খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ক্লাব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কোথায়?

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
ক্লাব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কোথায়?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট জটিলতা এখন আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে অবৈধ ঘোষণা করে তাদের অধীনে কোনো ধরনের ক্রিকেট না খেলার সিদ্ধান্ত ঢাকার ৪৪টি ক্লাবের। এতে জটিলতার মধ্যে পড়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। আর এ জটিলতার মধ্যেই ২০ ক্লাবকে রেখেই প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের সূচি তৈরি করেছে তারা। আগামী ১৪ ডিসেম্বর থেকে লিগ শুরুর সিদ্ধান্তের কথাও নিশ্চিত করেন সিসিডিএম চেয়ারম্যান আদনান রহমান দিপন। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিগ শুরুর দিনক্ষণ জানান।

১৯ নভেম্বর লিগ শুরুর পরিকল্পনা ছিল সিসিডিএমের। সেজন্যই ৫ ও ৬ নভেম্বর হয়েছিল দলবদলও; কিন্তু ২০টির মধ্যে ৮টিই সেখানে অংশ নেয়নি। এরপর থেকেই জটিলতা বাড়তে থাকে। ক্লাবগুলোর বেশিরভাগই সংবাদ সম্মেলন করে লিগ না খেলার কথা বলছে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে অবৈধ বলছেন তারা। সেজন্য বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও লিগে অংশ নিতে আগ্রহ দেখাননি তারা। এর পরও লিগ শুরুর দিকে এগোচ্ছে সিসিডিএম। আদনান রহমান বলেন, ‘১১ ডিসেম্বর থেকে আমাদের প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ শুরু হওয়ার কথা। মাঠে একটু ঝামেলা হওয়ায় আগামী ১৪ ডিসেম্বর থেকে আমরা লিগ শুরু করছি।’ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ করার ভাবনা তাদের, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আমরা সূচি প্রকাশ করব এবং চেষ্টা করা হচ্ছে উদ্বোধনী ম্যাচটা মিরপুর স্টেডিয়ামে করার জন্য।’

ঢাকার চার স্তরে মোট ৭৬টি ক্লাব। তাদের মধ্যে ৪৪টিই না খেলার সিদ্ধান্তে অটল। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তা বিসিবিকে জানানো হয়নি। এমনকি সিসিডিএমকেও কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি জানিয়ে দিপন বলেন, ‘দেখুন— আমরা তো আনুষ্ঠানিকভাবে ২০টি দলই ধরে রাখব। কারণ আমরা এ ধরনের (লিগ বর্জন) মৌখিক বার্তা পাচ্ছি। আমরা সূচি প্রকাশ করছি ২০টি দলকে নিয়েই।’ বিষয়টি এভাবে ব্যাখ্যা করেন সিসিডিএম চেয়ারম্যান, ‘প্রথমত এ ধরনের কোনো চিঠি আমরা কোনো ক্লাবের কাছ থেকে পাইনি। আমি কিন্তু বারবার বলছি, আমরা ২০টি ক্লাবকে নিয়েই সূচি প্রকাশ করছি। বিসিবি কিংবা সিসিডিএম কারও কাছেই এমন কোনো চিঠি আসেনি। মোহামেডান যেটা প্রতিবাদ করেছে, সেটা কিন্তু সভাপতির কথার ওপরে… তারা লিগ খেলবে কি খেলবে না এরকম কোনো নেতিবাচক চিঠি আমরা পাইনি।’

লিগের সঙ্গে নির্বাচনকে না মেলানোর কথা বলছেন বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদ। ক্লাব প্রতিনিধি হিসেবে বিসিবির পরিচালক হয়েছেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, নির্বাচনের কথা টেনে না খেলার সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে দেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও জানান তিনি। আর এভাবে লিগ বয়কটের পর ক্লাবগুলোকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটাও সামনে চিন্তা করবে বোর্ড—এমনটাই জানান তারা। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, প্রথম বিভাগের ৮ ক্লাব এখনো রাজি না থাকায় শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব, উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব, বাংলাদেশ পুলিশ ক্রিকেট ক্লাব, শেখ জামাল ক্রিকেটার্স, লালমাটিয়া ক্লাব, বসুন্ধরা রাইডার্স, প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব, ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব, ঢাকা স্পার্টানস ক্রিকেট ক্লাব, ব্লুজ ক্রিকেটার্স, বারিধারা ড্যাজেলস, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (বিকেএসপি) নিয়ে লিগ আয়োজন করতে হবে সিসিডিএমের।

ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা গরু চিনবেন যেভাবে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা গরু চিনবেন যেভাবে?

কোরবানির ঈদ এলেই দেশের পশুর হাটগুলোতে বেড়ে যায় গরু কেনাবেচার ব্যস্ততা। এই সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় গরুকে স্টেরয়েড, হরমোন বা বিভিন্ন ক্ষতিকর ইনজেকশন দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে মোটাতাজা করে।

বাইরে থেকে এমন গরু দেখতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব গরুর মাংস খেলে লিভার ও কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসক ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, হাটে গিয়ে ইনজেকশন দেওয়া গরু চেনার কয়েকটি সহজ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো—

১. আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে দেখুন

কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর শরীরে অনেক সময় অতিরিক্ত পানি জমে থাকে। এটি বোঝার সহজ উপায় হলো গরুর শরীরের মাংসল অংশে আঙুল দিয়ে চাপ দেওয়া। গরুর পিঠ বা রানের অংশে জোরে চাপ দিলে যদি জায়গাটি দেবে যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় নেয়, তাহলে সেটি সন্দেহজনক হতে পারে। সুস্থ গরুর মাংস সাধারণত শক্ত ও টানটান থাকে। চাপ দিলে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

২. আচরণ লক্ষ্য করুন

স্টেরয়েড বা হরমোন দেওয়া গরু অনেক সময় ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তাদের আচরণেও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।

এ ধরনের গরু সাধারণত বেশি অলস থাকে, ঠিকভাবে হাঁটতে চায় না এবং অল্পতেই হাঁপিয়ে যায়। অনেক সময় মাথা নিচু করে ঝিমাতে দেখা যায়। চোখও ঘোলাটে বা ক্লান্ত দেখাতে পারে।

অন্যদিকে সুস্থ গরু তুলনামূলক চঞ্চল হয়। আশপাশে মানুষ দেখলে সাড়া দেয়, কান ও লেজ নেড়ে স্বাভাবিক আচরণ করে।

৩. অস্বাভাবিক ফোলা ও অতিরিক্ত লালা

ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগের কারণে অনেক গরুর শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। বিশেষ করে উরু, রান, থুতনি বা প্রস্রাবের রাস্তার আশপাশের অংশ অতিরিক্ত ফোলা দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া কিছু গরুর মুখ থেকে নিয়মিত লালা বা ফেনা পড়তে দেখা যায়, যা অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে।

যে কারণে সতর্ক থাকা জরুরি?

প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা গরুর মাংস মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এমন পশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

গরু কেনার সময় যা করবেন

সম্ভব হলে অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা পরিচিত খামারিকে সঙ্গে নিন। গরুর দাঁত, চোখ ও হাঁটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। পরিচিত ও বিশ্বস্ত খামার বা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনার চেষ্টা করুন। কেনার আগে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট গরুর আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন।

সূত্র : কালবেলা

সালথায় সংঘাত থামাতে সংবাদ সম্মেলন, সম্প্রীতি চান জাহিদ মাতুব্বর

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
সালথায় সংঘাত থামাতে সংবাদ সম্মেলন, সম্প্রীতি চান জাহিদ মাতুব্বর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বালিয়া ও গট্টি এলাকায় দীর্ঘদিনের বিরোধ, দাঙ্গা ও সংঘর্ষের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ মাতুব্বর। তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আর কোনো কাইজ্জা-মারামারী নয়, সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করুন।”

সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার গট্টি এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক, বিএনপির নেতাকর্মী ও তার সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদ মাতুব্বর বলেন, তিনি ২০০১ সালে সাবেক মন্ত্রী মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের নির্বাচনে কাজ করেছিলেন। পরে ২০০৭ সালে ইউরোপে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর ২০১৮ সালে দেশে ফিরে ফরিদপুরে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, কোনো সময়ই আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না, তবে নাগরিক হিসেবে ভোট দিয়েছেন।

তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত আখ্যা দিয়ে একাধিক মামলায় জড়িয়েছে। সম্প্রতি গট্টি এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও রাজিব মাতুব্বরের ওপর হামলার ঘটনায়ও তাকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাহিদ মাতুব্বর বলেন, “ঘটনার দিন সকাল থেকেই আমি অসুস্থ ছিলাম এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। টানা চারদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ফরিদপুরে চলে যাই। অথচ আমাকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।”

তিনি মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এলাকায় তার একটি সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব রয়েছে। গ্রামের মানুষ তাকে একটি পক্ষের প্রধান হিসেবে দেখলেও তিনি কোনো সংঘাত চান না। বরং এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতেই কাজ করতে চান।

এ সময় তিনি তার সমর্থক ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাকে যারা ভালোবাসেন, তারা আর কোনো সংঘর্ষে জড়াবেন না। সবাই ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবেন—এটাই আমার অনুরোধ।”

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শামা ওবায়েদ ইসলাম মরহুম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। তিনি এলাকায় শান্তি চান। আমরাও তার নির্দেশনা মেনে চলবো। আগামী দিনেও শামা ওবায়েদ আপার পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো, ইনশাল্লাহ।”

কেন কিছু লোকের অল্প খেয়েও ওজন বেড়ে যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
কেন কিছু লোকের অল্প খেয়েও ওজন বেড়ে যায়?

শুধু অতিরিক্ত খাওয়ার ফলেই শরীরে মেদ জমে না। চিনি, হরমোন, ঘুম, মানসিক চাপ থেকে শুরু করে জীবনযাত্রা পর্যন্ত—এই সবকিছুই প্রতিদিন সূক্ষ্মভাবে ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরে কেন সহজে চর্বি জমে এবং ওজন বাড়ে, তা বুঝতে হলে প্রথমে আমাদের দেখতে হবে শরীরে কীভাবে চর্বি তৈরি হয়। জাতীয় পুষ্টি ইনস্টিটিউটের প্রাপ্তবয়স্ক পুষ্টি পরীক্ষা ও পরামর্শ বিভাগের প্রধান ড. ত্রান চৌ কুয়েনের মতে, এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ‘ব্যয়ের চেয়ে বেশি গ্রহণ’ করার পরিস্থিতি।

যখন খাবার ও পানীয় থেকে গৃহীত ক্যালোরির পরিমাণ শরীর দ্বারা ব্যয়িত শক্তির চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন অতিরিক্ত ক্যালোরি বিপাকিত হয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়।

চর্বি জমার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আসল সত্য:

ডঃ কুয়েনের মতে, এই প্রক্রিয়ায় চিনির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্রহণ করা চিনি যখন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহৃত হয় না, তখন শরীর সেটিকে ট্রাইগ্লিসারাইডে—যা চর্বির প্রাথমিক রূপ—রূপান্তরিত করে এবং ফ্যাট কোষে জমা রাখে। এ কারণেই অনেকে সুন্দর ত্বকের আশায় প্রচুর ফল খেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ওজন বেড়ে যায়। যদি ফলের মধ্যে থাকা চিনির পরিমাণ শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়, তবে সেই অতিরিক্ত অংশও চর্বিতে রূপান্তরিত হতে পারে।

উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবার, বিশেষ করে যেগুলোতে চিনি ও চর্বির পরিমাণ বেশি, তা শরীরে চর্বি জমাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় এবং উচ্চ-চর্বিযুক্ত নাস্তা গ্রহণের ফলে সময়ের সাথে সাথে শরীরে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত শক্তি জমা হতে থাকে।

এছাড়াও, সারাদিনে খাবার গ্রহণের ধরণও বিপাক ক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত খাওয়া বা গভীর রাতে খাওয়া শরীরের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করতে পারে, বিপাকীয় দক্ষতা কমিয়ে দিতে পারে এবং শরীরে চর্বি জমার কারণ হতে পারে,” বিশেষজ্ঞ বলেছেন।

হরমোনগত কারণগুলোও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি খাবারের পর, শরীর ইনসুলিন নিঃসরণ করে যা কোষগুলোকে গ্লুকোজ শোষণ করতে এবং তা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। যখন কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, তখন গ্লুকোজ দক্ষতার সাথে শোষিত হয় না এবং এর পরিবর্তে তা চর্বিতে রূপান্তরিত হয়ে জমা হয়। এছাড়াও, লেপটিন এবং ঘ্রেলিনের মতো হরমোনগুলো ক্ষুধা এবং তৃপ্তির অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, তবে খাদ্য গ্রহণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যেতে পারে।

অলস জীবনযাপনও এর আরেকটি সাধারণ কারণ। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শক্তি ব্যয় কমে যায়, অথচ ক্যালোরি গ্রহণ অপরিবর্তিত থাকে, যার ফলে শরীরে চর্বি জমতে থাকে।

এছাড়াও, ঘুম এবং মানসিক চাপও এই প্রক্রিয়াটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে। অপর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যার ফলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাওয়া বেড়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় – এই হরমোনটি চর্বি জমার সাথে সম্পর্কিত, বিশেষ করে পেটের অংশে।

ডঃ চৌ কুয়েন মনে করেন যে আচরণগত এবং পরিবেশগত কারণগুলোও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবেগপ্রবণ খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত খাওয়া, অথবা বৈজ্ঞানিক খাদ্যতালিকার উপর আস্থার অভাব সহজেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণের দিকে পরিচালিত করে। অন্যদিকে, সুবিধাজনক দোকান থেকে শুরু করে বাড়িতে ফাস্ট ফুড মজুত করার অভ্যাস পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যাপক সহজলভ্যতা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়াকে আরও কঠিন করে তোলে।

উপরে উল্লিখিত কারণগুলো ছাড়াও, জিনগত কারণও প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরে মেদ জমার প্রবণতাকে প্রভাবিত করে। বিজ্ঞান বিপাকের হার, মেদ বণ্টন এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু জিন শনাক্ত করেছে।

উদাহরণস্বরূপ, FTO জিনের বিভিন্ন রূপ উচ্চ বডি মাস ইনডেক্স (BMI) এবং স্থূলতার ঝুঁকি বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। এছাড়াও, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং পরিবেশগত কারণসমূহ জিনের প্রকাশকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে বিপাক এবং চর্বি সঞ্চয়ও প্রভাবিত হয়।

প্রতিদিন শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শ দিয়েছেন:

অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে শুধু ওজনই বাড়ে না, বরং এটি স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং কিছু ধরণের ক্যান্সারের মতো অসংখ্য স্বাস্থ্য সমস্যার সাথেও জড়িত। তাই, এর প্রতিরোধে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রথমত, ডঃ কুয়েনের মতে, সমস্ত খাদ্য গোষ্ঠীর পর্যাপ্ত পরিমাণ সহ একটি সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে সবুজ শাকসবজি, তাজা ফল, শস্যদানা এবং মাছ, শিম ও বাদাম থেকে প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সাথে, সম্পৃক্ত চর্বি, পরিশোধিত চিনি এবং ফাস্ট ফুড সীমিত করা উচিত। বিচক্ষণতার সাথে খাবার বেছে নিলে তা কেবল ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না, বরং শরীরকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজও সরবরাহ করে।

এর পাশাপাশি, একটি সক্রিয় জীবনধারা বজায় রাখা অপরিহার্য। হাঁটা, সাইকেল চালানো, নাচ বা যোগব্যায়ামের মতো কার্যকলাপ অতিরিক্ত শক্তি পোড়াতে, বিপাকক্রিয়া বাড়াতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে।

“প্রত্যেকেরই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক কার্যকলাপের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যায়ামের সুযোগগুলো কাজে লাগানো উচিত, যেমন—সিঁড়ি ব্যবহার করা, কেনাকাটার সময় হাঁটা, অথবা কাজের বিরতিতে স্ট্রেচিং ও হালকা ব্যায়াম করা,” বলেছেন ড. কুয়েন।

ঘুমও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমালে তা হরমোন নিয়ন্ত্রণে, খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কমাতে এবং শক্তি বিপাকে সহায়তা করে। এছাড়াও, ধ্যান, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস বা অন্যান্য আরামদায়ক কার্যকলাপের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করলে আবেগপ্রবণ হয়ে খাওয়ার প্রবণতা কমে যেতে পারে।

সূত্র: https://znews.vn/vi-sao-an-it-van-beo-can-nang-tang-post1626550.html