এই দলের। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রয়েছে ২২৭ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৭ জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) ২০০ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে।

এদিকে ভোটের আগের সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সকল দল ও প্রার্থীদের জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১ হাজার ২৩২ জন। শেরপুর-৩ আসনের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৭ জন ভোটার সঙ্গত কারণে এবার ভোট দিতে পারছেন না। ফলে আজ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন।

তথ্য সূত্র : বাংলানিউজ২৪

ফরিদপুর-৪ : ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার দায়ে উপজেলা কৃষকদল সভাপতিকে জরিমানা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম
ফরিদপুর-৪ : ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার দায়ে উপজেলা কৃষকদল সভাপতিকে জরিমানা

ফরিদপুর-৪ আসনের চরভদ্রাসন উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা করার দায়ে উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি কামরুল হাসানকে (৪৪) ছয় হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২ টার দিকে তাকে এ জরিমানা করা হয়। কামরুল হাসান চরভদ্রাসন উপজেলার আব্দুল মজিদ খার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা মাইন উদ্দিন মাতব্বরের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের মৌলভীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে তিনি অযাচিত ঘোরাফেরা করছিলেন, এমন অভিযোগে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা সদস্যরা তাকে ডেকে তার ভোট দেওয়া হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে জানতে চান। তখন তার হাত দেখে বোঝা যায় তিনি ভোট দিয়েছেন। এরপরও ভোটকেন্দ্র প্রাঙ্গণের ওই জায়গায় কেন ঘোরাঘুরি করছেন—এই প্রশ্ন করা হলে ওই কৃষকদল নেতা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির হয়ে তাকে জরিমানা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন জানান, কামরুল হাসানকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা আদায় করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ফরিদপুর-৩ : ভোট কক্ষের ভেতরে টাকা বিতরণ, বিএনপির পোলিং এজেন্টকে জরিমানা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:১৯ পিএম
ফরিদপুর-৩ : ভোট কক্ষের ভেতরে টাকা বিতরণ, বিএনপির পোলিং এজেন্টকে জরিমানা

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে ভোট কেন্দ্রের কক্ষের ভেতরে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ অভিযোগে বিএনপি প্রার্থীর এক পোলিং এজেন্টকে জরিমানা করেছেন বিচারিক আদালত। তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে একমাসের কারাদন্ডের আাদেশ প্রদান করা হয়। এ আদেশ প্রদান করেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি-২১৩ এর চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ মো. সালাউদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুর-৩ আসনের বিসমিল্লাহ শাহ দরগাহ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে৷

অভিযুক্ত ব্যক্তি দেওরা এলাকার হাফিজুর ইসলামের ছেলে তানজির ইসলাম৷ তিনি বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিচারিক আদালত সুত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামানের অভিযোগ অনুযায়ী ওই পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে নির্ধারিত প্রতীকে ভোট দেয়ায় ভোটারদের প্ররোচিত করার অভিযোগ পাওয়া যায়। যা নির্বাচনী আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দোষ স্বীকার করায় নির্বাচনী আইন মোতাবেক দশ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান বলেন, ওই পোলিং এজেন্ট বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের মধ্যে টাকা দেয়ার অভিযোগ করেন জামায়াতের পোলিং এজেন্ট। পরে প্রশাসনকে জানানো হলে তাঁরা দ্রুত এসে ব্যবস্থা নিয়েছেন।