খুঁজুন
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১৫ চৈত্র, ১৪৩২

সদরপুরে ইয়াবাসহ দম্পতি গ্রেপ্তার

শিশির খাঁন, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ৮:২৫ এএম
সদরপুরে ইয়াবাসহ দম্পতি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় দুইশত পিস ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

শনিবার (২১ জুন) বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের বাবুরচর নতুন ডাঙ্গী গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- ঢেউখালী ইউনিয়নের বাবুরচর নতুন ডাঙ্গী গ্রামের মৃত তৈয়ব আলী মাতুব্বরের পুত্র দাদন মাতুব্বর (৫০) ও তার স্ত্রী শিউলি আক্তার (৪০)।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সদরপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছি। দাদন মাতুব্বর দীর্ঘদিন যাবত মাদক বিক্রির সাথে জড়িত। সে এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিতির কারণে তার বিরুদ্ধে সবাই স্বাক্ষী দিতে ভয় পেত।

তিনি আরও বলেন, তাকে গ্রেপ্তারের সময় সাক্ষী নিতে গেলে এলাকাবাসী বলেন, আমরা এই ব্যাপারে কথা বললে দাদন জেল থেকে বের হয়ে লোকজন নিয়ে আমাদের উপরে হামলা করবে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ফরিদপুরে জ্বালানি সংকট: রেশনিংয়ে বিপাকে মানুষ

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম
ফরিদপুরে জ্বালানি সংকট: রেশনিংয়ে বিপাকে মানুষ

ফরিদপুর জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে যানবাহন চালকসহ সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবে এর মাঝেই শহরের একটি ফিলিং স্টেশন কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে গ্রাহকদের মাঝে।

রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে ফরিদপুর শহরের জোবাইদা ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হলে সেখানে ভিড় বাড়তে শুরু করে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মজুদ থাকা সাপেক্ষে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। এতে করে অন্যান্য পাম্পের তুলনায় এখানে গ্রাহকদের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।

জ্বালানি নিতে আসা কয়েকজন গ্রাহক জানান, জেলার অধিকাংশ পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। অনেক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তবে জোবাইদা ফিলিং স্টেশনে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

জেলা জুড়ে প্রায় ৪০টির মতো ফিলিং স্টেশন থাকলেও এর মধ্যে অধিকাংশেই এখন রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণ চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়াও সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোথাও টোকেন পদ্ধতিতেও তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন সেবাখাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং শিগগিরই পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদ প্রকাশের পর চিঠি, তবুও বন্ধ হয়নি নির্মাণ—প্রশ্নে ফরিদপুর পৌরসভার কার্যকারিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
সংবাদ প্রকাশের পর চিঠি, তবুও বন্ধ হয়নি নির্মাণ—প্রশ্নে ফরিদপুর পৌরসভার কার্যকারিতা

ফরিদপুর শহরের কাঠপট্টি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ওপর অবৈধভাবে তিনতলা নির্মাণের ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফরিদপুর প্রতিদিন-এ সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে লিখিতভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ফরিদপুর পৌরসভা। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্দেশনার পরও কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কোতয়ালী থানার উত্তর পাশে অবস্থিত মার্কেটের তৃতীয় তলার নির্মাণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্মাণাধীন স্থাপনার ভিত্তি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ করা যাবে না।

এর আগে একই দিন সকালে পৌরসভার পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু সময় বন্ধ থাকার পর আবারও শ্রমিকরা কাজ শুরু করে।

স্থানীয়দের দাবি, ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে গোপনে এই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর কোনো প্রকৌশল অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক তলা তোলা হচ্ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

মার্কেটের ব্যবসায়ী ও আশপাশের বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে দোকান বরাদ্দ ও জায়গা ভাগাভাগির নামে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।

আইনজীবী ও স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শুধু মৌখিক নির্দেশ নয়, এখন লিখিত নির্দেশনাও উপেক্ষিত হলে তা প্রশাসনিক দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

পৌরসভার চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে। এতে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—লিখিত নির্দেশনার পরও যদি কাজ বন্ধ না হয়, তাহলে আইন প্রয়োগ কোথায়? তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ বন্ধ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বে জোর—ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সে বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৮ পিএম
শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বে জোর—ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সে বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

ফরিদপুর জেলা পুলিশ লাইনস্ মাঠে শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের অনুশীলনে জেলা পুলিশের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড।

রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে আয়োজিত এ প্যারেডে জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।

প্যারেডে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন। প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণ করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় তিনি প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং সদস্যদের সালাম গ্রহণ করেন।

প্যারেড শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের আরও পেশাদার, দক্ষ ও দায়িত্বশীল হতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের মূল শক্তি।” তিনি সকল সদস্যকে সততা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেন।

মাস্টার প্যারেডে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দিপু, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মো. রোকুনুজ্জামান এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) আজিজুর রহমান খানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়াও বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য প্যারেডে অংশ নেন। পুরো আয়োজনে ছিল শৃঙ্খলার দৃঢ় প্রতিফলন ও বাহিনীর সক্ষমতার প্রদর্শন।

জেলা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের মাস্টার প্যারেড সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সমন্বয় সাধন এবং দায়িত্ব পালনে মানসিক প্রস্তুতি জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।