খুঁজুন
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৪ চৈত্র, ১৪৩২

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ১১:১৫ এএম
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী  হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৭ ডলারে, যা ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি।

বিশ্ববাজারে এই তেলমূল্য বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচারের দাম কমেছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সঙ্গে ট্রেজারি বন্ডের দামেও সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। কখনো যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দাম বেড়ে যাচ্ছে, আবার উত্তেজনা কিছুটা কমে এলে তা কমছে।

বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদক দেশ ইরান। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী-এর পাশেই অবস্থিত। এই প্রণালীর মাধ্যমেই বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি তেল রপ্তানি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রণালী বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্তের ঘোষণা বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হতে পারে। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ডাল রান্নার সময় উপরে যে ফেনা ওঠে সেটা কি নিরাপদ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:০২ এএম
ডাল রান্নার সময় উপরে যে ফেনা ওঠে সেটা কি নিরাপদ?

ডাল বাংলাদেশি খাবারের এমন একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা প্রায় প্রতিদিনই আমাদের টেবিলে থাকে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবারটি যেমন সহজলভ্য, তেমনি স্বাস্থ্যকর বলেও পরিচিত।

তবে অনেকেই ডাল খেতে গিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি অনুভব করেন—পেট ফাঁপা, গ্যাস বা হালকা অস্বস্তি। আবার রান্নার সময় ডালের উপরে যে সাদা ফেনার মতো স্তর জমে, সেটি নিয়েও রয়েছে নানা ভুল ধারণা। কেউ বলেন এটি ক্ষতিকর, কেউ আবার একেবারেই ফেলে দেন।

আসলে এই ফেনা কী? এটি কি সত্যিই শরীরের জন্য ক্ষতিকর, নাকি পুরো বিষয়টাই একটি ভুল ধারণা? এ বিষয়ে সাম্প্রতিক এক আলোচনায় ভারতের রায়পুরভিত্তিক অনকোলজিস্ট ডা. জয়েশ শর্মা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন, যা ডাল নিয়ে প্রচলিত অনেক ভুল ধারণা দূর করতে সাহায্য করবে।

ডালের ফেনা আসলে কী?

ডাল রান্না করার সময় ফুটতে শুরু করলে উপরে হালকা সাদা, ফেনার মতো একটি স্তর দেখা যায়। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।

মূলত ডালের ভেতরে থাকা প্রোটিন ও স্টার্চ গরম পানির সংস্পর্শে এসে ভেঙে যায়। ফলে প্রোটিনের গঠন পরিবর্তিত হয়ে বাতাস আটকে ফেনা তৈরি করে। একই সঙ্গে স্টার্চ আলগা হয়ে এই ফেনাকে আরও ঘন করে। অর্থাৎ, এই ফেনা কোনো বাহ্যিক বা ক্ষতিকর কিছু নয়, এটি ডালের স্বাভাবিক উপাদান থেকেই তৈরি।

এই ফেনা কি ক্ষতিকর?

অনেকেই মনে করেন, এই ফেনা ‘বিষাক্ত’, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এটি সঠিক নয়।

ডা. জয়েশ শর্মা জানান, এই ফেনায় প্রোটিন ও স্টার্চ ছাড়াও স্যাপোনিন নামে একটি উপাদান থাকে। এটি উদ্ভিদের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

তবে, অতিরিক্ত ফেনা ডালে তিতা স্বাদ আনতে পারে। বেশি পরিমাণে খেলে অন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আইবিএস (Irritable Bowel Syndrome)-এ আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

ডাল খেলে পেট ফাঁপে কেন?

ডাল খাওয়ার পর অনেকের পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ভারী লাগার মূল কারণ কিন্তু এই ফেনা নয়। চিকিৎসকের মতে, এর আসল কারণ হলো ফডম্যাপস (FODMAPs)।

ফডম্যাপস হলো এক ধরনের স্বল্প-শৃঙ্খলযুক্ত কার্বোহাইড্রেট, যা আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্রে ভালোভাবে হজম হয় না। এর মধ্যে রয়েছে ফারমেন্টেবল, অলিগোস্যাকারাইড, ডাইস্যাকারাইড, মনোস্যাকারাইড এবং পলিওল।

এসব উপাদান ঠিকমতো শোষিত না হয়ে বৃহদান্ত্রে গিয়ে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ফারমেন্ট হয়। ফলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা ও অস্বস্তি তৈরি হয়।

ডাল কি তাহলে খারাপ?

একেবারেই না। ডাল অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। সমস্যা হয় মূলত ঠিকমতো না ভিজিয়ে রান্না করলে, কম সেদ্ধ হলে এবং অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে।

ডাল সহজপাচ্য করার উপায়

ডা. জয়েশ শর্মার মতে, ফেনা ফেলে দেওয়ার চেয়ে ডাল প্রস্তুত করার পদ্ধতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

১. ডাল ভিজিয়ে রাখা

২০-৪০ মিনিট ডাল ভিজিয়ে রাখুন

ভেজানো পানি ফেলে দিন

এতে FODMAPs-এর একটি অংশ বের হয়ে যায়

স্টার্চ ও ধুলাবালি দূর হয়

ডাল কম ফেনা তৈরি করে এবং হালকা লাগে

২. ভালোভাবে ধোয়া

রান্নার আগে ডাল কয়েকবার ভালোভাবে ধুয়ে নিন, এতে অপ্রয়োজনীয় উপাদান কমে যায়।

৩. প্রেসার কুকারে রান্না

উচ্চ তাপে রান্না হলে FODMAPs ও স্যাপোনিন ভেঙে যায়

ডাল দ্রুত ও ভালোভাবে সেদ্ধ হয়

পুষ্টিগুণও বেশি সংরক্ষিত থাকে

খাওয়ার পর হালকা লাগে

শেষ কথা

ডাল রান্নার সময় যে ফেনা ওঠে, তা মোটেও ক্ষতিকর নয়; বরং এটি ডালের স্বাভাবিক উপাদানেরই ফল। তবে অতিরিক্ত ফেনা রেখে দিলে স্বাদে তিতা ভাব আসতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডাল ঠিকমতো ভিজিয়ে, ধুয়ে এবং ভালোভাবে রান্না করা। এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে ডাল খাওয়ার পর অস্বস্তি অনেকটাই কমে যাবে। অর্থাৎ, সমস্যা ডালে নয়; সমস্যা আমাদের রান্নার পদ্ধতিতে।

সূত্র : এনডিটিভি

নীরবে কমছে চোখের পাওয়ার—এই ৪টি লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪৫ এএম
নীরবে কমছে চোখের পাওয়ার—এই ৪টি লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না

চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া মানেই হঠাৎ অন্ধকার নেমে আসা, এমনটা সবসময় ঘটে না। বরং বেশিভাগ ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে, এতটাই নিঃশব্দে যে অনেকেই বুঝতেই পারেন না কখন সমস্যা শুরু হয়েছে।

আমরা প্রায়ই এসব লক্ষণকে ক্লান্তি, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার বা মানসিক চাপ বলে এড়িয়ে যাই। অথচ শরীর বারবার ছোট ছোট সংকেত দিয়ে আমাদের সতর্ক করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো এসব লক্ষণ চিহ্নিত করা গেলে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচা সম্ভব। না হলে তা ধীরে ধীরে স্থায়ী দৃষ্টিহীনতার কারণও হতে পারে।

ভারতের Dr Agarwals Eye Hospital-এর সিনিয়র কনসালট্যান্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রজত কাপুর জানান, ‘দৃষ্টিশক্তি খুব কম ক্ষেত্রেই হঠাৎ কমে যায়। সাধারণত এটি ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে শুরু হয়—হালকা ঝাপসা দেখা, ঘন ঘন মাথাব্যথা কিংবা রাতে দেখতে সমস্যা হওয়া; যা আমরা অনেক সময় গুরুত্ব দিই না।’

নিচে এমন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়—

১. ঘন ঘন মাথাব্যথা বা চোখে চাপ অনুভব

এটি সবসময় ক্লান্তির কারণে হয় না। দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা বা স্ক্রিন ব্যবহারের পর মাথাব্যথা হলে তা চোখের রিফ্র্যাকটিভ সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। চোখের ফোকাসিং সমস্যাও এর কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ঘন ঘন মাথাব্যথা মস্তিষ্কের টিউমারের মতো জটিল সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে।

২. রাতে গাড়ি চালাতে অসুবিধা

রাতে আলোতে সমস্যা হওয়া দৃষ্টিশক্তি কমার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। যেমন—গাড়ির হেডলাইটে অতিরিক্ত ঝলকানি, আলোর চারপাশে হ্যালো দেখা এবং কম আলোতে পরিষ্কার দেখতে না পারা। এগুলো ছানি (ক্যাটারাক্ট), রিফ্র্যাকটিভ পরিবর্তন বা রেটিনার সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

৩. মাঝেমধ্যে ঝাপসা দেখা

হঠাৎ ঝাপসা দেখা আবার ঠিক হয়ে যাওয়া, এটিও অবহেলার বিষয় নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করলে চোখের লেন্সে প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।

৪. ডাবল ভিশন বা দ্বৈত দেখা

হঠাৎ কখনও দুটি ছবি দেখা যাচ্ছে? ফোকাস করতে কষ্ট হচ্ছে? এই সমস্যাগুলো মূলত চোখের পেশির ভারসাম্যহীনতা ও স্নায়বিক জটিলতার লক্ষণ। এ ধরনের সমস্যা দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি, কারণ এর পেছনে গুরুতর কারণও থাকতে পারে।

বিশেষ সতর্কতা

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, বর্তমানে মায়োপিয়া (দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা) দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই মোবাইল ফোন চোখের খুব কাছে ধরে ব্যবহার করেন। এতে চোখে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং পাওয়ার দ্রুত বাড়তে পারে।

এছাড়া গ্লুকোমা বা অন্যান্য রেটিনাজনিত রোগ অনেক সময় নীরবে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে এগুলোর তেমন কোনো লক্ষণই দেখা যায় না।

শেষ কথা

চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া কখনোই হঠাৎ ঘটে না, বরং শরীর আগে থেকেই ইঙ্গিত দেয়। তাই ছোট ছোট উপসর্গকে অবহেলা না করে সময়মতো পরীক্ষা করানো জরুরি। সচেতন থাকলে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব, আর অবহেলা করলে তা স্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র হিন্দুস্তান টাইমস

হঠাৎ খিঁচুনি হলে কী করবেন? জেনে নিন জরুরি করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৫ এএম
হঠাৎ খিঁচুনি হলে কী করবেন? জেনে নিন জরুরি করণীয়

হঠাৎ কোনো মানুষ খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি মুহূর্তেই আতঙ্কজনক হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই তখন কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। অথচ এমন জরুরি মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত ও প্রাথমিক পদক্ষেপ একজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে। চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আশপাশের মানুষের সচেতনতা ও উপস্থিত বুদ্ধিই হতে পারে সবচেয়ে বড় ভরসা।

শুধু হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক নয়, খিঁচুনিও এমন একটি অবস্থা যা হঠাৎ করেই দেখা দিতে পারে। তাই এর লক্ষণগুলো জানা এবং সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো অত্যন্ত জরুরি।

খিঁচুনির লক্ষণ কী কী?

বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান Johns Hopkins Medicine-এর তথ্য অনুযায়ী, খিঁচুনির সময় যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে—

১. হাত-পা হঠাৎ ঝাঁকুনি দেওয়া

২. শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া

৩. একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা

৪. দ্রুত চোখের পলক ফেলা

৫. হঠাৎ পড়ে যাওয়া

৬. শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

৭. মল বা মূত্র নিয়ন্ত্রণ হারানো

৮. এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

এই লক্ষণগুলো দ্রুত চিনতে পারলে সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

কী করবেন : জরুরি প্রাথমিক পদক্ষেপ

ভারতের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডা. প্রভীন গুপ্তা, যিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে স্নায়ুরোগ নিয়ে কাজ করছেন। তিনি খিঁচুনির সময় করণীয় বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

তার ভাষায়, ‘খিঁচুনি হঠাৎ করেই হতে পারে। দৃশ্যটি ভয়ঙ্কর লাগলেও আপনি যদি শান্ত থাকেন এবং কী করতে হবে জানেন, তাহলে পরিস্থিতি সামলানো অনেক সহজ হয়ে যায়।’

নিচে তার পরামর্শ অনুযায়ী করণীয়গুলো তুলে ধরা হলো—

১. আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ রাখুন

প্রথমেই নিশ্চিত করুন, ব্যক্তি নিরাপদ জায়গায় আছেন। এ ক্ষেত্রে আশপাশে থাকা আসবাবপত্র, ধারালো বস্তু বা ঝুঁকিপূর্ণ জিনিস সরিয়ে ফেলুন। এতে খিঁচুনির সময় অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়ায় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমে।

২. সঠিকভাবে শুইয়ে দিন

সম্ভব হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে পাশ ফিরে শুইয়ে দিন। মাথার নিচে নরম কিছু (কাপড়/বালিশ) দিন। এতে শ্বাসনালি খোলা থাকে এবং শ্বাসকষ্ট বা দম আটকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

৩. শরীর চেপে ধরবেন না

অনেকেই ভাবেন, শরীর চেপে ধরলে খিঁচুনি থামানো যাবে, এটি ভুল। জোর করে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে উভয়েরই আঘাত লাগতে পারে। খিঁচুনি স্বাভাবিকভাবেই শেষ হতে দিন।

৪. প্রয়োজনে জরুরি ওষুধ ব্যবহার

যদি আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য আগে থেকে নির্ধারিত জরুরি ওষুধ (যেমন: মিডাজোলাম ন্যাজাল স্প্রে) থাকে, নির্দেশনা অনুযায়ী তা ব্যবহার করা যেতে পারে।

খিঁচুনির সময় কতক্ষণ? কখন হাসপাতালে যাবেন

ডা. প্রভীন গুপ্তা জানান, বেশিভাগ খিঁচুনি ২-৩ মিনিটের মধ্যেই থেমে যায়। তাই সময় লক্ষ্য রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিচের ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে—

১. খিঁচুনি ৩ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে

২. অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার খিঁচুনি শুরু হলে

যেসব ভুল কখনো করবেন না

১. খিঁচুনির সময় কিছু কাজ পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দিতে পারে।

২. মুখে আঙুল, চামচ বা কাপড় ঢোকানোর চেষ্টা করবেন না। এতে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

শেষ কথা

খিঁচুনির মতো পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পদক্ষেপ দ্রুত নিতে পারলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। চিকিৎসা সহায়তা আসা পর্যন্ত আপনার সচেতনতা ও সহানুভূতিই হতে পারে একজন মানুষের নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস