খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ২০ ফাল্গুন, ১৪৩২

রমজানে মানবতার হাত বাড়াল পুনাক, প্রতিদিন ১৫০ অসহায়ের ঘরে পৌঁছাচ্ছে ইফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:০২ পিএম
রমজানে মানবতার হাত বাড়াল পুনাক, প্রতিদিন ১৫০ অসহায়ের ঘরে পৌঁছাচ্ছে ইফতার

পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)। কেন্দ্রীয় পুনাকের সভানেত্রী নাসিমা ফেরদৌসী-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং সমাজ কল্যাণ কমিটির তত্ত্বাবধানে মাসব্যাপী ইফতার বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন অসহায় মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যসম্মত ও ঘরে তৈরি হাতে বানানো ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে। ইফতারের প্যাকেটে থাকে খেজুর, ফল, ছোলা, মুড়ি, পিয়াজু, বেগুনি ও পানি—যা পুষ্টিগুণ বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়।

প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে এতিম শিশু, পথশিশু, অনাথ আশ্রমের বাসিন্দা, বৃদ্ধাশ্রমের প্রবীণ, নিম্নআয়ের কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণির সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে ইফতার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা, মসজিদ-মাদ্রাসা, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, বস্তি এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে পুনাকের সমাজ কল্যাণ কমিটির সদস্যরা এই সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

মাসব্যাপী এ কার্যক্রমে সমাজ কল্যাণ কমিটির সম্পাদক মরিয়ম বেগম, সহ-সম্পাদক রেহানা ফেরদৌসী, উম্মে কুলসুমসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। তাদের উপস্থিতিতে সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সম্পাদক মরিয়ম বেগম বলেন, “সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অভাবের কষ্ট লুকিয়ে রাখেন। তারা কারো কাছে সাহায্য চাইতে পারেন না। তাদের সম্মান রক্ষা করেই আমরা এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি। আমাদের লক্ষ্য—কেউ যেন অন্তত ইফতারের সময় ক্ষুধার্ত না থাকেন।”

পুনাকের প্রধান উদ্দেশ্য মানবসেবা। রমজানের এই ইফতার কর্মসূচি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেরই অংশ। সংশ্লিষ্টরা জানান, সমাজের বিত্তবান ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে এ কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

রমজানের পবিত্রতা ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পুনাকের এই মানবিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

রমজানে শয়তান বন্দি, তবু গোনাহ কেন?

হাবিবুল্লাহ রায়হান
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৯ এএম
রমজানে শয়তান বন্দি, তবু গোনাহ কেন?

রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ মাস শুরু হলে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় (বোখারি : ১৮৯৯)। তবু বাস্তবতা হলো, রমজানেও মানুষ গোনাহ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারে না। প্রশ্ন জাগে, শয়তান বন্দি থাকলে প্ররোচনা আসে কোথা থেকে?

উত্তর খুঁজতে হলে মানুষের অন্তর্জগৎকে বুঝতে হবে। মানুষের ভেতরে আছে নফস, প্রবৃত্তি, যা ভালো ও মন্দের মাঝখানে দোল খায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই নফস মানুষকে মন্দের দিকেই আহ্বান করে, তবে সে নয় যার প্রতি আমার রব দয়া করেন।’ (সুরা ইউসুফ : ৫৩)

আবার সুরা কিয়ামাহ (২)-এ নফসে লাওয়ামার শপথ করা হয়েছে, আর সুরা ফজর (২৭)-এ নফসে মুতমাইন্নাহর প্রশান্ত অবস্থার কথা উল্লেখ আছে। অর্থাৎ মন্দের বীজ মানুষের ভেতরেই রোপিত। শয়তান সেই বীজে পানি দেয়, কিন্তু বীজটি আমাদেরই।

অনেক আলেমের ব্যাখ্যায় এসেছে, রমজানে সব শয়তান নয়; বরং প্রধান শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। ফলে কুমন্ত্রণা কমে, কিন্তু মানুষের বহু বছরের গড়ে ওঠা অভ্যাস, আসক্তি ও পরিবেশগত প্রভাব থেকে যায়। এক মাসের জন্য বাইরের প্ররোচনা সীমিত হলেও ভেতরের দুর্বলতা রাতারাতি বদলে যায় না।

যে চোখ দীর্ঘদিন অবাধ্য ছিল, যে জিহ্বা গিবত বা কটু কথায় অভ্যস্ত, সে কি একটি ঘোষণায় থেমে যাবে? পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সচেতন সাধনা, আত্মসংযমের অনুশীলন।

ইসলাম মানুষকে দায়িত্বশীল সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে সৎকর্ম করে সে নিজের জন্যই করে, আর যে অসৎকর্ম করে তা তারই বিরুদ্ধে যায়।’ (সুরা জাসিয়া : ১৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কাজ করে (তিরমিজি )।’ এই শিক্ষাই স্পষ্ট করে, আসল জিহাদ বাইরের কারও বিরুদ্ধে নয়; নিজের নফসের বিরুদ্ধে।

রমজান মূলত এক মাসের আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ। কোরআনে ঘোষণা এসেছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা : ১৮৩)

রোজা শুধু ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করার নাম নয়। রাসুল (সা.) সতর্ক করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ বোখারি)

অতএব রমজান আমাদের শেখায়, আত্মনিয়ন্ত্রণই মুক্তির পথ। এখানে শয়তানের প্রভাব কমিয়ে আমাদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়, যেন আমরা নিজের ভেতরটাকে চিনতে পারি।

তাই রমজানে গোনাহ হলে শুধু শয়তানকে দোষ দিয়ে দায় সারা যাবে না। নিজের সিদ্ধান্ত, নিজের অভ্যাস, নিজের দুর্বলতার মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। এ মাস অজুহাতের নয়; আত্মসমালোচনার। ব্যর্থতার নয়; ফিরে আসার।

আসুন, আমরা শয়তানকে নয়, নিজের নফসকে প্রশ্ন করি। প্রতিদিন একটু করে বদলাই। তাহলেই রমজান আমাদের জীবনে কেবল একটি মাস হয়ে থাকবে না; হয়ে উঠবে আত্মশুদ্ধির নতুন সূচনার দরজা।

শুরু হচ্ছে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা, অংশ নিতে পারবেন যারা?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:০২ এএম
শুরু হচ্ছে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা, অংশ নিতে পারবেন যারা?

দেশব্যাপী জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে ইসলামিক ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফা)। কোমলমতি শিশু-কিশোরদের পবিত্র কোরআন মুখস্থকরণে উৎসাহিত করা এবং ইসলামি সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) ইফার জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতাটি ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে গড়াবে। উপজেলা পর্যায়ে বিজয়ীরা জেলা পর্যায়ে, জেলা পর্যায়ে বিজয়ীরা বিভাগীয় পর্যায়ে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

অংশ নিতে পারবেন যারা

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তিনটি গ্রুপে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ‘ক’ গ্রুপে তাজবিদসহ পূর্ণ ৩০ পারা হিফজ (অনূর্ধ্ব ১৮ বছর), ‘খ’ গ্রুপে তাজবিদসহ ২০ পারা হিফজ (অনূর্ধ্ব ১৫ বছর) এবং ‘গ’ গ্রুপে তাজবিদসহ ১০ পারা হিফজ (অনূর্ধ্ব ১২ বছর) অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

পুরস্কারে যা থাকছে

জাতীয় পর্যায়ে প্রতিটি গ্রুপে প্রথম পুরস্কার ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়া বিজয়ীদের ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হবে।

আবেদন যেভাবে

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে আগ্রহীদের ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ সাদা কাগজে লিখিত আবেদন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ে জমা দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে হবে।

নাম নিবন্ধনের শেষ তারিখ ৩১ মার্চ। আগামী ০১ এপ্রিল থেকে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হবে। একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিটি গ্রুপে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মিসাইল ফুরিয়ে আসছে, যুদ্ধ চালাতে পারবে কতদিন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মিসাইল ফুরিয়ে আসছে, যুদ্ধ চালাতে পারবে কতদিন?

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে তুমুল আলোচনা উঠেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ টানা ১০ দিন অব্যাহত থাকলে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রভাণ্ডারে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে ১০ দিনের বেশি সময় ধরে হামলা চললে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদে সংকট তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছে, ইরানে সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে দ্রুত কমতে থাকা অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণের উচ্চ ব্যয়ের হিসাব-নিকাশও রয়েছে।

তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ ‘মাঝারি ও উচ্চতর মাঝারি গ্রেডে কখনও এত বেশি বা উন্নত ছিল না।’ তার ভাষায়, ‘আমাদের কাছে এই অস্ত্রের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ রয়েছে। কেবল এই সরবরাহ ব্যবহার করেই যুদ্ধ ‘চিরকাল’ সফলভাবে চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে।’

ইরান যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রসমূহ

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানে চলমান অভিযানে আকাশ, সমুদ্র, স্থল ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মিলিয়ে ২০টিরও বেশি অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বি-১ ও বি-২ বোমারু বিমান, এফ-৩৫ লাইটনিং II, এফ-২২ র‍্যাপ্টর, এফ-১৫ এবং ইএ-১৮জি গ্রোলার যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন ও দূরপাল্লার স্ট্রাইক সিস্টেম যেমন লুকাস ওয়ান-ওয়ে ড্রোন, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, এম-১৪২ হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল।

অভিযান শুরুর সময় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছিল দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী- ইউএসএস আবরাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড।

কোন অস্ত্র ঘাটতির আশঙ্কা

ইসরায়েল ও ইউক্রেনের মতো মিত্রদের টেকসই সামরিক সহায়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের ওপর চাপ বেড়েছে। সংঘর্ষ দীর্ঘায়িত হলে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা দিতে পারে উচ্চমানের নির্ভুল অস্ত্র ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থায়—বিশেষত থাড সিস্টেমের মতো প্রতিরক্ষা মিসাইলের।

গত বছর ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের শেষ দিকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে তাদের উন্নত থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুটি ব্যাটারি মোতায়েন করে। পরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ১৫০টির বেশি থাড মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছিল—যা দেশটির মোট মজুদের প্রায় ২৫ শতাংশ।

একটি থাড ব্যাটারিতে সাধারণত ৯৫ জন সৈন্য, ছয়টি ট্রাক-মাউন্টেড লঞ্চার, ৪৮টি প্রতিরক্ষা মিসাইল (প্রতিটি লঞ্চারে আটটি), একটি রাডার এবং একটি অগ্নি-নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ইউনিট থাকে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে নয়টি সক্রিয় থাড ব্যাটারি রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষকালে বিপুল পরিমাণ জাহাজভিত্তিক প্রতিরক্ষা মিসাইলও ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিনিশন (JDAM)—যা জিপিএস-নির্দেশিত কিটের মাধ্যমে সাধারণ বোমাকে নির্ভুল ‘স্মার্ট’ অস্ত্রে রূপান্তরিত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চমানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত রাশিয়া, চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষের সীমিত, উচ্চ তীব্রতার হামলা মোকাবিলার জন্য নকশা করা- সস্তা ক্ষেপণাস্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি ব্যারেজ প্রতিহত করার জন্য নয়। ফলে সময়ের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা মিসাইলের সীমিত মজুদ দ্রুত নিঃশেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতিটি প্রতিরক্ষা মিসাইলের দাম কয়েক লক্ষ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যেখানে প্রতিপক্ষের ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলকভাবে কয়েক হাজার ডলার।

অস্ত্র সংকট দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র কী করবে

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র অন্য অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র পুনর্মোতায়েন বা উৎপাদন বাড়াতে পারে। স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার প্রেবল বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের কারণে ওয়াশিংটন যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় বহন করতে সক্ষম হলেও প্রকৃত সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে ইন্টারসেপ্টর মজুদে—বিশেষত প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম এবং এমএস-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে।

তিনি উল্লেখ করেন, এসব ইন্টারসেপ্টরের কিছু ইউক্রেনকে রাশিয়ার হামলা থেকে রক্ষায় বরাদ্দ ছিল। অন্যগুলো ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরিত হলে অন্য অঞ্চলের প্রতিরোধ সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

চলমান যুদ্ধের ব্যয় কত

পেন্টাগন অভিযানের মোট ব্যয় প্রকাশ করেনি। তবে অনুমান বলছে, ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানে অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। হামলার আগের প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত ৬৩০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়—যার মধ্যে ছিল বিমান চলাচল, এক ডজনের বেশি নৌজাহাজ মোতায়েন এবং আঞ্চলিক সম্পদের সংহতকরণ।

সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি-এর হিসাব অনুযায়ী, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের মতো একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অস্ত্রভাণ্ডার, ব্যয় ও কৌশলগত ভারসাম্য—তিনটিই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া