খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫, ১১:৪৬ এএম
‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ’

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও ধ্বংসের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হইয়া উঠিয়াছে। ইসরাইল ইরানের উপর বিমান হামলা চালাইয়াছে এবং ইরান পালটা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়াছে। যুদ্ধের নূতন এই পর্ব শুধু ইরান ও ইসরাইলের জন্য নহে, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য এক গা-ছমছমে অশনিসঙ্কেত। ২০০১ সালে টইন টাওয়ার ধ্বংসের পর হইতে বিশ্ব একটি বারের জন্যও স্থির শান্তি দেখিতে পায় নাই। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, গাজা, ইয়েমেন, ইউক্রেন-সকল স্থানেই যেন মৃত্যু ও দুর্দশা নিত্যদিনের বাস্তবতা হইয়া উঠিয়াছে। আজকের এই সংঘাত সেই দুঃসহ ধারাবাহিকতারই নির্মম সংযোজন।

ইসরাইলের এই আকস্মিক হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানীসহ বহুজন প্রাণ হারাইয়াছেন। ইরান তাহার আকাশপথ বন্ধ করিয়া দিয়া বলিয়াছে, যুদ্ধ এখন শুধু আশঙ্কা নহে-বরং এক চলমান বাস্তবতা। অনেকেই মনে করিতেছেন, ইরানে এই নূতন হামলা গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলিয়া দিয়াছে। অনেক বিশ্লেষকই প্রশ্ন তুলিয়াছেন, এই যুদ্ধ কি আদৌ পরমাণু অস্ত্র নির্মাণ প্রতিরোধের জন্য? না কি ইহা ভূরাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের এক নির্মম খেলা? এই যুদ্ধে শুধু দুইটি দেশের বিষয় নহে, ইহাতে পরোক্ষভাবে অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হইবে তৃতীয় বিশ্বের অসংখ্য দেশ।

তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহের অবস্থা এমনিতেই নাজুক। ইতিমধ্যেই কোভিড-১৯-এর অভিঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধজনিত জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ইহাদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে নাড়াইয়া দিয়াছিল। এই নূতন সংঘাত তেলের বাজারকে পুনরায় অস্থির করিয়া তুলিবে, বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি ঘটাইবে এবং দাতা সংস্থাগুলির মনোযোগ আরো একবার পশ্চিমা কৌশলগত এলাকায় কেন্দ্রীভূত হইবে। আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চল তথা উন্নয়নশীল দেশসমূহ নূতন সংকটে পতিত হইবে।

অনেকেই মনে করেন, এই যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের নহে, তথ্য ও মতামতেরও যুদ্ধ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি তৈরির চেষ্টা চলিতেছে। ‘প্রতিরক্ষার স্বার্থে’ বা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ বলিয়া যাহা ব্যাখ্যা করা হইতেছে, তাহার পিছনে রহিয়াছে ভিন্ন সমীকরণ। সেইখানে রহিয়াছে বাণিজ্যিক স্বার্থ, সামরিক সরঞ্জামের বাজার সম্প্রসারণ এবং ভূরাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য স্থাপনের আকাঙ্ক্ষা। আর এই সকল কিছুর বিনিময়ে জীবন দিতেছে নিরপরাধ শিশু, মা, কৃষক, খেটে খাওয়া মানুষ কিংবা হাসপাতালের নিরপরাধ রোগী।
যুদ্ধ মানে কেবল মৃত্যুই নহে-জীবনের সম্ভাবনাগুলিকেও হত্যা করে। যুদ্ধ মানে শিক্ষার বন্ধন ছিন্ন হইয়া যাওয়া, শৈশবের স্বাভাবিকতা ধ্বংস হওয়া, কৃষিকাজে বিরতি, শিল্পে মন্দা, স্বাস্থ্য খাতে বিপর্যয়। যুদ্ধ মানে শিশুর চোখে ভয় আর ভবিষ্যৎহীনতা। দুঃখজনক হইলেও সত্য যে, মানবজাতি যুদ্ধ ব্যতিরেকে যেন কিছু শিখিতে চাহে না। ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, প্রতিটি যুদ্ধই পরবর্তী যুদ্ধের ভিত্তি রচনা করিয়া যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত হইয়াছিল জাতিসংঘ, মানবাধিকার ঘোষণাপত্র, বহু আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি: কিন্তু সেই আইনগুলিকে থোড়াই কেয়ার করে পরাশক্তির দেশসমূহ।

প্রশ্ন হইল, ইহার শেষ কোথায়? ইরান ও ইসরাইলের সংঘাত কি এক বিশ্বযুদ্ধে রূপ লইবে? না কি সময় থাকিতেই বৃহত্তর মানবিক বিবেক জাগ্রত হইবে? বিশ্বের শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রসমূহ কি কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করিয়া ক্ষান্ত থাকিবে, না কি সক্রিয় শান্তিরক্ষা উদ্যোগ গ্রহণ করিবে? জীবনানন্দ দাশ সেই কবে বলিয়া গিয়াছেন, ‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ।’ হায়! এই আঁধার কবে দূর হইবে?

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।