খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ
আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সদস্যরা শপথ নিচ্ছেন আজ মঙ্গলবার সকালে। বিকেলেই অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান। এর মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী একটি নির্বাচিত সরকার গঠন এবং এর যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রিত্বে এ যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ হবে পর্যায়ক্রমে। এরপর বিকেল চারটায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে।

ঐতিহ্যগতভাবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আনুষ্ঠানিকতা হতো বঙ্গভবনের দরবার হলে। এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রম এবং ‘প্রতীকী’ ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার এ দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন দেশি ও বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে, যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি রয়েছেন।

সবার দৃষ্টি মন্ত্রিসভায়

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এককভাবে ২০৯টিতে জয়ী হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। এখন সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোতে কয়েক দিন ধরে নানা রকম সংবাদ ছাপা হচ্ছে। প্রথম আলোও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে, কিন্তু কেউ সুনির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। বিএনপির প্রধান তারেক রহমান নিজেই মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে কাজ করছেন। তাঁকে দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য সহায়তা করছেন বলে জানা গেছে।বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবার মন্ত্রিসভা খুব ভেবেচিন্তে করা হচ্ছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকসহ আরও কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীর নামও আলোচনায় আছে।পাশাপাশি তরুণ অনেক নেতাকেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও হুমায়ুন কবির, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (সিলেট-১), অনিন্দ্য ইসলাম (যশোর-৩), জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা-৮) ও ফারজানা শারমিন (নাটোর-১) মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন, এমন আলোচনা রয়েছে।

বিএনপির জোটের শরিকদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হকের নামও আলোচনায় আছে।এ ছাড়া সুষ্ঠু ও দক্ষতার সঙ্গে সরকার পরিচালনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি টিম কাজ করবে, যাঁরা মন্ত্রিপরিষদসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এ ক্ষেত্রে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের সহায়তা নেওয়া হবে।

একটি নতুন যাত্রার প্রত্যাশা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে স্বৈরাচারী সরকারের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয় বিএনপি। সরকারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়। এরপর দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের অধীন গত বৃহস্পতিবার একটি উৎসবমুখর সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় বিএনপি।

ইতিমধ্যে তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বিভেদ ঘুচিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। এতে সর্বস্তরে একটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে তাঁদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য বিএনপির সামনে এটি একটি বড় সুযোগ এসেছে। এ জন্য মন্ত্রিসভায় সৎ, দক্ষ ও দূরদর্শী ব্যক্তিদের প্রাধান্য কতটা থাকছে, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন সরকারের কাছে আমার প্রথম প্রত্যাশা—দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তারা এমন কিছু উদ্যোগ বা ব্যবস্থা নেবে, যাতে উদ্যোক্তাদের হারানো আস্থা ফিরে আসে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। সেটির প্রতিফলন সরকারকে শুরুতে দেখাতে হবে।’

নতুন সরকারের যাত্রার প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েও নানা আলোচনা-গুঞ্জন চলছে।

নানা হিসাব-নিকাশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আরও সময় আছে। জাতীয় সংসদে স্পিকার হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

স্মৃতিতে ফিরছে ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সাল

আজ ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি; তারেক রহমান যখন প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন, তখন অনেকের স্মৃতিতে ফিরে আসছে ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সাল। ৪৬ বছর আগে ১৯৭৯ সালের ১৬ এপ্রিল তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে বহুদলীয় রাজনৈতিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৪২ জন। আর এখন থেকে ৩৪ বছর আগে ১৯৯১ সালে তাঁর মা খালেদা জিয়া প্রথম বাংলাদেশের নারী প্রধানমন্ত্রী হন। সেটি ছিল ১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ। তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ তাঁকে শপথ পড়ান। সে মন্ত্রিসভা ছিল ৩১ সদস্যের। খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০০১ সালে যখন তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন, সে মন্ত্রিসভায় সদস্য ছিলেন ৬০ জন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র ইস্যু করা হচ্ছে। তাঁদের কাছে শপথের আমন্ত্রণপত্র কোনো কারণবশত হাতে না পৌঁছালে সংসদ ভবনের টানেলের অভ্যন্তরের মূল প্রবেশপথে অবস্থিত ‘ফ্রন্ট ডেস্ক’ থেকে তাঁরা সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে সংসদ সচিবালয় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা আর প্রত্যাশার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, দীর্ঘ অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার একটি দল কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে, তার প্রতিচ্ছবি অনেকটাই স্পষ্ট হবে নতুন মন্ত্রিসভার চেহারায়।

সূত্র : প্রথম আলো

পবিত্র হজের সওয়াবের পথে নেক আমল

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
পবিত্র হজের সওয়াবের পথে নেক আমল

হজ শুধু সফর নয়, এটি আত্মার পরিশুদ্ধির আহ্বান; আর ইসলামের সৌন্দর্য হলো, নেক আমলের দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত। ইসলামের দয়ার দুয়ার সবার জন্য উন্মুক্তহজে যেতে না পারলেও আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত নন মুমিন- কিছু আমল এনে দিতে পারে হজের সমপর্যায়ের সওয়াব।

পবিত্র হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ। হজ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ, ধৈর্য, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের এক মহিমান্বিত শিক্ষা। তবে বাস্তবতা হলো-সব মুসলমান আর্থিক, শারীরিক কিংবা পারিপার্শ্বিক কারণে হজ পালনের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেন না।

কিন্তু ইসলাম এমন এক দয়াময় জীবনব্যবস্থা, যেখানে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য রহমতের বহু দরজা উন্মুক্ত রেখেছেন। মহানবী (সাঃ) বিভিন্ন হাদিসে এমন কিছু নেক আমলের কথা সুসংবাদ হিসেবে জানিয়েছেন, যেগুলোর সওয়াব হজ বা ওমরাহর সমতুল্য কিংবা তার ন্যায় মর্যাদাপূর্ণ হতে পারে।

ফজর ও ইশরাকের আমল- দিনের শুরুতেই হজের সওয়াবের সম্ভাবনা:

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি জামাতে ফজরের নামাজ আদায় করে, এরপর সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে এবং পরে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে, সে পূর্ণ হজ ও ওমরাহর সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করতে পারে। এই হাদিস মুসলমানকে দিনের শুরুতেই ইবাদতের মাধ্যমে আত্মিক শক্তি অর্জনের আহ্বান জানায়।

জামাতে নামাজ- মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়:

ইসলামের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের প্রতীক। হাদিসে এসেছে, ফরজ নামাজের জন্য মসজিদে গমনকারী ব্যক্তি যেন হজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া মুমিনের মর্যাদা লাভ করে। এতে বোঝা যায়, ইসলামে প্রতিদিনের ইবাদতের মধ্যেও কত বড় পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে।

দ্বীনি শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা- রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মসজিদে যায় দ্বীনের জ্ঞান অর্জন বা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে, তার জন্য পূর্ণ হজ আদায়কারীর ন্যায় সওয়াব রয়েছে। ইসলাম জ্ঞানকে শুধু ব্যক্তিগত উন্নতির মাধ্যম নয়, বরং ইবাদতের মর্যাদায় উন্নীত করেছে। তাই কোরআন-হাদিস শিক্ষা ও ইসলামী জ্ঞানচর্চা সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।

রমজানের ওমরাহ- সহিহ হাদিসে এসেছে, রমজান মাসে ওমরাহ পালন রাসূল (সাঃ) এর সঙ্গে হজ পালনের সমপর্যায়ের সওয়াবের সুসংবাদ বহন করে। এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের প্রকাশ, যা মুমিন হৃদয়কে আরও বেশি ইবাদতমুখী করে তোলে।

ইসলামের শিক্ষা- ইসলামে শুধু বাহ্যিক সামর্থ্য নয়, আন্তরিক নিয়তও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি হজের প্রকৃত ইচ্ছা রাখেন কিন্তু সামর্থ্যের অভাবে যেতে না পারেন, তবুও আল্লাহ তার নিয়ত ও প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করেন। এ কারণে মুসলমানের জীবনে নেক আমল, সৎ নিয়ত ও ধারাবাহিক ইবাদত অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে।

পবিত্র হজের আকাক্ষা প্রতিটি ঈমানদার হৃদয়ের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে বিলম্ব হলেও হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। আল্লাহর রহমত সীমাহীন, আর তার পথে চলার সুযোগ অসংখ্য। তাই হজের সৌভাগ্য লাভের অপেক্ষার পাশাপাশি আমাদের উচিত নামাজ, জিকির, দ্বীনি শিক্ষা ও নেক আমলের মাধ্যমে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

ইসলাম আমাদের শেখায়- আল্লাহ তাআলার রহমত কেবল নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তরিক নিয়ত, বিশুদ্ধ ঈমান ও ধারাবাহিক নেক আমলের মধ্যেই তাঁর সন্তুষ্টির পথ উন্মুক্ত থাকে। তবে স্মরণ রাখা প্রয়োজন, হাদিসে বর্ণিত এসব আমল হজের ফজিলতপূর্ণ সওয়াবের সুসংবাদ বহন করলেও ফরজ হজের বিকল্প নয়। বরং এগুলো মুসলমানকে ইবাদতের প্রতি আরও আগ্রহী, সচেতন ও আল্লাহমুখী করে তোলার এক মহিমান্বিত প্রেরণা।

আসুন, হজের পবিত্র স্বপ্ন হৃদয়ে ধারণ করে নামাজ, জিকির, দ্বীনি জ্ঞানচর্চা ও সৎকর্মের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে আলোকিত করি। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে তার ঘর জিয়ারতের সৌভাগ্য দান করুন এবং সেই সঙ্গে নেক আমলের মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি স্ট্যালিন, সম্পাদক হাসানউজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি স্ট্যালিন, সম্পাদক হাসানউজ্জামান

ফরিদপুরে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চাকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে “ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থা”-র ২৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী সংসদ গঠন করা হয়েছে।

সংস্থার গঠনতন্ত্রের ১৫(ক) ধারা অনুযায়ী গত ১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত আহ্বায়ক কমিটির সভায় কমিটি গঠন করা হয়। পরে গত ১৬ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় তা অনুমোদিত হয়। সোমবার (১৮ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তৌহিদুল ইসলাম স্ট্যালিন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাংবাদিক হাসানউজ্জামান।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর খান, আলম খান ও শিপ্রা গোস্বামী। সহ-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিঠু ও সাহানা আক্তার জলি। অর্থ সম্পাদক এম.এ. রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শান্ত শেখ, দপ্তর সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন খান, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ, সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী নিলয়, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এম এস পলাশ খান, পাঠাগার ও গবেষণা সম্পাদক বাদল দাস, নাট্য সম্পাদক আনিসুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমির হোসেন হামিদ।

নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন খন্দকার মাহফুজুল আলম মিলন, মফিজ ইমাম মিলন, সৈয়দ জুনায়েদ পারভেজ, গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন, মনোয়ারা মোর্শেদা চৌধুরী, নন্দিতা ঘোষ এবং আবু সুফিয়ান চৌধুরী কুশল।

সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাহিত্য, সংস্কৃতি, নাট্যচর্চা, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিতে এ কমিটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। ফরিদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত করতেই তাদের এই উদ্যোগ।

ফরিদপুরে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা

‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সোয়া ১০ টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের কোর্ট কম্পাউন্ডের সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেলায় যোগ দেয়। এসময় অতিথিরা মেলার স্টল গুলো পরিদর্শন করেন। নামজারিতে সারাদেশে মধ্যে ফরিদপুর প্রথম স্থান অধিকার করেছে বলে জানান সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

এরপর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারের বিষয় ছিল “Automated Land Management System: The Changes, Development and Way Forward”। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে রাজধানী ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

এরপর ভুমিসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাস, ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, অতিরিক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলাম, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. নজরুল ইসলাম এবং ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র তাওহিদ আলম ওশান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এসডিসির নির্বাহী পরিচালক কাজী আশরাফুল হাসান, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, সহজ ও জনবান্ধব করতে সরকার অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু করেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা কমে আসছে এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান অনলাইনের মাধ্যমে করা যাচ্ছে, ফলে মানুষ ঘরে বসেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসন ফরিদপুরের আয়োজনে এ মেলায় সহযোগিতায় রয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। মেলায় ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে একাধিক সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর, অনলাইন ভূমি সেবা ও ভূমি বিষয়ক পরামর্শসহ নানা ধরনের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে এই ভূমি সেবা মেলা।